Blog

  • ‎বাগেরহাটে টানা বর্ষণে সাত হাজার ঘের তলিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষতি, নিঃস্ব মৎস্যচাষিরা ‎


    বাগেরহাট প্রতিনিধি:
    ‎বাগেরহাটে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে সাত হাজারেরও বেশি মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো মৎস্যচাষি।

    ‎গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় বাগেরহাট জেলার নিম্নাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়েছে। মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জেলার ফকিরহাট, চিতলমারী ও মোল্লাহাট উপজেলাসহ মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ এলাকার অন্তত ৭ হাজার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। অতিরিক্ত পানির চাপে খাল, নদী ও মাঠ একাকার হয়ে যাওয়ায় ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চাষিদের কয়েকশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিশেষ করে চিংড়ি চাষের জন্য পরিচিত এই এলাকাগুলোতে মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার ফলে চাষিরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টির তীব্রতা এবং পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় ঘেরের পাড় ভেঙে মাছ বেরিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা ঘটেছে, যা জেলার মৎস্য খাতের ওপর এক বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে।

    ‎ভুক্তভোগী মৎস্যচাষিদের অভিযোগ, ব্যাংক ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা মাছ চাষ করেছিলেন, কিন্তু এই দুর্যোগ তাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। ফকিরহাট উপজেলার মৎস্যচাষি কাজী মিরাজুল ইসলাম জানান, ঘেরের ওপর হাঁটু সমান পানি থাকায় নেট ও কচুরিপানা দিয়ে মাছ রক্ষার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। মোল্লাহাট উপজেলার নাসির মিয়া জানান, তার ৫০ বিঘার দুটি ঘেরসহ আশপাশের এলাকা পানির নিচে চলে যাওয়ায় কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।

    চিতলমারীর মুমিনুল হক টুলুর মতো অনেক চাষিই এখন ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এদিকে, ঘের তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা খেওলা জাল নিয়ে পানিতে ভেসে আসা মাছ ধরতে ভিড় করছেন। মাঠজুড়ে ঘের ও ফসলি জমি একাকার হয়ে যাওয়ায় চিংড়ি, রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উন্মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যা চাষিদের জন্য চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ‎সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এবং ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, চাষিদের আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনা করে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং এনজিওর কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে মৎস্য বিভাগ সরাসরি কোনো আর্থিক সহায়তার কথা না জানালেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল চাষিদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিচ্ছেন।

    তিনি দাবি করেন, প্রতি বছর একই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়, তাই চাষিদের ঘেরের গভীরতা ও পাড়ের উচ্চতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবে চাষিদের অভিযোগ, দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি বা সরকারি কোনো কার্যকর সুরক্ষানীতি না থাকায় বারবার তাদের এমন লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে, যার কোনো সরকারি ক্ষতিপূরণ তারা পান না।

    ‎এই প্রলয়ংকরী জলাবদ্ধতা কেবল বর্তমানের মৎস্য উৎপাদনকেই ব্যাহত করেনি, বরং ভবিষ্যতে জেলার সামগ্রিক মৎস্য অর্থনীতিকে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। কৃষি ও মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলের মানুষের জীবিকা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

    যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান বা পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নেওয়া না হয়, তবে আগামী মৌসুমে মাছ চাষে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাগেরহাটের মৎস্য ঘেরগুলো যেভাবে একের পর এক ধ্বংস হচ্ছে, তাতে কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • আলমারিতে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ত সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ পরিবার

    নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :
    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় আলমারির ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষাক্ত সাপের কামড়ে শাহানাজ আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের মিরওয়ারিশপুর গ্রামের চাপরাশি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত শাহানাজ আক্তার একই গ্রামের বাসিন্দা জায়েদ হোসেনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে রান্নার কাজ করছিলেন শাহানাজ আক্তার। দুপুরে রান্নার জন্য আলমারি থেকে পেঁয়াজ বের করতে গেলে ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষাক্ত সাপ তার হাতে ছোবল দেয়। এতে তিনি দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন।

    স্বজনরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করেন। তবে অবস্থার অবনতি হলে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

    ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত অবস্থায় শাহানাজ আক্তারকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

    এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি স্বজনরা পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেননি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে বসতঘরে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র ও সংরক্ষিত স্থান ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে।

  • চরভদ্রাসনে খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভুবনেশ্বর নদী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খনন কাজ শেষ হলেও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষে ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনো তাদের প্রাপ্য মজুরি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

    জানা গেছে, প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা টানা দুই মাস খাল খননের কাজ সম্পন্ন করেন। রোববার হাজীগঞ্জ সোনালী ব্যাংকে শ্রমিকদের সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার শ্রমিকদের মধ্যে ৯ হাজার ৯০০ টাকা করে চেক বিতরণ করেন। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর কয়েকজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে রেখে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে সুপারভাইজারের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    অভিযোগের বিষয়ে সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার বলেন, “আমি দুইজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। পরে সেই টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে তাদের চেক তুলে দেওয়া হবে।”

    এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বলেন, “অভিযোগটি আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হয়েছে। কোনো শ্রমিক যেন তার প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে তাদের চেক পৌঁছে দেওয়া হবে এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাঁর নির্দেশনায় পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে চেক হস্তান্তর ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

    এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা দ্রুত তাদের সম্পূর্ণ ও ন্যায্য মজুরি পরিশোধের পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

  • কুবিতে নানা আয়োজনে জুলাই প্রতিরোধ দিবস পালিত


    কুবি প্রতিনিধি:
    জুলাই বিপ্লবে প্রথম সহিংস পুলিশি হামলা ও হামলার প্রতিবাদের স্বীকৃতিস্বরূপ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘প্রথম প্রতিরোধ দিবস’ পালিত হয়েছে।

    রবিবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

    অনুষ্ঠানে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম, মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনাম এবং আইসিটি বিভাগের প্রভাষক মবিনুর রহমান।

    এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর জাতীয় সংগীত ও জুলাই আন্দোলনে শহিদ কুবি ছাত্র আবদুল কাইয়ুমের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরবর্তীতে দেশাত্মবোধক গান এবং জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বীরত্ব খচিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনে কুবি শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা স্থানীয় লোকদের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে আলোচনা সভাটি শুরু হয়।

    শিক্ষার্থীদের পক্ষ হতে বক্তব্যে জুলাই পরবর্তী সময়ে ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও নতুন ক্যাম্পাসের সঙ্গে পুরাতন ক্যাম্পাসের সংযোগের জন্য একটি সংযোগ সড়কের দাবিও উপস্থাপন করা হয়।

    এসময় বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “২৪ এর আন্দোলন শুধু সরকার পতনের নয়, এটি রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলন। আমরা এমন রাষ্ট্র চাই যেখানে আইনের শাসন হবে, মেধার মূল্যায়ন হবে, গবেষণা, মানবতা ও জাতীয় উন্নয়ন রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারে এই দেশ আমাদের, এই দেশ ন্যায়ের, এই দেশ মানবতার। এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার।”

    উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ​”ইতিহাস আমাদের শুধু অতীতকে মনে করায় না, ভবিষ্যতের পথও দেখায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, সত্যে অবিচল থাকা এবং গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াই প্রতিরোধের প্রকৃত শিক্ষা। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে মতের ভিন্নতা ও প্রতিযোগিতা থাকলেও সহিংসতা, বৈষম্য বা পারস্পরিক অসম্মান থাকবে না।”

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরিফুল করীম বলেন, “​আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’। জুলাইতে ছাত্রীরা তাদের ভাইদেরকে আগলে রেখেছিল, তাদের ভাইদেরকে বিজয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। তাদের ভূমিকাকে স্মরণীয় করে রাখতে ছাত্রীদের জন্য আমরা একটি কর্নার তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, নাম হবে ‘অরুণিমা কর্নার’। কর্নারটিতে থাকবে, স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম, নামাজ পড়ার স্থান এবং ক্লাসের ফাঁকে বিশ্রাম নেয়ার ব্যবস্থা। প্রয়োজনে সেখানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারেরও ব্যবস্থা করা হবে বলেন জানান।”

    মুখ্য আলোচক অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, “জুলাইয়ের এই সফলতার মূল মন্ত্র ছিলো ঐক্য। দলমত নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের সকল মানুষ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। রাষ্ট্রের বিরোধী এই ক্ষমতার বিরুদ্ধে এই ঐক্যবদ্ধ শক্তি দাঁড়িয়েছিল বলেই এই দিবস সফল হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন শিক্ষার মানের উন্নয়ন। কুবির শিক্ষার্থীদের খাবার, আবাসন এবং যাতায়াত সুবিধার অগ্রগতির জন্য বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্ব দেয়ার প্রতি আহ্বান করছি।”

    সরকারি চাকুরি প্রাপ্তির বিষয়ে সায়মা ফেরদৌস বলেন, এখন পেছনের দরজা দিয়ে চাকুরি পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর হয়েছে, এসব বন্ধ করতে পেরেছি। সফলভাবে প্রশ্নফাঁস রোধ হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

    ​জুলাই প্রতিরোধ দিবস অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “ উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, আজকের অনুষ্ঠানের সম্মানিত মুখ্য আলোচক এবং আমার সকল সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যাঁদের আন্তরিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

  • বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নির্বাচন ২৭ সেপ্টেম্বর

    বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :

    বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ট্রাস্টের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ঘোষণা করা হয়েছে। কার্যনির্বাহী কমিটির সভা গত সোমবার (৭ জুলাই) পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইনের মাসালা রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।

    ট্রাস্টের সংগঠনের সভাপতি মাফিজ খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গুলজার খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভায় ট্রাস্টের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ আগস্ট নির্ধারণ করা হয় ।

    সভায় জজ বেলায়েত হোসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একেএম ইয়াহিয়া, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল মতিন ও আবুল কাহার আলীকে নিযুক্ত করা হয় ।

    নতুন ট্রাস্টিদের অনুমোদন এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ট্রাস্টির সংখ্যা বেড়ে ৬১৮ জনে উন্নীত হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন নতুন ট্রাষ্টীদের পরবর্তী মিটিয়ে অনুমোদন দেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিশ্বনাথবাসীদের মধ্যে যারা এখনও ট্রাষ্টি হননি তাদেরকে ট্রাষ্টীশীপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে ।

    নতুন ট্রাষ্টির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে ট্রাষ্টির সংখ্যা ৭ শত ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ। এছাড়া সংগঠনটি ইউকে চ্যারিটি কমিশনে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট হিসেবে রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

    নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি গত নির্বাচনে ট্রাস্টিবৃন্দের কাছে যে অঙ্গীকার করেছিল তার অধিকাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের ট্রেজারার আখলাকুর রহমান, সহসভাপতি মুহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন, প্রফেসর ফরিদ আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহিম রঞ্জু, মো. কবির মিয়া, সহকারী কোষাধ্যক্ষ মো. হাসিনুজ্জামান নুরু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ দৌলত হোসাইন, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল হুসাইন, খালেদ খান, নেছার আলী লিলু, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্দুস সালাম, শেখ মোবাশ্বির আলী, গিয়াস মিয়া।

    সভায় গত দুই বছরে সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা এবং সার্বিক সহযোগিতার জন্য সকল ট্রাস্টির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।

  • লোহাগাড়ায় বিএনপির উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী প্রদান

    লোহাগাড়ার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :

    লোহাগাড়া উপজেলার ৯ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানি বন্দিতে রয়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্যের সংকটও। অনেক মানুষ ঘরবন্দিতে রয়েছে। এলাকার গ্রামীণ সড়ক ও মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বর্তমানে অতি কস্টে দিনাতিপাত করছে এলাকার মানুষ।

    তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৫নাম্বার ওয়ার্ড এবং আমিরাবাদ ইউনিয়নের ২নাম্বার ওয়ার্ডের ঘরবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    ১২জুলাই বেলা ৩টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস‍্য জনাব Fazul Kabir Fazlu ফৌজুল কবির ফজলু।

    উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম আবু সাঈদ চৌধুরী টিটুর সভাপতিত্বে বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে অন‍্যন‍্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম,নজরুল ইসলাম চৌধুরী,নুরুল আলম কোম্পানী,ইমামুল আবেদীন রিপন, আলাউদ্দিন বাচ্চু,বেলাল হোসাইন রানা,আনোয়ার হোসেন,মোঃ জাহেদ,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন,সদস‍্য সচিব রমজানুল কবির জয়, যুবদল নেতা মোরশেদ আলম,বিএনপি নেতা মোঃ সেলিম,তছলিম উদ্দিন,উপজেলা ছাত্রদল নেতা আরমান হোসেন ফয়সাল, আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজের
    প্রচার সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পদমর্যাদা মোঃ কায়েস উদ্দিন,এহেছানুল হক আহাদ,স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দিদার হোসেন মোঃ ইকবালসহ অন্যন্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কটিয়াদীতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত চান্দপুর হাজীবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৯ বছর ধরে নেই প্রধান শিক্ষক

    কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:

    গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের ১০১ নং চান্দপুর হাজীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এই জলাবদ্ধতার ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়টির মূল ভবন এবং সামনের রাস্তাটি উঁচু হওয়ায়, বৃষ্টির পানি জমে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকা পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা এতটাই প্রকট যে, স্বাভাবিকভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে প্রবেশের কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়েই সবাইকে হাঁটু পানি ভেঙে বিদ্যালয় ভবনে উঠতে হচ্ছে।

    এদিকে নোংরা পানি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, বৃষ্টি থামলে এবং মাঠের পানি সরে গেলে তবেই তারা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবেন। এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে বিদ্যালয়ের মাঠটিতে মাটি ভরাট করে সামনের রাস্তার সমপর্যায়ে নিয়ে আসা হোক। তাহলে বৃষ্টি হলেও আর জলাবদ্ধতা হবে না এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকবে। মাটি ভরাটের বিষয়ে তারা শিক্ষা বিভাগের জরুরি সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

    ১৯৭৬ সালে মানিকখালী হাজী বাড়ির আলহাজ্ব আজিজুল হকের বড় ছেলে আলহাজ্ব ফজলুল হক মুকুল মিয়া বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রয়োজনীয় জমি দান করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে।

    বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ ৯ বছর (২০১৮ সাল থেকে) ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কোনোমতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    মোট ২৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে মাত্র ৪ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা (১:৪০ অনুপাত)। সেই হিসাবে এই বিদ্যালয়ে অন্তত ৬ জন শিক্ষক প্রয়োজন। বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:৬২.৫, যা সরকারি বিধির চেয়ে অনেক বেশি।

    সরেজমিনে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যখন অফিশিয়াল কাজে উপজেলা সদরে যান, তখন মাত্র ৩ জন শিক্ষকের পক্ষে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে সামলানো এবং পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ নাজনিন সুলতানা মুন্নি এই প্রতিবেদককে বলেন: “জরুরি ভিত্তিতে একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় সহকারী শিক্ষক আমাদের বিদ্যালয়ে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আরো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। শত কষ্টের মাঝেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।”

    সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক অভিভাবকও বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র এই বিদ্যালয়টিই নয়, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার যেসকল বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হয়, সেগুলোর সমস্যা সমাধানে শিক্ষা বিভাগ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয় নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও নিশ্চিত করেছে অফিসকর্তৃপক্ষ।

  • ঘুষ না দেওয়ায় কোম্পানীগঞ্জে ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের বিল আটকে রাখার অভিযোগ

    নোয়াখালী প্রতিনিধি:
    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন খাতের বরাদ্দের বিল ছাড়ে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা।

    একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলার প্রায় ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কন্টিনজেন্সি বিল, বিদ্যুৎ বিল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিল, বিভিন্ন দিবস উদযাপন ব্যয়, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার উপকরণ ক্রয়, ক্রীড়া কার্যক্রম’র অর্থ জুলাই মাস’র ১২ তারিখ পেরিয়ে গেলেও এখনো ছাড় করা হয়নি। তাঁদের দাবি, ঘুষ না দেওয়ায় এসব বিল আটকে রাখা হয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়,অড়িট খরচ’র কথা বলে বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এ অর্থ সংগ্রহে কয়েকজন অসাধু প্রধান শিক্ষক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অফিস এবং কয়েকজন শিক্ষক নেতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা:আশরাফ-উল-আলম অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অফিসে জনবল সংকটের কারণে বিল প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আজই বিলগুলো ছাড় করে দেওয়া হবে। ঘুষ বা অবৈধ অর্থ দাবি করার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

    তবে, অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, বিল ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

  • ঘুষ না দেওয়ায় কোম্পানীগঞ্জে ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের বিল আটকে রাখার অভিযোগ


    নোয়াখালীর প্রতিনিধি:

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন খাতের বরাদ্দের বিল ছাড়ে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা।

    একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলার প্রায় ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কন্টিনজেন্সি বিল, বিদ্যুৎ বিল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিল, বিভিন্ন দিবস উদযাপন ব্যয়, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার উপকরণ ক্রয়, ক্রীড়া কার্যক্রম’র অর্থ জুলাই মাস’র ১২ তারিখ পেরিয়ে গেলেও এখনো ছাড় করা হয়নি। তাঁদের দাবি, ঘুষ না দেওয়ায় এসব বিল আটকে রাখা হয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়,অড়িট খরচ’র কথা বলে বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এ অর্থ সংগ্রহে কয়েকজন অসাধু প্রধান শিক্ষক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অফিস এবং কয়েকজন শিক্ষক নেতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা:আশরাফ-উল-আলম অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অফিসে জনবল সংকটের কারণে বিল প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আজই বিলগুলো ছাড় করে দেওয়া হবে। ঘুষ বা অবৈধ অর্থ দাবি করার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

    তবে, অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, বিল ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ১২৪ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    রোববার (১২ জুলাই) রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৫৩ বিজিবির অধীনস্থ মনোহরপুর বিওপির সদস্যরা শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১২৪ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া সিরাপগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এদিকে, ৫৩ বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসে ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন অভিযানে একজন আসামিকে আটকসহ মোট ২৭১ বোতল এস্কাফ সিরাপ, ৬৪ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ এবং ৪৬ বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ১০০ টাকা।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পুশ-ইন প্রতিরোধ, চোরাচালান দমন এবং সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।