Blog

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্য অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপিত

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:বিশ্ব মাদক সমস্যা বিদ্যমান সমস্যা, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‍্যালি বের করা হয়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ, ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের নায়েব সুবেদার নাসির, ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. শাহাব উদ্দীন, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. সেরাজ উদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবদুল ওদুদ।জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেওয়া। সভাপতির বক্তব্যে উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নেরও বড় অন্তরায়। জীবন একটাই, তাই জীবনকে ভালোবাসুন এবং মাদক থেকে দূরে থাকুন।” তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সফল বাস্তবায়নে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।

    মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও সৃজনশীল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পরিবারকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার এবং তাদের চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচনের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষে মাদকবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ।

    দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

  • ট্রাইব্রেকারের নাটকীয়তায় চ্যাম্পিয়ন মাইনীমু, রানার্সআপ খেদারমারা


    রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:
    দর্শকের উত্তেজনা আর শ্বাসরুদ্ধকর ট্রাইব্রেকারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো “লংগদু জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬”।

    রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে মাইনীমুখ ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

    আজ শুক্রবার ( ২৬ জুন ২০২৬) লংগদু উপজেলা মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় খেদারমারা ইউনিয়ন বনাম মাইনীমুখ ইউনিয়ন। নির্ধারিত সময়ের খেলায় দুই দলই গোলশূন্য ড্র করলে খেলা গড়ায় সরাসরি ট্রাইব্রেকারে।

    ট্রাইব্রেকারে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয় “মাইনীমুখ ইউনিয়ন”। অন্যদিকে কঠিন লড়াই করে রানার্সআপের সম্মান নিয়ে মাঠ ছাড়ে খেদারমারা ইউনিয়ন।

    পুরস্কার বিতরণ:
    খেলা শেষে জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর মোর্শেদ পিএসসি

    তিনি চ্যাম্পিয়ন মাইনীমুখ ইউনিয়ন দলের হাতে নগদ ২৫,০০০/- টাকা ও চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এবং রানার্সআপ খেদারমারা ইউনিয়ন দলের হাতে নগদ ১৫,০০০/- টাকা তুলে দেন।

    ব্যক্তিগত পুরস্কার:
    টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় গোল্ডেন বল জিতেছেন খেদারমারা ইউনিয়নের অধিনায়ক খোকন চাকমা।
    -সর্বোচ্চ গোলদাতা টুর্নামেন্টে ৫টি গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন ঝন্টু দাস।

    প্রধান অতিথির বক্তব্য:
    প্রধান অতিথি বলেন, “যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা মন ও শরীর উভয়কেই শক্তিশালী করে তোলে।”
    তিনি চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন ও রানার্সআপকে উৎসাহিত করেন।তিনি মাঠে উপস্থিত প্রায় তিন সহস্রাধিক দর্শকের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানান।

  • কুবিতে কারবালার প্রান্তর শীর্ষক সেমিনার সভা অনুষ্ঠিত


    কুবি প্রতিনিধি:
    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পবিত্র ১০ই মহররম উপলক্ষে ‘কারবালার প্রান্তর’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ-এর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

    ​শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল আজহার বিশ্ববিদ্যালযয়ের আরবি প্রশিক্ষক হামেদ রেজা আল আজহারী মাদ্দাজিলহুল আলী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সাগর আহমেদ। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ কুবি শাখার সভাপতি সাইদুর রহমান।

    সেমিনারে বিশেষ অতিথি সাগর আহমেদ বলেন,’কারবালার ঘটনা আমাদের জন্য একটি শিক্ষা। আমাদের সকলের উচিত মহান আল্লাহ তায়লা নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। মুসলিম হিসেবে আমাদের অবশ্যই নামাজকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

    সেমিনারে প্রধান অতিথি হামেদ রেজা আল আজহারী মাদ্দাজিলহুল আলী বলেন, ‘পবিত্র কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য শোকের নয়, বরং সত্য, ন্যায় ও ত্যাগের এক অনন্য শিক্ষা।’

    তিনি ১০ মহরম তথা পবিত্র আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ‘এই দিনটি ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

    এ সময় বিভিন্ন ঐতিহাসিক মাজার ভেঙে ফেলার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

    নামাজের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘নামাজ মানুষের নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম।’

    সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘গাউসিয়া কমিটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সবাই জানেন একটা মানবিক এবং ধর্মীয় সংগঠন। তো এই সংগঠনে যারা কাজ করে, মোটামুটি সবাই কোনো স্বার্থ নিয়ে এখানে আসে না। কারণ এখানে কারো কোনো আর্থিক স্বার্থ নাই, কারো কোনো কিছু স্বার্থ নাই। সবাই একটাই উদ্দেশ্য, হাক্কানি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলকে খুশি করা এবং মানুষ ও দ্বীনের খেদমত করা।’

  • ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষীদের মাথায় হাত বিক্রির টাকায় উঠছেনা খরচ


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত জেলা ফরিদপুর। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ।

    পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা ফরিদপুর। এ জেলায় ৯টি উপজেলাই পেঁয়াজের আবাদ হয়, তার মধ্যে ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের চাষাবাদ বেশি হয়।

    এ জেলায় পেঁয়াজের বাজারমূল্য নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার চাষি।

    বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।
    কৃষকদের অভিযোগ, সার, ডিজেল, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মাছ, মাংস, ডিম ও সবজির দাম বৃদ্ধি পেলেও পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী রয়েছে।

    এতে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
    ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের কৃষক তৈয়াব মুন্সি (৪৭) বলেন, বীজ, সার, শ্রমিক ও সেচ খরচ যোগ করলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠছে না। এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা চাষাবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হব।

    অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। তারা এখন কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকার যদি দ্রুত কোনো উদ্যোগ না নেয়, তাহলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

    কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজ যেহেতু পচনশীল শস্য, তাই সরকার যদি আমাদের এলাকায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন এর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করে দিত তাহলে এলাকার পেঁয়াজ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।

    ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা মো. মামুন জানান, চলতি বছরে পেঁয়াজ চাষের জন্য আবহাওয়া খুবই অনুকুলে থাকায় উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম। কৃষকের মজুদকৃত পেঁয়াজ শেষ হলে আস্তে আস্তে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাবে।

    ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন বলেন, ফরিদপুরে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয় এবং কৃষকরা ভালো ফলনও পান। কিন্তু বাজারমূল্য নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিভাগের হাতে নেই। আমরা কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি।

    সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। তবে, আমরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪৩০টি এয়ার ফ্লো মেশিন পেঁয়াজ চাষিদের সরবরাহ করেছি। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৭০০ টি বিতরণ করা হয়েছে। তবে, এ বছরে আড়াই হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে রোহিঙ্গা যুবকের পেট থেকে ৫ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার


    চট্টগ্রাম লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রামে এক রোহিঙ্গা যুবকের পেটের ভেতর বিশেষ কৌশলে বহন করা ৫ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে ইয়াবাগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে শরীরের ভেতরে বহন করছিলেন।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ওই রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়। পরে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এক্স-রে ও চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে তার পাকস্থলী ও অন্ত্রে ইয়াবা বহনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

    পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তার পেট থেকে ৫ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবাগুলোর বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারী চক্রটির। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য, মাদক পাচারকারীরা এখন নানা অভিনব কৌশল ব্যবহার করছে। তাই মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরে কেমন খেললেন নেইমার


    চট্টগ্রাম লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
    ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরে কেমন করলেন নেইমার?
    মায়ামির রাতটা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল আর ব্রাজিলের গ্রুপসেরা হওয়ার হলেও, আবেগের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটি ছিল সেলেসাও রাজপূত্র নেইমারের মাঠে নামা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের শেষ ভাগে বদলি হিসেবে নামেন ব্রাজিলের নম্বর ১০। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন তিনি।ম্যাচ তখন ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুই গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে মাতেউস কুনিয়া ব্যবধান ৩-০ করেছেন। এরপর ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে নেইমারকে মাঠে নামান কার্লো আনচেলত্তি। স্টেডিয়ামে ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাসেই বোঝা যাচ্ছিল, এই বদলি শুধু কৌশলগত ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ।

    নেইমার শেষবার ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর, উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে। সেই ম্যাচেই বাঁ হাঁটুতে গুরুতর চোট পান তিনি। এরপর অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন, নতুন করে শারীরিক সমস্যা, সব মিলিয়ে জাতীয় দলের বাইরে কেটে যায় ৯৮১ দিন।

    স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাঠে নামার পর খুব বেশি সময় পাননি নেইমার। গোলও পাননি, বড় সুযোগও তৈরি করতে পারেননি। তবে তাঁর ফেরাটাই ছিল ব্রাজিলের জন্য বড় খবর। বল পেলে আক্রমণে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন, সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ম্যাচের ছন্দে নিজেকে আবার মানিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপটা পেরিয়েছেন।

    এই ম্যাচের আরেকটি বড় গুরুত্ব আছে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এটি ছিল নেইমারের ১৪তম ম্যাচ। এর ফলে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার সংখ্যায় পেলের পাশে বসেছেন তিনি। পেলে, গিলমার ও লিয়াওরও ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে ১৪টি করে ম্যাচ আছে। এই তালিকায় সবার ওপরে কাফু, তাঁর ম্যাচ ২০টি।
    নেইমারের ফেরা তাই শুধু একটি বদলি নামার ঘটনা নয়। এটি চোটের দীর্ঘ অন্ধকার পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসা। নকআউট পর্বের আগে ব্রাজিলের জন্য এটি নতুন স্বস্তি। ভিনিসিয়ুস এখন দারুণ ছন্দে, রায়ানও সুযোগ পেয়ে নজর কাড়ছেন। এর মধ্যে নেইমারের ফেরায় আনচেলত্তির হাতে আক্রমণে আরও একটি বড় বিকল্প তৈরি হলো।

    নেইমার পুরো ছন্দে ফিরেছেন, এমন দাবি এখনই করা যাবে না। তিনি কত মিনিট খেলতে পারবেন, নকআউটে তাঁর ভূমিকা কতটা বড় হবে, সেটি সময় বলবে। তবে স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়েই একটি বাধা পেরোলেন তিনি। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে ফেরা, আর ফিরেই পেলের পাশে বসা, নেইমারের জন্য রাতটা তাই স্মরণীয় হয়েই থাকল।

  • মাদকবিরোধী দিবসে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের যুব র‌্যালি সমাবেশঅনুষ্ঠিত

    স্টাফ রিপোর্টার-ঢাকা
    আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে নগরীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জননেতা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির নেতৃত্বে মহানগরী দক্ষিণের যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালি আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্ট চত্বর প্রদক্ষিণ করে মৎস্য ভবনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

    এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির জনাব নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও মহানগরী যুব-ক্রিড়া বিভাহগর সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি(ঢাকা-৫),

    পাশাপাশি আরো উপস্থিত ছিলেন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে ড. মোবারক হোসেন, শাহীন আহমেদ খান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: মঞ্জুরুল ইসলাম । এছাড়াও মহানগরী ও সকল সাংগঠনিক থানার দায়িত্বশীল ও যুব বিভাগের জনশক্তিরা র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।

    আলোচনায় নেতৃবিন্দ বলেন, “যুবকরাই জাতির ভবিষ্যৎ। একটি জাতির উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অনেকাংশে যুবসমাজের ওপর নির্ভরশীল। তাই যুবকদেরকে সব ধরনের মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।”

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে হলে তাদের নৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে হবে। কারণ যুবকদের নৈতিক অবক্ষয় মানেই জাতির ভবিষ্যৎকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা করলে একটি ইনসাফভিত্তিক, মানবিক, কল্যাণরাষ্ট্র ও মাদকমুক্ত জীবন গঠন করা সম্ভব।

    বক্তারা মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • শার্শায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের উপর হামলা


    বেনাপোল প্রতিনিধি: সংবাদ প্রকাশের জেরে যশোরের শার্শায় সাংবাদিক আতিকুজ্জামানের উপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে আরিকুল ইসলাম নামে এক মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। সোমবার (২৫জুন) সন্ধ্যায় শার্শা রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এই হামলা চালায় সন্ত্রাসী আরিকুল।

    আহত সাংবাদিক আতিকুজ্জামানকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আতিকুজ্জামান বাদি হয়ে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    আহত আতিকুজ্জামান দৈনিক যশোর বার্তা ও দৈনিক বাংলাদেশ রয়টার্সের পত্রিকার শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি।

    হামলার শিকার সাংবাদিক আতিকুজ্জামান জানান, দুপুর ১.৩০ টার দিকে শার্শা রেজিস্ট্রি অফিসের সামনের অবস্থান করছিলেন তিনি। এমন সময় হঠাৎ করে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী আরিকুল ইসলাম পুর্ব শত্রুতার জেরে তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় তাকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে সে তার উপর চড়াও হয়ে মারধর করে আহত করে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারী আরিকুল। 

    হামলাকারী আরিকুল শার্শার চটকাপোতা গ্রামের বাসিন্দা। আরিকুল ইসলাম পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। মাদক ও অস্ত্রসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বিগত ক্ষমতাসীন দলের সময় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা করে আসছিলো এখনও চলছে বহাল তবিয়তে । তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে ইতোপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এতে স্থানীয় সাংবাদ কর্মীদের উপর ক্ষিপ্ত ছিলো আরিকুল ইসলাম।

    শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

    এদিকে সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন শার্শার বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবী জানান।

  • কারবালার চেতনায় অষ্টগ্রাম (১৯১) বছরের ঐতিহ্যে পালিত হলো পবিত্র আশুরা ‎


    ‎মোঃ আল-আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি:
    কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, শোকাবহ পরিবেশ ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে পবিত্র আশুরা। শুক্রবার (১০ মহররম) দিনব্যাপী নফল রোজা, নামাজ, জিকির-আসকার, দোয়া, দান-সদকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

    ‎ইসলামের ইতিহাসে আশুরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। আরবি ‘আশারা’ শব্দের অর্থ দশ এবং ‘আশুরা’ অর্থ দশম। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম কারবালার ময়দানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সঙ্গীরা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শাহাদত বরণ করেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ আজও মানবতার জন্য অনন্য প্রেরণা হয়ে রয়েছে।

    ‎এ উপলক্ষে ৩ নম্বর অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু জানান, হযরত শাহজালাল ইয়ামেনী (রহ.)-এর অন্যতম প্রধান সহচর সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহ.)-এর বংশধর এবং ‘ভাটির অলী’ হিসেবে পরিচিত হযরত সৈয়দ আবদুল করিম আল-হোসাইনী (রহ.), ওরফে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব, আহলে বাইতের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে অষ্টগ্রামে মহররমের এই ঐতিহ্যের সূচনা করেন।

    ‎তিনি বলেন, পার্থিব ভোগ-বিলাস ও ‘নয় কোষা’ জমিদারি ত্যাগ করে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। ১৮৩৪ সালে তিনি নিজ বাড়িতে একটি হোসাইনী মোকাম (ইমামবাড়া) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৫ সাল থেকে মহররমের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় টানা ১৯১ বছর ধরে বংশপরম্পরায় এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

    ‎তিনি আরও জানান, মহররমের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকেই বিশেষ নিয়ম মেনে কর্মসূচি শুরু হয়। মোকামে লাল ও কালো নিশান উত্তোলন, টানা ১০ দিন রোজা পালন, মাটিতে শয়ন, সাধারণ পোশাক পরিধান, নিরামিষ ও সাধারণ খাবার গ্রহণ এবং খালি মাথা ও খালি পায়ে চলাফেরা ছিল সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেবের অনুসৃত নিয়ম।

    ‎প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর মিলাদ শরিফ, কারবালার ইতিহাস আলোচনা ও জারি গান পরিবেশিত হয়। সকালবেলায় নারীরাও আলাদাভাবে জারি পরিবেশন করেন। একই সঙ্গে পুরুষরা বাঁশ, বেত, রঙিন কাগজ ও কাপড় দিয়ে কারবালার স্মৃতিবিজড়িত তাজিয়া নির্মাণে অংশ নেন। আসরের পর মাতম ও মার্সিয়া, মাগরিবের আগে ফাতেহা এবং ইফতারের জন্য তাবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রতিদিনের আয়োজন শেষ হয়।

    ‎মহররমের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ মহররমে ‘পাঁচ গায়েলা’ নামে ২২ মৌজার মাতাব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ৯ মহররমে নিশান গাস্ত ও তাজিয়া গাস্তের মাধ্যমে ১০ মহররমের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

    ‎আশুরার দিন বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন মোকাম থেকে তাজিয়া মিছিল বের হয়ে মধ্য অষ্টগ্রামের কারবালা প্রাঙ্গণে একত্রিত হয়। সেখানে তাজিয়া স্থাপনের মাধ্যমে ১০ দিনের শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেন। অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বীকেও শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়, যা অষ্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

    ‎সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেবের ইন্তেকালের পর পর্যায়ক্রমে হযরত মাওলানা সৈয়দ আবদুল হেকীম আল-হোসাইনী (রহ.) এবং মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমেদ আল-হোসাইনী চিশতী (রহ.) এই ঐতিহ্য রক্ষা করেন। বর্তমানে সৈয়দ আহমেদুল কবির প্রিন্স নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এ আয়োজন সফল করতে হাবেলির সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ২২ মৌজার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন।

    ‎তিনি আরও বলেন, পবিত্র আশুরা মুসলমানদের কাছে শুধু শোকের দিন নয়; এটি সত্য, ন্যায়, ত্যাগ, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হওয়ারও দিন। কারবালার আত্মত্যাগ অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এবং ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়, যা যুগে যুগে মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

  • সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : লোহাগাড়ায় কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া

    চট্টগ্রাম লোহাগাড়ার প্রতিনিধি:

    জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সাংগঠনিক সফরে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা।পরে মাশাবী রেস্টুরেন্টে নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতারা।

    উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাব্বির আহমদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রাশেদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “যুবদলকে একটি শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও জনমুখী সংগঠনে পরিণত করতে হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সকল ভেদাভেদ ভুলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

    তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। যুবদল সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সংগঠনকে গতিশীল করতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কর্মীদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ যুবদলই আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শাহনেওয়াজ, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. শাহেদুল ইসলাম।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরফাত হোসেন, লোহাগাড়া উপজেলা সাবেক সদস্য সচিব আবু তালেব রুবেল, উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি তাজউদ্দীন আল নাজির,, সাবেক গণবিষয়ক সম্পাদক মোরশেদ আলম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য ডা. শাহ আলম যুবদল নেতা নাছির উদ্দীন, আব্দুল করিম , মোহাম্মদ দেলোয়ার ,ফোরকান উদ্দীন, সাইফুল ইসলাম, শুক্কুর, শহিদ,মামুন, শাহাজাহান, কামাল,মো. রাসেলসহ উপজেলা যুবদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    মতবিনিময় সভায় সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা স্থানীয় সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তুলে ধরেন এবং সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।