Blog

  • চুনতি ইউনিয়ন বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা

    লোহাগাড়ার প্রতিনিধি:

    টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও চুনতি ইউনিয়ন অন্তর্গত ৮নং ওয়ার্ডে বন্য হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে ছুটে গেছেন চুনতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জননেতা নুর মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ।

     

    দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া, তাদের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

     

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা Md Shoaibul Islam , লোহাগাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোঃ তৈয়বুর রহমান ছাত্রদল নেতা Javed Hussain সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। সকলেই দুর্গত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

     

    মানুষের দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের অঙ্গীকার। চুনতি ইউনিয়ন বিএনপি পরিবার অতীতের মতো আজও অসহায় ও দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

  • টানা বৃষ্টিতে হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত, বিএনপির নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

     

    হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

    টানা ভারী বৃষ্টিতে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের কবলে পড়েছে। এতে অনেক পরিবার দুর্ভোগের মুখে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

    এ পরিস্থিতিতে হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক, নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি এবং চমেক হাসপাতালের এডহক কমিটির সদস্য লায়ন সালাউদ্দিন আলী বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
    তিনি বলেন, “এই দুর্যোগে হাটহাজারীবাসীর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।”
    তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয়ভাবে ত্রাণ ও সহযোগিতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।”

  • বিশ্বনাথে প্রবাসী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের কমিটি গঠন।


    বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :

    সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ভূরকী, ইশবপুর ও মিরপুর গ্রামের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিয়ে ‘প্রবাসী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’র কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    সম্প্রতি প্রবাসী দিলোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও কামাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ‘প্রবাসী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’ ২০২৬-২৭ ইংরেজি সনের কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।

    এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যবৃন্দ হলেন, মকবুল আলম, কবি হাবিব ফয়েজি, গোলাম হোসেন, আব্দুল করিম বাবুল, শহিদুল ইসলাম ইশকার ও অলিউর রহমান অলি।
    কার্যকরী কমিটির অন‍্যান‍্য সদস্যবৃন্দঃ
    সহ সভাপতি ইরশাদ হোসাইন, সহ সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া রহমান সবুজ, অর্থ সম্পাদক কাওছার আহমদ, সহ অর্থ সম্পাদক নোমান আহমদ, প্রচার সম্পাদক আলী আহমদ।

  • ম্যাক্স হাসপাতালের মালিকানা নেই, অভিযোগের জবাব দিতে প্রস্তুত ডা. ইসমাইল


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন দাবি করেছেন, সরকারি হাসপাতালে চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট থেকেই তিনি ম্যাক্স হাসপাতালের সব শেয়ার ও মালিকানা তাঁর বন্ধু মো. রবিউল ইসলাম (রবি)-এর কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাই বর্তমানে হাসপাতালটির সঙ্গে তাঁর কোনো মালিকানা বা শেয়ার নেই।

    এর আগে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ডা. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে।

    গত ৫ জুলাই ২০২৬ জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী কেন তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। জানা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন যে, ডা. ইসমাইল সরকারি হাসপাতালে চাকরি করেও হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতালের অংশীদার। অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হলে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়।

    তবে ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরই তিনি নিজের মালিকানাধীন পাঁচটি প্রাইমারি শেয়ার বন্ধু মো. রবিউল ইসলাম (রবি)-এর কাছে হেবা (দানপত্র) দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, “চাকরি বিধির প্রতি সম্মান দেখিয়েই গত বছরের আগস্টে আমার সব শেয়ার বন্ধুর কাছে দিয়ে দিই। বর্তমানে ম্যাক্স হাসপাতালে আমার কোনো মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ নেই।” হেবা দলিল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চিকিৎসক হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অংশীদার থাকা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় কোনো প্রকার আর্থিক প্রতিদান ছাড়াই তিনি তাঁর সব শেয়ার বন্ধুর কাছে স্থায়ীভাবে হস্তান্তর করেন।

    দলিলে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট থেকে এই হস্তান্তর কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং এরপর থেকে ওই শেয়ার থেকে প্রাপ্ত সব ধরনের অধিকার, লভ্যাংশ ও সুবিধা গ্রহীতা ভোগ করবেন। দলিলটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জজ আদালতের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হয়। ডা. ইসমাইল আরও বলেন, গত ৩ জুন তদন্ত কমিটি পরিদর্শনে এলেও তাঁর কাছে কোনো কাগজপত্র চাওয়া হয়নি। ফলে তদন্তে পুরোনো নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজসহ লিখিত জবাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।
    তিনি বলেন, “আমি নির্দোষ। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। আশা করি প্রকৃত তথ্য বিবেচনায় ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত হবে।”

  • আধুনগর গুণ চৌকিদার পাড়ায় পাহাড়ি ঢলে বন্যা: সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    লোহাগাড়ার প্রতিনিধি ;
    আধুনগর,লোহাগাড়া,চট্টগ্রাম: অবিরাম বর্ষণ ও ওপর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে লোহাগাড়ার আধুনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সিকদার পাড়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ঢলের পানির তীব্র স্রোতে এলাকার প্রধান সড়কের একটি অংশ ভেঙে গিয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    সরেজমিনে ধারণ করা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, পুরো সিকদার পাড়া এলাকা বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফসলি জমি, রাস্তাঘাট এবং ঘরবাড়ির আঙিনায় থৈ থৈ করছে বন্যার ঘোলা পানি। পানির প্রবল বেগে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষয়ক্ষতি হবার কারণে আধুনগর স্টেশনের পূর্ব পাশে ৮ নং ওয়ার্ডে হাসান মেম্বার তাদের খোঁজ খবর নিতে এসেছে কাজ । পানির গতিপথ পরিবর্তন ও ভাঙন ঠেকাতে অনেকে কোদাল নিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এছাড়া বসতবাড়িতে পানি ঢোকা আটকাতে ঘরের প্রবেশদ্বারে বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ তৈরি করছেন উপদ্রুত এলাকার মানুষ। পাহাড়ি ঢলের পানি ক্রমেই বাড়তে থাকায় পুরো এলাকায় এখন চরম আতঙ্ক ও দুর্ভোগ ।

  • রাঙ্গুনিয়া কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরাদেহ উদ্ধার


    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে পাহাড়ী ঢলের পানিতে  ভেসে এসেছে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ।
    বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) দুপুর ১.৩০ টায় শিলক ইউনিয়নের বুচুক্রহাটের স্কুলঘাটে স্থানীয়রা লাশটি উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়।

    ‎শিলক বুচুক্রহাট স্থানীয় যুবক আরিফ জানান, দুপুরে পাহাড়ী ঢলে উপর থেকে ভেসে আসা উপুড়করা লাশটি স্থানীয়রা কর্ণফুলী নদীতে ভেসে আসতে দেখে পেয়ে নৌকা নিয়ে লাশটি টেনে নিয়ে কূলে উঠায়। এবং দক্ষিন রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশকে খবর দেয়।

    দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হিলাল উদ্দিন আহমদ জানান পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছি। সন্ধা ছয়টায় লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

    ‎ওসি আরো জানান, লাশটি পাহাড়ি উপজাতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। লাশটি ফুলে গিয়ে চেহারা বিকৃত হয়েছে।  তবে তার নাম ও পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি। এবিষয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির মাসিক সমন্বয় সভায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেলেন সিপাহি জাকারিয়া হোসেন


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়ের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই ) জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান। সভায় উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম, ‘ক’ সার্কেলের উপপরিদর্শক মো. মুস্তাফিজুর রহমান, উপপরিদর্শক মামুনুর রশিদসহ জেলা কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সভায় জুন ২০২৬ মাসের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় জানানো হয়, মে ২০২৬ মাসের তুলনায় জুন ২০২৬ মাসে নিয়মিত মাদক মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে এ সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হয় এবং তাদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়। এছাড়া, জুন মাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাদক মামলা সফলভাবে উদ্ঘাটনে বিশেষ অবদান রাখায় ‘খ’ সার্কেলের সিপাহী মো. জাকারিয়া হোসেনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা জেলার মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • শ্রীপুরে এক রাতে কৃষকের তিনট‌ি খামার থেকে ৬ গরু চুরি

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের শ্রীপুরে গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে এক রাতে কৃষকের তিনটি খামারে ছয়টি গরু চুরি ঘটনা ঘটেছে। চুরি হওয়া গরুর মধ্যে রয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাভিন গাভী ও একটি ষাঁড়। গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা।

    ভুক্তভোগী কৃষক কবির হোসেন জানান, বুধবার (৮ জুলাই) রাত দেড়টা পর্যন্ত গোয়ালঘরে গিয়ে গরুগুলো দেখে ঘুমাতে যান। ভোররাতে ঘুম ভেঙে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, গেট ও গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তার তিনটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরু চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে কালো ও সাদা রঙের দুটি গাভী গাভিন ছিল এবং প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩২ লিটার দুধ দিত। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই দুধ বিক্রি করতেন। গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা।

    একই রাতে কৃষক হাদিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে দুটি এবং খামারি আজিজুল ইসলামের একটি গাভী চুরি হয়েছে। আজিজুল ইসলাম বলেন, তার চুরি হওয়া গাভীর আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন আগেও একই গ্রামের কাজল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। একের পর এক চুরির ঘটনায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

    শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাখাল চন্দ্র বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজন কৃষকের তিনটি গরু চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্য দুই ভুক্তভোগী এখনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, তিনি ছুটিতে থাকলেও সকালে বিষয়টি জেনেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

  • সরকারি অর্থে ১৫ হাজার স্বাস্থ্য কার্ড বস্তাবন্দী পরিত্যক্ত অবস্থায়

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সরকারি অর্থে ছাপানো প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড বছরের পর বছর মানুষের হাতে না পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্ডগুলোর ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে বস্তাভর্তি স্বাস্থ্য কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

    তিনি জানান, ২০২৪ সালে বড়লেখায় যোগদানের পর তিনি এসব কার্ডের বিষয়ে অবগত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেবাগ্রহীতাদের তথ্য বারবার রেজিস্টারে লেখার পরিবর্তে ট্যাবভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের সুবিধার জন্য কার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, তথ্যগত ত্রুটি ও কিছু ডুপ্লিকেট কপি থাকায় কার্ডগুলো বিতরণ করা হয়নি।

    তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রশ্ন, যদি কার্ডগুলোতে তথ্যগত ত্রুটি থেকেই থাকে, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে এত বিপুল সংখ্যক কার্ড কেন ছাপানো হয়েছিল? ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর কেন তা সংশোধন করা হয়নি? কেন বিষয়টি যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি? আর কেন বছরের পর বছর কার্ডগুলো বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে রইল?

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও দৌড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। একদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে তৈরি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কার্ডগুলো ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। তাদের মতে, এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    সচেতন মহলের দাবি, এ ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নাকি এর পেছনে আরও বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, তদন্তে যদি দায়িত্বে অবহেলা, পরিকল্পনার ব্যর্থতা বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা স্বাস্থ্য কার্ডগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে এবং এ কারণে সরকারি অর্থের কতটা ক্ষতি হয়েছে—সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

    উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই কার্ডগুলো ছাপানো ও সংরক্ষণের বিষয়টি ঘটে। তিনি বলেন, বর্তমানে কার্ডগুলো অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।

  • আমতলীতে অংশীদারদের সঙ্গে এরিয়া প্রোগ্রামের বার্ষিক পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত


    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
    বরগুনার আমতলী উপজেলায় অংশীদারদের অংশগ্রহণে এরিয়া প্রোগ্রামের বার্ষিক পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    কর্মশালায় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, যুব প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা উন্নয়ন ও কমিউনিটি অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আমতলী উপজেলার সোনালী কমিউনিটি সেন্টারে আমতলী এরিয়া প্রোগ্রাম (এপি), ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এরিয়া প্রোগ্রামের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন এনএসএস-এর মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন স্পেশালিস্ট আখতারুজ্জামান।

    প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিকুল আলম। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না, ওয়ার্ল্ড ভিশন আমতলী এপির চাইল্ড প্রোটেকশন ও এপি স্পন্সরশিপ অফিসার চার্চিল দাস, এনএসএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃদুল সরকার, এনএসএস-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার সিনিয়র সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আবু জিহাদ, ওয়ার্ল্ড ভিশনের জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার অতিদাস ও প্রতিভা মণ্ডল, এনএসএস-এর ফিল্ড অপারেশন অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার জ্যাকলিন টুম্পা মণ্ডল, খোকন দাস, রাধা রানী ও তানিয়া আক্তার।

    এছাড়াও কর্মশালায় তারুণ্যের আলো যুব ফোরামের সভাপতি মুক্তারানী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, উপকারভোগী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    কর্মশালায় গত এক বছরে এরিয়া প্রোগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও অর্জন পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করা হয়। আলোচনায় শিশু সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, জীবিকা উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নারী ও যুব উন্নয়ন এবং কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জবাবদিহিমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

    এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক কর্মশালা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
    কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা আগামী বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।