Blog

  • সংগ্রাম থেকে সম্মানের শিখরে — দেলোয়ার হোসেনের জীবনগাথা

    লোহাগাড়া চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:

    গ্রামের মেঠোপথে হাঁটতে হাঁটতে আজও কেউ যদি জানতে চায়, “সংগ্রাম কাকে বলে?”—তবে অনেকেই হয়তো একটি নাম উচ্চারণ করবে, দেলোয়ার হোসেন।
    আমি এমন এক পরিবারের সন্তান, যেখানে সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা আর পরীক্ষার গল্প একসঙ্গে মিশে আছে। আমার বাবা, মরহুম জাগির মিয়া সওদাগর, ছিলেন গ্রামের একজন সম্মানিত মানুষ। আল্লাহ তাঁকে ধন-সম্পদ দিয়েছিলেন—বাজারে দোকান, চাষাবাদের জমি, পুকুর এবং মানুষের সম্মান। কিন্তু পৃথিবীর নিয়ম বড় নির্মম। একদিন বাবা চলে গেলেন না-ফেরার দেশে, রেখে গেলেন বিশাল দায়িত্ব আর অনিশ্চয়তায় ভরা ভবিষ্যৎ।
    আমি ছিলাম ছোট স্ত্রীর বড় ছেলে। আমার মা শামসুন্নাহার বেগম ছিলেন একজন অসাধারণ ধৈর্যশীলা নারী। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের ভার যেন পাহাড় হয়ে তাঁর কাঁধে এসে পড়ল। চোখের জল লুকিয়ে, নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে তিনি তিন ছেলে আর পাঁচ মেয়েকে মানুষ করার সংগ্রামে নেমে পড়লেন।
    মা আমাকে অন্য সবার চেয়ে একটু বেশি আদর করতেন। কারণ তিনি জানতেন, এই ছেলেটিই একদিন সংসারের হাল ধরবে। সেই বিশ্বাস দেলোয়ার কখনো ভাঙেননি।
    জীবনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। সৎ মায়ের সন্তানদের কাছ থেকে নানা কষ্ট, অবহেলা আর প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক সময় অন্যায়ের ভার এতটাই কঠিন ছিল যে বুক ভেঙে কান্না আসত। কিন্তু আমি প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি। আমি ধৈর্য ধরেছি, পরিশ্রম করেছি এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছি।
    বাবার মৃত্যুর পর ছোট ছোট বোনদের চোখে আমি শুধু বড় ভাই ছিলাম না—আমি ছিলাম বাবার ছায়া। বোনদের প্রতিটি আবদার পূরণ করার চেষ্টা করেছি নিজের সাধ্যের শেষটুকু দিয়ে। কত রাত নির্ঘুম কেটেছে, কত স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে—তার হিসাব কেউ জানে না। কিন্তু একে একে পাঁচ বোনের বিয়ে দিয়েছি সম্মানের সঙ্গে। আজ সবাই নিজ নিজ সংসারে সুখে-শান্তিতে আছে। এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি।
    জীবিকার জন্য আমি গড়ে তুলেছি একটি মিষ্টির দোকান। সততা, পরিশ্রম আর মানুষের প্রতি আন্তরিক আচরণ আমাকে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে। পাশাপাশি আমি সমাজসেবার পথও বেছে নিয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পুটিবিলা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য সচিব হিসেবে মানুষের পাশে থেকেছি সুখে-দুঃখে।
    আজ আমি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। আমার সহধর্মিণী সাদিয়া আক্তার জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থেকেছি শক্তির উৎস হয়ে।
    আল্লাহর অশেষ রহমত এবং মা-বাবার দোয়ার বরকতে আজ আমি নিজের একটি বাড়ি নির্মাণ করেছি। সমাজে আমি সম্মানিত একজন মানুষ। মানুষ আমাকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে, আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। কিন্তু আমি কখনো ভুলে যাননি সেই কষ্টের দিনগুলো, যখন আমার মা না খেয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন।
    আমি যখন মায়ের দিকে তাকায়, তখন তাঁর চোখ ভিজে ওঠে। তিনি মনে মনে বলেন—
    “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ জমি-জমা নয়, বাজারের দোকান নয়, পুকুর নয়। আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ আমার মা। আমার ত্যাগ, আর দোয়া আর আমার চোখের অশ্রুই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
    আমি বিশ্বাস করি, মানুষের সম্মান টাকা দিয়ে কেনা যায় না। সম্মান অর্জন করতে হয় সততা, পরিশ্রম, ধৈর্য এবং মা-বাবার দোয়া দিয়ে।
    জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও যদি কেউ তাঁর পরিচয় জানতে চায়, তিনি হয়তো বলবেন—
    “আমি দেলোয়ার হোসেন। আমি কোনো রাজা নই, কোনো বড় ব্যবসায়ী নই। আমি একজন সংগ্রামী মানুষের সন্তান। একজন মায়ের স্বপ্ন পূরণের গল্প। একজন ভাইয়ের দায়িত্ব পালনের গল্প। একজন স্বামীর ভালোবাসার গল্প। একজন বাবার স্বপ্নের গল্প। আর সর্বোপরি, আল্লাহর অশেষ রহমত আর মা-বাবার দোয়ার জীবন্ত সাক্ষী।”
    এই গল্প শুধু একজন মানুষের নয়; এটি সেই সব মায়েদের গল্প, যারা নিজের কষ্ট লুকিয়ে সন্তানদের মানুষ করেন। এটি সেই সব বড় ভাইদের গল্প, যারা বাবার অনুপস্থিতিতে পুরো পরিবারের আশ্রয় হয়ে ওঠেন। আর এটি সেই বিশ্বাসের গল্প, যেখানে ধৈর্য, পরিশ্রম এবং আল্লাহর ওপর ভরসা একদিন মানুষকে সম্মান ও মর্যাদার আসনে পৌঁছে দেয়।
    আল্লাহ তাআলা মরহুম জাগির মিয়া সওদাগরকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন, শামসুন্নাহার বেগমকে সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন এবং আমি দেলোয়ার হোসেন আমার পরিবারকে ঈমান, সম্মান ও বরকতে পরিপূর্ণ জীবন দান করুন। আমীন।,,,

    “মায়ের চোখের জল”
    : বাবার ছায়া
    ভোরের কুয়াশা তখনও পুরোপুরি কাটেনি। গ্রামের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে আসছে। দূরে ধানের ক্ষেতে শিশির ঝিলমিল করছে। বাঁশঝাড়ের ফাঁক দিয়ে সূর্যের প্রথম আলো যেন আল্লাহর রহমতের মতো নেমে আসছে পৃথিবীর বুকে। পাখির ডাক, গরুর ঘণ্টার শব্দ, আর কাঁচা রাস্তা ধরে মানুষের হাঁটার আওয়াজে জেগে উঠছে পুরো গ্রাম।
    এই গ্রামেরই এক সম্মানিত পরিবার—মরহুম জাগির মিয়া সওদাগরের পরিবার।
    আল্লাহ বাবাকে অঢেল সম্পদ দিয়েছিলেন। বাজারে একের পর এক দোকান, বিস্তীর্ণ চাষের জমি, বড় বড় পুকুর—সবই ছিল তাঁর। গ্রামের মানুষ সম্মানের সঙ্গে তাঁর নাম উচ্চারণ করত। কিন্তু পৃথিবীর কোনো সম্পদই মৃত্যুকে আটকাতে পারে না।
    একদিন হঠাৎ করেই তিনি চলে গেলেন না-ফেরার দেশে।
    সেদিন যেন শুধু একজন মানুষ মারা যাননি; ভেঙে পড়েছিল একটি পরিবারের আকাশ।
    সেদিন ছোট্ট দেলোয়ার বুঝতে পারেনি, কেন মানুষ এত কাঁদছে। কেন তাঁর মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে পুরো আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে।
    “ও আল্লাহ… আমার এতগুলো সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব?”
    মা শামসুন্নাহার বেগমের সেই কান্না আজও যেন গ্রামের বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
    সেদিন থেকেই বদলে গেল সবকিছু।
    যে উঠোনে একসময় হাসির শব্দ শোনা যেত, সেখানে নেমে এল নীরবতা। যে ঘরে বাবা বসে সবার খোঁজ নিতেন, সেই ঘরের দরজায় শুধু স্মৃতি দাঁড়িয়ে রইল।
    দেলোয়ার তখনও তরুণ। কিন্তু সেদিন থেকেই তাঁর শৈশব শেষ হয়ে গেল।
    তিনি আর শুধু বড় ছেলে নন…
    আমি হয়ে গেলেন বাবার ছায়া।
    মায়ের দিকে তাকিয়ে আমি বুঝে ফেললাম—এখন আর কান্না করার সময় নেই। এখন দাঁড়িয়ে থাকার সময়।
    সংসারে তিন ভাই, পাঁচ বোন। ছোট ছোট বোনগুলো আমার দিকে এমনভাবে তাকাত, যেন বাবাই ফিরে এসেছেন।
    “ভাইয়া, তুমি তো আছো… তাই না?”
    এই একটি প্রশ্নই আমার বুকের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে দিত।
    আমি মনে মনে বলতাম,
    “হ্যাঁ, আমি আছি। যতদিন বেঁচে আছি, তোদের চোখে পানি আসতে দেব না।”
    কিন্তু জীবন এত সহজ ছিল না।
    মানুষ ভাবে, সম্পদ থাকলেই বুঝি সুখ থাকে।
    কিন্তু সম্পদের চেয়ে বড় ছিল মানুষের লোভ।
    বাবার মৃত্যুর পর শুরু হলো সম্পত্তি নিয়ে টানাপোড়েন। সৎ মায়ের ছেলেদের আচরণ ধীরে ধীরে বদলে গেল। অপমান, অবহেলা, কষ্ট—সবকিছু যেন একসঙ্গে নেমে এল।
    অনেক রাত এমন গেছে, যখন মা শামসুন্নাহার বেগম নামাজের সিজদায় পড়ে শুধু কেঁদেছেন।
    “হে আল্লাহ… আমার সন্তানদের তুমি রক্ষা করো।”
    আমি দূরে দাঁড়িয়ে মায়ের কান্না দেখতাম।
    নিজের চোখের জল তিনি লুকিয়ে রাখতেন।
    কারণ তিনি জানতেন—
    বড় ছেলেরা কাঁদতে পারে না।
    তারা কাঁদলে পুরো পরিবার ভেঙে পড়ে।
    দিনে কাজ, রাতে চিন্তা।
    কখনো বাজারে, কখনো জমিতে, কখনো মানুষের দ্বারে।
    শুধু একটি স্বপ্ন—
    “আমার বোনদের মাথা যেন কখনো নিচু না হয়।”
    এক এক করে পাঁচ বোনের বিয়ে দিলাম।
    কেউ জানল না, কত রাত আমি না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন।
    কেউ জানল না, কত ইচ্ছা তিনি কবর দিয়েছেন বোনদের হাসিমুখ দেখার জন্য।
    বিয়ের দিন বিদায়ের সময় এক বোন আমার গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিল—
    “ভাইয়া… তুমি না থাকলে আজ আমি এই ঘর থেকে কনে হয়ে বের হতে পারতাম না।”
    সেদিন প্রথমবার আমি সবার অগোচরে কেঁদেছিলাম।
    সেদিন আমার মনে হয়েছিল—
    বাবা হয়তো আকাশ থেকে তাকিয়ে বলছেন,
    “বাবা, আজ আমি তোমার ওপর গর্বিত।”
    সময়ের চাকা থেমে থাকেনি।
    আমি নিজের পরিশ্রমে গড়ে তুললাম একটি মিষ্টির দোকান।
    সততা ছিল আমার মূলধন।
    মানুষ শুধু মিষ্টি কিনতে আসত না।
    আসত আমার হাসিমুখ দেখতে।
    আসত আামার আন্তরিকতা অনুভব করতে।
    ধীরে ধীরে সমাজও আমাকে আপন করে নিল।
    আনি হলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পুটিবিলা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য সচিব।
    মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই হয়ে উঠল আমার পরিচয়।
    এদিকে আমার জীবনসঙ্গী সাদিয়া আক্তার নীরবে তাঁর সংগ্রামের সাথী হয়ে রইলেন।
    আল্লাহআমাদের ঘর আলোকিত করলেন তিন ছেলে ও এক মেয়ের মাধ্যমে।
    অনেক ঝড়ঝাপটার পর একদিন যখন নিজের নতুন বাড়ির সামনে দাঁড়ালাম আমি, তখন তাঁর চোখ চলে গেল মায়ের দিকে।
    মা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন।
    চোখে জল।
    ঠোঁটে হাসি।
    আমার আমমুর হাত ধরে বললাম
    “মা… আজ যদি বাবা বেঁচে থাকতেন…”
    মা আর কথা বলতে পারলেন না।
    শুধু আমার মাথায় হাত রেখে বললেন—
    “বাবা… আজ আমি গরিব নই। আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ তুই।”
    সেদিন আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না
    মায়ের পায়ে মাথা রেখে আমি শিশুর মতো কেঁদে বললাম।
    চারদিকে নীরবতা।
    শুধু মা আর ছেলের কান্নার শব্দ।
    আকাশটাও যেন সেদিন কেঁদেছিল।
    কারণ পৃথিবীর সব যুদ্ধ জয় করা যায়।
    কিন্তু মায়ের চোখের এক ফোঁটা জল—সেটার দাম কোনো সম্পদ দিয়ে শোধ করা যায় না।
    সেদিন গ্রামের এক বৃদ্ধ ধীরে ধীরে বলেছিলেন—
    “যে ছেলে মায়ের চোখের জল মুছে দিতে পারে, আল্লাহ তাকে একদিন মানুষের হৃদয়ের রাজা বানিয়ে দেন।”

  • এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বুড়িচংয়ে অনুপস্থিত ৬৯ পরীক্ষার্থী

    বুড়িচং
    (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

    সারা দেশের মতো কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়ও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত প্রথম দিনের পরীক্ষায় উপজেলার আটটি কেন্দ্রে মোট ৬৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি।

    বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার আটটি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি, আলিম ও ভোকেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ২ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী, আলিম পরীক্ষায় ৩২০ জন এবং ভোকেশনাল পরীক্ষায় ১২৫ জন পরীক্ষার্থী। প্রথম দিনের পরীক্ষায় সব মিলিয়ে ৬৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলেও বাকিরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

    পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন করতে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাবলিহা আনবার নেতৃত্বে প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ টিম দিনব্যাপী বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন ও তদারকি করে। কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

    এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রের বাইরে অপ্রয়োজনীয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

    উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রথম দিনের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী পরীক্ষাগুলোও একইভাবে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • কাঁঠালিয়ায় ‘নজরুল বর্ষ পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সাম্যের চেতনার ওপর আলোকপাত করেন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে জমে ওঠেছে কাঁঠালের হাট

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুরকে বলা হয় কাঁঠালের রাজধানী। এর মধ্যে অন্যতম শ্রীপুর উপজেলার কাঁঠাল। কাঁঠালের ভরা মৌসুমে পুরোদমে জমে উঠেছে জৈনা বাজার কাঁঠালের হাট। প্রতিবছর কাঁঠালের মৌসুমে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে জৈনা বাজার হলো সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট। এ জেলায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে মৌসুমি ফল হিসেবে কাঁঠাল এখানকার অন্যতম অর্থকরী ফসল। গাজীপুরের এই কাঁঠাল ৪৭তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। স্বাদ ও ঘ্রাণ অতুলনীয় হওয়ায় এ জেলার কাঁঠালের খ্যাতি রয়েছে সারাদেশে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন পাইকাররা এখানে কাঁঠাল কিনতে আসেন।

    এছাড়া জেলার শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর ও কালীগঞ্জের মাটির গুণে কাঁঠালের ফলন ও স্বাদ বেশি। প্রতিবছর এই অঞ্চলে গড়ে ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়। বাগান মালিক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কাঁঠালের দাম কমে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, কাঁঠাল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া সরকার বিদেশে কাঁঠালের বাজার সৃষ্টি করতে না পারায় সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে আশানুরূপ ফল আসছে না।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, জৈনা বাজারের পশ্চিম পাশে বিশাল জায়গাজুড়ে কাঁঠালের পাইকারি বাজার বসেছে। বাজারে বড় বড় আড়তদারের কাছ থেকে পাইকারি দরে কাঁঠাল কিনে সেগুলো ট্রাকে তুলছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে সড়কের পাশে শত শত ভ্যানগাড়িতে কাঁঠাল ভর্তি করে বিক্রির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। একেকটি ভ্যানগাড়িতে রয়েছে মাঝারি আকারের ২০ থেকে ৫০টি কাঁঠাল। বড় পাইকাররা ভ্যানগাড়িতে থাকা কাঁঠালগুলোর আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করে দর কষাকষি করে কিনে নিচ্ছেন। এ মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে পানির দরে। ১৫ কেজির বেশি ওজনের বড় আকারের একটি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আর মাঝারি আকারের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫-২৫ টাকায়। আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় এলাকার অনেকে কাঁঠাল বাড়িতে গরু-ছাগলের খাবার হিসেবে খাওয়াচ্ছেন।

    জৈনা বাজারের ব্যবসায়ী জালাল মিয়া বলেন, ‘১৯৮৫ সাল থেকে এখানে আড়তদারি করি। নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ফেনী, চাঁদপুর, সিলেট, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কাঁঠালের জন্য পাইকাররা আসেন। কম দামে ভালো মানের কাঁঠাল পাওয়া যায় এই ঐতিহ্যবাহী হাটে।’

    আবদার গ্রামের বাগান মালিক রুবেল মিয়া বলেন, ‘কাঁঠাল গাছের খুব একটা যত্ন করি না। তবু এবার আমার বাগানের ৪৯-৫০টি গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। গত ১৫ দিনে ছোট-বড় ৫০০-৬০০ কাঁচা কাঁঠাল বিক্রি করেছি। এর মধ্যে ২০০টি মাঝারি ও ছোট আকারের কাঁঠাল প্রতি পিস ২৫ টাকায় বিক্রি করেছি। বড় আকারের কাঁঠালগুলো প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাঁঠালগুলো দ্রুত পেকে পচে যাওয়ার ভয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।’

    জৈনা বাজারের আড়তদার সোহেল রানা বলেন, ‘সিলেটে এবারের বন্যার কারণে কাঁঠাল বেচাকেনাও কম। উপজেলায় সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে বাগান মালিকরা ন্যায্য দাম পেতেন এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হতেন।’

    স্থানীয় আড়তদার মোফাজ্জল সরকার বলেন, ‘গত দুই বছরের তুলনায় এবার কাঁঠালের বেচাকেনা ভালো জমে উঠেছে। এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররাও খুব খুশি।’

    বরিশাল থেকে আসা আমির হোসেন বলেন, ‘জৈনা বাজারের কাঁঠাল খুবই ভালো মানের। অনেক সুস্বাদু, তাই এর চাহিদা অনেক বেশি। তাই এখান থেকে কাঁঠাল নিয়ে আমরা বিক্রি করি।’

    শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, ‘এ বছর প্রচুর কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই বছরের ফলন ভালো হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে গাজীপুরের কাঁঠাল বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে।’

  • বিশ্বনাথে সিডস অব সাদাকাহ’র দুই শেল্টার প্রজেক্টের উদ্বোধন

    সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলা প্রতিনিধি:

    সামাজিক ও মানবিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান সিডস অব সাদাকাহ-এর উদ্যোগে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ধলিপাড়া গ্রামের দুই অসহায় ও গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মিত ৪৮৮ ও ৫৩০ নম্বর শেল্টার প্রজেক্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২ জুলাই ২০২৬) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আব্দুন নুর।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী, রাজনীতিবিদ, জালালাবাদ সিন্ডিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর নির্বাচনী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা অধ্যাপক আব্দুল হান্নান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, বিশিষ্ট সমাজসেবী রজব আলী, মিয়া মোহাম্মদ সাহেদ, হোসাইন আহমেদ ও কফিল উদ্দিন।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিডস অব সাদাকাহ’র সুপারভাইজার হাবিবুর রহমান আবিদ, সুলতান আহমদ, আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীর আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা একটি মহৎ মানবিক দায়িত্ব। সিডস অব সাদাকাহ দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, আবাসন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ধলিপাড়া গ্রামের দুই গৃহহীন পরিবারের জন্য এই দুটি শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে।

    তারা আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়ই নিশ্চিত করে না; বরং উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাবোধ, স্বস্তি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করে। সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান বক্তারা।

    অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৮৮ ও ৫৩০ নম্বর শেল্টার প্রজেক্টের উদ্বোধন করেন এবং উপকারভোগী পরিবারগুলোর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

  • ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স এর অর্থায়নে চকরিয়ায় বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ

    বিশেষ প্রতিনিধি :

    পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্র্যাকের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির উদ্যোগে এবং ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির সহযোগিতায় সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলার ব্র্যাক আঞ্চলিক অফিসে ১৮টি ব্র্যাক প্রাইমারী স্কুল এবং ১৭টি ব্র্যাক প্রি-প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকগণের হাতে ৯৭১টি চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে নিকটবর্তী দিগর পানখালী ব্র্যাক প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীগণও উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ তৈয়ব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির এলাকা ব্যবস্থাপক নন্দন তালুকদার, ব্র্যাক চকরিয়া শাখার ম্যানেজার সুমন শর্মা (দাবি), ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির উপজেলা ব্যবস্থাপক মো: শাহীনুর ইসলাম ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ তৈয়ব আলী বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্ববোধ গড়ে উঠবে। আজকের এই চারাগুলোই আগামী দিনের সবুজ বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করবে।”

    বিশেষ অতিথি নন্দন তালুকদার বলেন, “শুধু চারা গ্রহণ করলেই হবে না, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ চারাটি যত্নসহকারে রোপণ ও পরিচর্যা করতে হবে। একটি গাছ একটি প্রাণ—এই উপলব্ধি থেকেই আমাদের সবাইকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।”

    অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক বনায়ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ৩ লাখ ৩৫৩টি গাছের চারা বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ১৮১৭ টি গাছের চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া আড়ংয়ের পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থায়নে পরিচালিত এ উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তারা।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্র্যাকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

  • কাঁঠালিয়া বছরের পর বছর সংস্কারহীন গুরুত্বপূর্ণ সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচল

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের সিকদারহাট ব্রিজ থেকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার সীমানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা।

    স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার পরিবারের বসবাস এই ইউনিয়নে। জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ ভাণ্ডারিয়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ঢালাই ভেঙে মাটি বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় কাদা ও জলাবদ্ধতা। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এ সড়কে।

    গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে দিন দিন সড়কের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মাহফুজ গাজী বলেন, “সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    স্থানীয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।

    এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আইডি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে জটিলতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধান হলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এলাকাবাসীর দাবি, হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

  • ভাঙন থামাতে বিষখালী নদী তীরে জরুরি জিও ব্যাগ ফেলা কার্যক্রম উদ্বোধন

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
    ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঝালকাঠির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সভার আগে ট্রলারে করে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয় এবং নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মামুন আল ইসলাম, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি, কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম. নিলয় পাশাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    পরে বড়ইয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন বিষখালী নদীর ভাঙন পরিস্থিতি, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম. নিলয় পাশা।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম. নিলয় পাশা বলেন, বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে বড়ইয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে চারটি প্যাকেজের আওতায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীর এ অংশে একটি স্থায়ী নদী সংরক্ষণ প্রকল্প (স্কিম) গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, বিষখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের পাশাপাশি দ্রুত টেকসই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার কাজ করছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত স্থায়ী প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং নদীতীরবর্তী মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো সুরক্ষিত থাকবে।

  • সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাটে মাদকের ভয়াবহ গ্রাস যুবসমাজ রক্ষায় রাজপথে ‘মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ

    হালুয়াঘাট প্রতিনিধি :

    এক সময় যে সীমান্ত দিয়ে সাবান, শ্যাম্পু, চিনি, তেল কিংবা জিরার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চোরাচালান হতো, আজ সেই পথেই হালুয়াঘাটে ঢুকছে মরণনেশা মাদক। হালুয়াঘাটে কোনো মাদক উৎপাদন না হলেও প্রতিবেশী দেশ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুট দিয়ে আসা বিষাক্ত মাদকের ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় যুবসমাজ। কিছু অসাধু ও অর্থলোভী মানুষের কারণে আজ ঘরে ঘরে সন্তান ও পরিজনেরা অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যারা আমাদের মৌলিক চাহিদাকে পুঁজি করে চোরাচালান করত, তারাই আজ সুকৌশলে আমাদের যুবসমাজের শরীর, মন ও মানসিক চিন্তাশক্তি কেড়ে নিতে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এই দেশদ্রোহীদের রুখে দিতে এবং হালুয়াঘাটকে দেশের এক নম্বর মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছে একঝাঁক উদ্যমী তরুণ। গঠিত হয়েছে ‘মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ’

    এক মঞ্চে প্রশাসন, আলেম সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম মাদকের এই করাল গ্রাস থেকে হালুয়াঘাটকে মুক্ত করতে ‘মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এক অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছে।

    এই সামাজিক আন্দোলনে শামিল হয়েছেন
    স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ওলামা ও আলেম সমাজ
    শিক্ষিত তরুণ, ছাত্রসমাজ এবং অভিজ্ঞ মুরুব্বিগণ

    লক্ষ্য দেশের এক নম্বর মাদকমুক্ত উপজেলা
    সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো হালুয়াঘাট থেকে মাদক সেবনকারী ও অসাধু মাদক ব্যবসায়ীদের সমূলে নির্মূল করা। অর্থের লোভে যারা নিজেদের সমাজ ও যুবসমাজকে ধ্বংস করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

    এ বিষয়ে এলাকার বিজ্ঞ মুরুব্বি ও সচেতন নাগরিকরা অত্যন্ত আশাবাদী। তারা মনে করছেন, তরুণদের এই ঘুম ভেঙে জেগে ওঠা এবং প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা অচিরেই হালুয়াঘাটকে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত আদর্শ উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।

  • লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে : তানভীর জিহান

    লোহাগাড়ারা চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

    লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আসন্ন কমিটিকে ঘিরে সভাপতি প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন তানভীর জিহান । বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
    দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংগঠনের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ, কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সভাপতি প্রত্যাশী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে। এছাড়া, বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের গণআন্দোলনেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
    স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আলোচনায় কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর সঙ্গে তানভীর জিহান এর নামও গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
    এ বিষয়ে তানভীর জিহান বলেন, “দল যদি আমার ওপর আস্থা রাখে, তাহলে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। আমার লক্ষ্য সব সময় দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া।”