Blog

  • মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

    দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন চা-শ্রমিকরা। সম্প্রতি ঘোষিত ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল, ভূমির স্থায়ী মালিকানা প্রদান এবং চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনের দাবিতে একই সময়ে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করেন।

    শুক্রবার (২৪শে জুলাই) সকাল ৯টায় কুলাউড়ার কালিটি চা-বাগানে ‘চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    কর্মবিরতি শেষে বাগান এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কালিটি চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিমা অলমিক। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণদাস অলমিকের উপস্থাপনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, শ্রমিকনেতা দয়াল অলমিক, বিশ্বজিত দাস, কার্তিক নাইডু ও সীতারাম অলমিকসহ অনেকে।

    সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী বাজারদরের সঙ্গে কোনো প্রকার সামঞ্জস্য না রেখে সরকার চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তাদের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা।

    বছরে মাত্র ৮ টাকা করে মজুরি বাড়িয়ে বর্তমান সময়ে চা-শ্রমিকদের পক্ষে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো একেবারেই অসম্ভব। দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তাই খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য সম্মানজনক ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।

    এই অঞ্চলে চা-শ্রমিকদের বসবাসের প্রায় ২০০ বছর পার হতে চললেও আজ পর্যন্ত তাদের ভূমির মালিকানা দেওয়া হয়নি। বসতভিটার স্থায়ী মালিকানা না থাকায় তারা রাষ্ট্রীয় নানা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন।

    চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ বলেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও চা-জনগোষ্ঠীর মানুষ এখনো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার। দেশের সবচেয়ে পরিশ্রমী ও অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে কম মজুরিতে শ্রম দিচ্ছে। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির বাড়ানোটাই এখন মূল দাবি। নিজেদের অধিকার আদায়ে সব চা-শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামতে হবে।

    সমাবেশ শেষে চা-শ্রমিকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কালিটি চা-বাগানের ভেতরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

  • কোম্পানীগঞ্জে থানারহাট-বাংলাবাজার সড়কের বেহাল দশা : দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

    নোয়াখালী প্রতিনিধি:

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানারহাট থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার প্রতিবাদে এবং দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

    ২৪ জুলাই (শুক্রবার) বিকেলে থানারহাট জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, সিএনজি চালক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ চলাচলকারী যাত্রীরা অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা অবস্থার কারণে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। অনেক সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে, ফলে সড়কটি কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে দাবি বক্তাদের।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সড়কে অবাধে চলাচলকারী অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

    বক্তারা আরও বলেন, বালুবাহী ভারী ট্রাকের কারণে নতুন করে নির্মিত সড়কও অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাই সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি বালুর ট্রাকের দৌরাত্ম্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়ক বারবার নষ্ট হবে এবং জনদুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।

    মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।

  • প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন মুফতি ফয়জুল করীম

    কুবি প্রতিনিধি:
    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে জুলাই শহিদদের স্মরণে দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবছার উদ্দীন ইফতি।

    খোজঁ নিয়ে জানা যায়, আগামীকাল ২৫ জুলাই বাদ আছরের পর ‘জুলাই শহিদদের স্মরণে দোয়া ও ইসলাহী ইজতেহা’র আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীমের। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।

    তবে, নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এদিকে প্রশাসন অনুমতি না দিলেও মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীমের উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

    বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি আবছার উদ্দিন ইফতি সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রক্টরের কাছে অনুমতি চেয়ে আমরা আবেদন করেছিলাম। কিন্তু নিরাপত্তা দিতে পারবে না জানিয়ে আমাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমতি না দিলেও আগামীকাল উনি (মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম) আসবেন, আমরা প্রোগ্রাম করব।

    এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল হাকিম বলেন, তারা আমাদের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু উনি (মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম) একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, একইসাথে একটা দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। আমরা উনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব না। এজন্য প্রোগ্রাম আয়োজনের অনুমতি দিইনি।

    অনুমতি ছাড়াও প্রোগ্রাম আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, অনুমতি না দেওয়ার পরেও যদি উনারা প্রোগ্রাম আয়োজন করেন, নিরাপত্তাজনিত কোনো কিছু ঘটলে এর কোনো দায়ভার প্রশাসন নিবে না।

  • সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ২টি ব্যবহৃত চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
    মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ আজমতপুর বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮১/১-এস থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাহাবাজপুর ইউনিয়নের নলজুরী গ্রামের শান্তির মোড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের ব্যবহৃত ২টি চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। জব্দকৃত মোবাইল ফোনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • ‎নাসিরনগরে উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে শেষ হলো জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব ‎

    ‎ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি
    ‎উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা।

    ‎সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগত অর্থ বিশ্ব আর নাথ অর্থ ঈশ্বর—অর্থাৎ জগন্নাথ হলেন জগতের ঈশ্বর। তাঁর কৃপা লাভ করলে মানুষের মুক্তি ঘটে এবং জীবরূপে পুনর্জন্ম নিতে হয় না—এমন বিশ্বাস থেকেই রথে জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রার আয়োজন করা হয়।
    ‎উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগে নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    ‎শুক্রবার ২৪ জুলাই  সকাল থেকে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্রী যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, ভাগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    ‎এ উপলক্ষ্যে নাসিরনগর সদর পশ্চিম পাড়া জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় গৌর মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব, বলরাম ও সুভদ্রার রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

    ‎রথযাত্রার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো রথের দড়ি টানা। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-নির্বিশেষে হাজারো মানুষ এই মহোৎসবে অংশ নেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আন্তরিক ভক্তিভরে রথের দড়ি টানলে ঈশ্বরের কৃপা ও আশীর্বাদ লাভ হয়।

    ‎রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি ভক্তি, সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য উৎসব। যুগ যুগ ধরে এই মহোৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলছে। তাই রথযাত্রা ও উল্টো রথ শুধু ধর্মীয় নয়, বরং উপমহাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও এক উজ্জ্বল প্রতীক।

    ‎উৎসব নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
    ‎সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শুরু হয়। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এ উৎসবের ব্যাপক প্রচলন থাকলেও বাংলাদেশেও এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষকদলের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীত কৃষকদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৩টায় মহারাজপুর ইউনিয়নের কারবালা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষকদলের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. তসিকুল ইসলাম (তসি)। কর্মসূচিতে জেলা কৃষকদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং পরিবেশপ্রেমীরা অংশ নেন। এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে উপস্থিত সবার মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কারবালা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

    সভাপতির বক্তব্যে মো. তসিকুল ইসলাম (তসি) বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ‘সবুজ বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।” তিনি কৃষকদলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে এ উদ্যোগকে সফল করার আহ্বান জানান।

    বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • শিবগঞ্জে ১ কেজি হেরোইন ও ৯০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ১ কেজি হেরোইন ও ৯০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ।

    গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মো. রসুল মিয়া (৪২)। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের আজমতপুর হুদমাপাড়া গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন ও সালেহা বেগমের ছেলে। পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের দিকনির্দেশনায় ২১ জুলাই থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ২৩ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে। পরে ২৪ জুলাই রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে আজমতপুর হুদমাপাড়া এলাকায় রসুল মিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ১ কেজি হেরোইন এবং ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

    এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৪৯, জিআর নং-২৫৩/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, জেলার মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে শেষ হলো জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা, হাজার ভক্তের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
    উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। এ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার ভক্তের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য উল্টো রথযাত্রা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের আয়োজনে মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি বের হয়। র‍্যালিটি বারঘরিয়া ব্রিজ চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র‍্যালিজুড়ে ধর্মীয় সঙ্গীত, হরিনাম সংকীর্তন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
    র‍্যালিতে বারঘরিয়া, মহারাজপুর, রানীহাটি ও বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রায় পাঁচ হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি প্রণব কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি পালসহ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

    আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সম্প্রীতি এবং উৎসবমুখর পরিবেশে উল্টো রথযাত্রা উদযাপনের অংশ হিসেবে এ র‍্যালির আয়োজন করা হয়। র‍্যালি শেষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
    উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া নয় দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শুক্রবার উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব জগতের অধীশ্বর। তাঁর কৃপা লাভে মানুষের মুক্তি ঘটে এবং পুনর্জন্মের বন্ধন থেকে পরিত্রাণ মেলে। এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রথে স্থাপন করে রথযাত্রা এবং নির্ধারিত সময় শেষে উল্টো রথযাত্রার আয়োজন করা হয়।

    এদিকে উল্টো রথযাত্রা। উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হরিনাম সংকীর্তন, অগ্নিহোত্রী যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, ভাগবত আলোচনা, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

  • কিশোরগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: ডিউটিতে গিয়ে নিজের সন্তানের লাশের মুখোমুখি পুলিশ কর্মকর্তা


    কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
    কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো—ঘটনাস্থলে নিহত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের সন্তানের নিথর দেহের মুখোমুখি হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য বাবা।

    ​শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শহরের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিক্ষার্থী: তুহিন (১০), গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
    ​বাবা: কনস্টেবল সামসুল হক, কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত। (পরিবারের স্থায়ী নিবাস নেত্রকোনা জেলা সদরে)।

    সকালে বাসা থেকে বাইসাইকেল নিয়ে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল তুহিন। পথে একটি দ্রুতগামী সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে মারাত্মকভাবে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই শিশু তুহিনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এলেও তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

    ​দুর্ঘটনার বার্তা পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে ডিউটির অংশ হিসেবে পুলিশ টিমসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান কনস্টেবল সামসুল। তখনও তিনি জানতেন না, চালকের অসাবধানতায় প্রাণ হারানো শিশুটি আর কেউ নয়—তারই নিজের সন্তান।

    ​ঘটনাস্থলে সাইকেলের পাশে রক্তভেজা নিথর দেহ দেখে থমকে যান তিনি। সন্তানের লাশ শনাক্ত করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই পুলিশ সদস্য। মুহূর্তের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা থেকে তিনি হয়ে ওঠেন শোকস্তব্ধ এক বাবা। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত সহকর্মী ও স্থানীয় উৎসুক জনতা অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা জানান।

    ​”সামসুল আমাদের থানার অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন সদস্য। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে উদ্ধারকাজে গিয়ে সে জানতে পারে নিহত শিশুটি তার নিজের সন্তান। পুরো ঘটনাটি আমাদের থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

  • প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনে শ্রীপুরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
    প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরের শ্রীপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আনোয়ার বেপারী।

    চারা বিতরণকালে প্রধান অতিথি ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীসহ সমাজের প্রতিটি মানুষকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ করতে হবে। তিনি সকলকে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করারও আহ্বান জানান।