Blog

  • উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে ষ্ট্যান্ডিং অর্ডার অন ডিজাষ্টার (এসওডি) বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

    নিয়ামতপুর নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
    হেক্স ইপার এর সহযোগিতায় এবং ডাসকো ফাউন্ডেশন এর থ্রাইভ প্রকল্পের অধিণে উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে ষ্ট্যান্ডিং অর্ডার অন ডিজাষ্টার (এসওডি) বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    আজ সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ মুর্শিদা খাতুন।

    এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম,
    উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, নিয়ামতপুর থানার উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক, প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার-মোঃ আনোয়ার হোসেন, ফারহানা উর্মি প্রমূখ।

    সভায় বক্তারা বলেন, নিয়ামতপুর উপজেলায় কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকেও কাজ করতে হবে। একই ব্যাক্তিকে যাতে একাধিক সহায়তার আওতায় না নিয়ে আসা হয় অর্থাৎ ওভারল্যাপিং যাতে না হয় এজন্য এনজিওদের সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার কথা বলেন।

  • চট্টগ্রামের বন্যার্ত মানুষের পাশে স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ: ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রথম দিন শুরু

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    সাম্প্রতিক টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে পড়েছেন হাজারো মানুষ। এমন সংকটময় সময়ে মানবতার সেবার অঙ্গীকার নিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
    সংগঠনটির উদ্যোগে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রথম দিনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শুভাকাঙ্ক্ষী, দানশীল ব্যক্তি এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় ত্রাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগৃহীত ত্রাণ দ্রুত চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে দিয়ে অসহায় পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম দিন থেকেই স্বেচ্ছাসেবীরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ত্রাণ সংগ্রহে কাজ করছেন। অনেকেই নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, চাল, ডাল, তেল, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য, স্যালাইন, ওষুধ, কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
    স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন,
    “প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের জন্য কাজ করাই প্রকৃত মানবতা। তাই আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। দেশের সকল বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষদের এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।”
    তিনি আরও বলেন, “ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান থাকবে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সংগ্রহের পর আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেবে। আমরা চাই, কোনো অসহায় পরিবার যেন সাহায্য থেকে বঞ্চিত না হয়।”
    সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, এই কার্যক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শাখার স্বেচ্ছাসেবীরাও যুক্ত হচ্ছেন। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করছেন এবং মানবিক এই উদ্যোগকে সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
    স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ দেশের সকল নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং মানবিক ব্যক্তিদের বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনটি বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছে এবং এই মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সকল শুভানুধ্যায়ীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
    মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ে স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা সবসময় মানুষের পাশে থাকবে এবং ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

  • কুতুবদিয়ায় ট্রলারডুবি: ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার, জীবিত ফিরলেন ৭

    কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:

    কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে পাঁচ জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা অপর সাত জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটির ভেতর থেকে নিখোঁজ পাঁচ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহতরা হলেন— কুতুবদিয়ার দক্ষিণ অমজাখালী এলাকার নাছির উদ্দীন (২০), আলী আকবর ডেইল হায়দারপাড়ার কামাল (৪৮) এবং পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের নাছির উদ্দীন (২১), মো. করিম (২১) ও আইয়ুব মনির (২০)।

    স্থানীয়দের বরাতে কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক আহমেদ জানান, রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় কুতুবদিয়ার স্থানীয় নুরুল আবছারের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলার ১২ জন মাঝি-মাল্লাকে নিয়ে গভীর সাগরের উদ্দেশে রওনা দেয়। সোমবার ভোরে সাগরে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

    দুর্ঘটনার পর ট্রলারে থাকা সাত জেলে সাগরে ভেসে জীবিত উদ্ধার হলেও অপর পাঁচজন নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয় জেলে ও প্রশাসনের যৌথ উদ্ধার অভিযানে সন্ধ্যার দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির ভেতর থেকে নিখোঁজ পাঁচ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপকূলীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • বন্যাদুর্গত মানুষকে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন; পার্বত্য সচিব মো: মিজানুর রহমান

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে বন্যাদুর্গত মানুষকে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন পার্বত্য সচিব।
    খাগড়াছড়ির বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষে পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মিজানুর রহমান।

    পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিতি ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইলিয়াস মেহেদী, পুলিশ সুপার মো: মোরতোজা আলী খান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ চাকমা (রিংকু), দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তালজিল পারভেজসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সাংবাদিকরা এবং জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    সোমবার (১৩ জুলাই) সকালের দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে ছোট মেরুং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

    পার্বত্য সচিব বলেন, কোনো বন্যাদুর্গত মানুষকে সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    তিনি আরোও বলেন, বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এবারের বন্যায় খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, ফসলি জমি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    তিনি জানান,প্রধানমন্ত্রী দেশের বন্যা পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন। সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে এবং কোনো পরিবার যেন সরকারি সহায়তা থেকে বাদ না পড়ে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনের সব পর্যায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে খাগড়াছড়ির জন্য সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী তিন পার্বত্য জেলার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মাধ্যমে জেলা পরিষদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে তাও নিশ্চিত করা হবে।
    তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু জরুরি ত্রাণ বিতরণ নয়; ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনা। এজন্য প্রশাসনের সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ‎বাগেরহাট আদালত ভবনে ছাদের পলেস্তারা ধসে আহত ৫ নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা


    বাগেরহাট প্রতিনিধি:
    ‎বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিনতলা ভবনের পলেস্তারা খসে পাঁচ বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন, যা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।

    ‎১৩ জুলাই সোমবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিনতলা ভবনের নিচতলায় কচুয়া আদালতের এজলাসসংলগ্ন বারান্দায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন হঠাৎ ওপর থেকে পলেস্তরার বড় একটি অংশ নিচে অবস্থানরত বিচারপ্রার্থীদের ওপর আছড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই সুমন দাস, হৃদয় হাওলাদার, হাবিবুল্লাহ শেখ, মো. ফিরোজ শেখ এবং মোতালেব হোসেন গুরুতর আহত হন। ঘটনার আকস্মিকতায় আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিচারিক কার্যক্রম সাময়িক বিঘ্নিত হয়। দায়িত্বরতরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করেন, যেখানে বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিচারপ্রার্থীদের ওপর ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

    ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ছাদের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছিল। আহত বিচারপ্রার্থী মো. ফিরোজ শেখসহ অন্যরা জানান, এজলাসসংলগ্ন বারান্দাটি সবসময় জনাকীর্ণ থাকে, অথচ ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ আদনান হোসেন জানিয়েছেন, আহতদের মাথায়, ঘাড়ে ও পায়ে আঘাত লেগেছে, যা নির্দেশ করে পলেস্তারাটি বেশ ভারী ছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আদালতে এসে অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে শারীরিক ক্ষতির শিকার হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনার পর থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে আগত বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে, কারণ ভবনটির অন্যান্য অংশও যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ‎ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এম এম মাহাবুব মোর্শেদ লালন জানিয়েছেন, ভবনটি অত্যন্ত পুরোনো এবং এর স্থাপত্য কাঠামো বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

    তিনি জানান, ঘটনার পরপরই বিচারকরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের গাফিলতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সংস্কারের জন্য এর আগেও একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অভাবে আজ এই দুর্ঘটনা ঘটল। বর্তমানে বিচারক ও আইনজীবীরা অবিলম্বে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা অথবা জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের মেরামতের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রাণহানির মতো ঘটনা না ঘটে।

    ‎পরিশেষে, বাগেরহাটের এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং দেশের পুরোনো সরকারি ভবনগুলোর ভঙ্গুর দশার একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেখানে রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব, সেখানে আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভবনে এমন ধস বিচারিক কার্যক্রমের ওপর আস্থা ও নিরাপত্তার সংকট তৈরি করে। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা প্রবল।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে বিচারপ্রার্থীদের আদালতে আসার পরিবেশ ও নিরাপত্তা উভয়ই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে।

  • রাঙ্গুনিয়ায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ ও ভেসে যাওয়া সেতু পরিদর্শন করলেন হুমাম কাদের এমপি


    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    গত সোমবার ১৩ জুলাই রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। সারাদিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

    বন্যায় ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারানো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তিনি পদুয়া ইউনিয়নের বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বন্যার তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই ব্রিজের বর্তমান অবস্থা এবং চলাচলের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে কার্যকর ও টেকসই সংস্কার ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে তাদের করুণ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়। আকস্মিক বন্যায় ফসলি জমি ও বসতভিটা তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তাদের দৈনন্দিন আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অধিকাংশ পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগীদের মতে, ব্রিজঘাট ব্রিজের বর্তমান জরাজীর্ণ দশা তাদের যাতায়াতকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, যা দ্রুত মেরামত না করলে বৃহত্তর দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ত্রাণ গ্রহণকালে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, সরকারি এই সহায়তা তাদের সাময়িক সংকট মোকাবিলায় কিছুটা স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কৃষি সহায়তার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছেন।

    ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সকল পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা হবে। এছাড়া ব্রিজঘাট ব্রিজের সংস্কারের বিষয়ে প্রকৌশল বিভাগকে দ্রুত প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উক্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কুতুবউদ্দিন বাহারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ শওকত আলী নুর, ওয়াকিল আহমদ, ইউছুফ চৌধুরী এবং ভিপি আনসুর উদ্দিন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামোগত এই সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক তদারকি সমানতালে চলমান থাকবে, যাতে বর্ষা মৌসুমের এই দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

    পদুয়া ইউনিয়নের এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ও ব্রিজ পরিদর্শন স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে কেবল ত্রাণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি খাতের পুনর্বাসনই এখন স্থানীয়দের প্রধান দাবি। সংসদ সদস্যের এই হস্তক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কার কাজে হাত দিলে জনদুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে রাঙ্গুনিয়ার এই বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থায়ী নীতিমালা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মুখেই থেকে যাবে।

  • ছাত্র হত্যা, গুম ও থানায় ধর্ষণের পৈশাচিক খলনায়ক ডিসি আলমগীর: বরখাস্তের পরও খুনের লাইসেন্স ও ডাবল প্রমোশন দিয়ে এবার রংপুর রেঞ্জের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ‘এসপি অ্যাডমিন’

    বিশেষ প্রতিনিধিঃ
    ফ্যাসিবাদী জল্লাদ সরকারের অন্যতম প্রধান লাঠিয়াল, সীমাহীন দুর্নীতি, লম্পটতা ও পাশবিকতার জীবন্ত নরকখণ্ড পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের গা শিউরে ওঠা আমলনামা ফাঁস হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে ঝাঁঝরা করা, ব্যবসায়ীকে গুমের চেষ্টা, খোদ থানার ভেতরেই অসহায় নারীকে পৈশাচিক ধর্ষণ এবং নিরীহ মানুষের চোখ কলম দিয়ে খুঁচিয়ে উপড়ে অন্ধ করার মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতার মূল হোতা এই আলমগীর। চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, সরকারি তদন্তে এই পিশাচের সমস্ত জঘন্য অপরাধ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত “বরখাস্ত” (Dismissal from service) করার সুপারিশ করার পরও এই নরপশুর গায়ের একটা পশমও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি।

    এর পেছনে রয়েছে এক চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আঁতাত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে এবং সেই ‘ক্যাডার কোটার’ অন্ধ প্রভাবে আলমগীরের খুঁটির জোর ছিল আকাশচুম্বী। আর এই সুযোগে আইন ও নিয়মনীতিকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তার ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হন বিগত খুনী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সরাসরি আশীর্বাদ ও ক্ষমতার কালো থাবায় চাকুরীতে পুনর্বহাল করা হয় এই চিহ্নিত অপরাধীকে। শুধু পুনর্বহালই নয়, উপহার হিসেবে দেওয়া হয় পর পর দুইটি জবরদস্ত পদোন্নতি! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবের প্রত্যক্ষ মদদে ডিএমপির ‘ডিসি ক্রাইম’-এর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পদ ভাগিয়ে নিয়ে বিগত ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে খুনের নেশায় মেতে উঠেছিল এই নরপিশাচ। আর বর্তমানেও সমস্ত অপরাধ আড়াল করে সে বাগিয়ে নিয়েছে রংপুর রেঞ্জের পুলিশ সুপার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স)-এর মতো প্রভাবশালী ও দোর্দণ্ড প্রতাপশালী চেয়ার!

    প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ফিল্মি কায়দায় গুমের চেষ্টা ও ৪৫ মিনিটে ৫ মামলা!

    অনুসন্ধানে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া নথির সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে মৌলভীবাজারের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার থাকাকালে আলমগীর হোসেন ও তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ডা: রাজিয়া সুলতানা মিলে জে পি এল ডোর এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজ ও জালালাবাদ প্রোডাক্টস লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম সজীবের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর ব্যবসা সম্প্রসারণের লোন, বাকিতে দামি ফার্নিচার ও গাড়ি কেনা বাবদ ব্যবসায়ী সজীবের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা সুকৌশলে হাতিয়ে নেন আলমগীর।

    পরবর্তীতে সজীব নিজের পাওনা টাকা ফেরত চাইতেই হিংস্র বাঘের মতো গর্জে ওঠে এই উর্দিধারী ডাকাত। পাওনাদারকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট ব্যবসায়ী সজীবকে ঢাকার তার বাসা থেকে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ করে গুম করার উদ্দেশ্যে তুলে নিয়ে যায় আলমগীর ও তার বাহিনী। কিন্তু স্থানীয় জনতা ও উপস্থিত মিডিয়াকর্মীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে গুমের মিশন ব্যর্থ হলে তাকে সরাসরি মৌলভীবাজার মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে মাত্র ৪৫ মিনিটের ব্যবধানে সজীবের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ৫টি সম্পূর্ণ সাজানো, বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা ঠুকে দেয় এই জালিয়াত পুলিশ কর্মকর্তা।

    এই পৈশাচিক ষড়যন্ত্রের পেছনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের চিফ হুইপ ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এবং তার ছোট ভাই মোসাদ্দেক হোসেন মানিক। আলমগীর তার খালাতো ভাই সোহেল রানা, বান্ধবী ডা: রাজিয়া সুলতানা এবং নিজের বডিগার্ড নাজিম উদ্দিনকে বাদী বানিয়ে এই মিথ্যা মামলাগুলো করায়। এরপর ব্যবসায়ী সজীবকে জেলে পুরে দিনের পর দিন চালানো হয় অমানুষিক ও অর্বাচীন নির্যাতন। ধ্বংস করে দেওয়া হয় তার শত শত শ্রমিকের রুটি-রুজির কর্মস্থল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

    চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশ ডাস্টবিনে ফেলে প্রমোশনের মহোৎসব!

    এই পৈশাচিক জুলুমের প্রতিকার চেয়ে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম সজীব ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে আলাদা দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্তে আলমগীরের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি পৈশাচিকতার সত্যতা প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে “চাকুরী হতে বরখাস্ত” (Dismissal from service) করার গুরুদণ্ড প্রদান পূর্বক পিএসসির চূড়ান্ত মতামত চায়। একই বছরের ২১ অক্টোবর পাবলিক সার্ভিস কমিশনও (PSC) তাকে সরকারি চাকরি থেকে চিরতরে বরখাস্ত করার সপক্ষে চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়।

    দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশকে স্রেফ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, ক্ষমতার দাপটে পার পেয়ে যান আলমগীর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সকল নিয়ম ও তদন্তকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে তাকে আবার চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। এই খুনের লাইসেন্স ও জোড়া প্রমোশন ব্যবহার করেই ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে সাধারণ ছাত্র-জনতার রক্তে হোলি খেলায় মেতে ওঠে এই নরঘাতক।

    থানার ভেতর ধর্ষণ ও কলম দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার পৈশাচিকতা!

    আলমগীরের অপরাধের খতিয়ান কোনো সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সার্কেলের দায়িত্বে থাকাকালীন খোদ থানার ভেতরেই এক অসহায় নারীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ও চরম ন্যাক্কারজনক অপরাধে লিপ্ত হন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে এই মহাধর্ষণকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ওই ধর্ষিতা নারীর স্বামী লিটন হাসান ইমনকে উল্টো মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করে এই লম্পট। এছাড়াও নিরীহ মানুষকে থানায় আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চোখ কলম দিয়ে খুঁচিয়ে অন্ধ করে দেওয়ার মতো একাধিক মধ্যযুগীয় ও লোমহর্ষক বর্বরতার অভিযোগ রয়েছে এই জল্লাদের বিরুদ্ধে।

    বর্তমান অবস্থান: রংপুর রেঞ্জের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ‘এসপি অ্যাডমিন’

    বিভাগীয় তদন্ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চূড়ান্ত রায়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর এবং ছাত্র-জনতা হত্যার সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার পরও এই নরপিশাচ আলমগীর হোসেন (বিপি নং-৭৯০৬১১১১৪৩) বর্তমানে বহাল তবিয়তে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পুলিশ সুপার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) হিসেবে বহাল থেকে বীরদর্পে রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন!

    বিভাগীয় তদন্তে অপরাধের পাহাড় প্রমাণিত হওয়ার পরও কীভাবে এমন এক প্রমাণিত ধর্ষক, খুনি, অপহরণকারী ও চাঁদাবাজ পুলিশ কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে প্রমোশন পেয়ে পুলিশের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের মতো সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাগিয়ে দাপট দেখায়— তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে দেশের আমলারা ও সাধারণ মানুষ। এই নরপিশাচ আলমগীর এবং তার সহযোগী ১ ওসি ও ৪ এসআই-সহ অপরাধী চক্রকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার এবং দেশের আপামর ছাত্র-জনতা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসির উদ্দিন আহমেদ ‘প্রতিবেদক’কে স্পষ্টভাবে জানান-

    “এই অতি গুরুতর অভিযোগের তদন্তভার আমার ওপর অর্পণ করা হয়েছিল। আমি অত্যন্ত নিখুঁত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে সমস্ত অপরাধের অকাট্য প্রমাণসহ চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তর শৃঙ্খলা শাখায় পাঠিয়ে দিয়েছি।”

    এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস)-এর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এই জল্লাদের আরও ভয়ঙ্কর সব কীর্তি নিয়ে চোখ রাখুন আগামী সংখ্যায়… (চলবে..

  • বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে স্বপ্নতরী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন


    কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    কক্সবাজারের  বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে স্বপ্নতরী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন। সংগঠনটির উদ্যোগে শনিবার (১২ জুলাই) চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পহরচাঁন্দা পশ্চিমপাড়া এলাকায় বন্যাকবলিত ৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্গত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তারা বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, মানবতার সেবাই স্বপ্নতরী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের মূল লক্ষ্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংগঠনটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।

    ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সাত দিন ধরে তারা পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে কিছু সহায়তা পেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা। এ অবস্থায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন এবং মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এলাকাবাসী।

    ত্রাণ পেয়ে উপকৃত পরিবারগুলো স্বপ্নতরী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও সংগঠনটির সময়োপযোগী এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে এমন সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আশাব্যঞ্জক।

  • আঞ্চলিক সাংবাদিকতায় অনন্য মাইলফলক,চ্যানেল i এর শত রিপোর্টের মাইলছুঁই সাংবাদিক পলাশ চৌধুরী।

    শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
    একজন সাংবাদিকের প্রকৃত সাফল্য কেবল সংবাদের সংখ্যায় নয়, বরং তিনি কতটা গভীরভাবে সমাজ, মানুষ এবং ইতিহাসকে নিজের কলমে ধারণ করতে পেরেছেন তার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সাংবাদিকতায় ঠিক এমনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রথিতযশা সাংবাদিক পলাশ চৌধুরী। সম্প্রতি চ্যানেল আই অনলাইনে তাঁর প্রকাশিত শতাধিক অনুসন্ধানী ও তথ্যবহুল প্রতিবেদন বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমাজ, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার এক অমূল্য ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
    দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত পলাশ চৌধুরীর প্রতিবেদনের মূল কেন্দ্রবিন্দু—বৃহত্তর সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ অঞ্চল। বর্তমান সময়ের রাজধানীকেন্দ্রিক সাংবাদিকতার ভিড়ে তাঁর প্রতিটি মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিং প্রমাণ করে, বাংলাদেশের প্রকৃত প্রাণশক্তি লুকিয়ে আছে প্রান্তিক জনপদের মানুষ ও তাদের লোকঐতিহ্যের মাঝে।
    পলাশ চৌধুরীর সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিষয়বৈচিত্র্য। মণিপুরী, খাসিয়া, গারো, সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাওসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিলুপ্তপ্রায় ভাষা, জীবনসংগ্রাম এবং দোল, বিষু, ওয়ানগালা ও রাস উৎসবের মতো আয়োজনের গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য তিনি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই কাজকে নিছক রিপোর্টিং নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি ‘চলমান ডিজিটাল আর্কাইভ’ হিসেবে দেখছেন।
    পরিবেশ সাংবাদিকতায়ও তিনি এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য, বাইক্কা বিলের অতিথি পাখি, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলো জনসচেতনতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মাধবপুর লেক, দার্জিলিং টিলা বা শতবর্ষী ডাকঘরের মতো দর্শনীয় স্থানগুলো নিয়ে লেখা তাঁর আকর্ষণীয় ফিচার শ্রীমঙ্গলকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ব্র্যান্ডিং করতে সহায়তা করেছে।
    সৃজনশীলতা ও মানবিকতার জয়গান:
    ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী পলাশ চৌধুরী ১৯৮৯ সাল থেকে সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত। উদীচী, জাতীয় আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ ও রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের মতো সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত এই গুণী মানুষটি তাঁর লেখনীতে সাহিত্যিক সুষমা ফুটিয়ে তুলেছেন। সমাজের নেতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি চা-বাগানের শিশুদের শিক্ষা, বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং মানবিক নানা নাগরিক উদ্যোগকে আলোয় এনে তিনি সমাজে ইতিবাচক অনুপ্রেরণা তৈরি করছেন।
    সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজধানীর বাইরে থেকেও যে জাতীয় মানের কালজয়ী সাংবাদিকতা করা সম্ভব, পলাশ চৌধুরী তাঁর নিষ্ঠা ও অনুসন্ধিৎসা দিয়ে তা প্রমাণ করেছেন। সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি ও পর্যটন বিকাশে তাঁর এই সুদীর্ঘ ও নিরলস অবদান নিঃসন্দেহে জাতীয় স্বীকৃতির দাবিদার।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতক মৃত্যুশয্যায়,


    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকার ‘আনোয়ারা হাসপাতালে’ ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলার শিকার হয়ে এক প্রসূতি মা ও তার নবজাতক শিশু এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
    ভুক্তভোগী প্রসূতি সাথী আক্তার উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বিদাই গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় তার সহোদর ভাই শাকিল আহমেদ বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন, জেলা সিভিল সার্জন এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

    গত ৫ জুলাই বিকেলে প্রসব বেদনা উঠলে সাথী আক্তারকে আনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে সিজার করানোর আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম ৪৫০০ টাকা লুফে নেয়। কিন্তু রাতে কোনো বিশেষজ্ঞ সার্জন ছাড়াই, অদক্ষ নার্স ও স্টাফ দিয়ে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করা হয়। এতে প্রসূতির প্রসবের রাস্তা মারাত্মকভাবে কেটে ফেলা হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

    অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে তাদের অন্য হাসপাতালে রেফার করে। বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, অদক্ষ প্রসবের কারণে মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং প্রসবকালীন টানাহেঁচড়ার কারণে নবজাতকের মাথা ও ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। শিশুটি এখন আইসিইউতে (ICU) মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

    অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন ওই তারিখে তাদের হাসপাতালে কোনো ডেলিভারি হয়নি।
    ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব নামসর্বস্ব ক্লিনিক আর কত মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে? তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।