Blog

  • চা-বাগানের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাছ কাটার মামলা

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্কয়ার গ্রুপের মালিকানাধীন সাবাজপুর চা বাগানে চা বোর্ড ও বনবিভাগের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে সরকারি লীজের (খাস) টিলা ভূমি হতে ১০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাগান ম্যানেজার নাহিদ ফেরদৌস চৌধুরীকে প্রধান ও আরোও ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেছেন উপজেলার ভুগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) পংকজ তালুকদার।

    মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার সাবাজপুর চা বাগানের ম্যানেজার বাগানের ভেতরের বিপিন টিলা, দক্ষিণাঞ্চলের বৈকন্ঠটিলা, আনডহর ও আশপাশ এলাকার টিলাভূমি থেকে প্রায় ৩ মাস ধরে অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে বিক্রি করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ জুলাই সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা অবৈধভাবে কেটে স্টেক করে রাখা বিভিন্ন প্রজাতির ২৫১টি টুকরায় ১৬ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন। যার বাজার মূল্য ১০ লক্ষাধিক টাকা। এতে সরকারের কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া জানান, বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই চা বাগান ব্যাপক হারে গাছ কেটে ফেলে। অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলি তারা বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই গাছ কাঁটায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • ‎ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল নাসিরনগরের ওহি, পরিবার ও বিদ্যালয়ে আনন্দের বন্যা ‎


    ‎ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
    ‎২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী ইফতেখার আহাম্মেদ ওহি। তার এই কৃতিত্বে পরিবার, বিদ্যালয় এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

    ‎ওহি ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। সে নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

    ‎ওহির বাবা আশরাফ উদ্দিন আহাম্মেদ ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মা শিরিন আক্তার আশা একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত। দুই সন্তানের মধ্যে ওহি বড়।

    ‎পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই ওহি পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ও পরিশ্রমী। নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের উৎসাহ-অনুপ্রেরণার ফলেই সে এই সাফল্য অর্জন করেছে।

    ‎ওহির এই কৃতিত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভবিষ্যতেও সে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করবে, এমন প্রত্যাশা সবার।

    ‎ইফতেখার আহাম্মেদ ওহি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছে।

  • গাজীপুরে জনসংখ্যা দিবস পালিত ও পরিকল্পিত পরিবার গঠন শীর্ষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    “জনসংখ্যা ও উন্নয়ন”আগামীর সুরক্ষায় পরিবার পরিকল্পনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুরের শ্রীপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১১টায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা ও কৃতী কর্মীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    ‎​উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরে আল-আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদ নিয়াজ শিশির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম।

    ‎​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া ফারুক (মা ও শিশু), ডা. মাখরুজা (মা ও শিশু) সহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীবৃন্দ।

    ‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদ নিয়াজ শিশির বলেন, “দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পিত পরিবার গঠনের কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই শ্রীপুরে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটছে।”

    ‎​আলোচনা শেষে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে অসামান্য অবদান ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

    ‎​পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা:
    ‎​সেরা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক: মকবুল হোসাইন (তেলিহাটি ইউনিয়ন) — যিনি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন।
    ‎​সেরা পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (উপজেলা পর্যায়): মিনারা খাতুন (রাজাবাড়ি ইউনিয়ন)।
    ‎​সেরা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (উপজেলা পর্যায়): তানিয়া আক্তার (তেলিহাটি ইউনিয়ন)।
    ‎​সেরা পরিবার কল্যাণ সহকারী (উপজেলা পর্যায়): হাসিনা বেগম (তেলিহাটি ইউনিয়ন)।
    ‎​সেরা ইউনিয়ন পরিষদ: তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদ।
    ‎​সেরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র: বরমী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র।

    ‎​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

  • যাত্রাবাড়িতে ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ ও সড়ক পরিদর্শন করেন কামাল হোসেন,এমপি


    যাত্রাবাড়ী,ঢাকা প্রতিনিধি:
    ঢাকা-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের উদ্যোগে নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পয়োনিষ্কাশন সমস্যা দূরীকরণে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭০ ও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ ও বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করেন। এসময় এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ৭০ নং ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির কার্যক্রম শুরু করা হয়। এসময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন মেন্দিপুর আমীন উদ্দিন ভোট রোড হইতে আমীরের বাড়ি পর্যন্ত এই ড্রেনেজ নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন ৭০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কামারাম মুনীর ফুয়াদ সহ এলাকার স্থানিয় জনসাধারণ । এসময় তিনি জানান, নতুন এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন ইনশাআল্লাহ ।

    অন্যদিকে ৬৩ নং ওয়ার্ডের কাজলার পাড় ও সামাদ নগর এলাকার তীব্র জলাবদ্ধতা, পয়োনিষ্কাশন সমস্যা নিরসন এবং রাস্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে উক্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
    পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তির চিত্র সরাসরি দেখেন এবং দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সড়ক ও ড্রেন পরিদর্শনকালে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন, জনাব ইমরান আহমেদ (কাউন্সিলর প্রার্থী, ৬৩ নং ওয়ার্ড) সহ এলাকার স্থানিয় জনসাধারণ।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংসদ সদস্যের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন আরো দীর্ঘ স্থায়ী হবে।

  • মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি সার্বিক উন্নতি হয়েছে।

    মনু,ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যারা আশ্রয় কেন্দ্র বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে তারা বাড়ি ফিরেছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া হচ্ছে শুকনো খাবার। জেলায় এপর্যন্ত সরকারি ভাবে ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

    উজানের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে টেংরা ইউনিয়নের মনুনদীর ২টি স্থান উজিরপুর, একামধু ও কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। ভাঙ্গন দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে বের হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে।

    বন্যায় ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাদিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেকই বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া হচ্ছে শুকনো খাবার।

    জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায় ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৪ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে টেংরা ইউনিয়নের মনুনদীর ২টি স্থান উজিরপুর, একামধু ও কুলাউড়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাদিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে আশরাফ আলী নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেকই বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর ভাঙ্গন দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে বের হয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে।

    বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা এলাকায় মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পরে মনুনদীর একামধু এলাকায় মনু প্রকল্পের বাঁধে দ্বিতীয় ভাঙ্গন দেখো দিলে টেংরা, মনসুরনগর ও রাজনগর সদর ইউনিয়নের আরো ১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

    প্লাবিত গ্রাম গুলো হলো- টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পন্ডিতনগর, আকুয়া, সৈয়দনগর, টগরপুর, কোনাগাঁও, ভাঙ্গারহাট, আদিনাবাদ, পাইকপাড়া, নওয়াগাঁও, গনেশপুর। মনসুরনগর ইউনিয়নের-শ্বাসমহল, বকসীকোনা, মালিকোনা, প্রেমনগর, গোবিন্দশ্রী এবং রাজনগর সদর ইউনিয়নের গয়ঘর, ডলা, মহাসগস্র ও দত্তগ্রাম।

    অপরদিকে কুলাউড়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় মনুনদীর বাঁধ ভেঙ্গে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি।

    বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আশরাফ আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, পানিতে তোড়ে ভেসে গিয়ে বৃদ্ধ আশরাফ আলী নিখোজ হলে দীর্ঘ সময় খোজাখোজির পর আকুয়া এলাকায় মনু নদীর রিং বাঁধের সাথে শুক্রবার সকালে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে।

    জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করে জানান, সংশ্লিষ্ট সকলকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহবায়ন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

    মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অনেক জায়গায় উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে ৩টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে।

    এদিকে মৌলভীবাজার শহরের কাছে চাঁদনিঘাট পয়েন্টে মনুনদীর পানি শুক্রবার সকাল ৯ টায় বিপদ সীমার ৭৫ সে: মি: উপর দিয়ে প্রবাহি হচ্ছে। কুশিয়ারা, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায় বর্তমানে জেলায় মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। এর মধ্যে ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার বন্যার্থ মানুষ আশ্রয় নেন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজগাঁও দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে দুটি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ত্রাণ সামগ্রীও বিতরণ করা হয়।

    মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আকৎসিক বন্যা দেখা দেয়। মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অনেক জায়গায় উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ৩টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ধলাই নদীর ভাঙ্গনের স্থান মেরামত নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি রয়েছে ভারতের। তবে সুযোগ পেলে ওই স্থান মেরামতসহ জেলার নদীর প্রতিরক্ষার বাঁধ গুলো ভাঙ্গন রোধে তারা সর্তক নজদারি রাখছেন।
    ০১৭৪৫৯৩৯৪৪৮

  • ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

    ভোলা জেলা প্রতিনিধি :

    ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও সুষ্ঠুভাবে পালনের লক্ষ্যে আজ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে উপস্থিত সকলকে নিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ভোলা জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডা. শামীম রহমান । এতে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার) সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাগণ।

    সভায় দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক সমন্বয় নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দিবসটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণভাবে উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে এক রাতে শিয়ালের কামড়ে আহত ১৪, এলাকায় জুড়ে আতঙ্ক

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুরের শ্রীপুরে এক রাতে শিয়ালের কামড়ে অন্তত ১৪ নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। তাদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শিয়াল রাস্তায় ও বসতঘরে ঢুকে আক্রমণ করায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়ন ও শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এসব ঘটনা ঘটে।

    শিয়ালের কামড়ে আহতদের মধ্যে মো. আকাশ (১৩), নাঈম (১১), মাজেদা (৪৫), রোজিনা (৩৬), হেলেনা আক্তার (৪০), আশরাফুল ইসলাম (২৬), শেফালী (৩৪), সাইফুন্নাহার (২৩) ও আরাফের (১৪) নাম জানা গেছে। আহত অন্যদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    গোসিঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা আজাহারুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে এলাকায় শিয়ালের আনাগোনা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর শিয়াল লোকালয়ে চলে আসছে। রাস্তায় চলাচলের সময় কয়েকজনকে কামড়ে আহত করেছে। এমনকি ঘরে ঢুকেও এক নারীকে আক্রমণ করেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে শিয়াল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।

    ভাংনাহাটি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, শনিবার (গতকাল) রাতে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভাংনাহাটি গ্রামে কামিল মাদ্রাসার পাশে একটি বসতঘরে ঢুকে শিয়াল দুই নারীকে কামড়ে আহত করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

    শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলী আজগর সোহাগ বলেন, শনিবার (গতকাল) রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে আহত অন্তত ১৪ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সাধারন মানুষের ধারনা করছেন, বৃষ্টির পানি শিয়ালের গর্ত এমনকি নিঝুম জঙ্গলের নীচু জায়গা পানিতে ভরে যাওয়ায় রাস্তার পাশে এমনকি বাড়িতে শিয়ালের আনাগোনা বেশী দেখা যাচ্ছে। তবে সবাইকে সাবধানে চলাচল করতে হবে। বিশেষ করে রাতে আত্মরক্ষার জন্য হাতে লাঠি, টর্চ লাইট নিয়ে বাহিরে বের হলে হয়তো শিয়ালের আক্রমণ থেকে বাঁচা সম্ভব।

  • প্রাণহানির ভয়ে দুই মাস ধরে বাড়ি আসেনা ছেলে সংবাদ সম্মেলনে মায়ের অভিযোগ

    ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:

    সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে প্রাণহানির ভয়ে দুই মাস যাবত ছেলে বাড়িতে আসতে পারেনা বলে সংবাদ সম্মেলনে আবু রাসেলের মা রোশেদা খাতুন অভিযোগ করেছেন। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার খুর্দ্দ গ্রামের হানিছ মার্কেট এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহনা গ্রামের মৃত আব্দুস ছালাম ফকিরের স্ত্রী রোশেদা খাতুন ওই অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন একই গ্রামের মজিদ ফকিরের ছেলে খাইরুল ফকিরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী গত ৯ মে তার বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে বাড়ির লোকজনদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার লুটপাট করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে চাইলে পরবর্তীতে তার ছেলে আবু রাসেলের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর উল্টো খাইরুল ফকিরের স্ত্রী বাদী হয়ে সম্প্রতি কোর্টে একটি মিথ্যা বানোয়াট মামলা দায়ের করে আবু রাসেলসহ তাদের পরিবারের লোকজনদের নামে। বিভিন্ন সময় খাইরুল ফকির তাদেরকে প্রাণহানির হুমকি দিয়ে আসছে। খাইরুল ফকিরের হুমকির কারণে তার ছেলে আবু রাসেল বাড়িতে আসতে পারে না। বর্তমানে তারা নিরাপত্তহীনতায় ভোগছেন বলে জানান। রোশেদা খাতুন এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত বিচার দাবি করেছেন।

  • গুমের নাটক সাজিয়ে ২ বছর আত্মগোপন: নির্দোষ ঠিকাদারকে ৪ মাস জেল খাটিয়ে অবশেষে জীবিত উদ্ধার


    ​কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রায় দুই বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে থেকে নিজের ‘অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের’ মিথ্যা মামলা করানোর এক দুর্ধর্ষ প্রতারণার ঘটনা ফাঁস করেছে পুলিশ। এই সাজানো মামলার জালে ফেঁসে প্রধান আসামি হিসেবে টানা চার মাস কারাভোগ করেছেন জামান মিয়া নামের এক স্থানীয় ঠিকাদার।
    অবশেষে দীর্ঘ তদন্ত ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর থেকে তথাকথিত ‘নিখোঁজ’ যুবক মোস্তফা কামালকে (২৮) জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ।

    ​শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

    ​বিরোধের সূত্রপাত ও নিখোঁজ নাটক
    ​অনুসন্ধানে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া মোস্তফা কামাল মূলত ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার বাসিন্দা হলেও তার পরিবার কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করত। পেশায় রাজমিস্ত্রি কাম সাব-কন্ট্রাক্টর মোস্তফা কামালের সাথে বাজিতপুরের পিরিজপুর এলাকার ঠিকাদার জামান মিয়ার ব্যবসায়িক সুবাদে পরিচয় হয়। একসাথে কাজ করার সময় তাদের মধ্যে কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়।

    ​ঠিকাদার জামান মিয়ার দাবি, মোস্তফা কামাল কাজের হিসাবের বাইরে তার কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা অতিরিক্ত অগ্রিম নিয়ে আর কাজে আসেননি। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরমে পৌঁছালে মোস্তফা কামাল একপর্যায়ে সুকৌশলে বাড়ি ছেড়ে উধাও হয়ে যান এবং পরিবারের সাথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

    এদিকে ​ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা মনোয়ারা বেগম আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়— ঠিকাদার জামান মিয়া ও তার সহযোগীরা মোস্তফা কামালকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করেছে। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি রুজু হয় এবং পুলিশ প্রধান আসামি জামান মিয়াকে গ্রেফতার করে।

    ​নির্দোষ জামান মিয়া শুরু থেকেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর দাবি জানিয়ে আসলেও দীর্ঘ চার মাস তাকে কারাগারে বন্দি থাকতে হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

    জামান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই মিথ্যা মামলার কারণে আমার ব্যবসা, সামাজিক মর্যাদা এবং পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমি এই ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

    ​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল হক জানান, মামলার তদন্ত করতে গিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণে বেশ কিছু অসঙ্গতি তাদের নজরে আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির নজরদারি বৃদ্ধি করে।

    অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের গাছা থানার ভোগড়াচালা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মোস্তফা কামালকে।

    জানা গেছে, সেখানে তিনি স্বাভাবিকভাবে রাজমিস্ত্রির কাজ করার পাশাপাশি নতুন করে বিয়ে করে সংসারও করছিলেন।

    ​মিথ্যা গুমের ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের জানান, “আমরা ভেবেছিলাম ছেলেটি সত্যিই খুনের শিকার হয়েছে। এখন জানা গেল সব নাটক। যারা এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করে, তাদের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।”

    ​কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, উদ্ধার হওয়া যুবককে আদালতে হাজির করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “পুরো এই ষড়যন্ত্রের পেছনে আর কারা জড়িত এবং পরিবারের সদস্যরা জেনেশুনে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করেছে কি না— তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • লোহাগাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ পরিবারে ভিজিএফ চাল বিতরণ

    লোহাগাড়ার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার লোহাগাড়া ইউনিয়ন পরিষদের অতি বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। আজ রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে এই বিশেষ ভিজিএফ (চাল) বিতরণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
    জানা গেছে, সাম্প্রতিক অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৪৫০টি পরিবারের তালিকা তৈরি করে এই মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় লোহাগাড়া ৬ নং ইউনিয়ন পরিষদের প্রাঙ্গণ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।
    চাল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত প্যানেল চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মন্নান ও লোহাগাড়া সদর ৫ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার মোহাম্মদ হামিদ। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) এবং গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) সদস্যগণ উপস্থিত থেকে শৃঙ্খলা রক্ষা ও চাল বিতরণে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
    ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মন্নান জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এই খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।