Blog

  • নেত্রকোনায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    দূর্জয়- নেত্রকোনা : উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে নেত্রকোণায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (৪ জুলাই) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), নেত্রকোণা।

    প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তিনটি বিভাগে অংশ নিয়ে নিজেদের সৃজনশীল প্রতিভার প্রকাশ ঘটায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. জাফরুল ইসলাম, বিআরডিবির উপপরিচালক সজল চন্দ্র সূত্রধর, জেলা কালচারাল অফিসার মো. আতিকুর রহমান, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আল সামছ মোহাম্মদ গোলাম মৌলা এবং হিসাবরক্ষক সেন্টু কুমার তালুকদার।

    প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, এমন সৃজনশীল আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে আরও উৎসাহ জোগাবে।বিআরডিবির উপপরিচালক সজল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, পল্লী উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ মানুষের সার্বিক উন্নয়নই এর মূল লক্ষ্য। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করা হয়েছে।

  • তাহমিদ-আবীরের নেতৃত্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া,কুবি ছায়া জাতিসংঘের নতুন কমিটি ঘোষণা

    কুবি প্রতিনিধি :

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ছায়া জাতিসংঘের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ তাজওয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষ ও বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান আবীর।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এক অনুষ্ঠানে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মঈনুল হাসান এবং সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ড মেম্বার হাসিন মাহাতাব মাহিন। এছাড়া সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে আছেন শাহরিয়ার আহমেদ রাহিম, যুগ্ম সচিব হিসেবে রাবেয়া সুলতানা সাথী, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তানজিলা আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আবু বকর সিদ্দিক, শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান নিলয় ও মোহাম্মদ আদনান, প্রতিনিধি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নাদিরা জান্নাত চৌধুরী, এডমিনিস্ট্রেশন হিসেবে মোহাম্মদ ইয়াসির হামিদ চৌধুরী, ইভেন্ট সেক্রেটারি হিসেবে মেহরাব হোসেন, অপারেশন হিসেবে আহমেদ ফাহমিদ কাদের, ডকুমেন্টস এন্ড মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছেন নূর মোহাম্মদ পরশমণি।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মঈনুল হাসান বলেন, ‘সংগঠনের সামনে এবং পিছনে যারা থাকেন তাদের সবার অবদানই সমান। সবাইকে যথাযথ প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে হবে। তবেই একটি সংগঠন তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। আমি আশা রাখি বিগত বছরের ন্যায় এবছরও নতুন দ্বায়িত্বপ্রাপ্তরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন।’

    নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান আবির বলেন, “কখনো ভাবিনি এই সংগঠনকে একদিন এই জায়গা থেকে দেখব। এখন চেষ্টা থাকবে, যেন আগামী প্রজন্মও এটিকে নিয়ে একই রকম গর্ব করতে পারে।”

    নবগঠিত কমিটির সভাপতি তাহমিত তাজওয়ার বলেন, “এই পদে আসার আনন্দের চেয়ে এর দায়িত্বটাই এখন বেশি অনুভব করছি। যারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, আশা করি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারব। আমার এবং আমার কমিটির মূল লক্ষ্য থাকবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কূটনৈতিক দক্ষতা আরও বিকশিত করা, যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।”

    অনুষ্ঠানের সভাপতি হাসিন মাহাতাব মাহিন বলেন, এই ক্লাবের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো এর নেটওয়ার্ক। আমরা যারা অ্যালামনাই হিসেবে আছি, অনেকেই এখন বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছি। আর নতুন আপনারা যে পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে নতুন যে কমিটি দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, তাদের জন্যও আমার আন্তরিক শুভকামনা রইল।’

    উল্লেখ্য, ছায়া জাতিসংঘ সংক্ষেপে মান (MUN) হলো এক ধরনের অনুকরণমূলক আন্তর্জাতিক সম্মেলন যেখানে শিক্ষার্থীরা জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে। এখানে তারা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির মতামত উপস্থাপন করে, বৈশ্বিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খোঁজে।

  • কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নেই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে- এমপি জসিম উদ্দিন

    (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

    কারিগরি শিক্ষার প্রসার ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সরকার কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।-এমন মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক মনিরা ইয়াসমিন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতানির্ভর শিক্ষারও বিকল্প নেই। তাই তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নানও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফুর রহমান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান কান্তি রুদ্র, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম টিপু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বুড়িচং উপজেলা আমির ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. অহিদুর রহমান, কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. রবিউল আলম, সহকারী অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, মো. আবু নাছের মুন্সী, যুবদলের আহ্বায়ক জাবেদ কাউসার সবুজ, সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ভূঁইয়া, কলেজের শিক্ষক আবদুল জলিল ভূঁইয়া, মো. হোসেন আলী, শাহজাহান, মো. আজাদ খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে কলেজের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে অতিথিরা কলেজের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • সদরপুরে সফলভাবে সম্পন্ন হলো পবিত্র কালিমার পতাকা মিছিল

    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের সদরপুরে উপজেলার সর্বস্তরের মুসলিম জনতার উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পবিত্র কালিমার পতাকা মিছিল’। শুক্রবার (৩ জুলাই) বাদ জুমুআ সদরপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সমবেত হন। পরে তারা পবিত্র কালিমা খচিত পতাকা হাতে ও মাথায় কালিমা সংবলিত ব্যাচ ধারণ করে একটি বিশাল মিছিল বের করেন।

    মিছিলটি সদরপুরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা “তোমার আমার পতাকা—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, “তেরা মেরা রিশতা কেয়া—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, “তুমি কে? আমি কে? মুসলিম, মুসলিম” প্রভৃতি স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা।

    মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন সদরপুর উপজেলা বোর্ডের সভাপতি মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্জ মাওলানা আমির হোসেন, উপজেলা মডেল জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী রেজাউল করিম, মাওলানা মুখতার হুসাইন, মো. সাইফুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, মো. জুয়ের, মোল্লা সোহেল আমীন, আজিজুল ইসলাম নান্নু, আমান উল্লাহ আমান এবং মো. রিজভী।

    মিছিলে বিভিন্ন বয়সী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন। তাদের হাতে পবিত্র কালিমা খচিত পতাকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়। পুরো কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর।

    সমাবেশে উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আমির হোসেন বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে কালিমার পতাকা অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র এই পতাকার অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

    কর্মসূচির আয়োজক প্রতিনিধিবৃন্দের প্রধান মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী বলেন, “এই আয়োজন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। মানুষের মাঝে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং পবিত্র কালিমার গুরুত্ব তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের ধর্মীয় চেতনা ও নৈতিক মূল্যবোধকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”

    পরে একটি মোটরসাইকেল র‌্যালি সদরপুর থেকে শুরু হয়ে কালিখোলা ও আটরশি এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সদরপুরে এসে শেষ হয়।

    আয়োজকদের দাবি, সমাজে সম্প্রীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ, পবিত্র কালিমার প্রতি ভালোবাসা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

  • নিয়ামতপুরে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চেক ও ঢেউটিন বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামগ্রী প্রদান


    নিয়ামতপুর(নওগাঁ) প্রতিনিধি ঃ

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুঃস্হ ১৩৭ পরিবারের মাঝে ২ লক্ষ টাকার চেক ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।
    আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে চেক বিতরণ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এমপি।
    আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম, কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক প্রমূখ।
    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে নানাবিধ প্রকল্প গ্রহণ করছেন। যা বর্তমানে জনগণের কাছে পৌঁছে গেছে। ফ্যামিলি কার্ডও খুব শীর্ঘই এই উপজেলার মানুষ পাবে।
    এর আগে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১৫ জন মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন, ২২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ড্রাম সেট ও ৫৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রিকেট সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।

  • পোনাবালীয়া ইউনিয়ন আধুনিক উন্নত ও মানবিক গড়ার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাড. মুবিনের গণসংযোগ

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
    ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৭ নং পোনাবালিয়া ইউনিয়ন আধুনিক উন্নত মানবিক গড়ার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মুবিনের গণসংযোগে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    ঝালকাঠী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) এ্যাড. মুবিন আজ শুক্রবার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।

    গণসংযোগকালে তিনি গ্রামে শৈশব কৈশোর পার করে বেড়ে ওঠায় দেখা গ্রামের মানুষের দুঃখ দুর্দশা ও সমস্যার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে সকলকে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন। আধুনিক উন্নত ও মানবিক ইউনিয়ন গড়তে সকলের দোয়া সমর্থন এবং সহোযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় হাট-বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। গণসংযোগকালে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

    এসময় ইউনিয়নের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন স্থানীয়রা।

    ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাডভোকেট মো.মিজানুর রহমান মুবিন বলেন, পোনাবালিয়া ইউনিয়ন এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। জনগণের সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে একটি আধুনিক, উন্নত, মানবিক এবং পরিবেশবান্ধব ইউনিয়ন গঠনে কাজ করবেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার উন্নয়নের পাশাপাশি ইভটিজিং, নারী নির্যাতন এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।

    নবীন ও প্রবীণদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সম্প্রীতির সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্রামে বেড়ে ওঠা ছেলে এ্যাড. মুবিন সে আমাদের সমস্যা সহজেই উপলদ্ধি করতে পারছেন। নিরহংকার, মানবিক তথা জনবান্ধব নেতৃত্ব হিসেবে এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিনকে সাদরে গ্রহণ করছেন পোনাবলীয়া ইউনিয়ন বাসী

  • রায়গঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে পুরো এলাকা চষে বেড়াচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা


    সিরাজগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা:

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন, পাড়া মহল্লা গুলোতে এবং বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

    স্থানীয়রা বলছেন এবারের আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আমেজ এখন থেকেই জমে উঠেছে, কারণ আত্মপ্রকাশ করা প্রত্যেকটি প্রার্থী যেনো কেউ কারো তুলনায় কোন অংশেই কম নয়। আর তাইতো জনগণের মন জয় করে যে কোন একজনকে বিজয়ী হতে গেলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় ভোটাররা ।

    স্থানীয়রা আরো বলছেন ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে মানুষের সাথে গণসংযোগ, মতবিনিময়, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতি সহ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন এবং সকলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিজের কার্যদক্ষতা প্রকাশ করছেন।

    আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক‌‌‌ জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীদল কেন্দ্রীয় কমিটি, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক উপজেলা যুবদল, স্বৈরাশাসক ও ১/১১’র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জনাব তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে দেশের মধ্যে প্রথম পোস্টারিং করে কারাবরণ করেন। তিনি ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ-২৪ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন কিন্তু বিএনপির নেতৃবৃন্দের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন শেখ আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল।

    শেখ আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল রাজনীতিতে একজন পরিচিত ও কর্মী বান্ধব এবং জনবান্ধব নেতা। তিনি মুলত ছাত্র জীবন (৯০ এর দশক) থেকেই রাজনীতিতে আসেন এবং কলেজ, উপজেলার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সংগঠনের একজন আস্থাভাজন নেতায় পরিনত করেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সংগঠনের একজন নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে গড়ে তোলেন।

    অপরদিকে আরেকজন হেভি ওয়েট প্রার্থী হলেন, হাসিল হোসেন কুমার গাড়া, ব্রহ্মগাছা ইউনিউনের কৃতি সন্তান, ধর্ম ভীরু, দেশ প্রেমিক, শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এ বি সিদ্দিক ফিরোজ। দাদা ছিলেন ব্রিটিশ ও পাক ভারত পিরিয়ডের সময় জমিদার, বাবা একজন মাওলানা এবং সাবেক শিক্ষক, নানা ছিলেন ব্রিটিশ ও পাক ভারত পিরিয়ডের সময় জমিদার এবং ধানগড়া ইউনিয়নের একজন ন্যায় পরায়ণ প্রভাব শালী চেয়ারম্যান ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর একজন সহযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান

    এবি সিদ্দিক ফিরোজ স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ভোটারদের কাছে একজন হেভি ওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। মানুষের সাথে গণসংযোগ, মতবিনিময়, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতি থাকেন। উপজেলার প্রত্যেকটি পাড়া, মহল্লা, গ্রামে চায়ের দোকানে যার নাম শুনামের সহিত ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে, সকল প্রার্থীদের তুলনায় তিনি কম বয়সি, তরুণদের প্রথম পছন্দ তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা করেন রায়গঞ্জ উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা।

    এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের জনগন বলেন এবি সিদ্দিক ফিরোজ একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ, সাধারণ মানুষের দুঃসময়ের কান্ডারী, তাই তার মত একজন পরিষ্কার মনের মানুষকে তারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়।
    এবি সিদ্দিক ফিরোজ বলেন তিনি সকল প্রার্থী, সকল জনগণের সাথে সুসমপর্ক বজায় রেখে কাজ করবেন এতে জনগন যাকেই নির্বাচিত করুক তার প্রতি তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন। তাই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এবি সিদ্দিক ফিরোজ একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনা রয়েছে।

    ইতোমধ্যে জামায়াত ইসলামীর পক্ষ হতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে একজনের নাম ঘোষণা করেছে দলটি । আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে, রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর পক্ষ হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, আরেক হেভি ওয়েট প্রার্থী, রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান এ বি এম আব্দুস সাত্তার। বিগতকালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কালীন সময়ে, আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিগত নির্বাচন গুলোতে তিনি ক্ষমতাশালী দল আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন। আবারো তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের কাছে এ বি এম আব্দুস সাত্তার, হেভি ওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

    এদিকে সলংগা থানা যুবদলের সদস্য সচিব ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল মান্নান তালুকদার এর আস্থাভাজন, সমাজ সেবক ও সংগঠক, রাশেদুল হাসান তালুকদার পাপন। বর্তমানে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়েও আলোচনা চলছে । যদিও বা এখন পর্যন্ত নিজে থেকে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি, তবে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট ও বিভিন্ন ব্যানার পোস্টার এর মাধ্যমে প্রকাশ করছেন তাকে রায়গঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান।

    অপরদিকে আরো একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট শিল্পপতি সমাজসেবক দুলাল হোসেন খান। তিনি ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন এই প্রার্থী, চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ এবং মতবিনিময়।

    আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ব্যারিস্টার আব্দুল বাতেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোকাদ্দেস হোসেন সোহান, ও মোঃ সাব্বির আহমেদ, প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের কাছে আলোচনায় রয়েছেন।

    স্থানীয় সাধারণ ভোটার এবং সচেতন মহলের একাংশ বলছেন নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্বে যেই আসুক না কেন, আমরা চাই সাধারণ মানুষের ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা প্রদান এবং সমাজের গরীব দুস্থ অসহায় মানুষদেরকে সঠিকভাবে সরকারি সেবা প্রদান করবেন, যার দরজা সাধারণ মানুষের জন্য সব সময় খোলা থাকবে এমন একজন সেবক।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রাক চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার জৈনাবাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার সারেংকান্দি গ্রামের হাসিন সিকদারের ছেলে মো. সোলেমান সিকদার (২২) এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ মান্দাইল এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে কাওসার হোসেন (২৮)।

    পুলিশ ও নিহত কাওসার হোসেনের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলী শান্ত জানান, চার বন্ধু সাজ্জাদ, আরিফ, মো. সোলেমান সিকদার ও কাওসার দুটি মোটরসাইকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আরেক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথে উপজেলার জৈনাবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক কাওসার ও সোলেমানের বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়।

    মাওনা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘাতক ট্রাক ও দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল জব্দ করা হলেও ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • কটিয়াদীতে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগ: দেড় মাসেও অধরা অভিযুক্ত, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার 

    ​কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আরিফুল ইসলাম (১১) নামে এক পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে। 

    উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের পং মসুয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর দীর্ঘ দেড় মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

    ​​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) ঈদুল আজহার দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া শিশু আরিফুলকে ঝালমুড়ি খাওয়ানো এবং ফটকা (বাজি) ফোটানোর প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। 

    পরে তাকে কৌশলে এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক তার শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত বোলায় এবং বলাৎকারের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে চতুর শিশুটি আত্মরক্ষার্থে অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়ার হাতে সজোরে কামড় দিয়ে তার কবল থেকে পালিয়ে আসে এবং পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পায়। পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ​ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল প্রথমে সালিশ-দরবারের মাধ্যমে আপোসের চেষ্টা চালায়। সালিশে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে কয়েক লক্ষ টাকার প্রলোভন (অফার) দেওয়া হলেও, শিশুটির পরিবার তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অটল থাকে।

    ​এরপর ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারটির অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য তাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছেন।

    ​​প্রবাস থেকে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। প্রিয় পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছি। কিন্তু দেশে যদি আমার স্ত্রী-সন্তানই নিরাপদ না থাকে, তবে আমরা কার কাছে বিচার চাইব? ঘটনার পর থেকে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি এবং কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। আমি কোনো টাকার বিনিময়ে সমঝোতা চাই না, সমাজের এই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই।”​তিনি আরও বলেন, “আমার সন্তান ভয়ে এখন স্কুলেই যেতে চাচ্ছে না।

    তিনি আরো বলেন আমি কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট জালাল উদ্দিন মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, তিনি যেন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন।”

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো পদধারী নেতা না হলেও সে দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তবে দলটির কটিয়াদী উপজেলা শাখার আমীর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদারের সাথে তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির সাথে জামাতে ইসলামী সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা এটা বলছেন সেটি সম্পুর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও ভিত্তিহীন। মূলত দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই মিথ্যা অপবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

    ​এদিকে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর মা। তিনি বলেন, “আজ যদি আমার সন্তানের সাথে ঘটা এই অন্যায়ের বিচার না হয়, তবে কাল অন্য কোনো মায়ের বুক খালি হবে। প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন, বাচ্চুকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”

    ​​অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. বাচ্চু মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, প্রথমে কল রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরপরই সে সংযোগটি কেটে দেয়। পরবর্তীতে অসংখ্যবার কল করা হলেও সে আর ফোন রিসিভ করেনি।

    ​সার্বিক বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান:
    ​”আমরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়িতে ৩-৪ বার পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই সে আত্মগোপনে থাকায় তাকে এখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তার অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে এবং দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    ​আইনি পদক্ষেপ দ্রুত নিশ্চিত করতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

  • বিরামপুরে অসহায়দের হাতে সরকারি অনুদান, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর

    বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দিনাজপুরের বিরামপুরে অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী পরিবার, আদিবাসী শিক্ষার্থী ও এতিমদের সহায়তায় সরকারি এককালীন অনুদান এবং চার উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি এতিমখানা ও আশ্রমের জন্য ক্যাপিটেশন গ্রান্টের চেক বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন।অনুষ্ঠানে শতাধিক অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী পরিবার ও শিক্ষার্থীর হাতে সরকারি এককালীন অনুদানের চেক তুলে দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বিরামপুর, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি এতিমখানা ও আশ্রমের প্রতিনিধিদের হাতে ক্যাপিটেশন গ্রান্টের চেক হস্তান্তর করা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া, অসহায়, প্রতিবন্ধী, এতিম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মন্ত্রী বিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম রেজুসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে অনুষ্ঠানের অবশিষ্ট অংশ পরিচালনার জন্য আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সমাজসেবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন। উৎসবমুখর পরিবেশে চেক বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।উপস্থিত উপকারভোগী ও স্থানীয়রা জানান, সরকারের এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে অসহায়, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী পরিবার, মেধাবী শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে এ ধরনের আর্থিক সহায়তা কার্যকর অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।