Blog

  • মৎস্যজীবীদের হামলা-বঞ্চিত করে বিল ভাতিয়া দখলের অভিযোগ অবৈধ বাঁধের কারনে শঙ্কায় হাজারো কৃষক


    মৎস্যজীবীদের হামলা-বঞ্চিত করে বিল ভাতিয়া দখলের অভিযোগ অবৈধ বাঁধের কারনে শঙ্কায় হাজারো কৃষক

     

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

     

     

    হামলা ও মামলা করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিল ভাতিয়া জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। চাষ করা মাছ আহরণ করতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন বিল ইজারা পাওয়া মৎস্যজীবীরা। এনিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে শিবগঞ্জ উপজেলার কর্নখালী ব্রীজ চত্বরে শনিবার (০৬ জুন) বেলা ১১টায় মানবন্ধন করেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবীরা।

     

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বিলের ইাজারা পায় দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। কিন্তু সমিতির সদস্যের উপর হামলা ও বঞ্চিত করে বিল দখল করেছেন একটি অসাধু চক্র। এরপর থেকেই মাছ আহরণ করতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। এমনকি দখলকারীরা কলমুগাড়া এলাকায় খালে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে পানির অবাধ চলাচল বাধাগ্রস্ত করেছে। এতে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ২ হাজার একর ফসলী জমি। বর্তমানে স্থানীয় কয়েক হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

     

    জামবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম মেম্বার ও ওয়ার্ড আ.লীগের সদস্য আব্দুল কালামের নেতৃত্বে এই দখল ও হামলার অভিযোগ করেন কৃষক ও মৎস্যজীবীরা। তারা আরও বলেন, যুগ যুগ ধরে জেলে সম্প্রদায় জীবিকা নির্বাহ করে বিল থেকে মাছ আহরণের মাধ্যমে। কিন্তু দখলদারদের কারনে নিয়ে তা করতে পারছে না। অস্ত্র নিয়ে জেলেদের উপর হামলা ও মারধর করা হয়েছে। এখনও নানারকম হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এখন অসহায় অবস্থায় দিন যাপন করছে জেলেরা।

     

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম কালু, সদস্য জিন্নুর আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক আলী, দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আকতারুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকসহ অন্যান্যরা। এসময় দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • আশুলিয়ায় ছাগলের ঘাস খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, নারী নিহত

    আশুলিয়ায় ছাগলের ঘাস খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, নারী নিহত

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:
    ঢাকার আশুলিয়ায় ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধারালো দায়ের কোপে রূপবান বেগম (৪৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে সকালে আশুলিয়ার তাজপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

    নিহত রূপবান বেগম তাজপুর এলাকার জয়নাল সরকারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মো. আলিয়া সরকার (৫৫) একই এলাকার মৃত সুলতান সরকারের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে রূপবানের একটি ছাগল মো. আলিয়া সরকারের বাড়ির উঠানে গিয়ে ঘাস খেতে শুরু করে। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আলিয়া সরকার ছাগলটিকে কুপিয়ে মেরে ফেলে। পরে বিষয়টি জানতে রূপবান বেগম অভিযুক্তের কাছে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

    একপর্যায়ে আলিয়া সরকার তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে রূপবান বেগমের পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এ বিষয়ে জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবু তালিব বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে শুনেছি, তবে বিস্তারিত জানা নেই।

    আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিনই মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

  • কবে মাংস খেয়েছেন মনে করতে পারেন না ক্যান্সার আক্রান্ত জাহানারা বেগম


    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
    বৈঠাকাটা গ্রামের জাহানারা বেগম কবে মাংস খেয়েছেন, মনে করতে পারেন না। ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন স্বামী জামাল হাওলাদার।

    পেশায় জেলে জামাল হাওলাদার মাছ ধরে কোনোমতে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন। কিন্তু স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বিক্রি করতে হয়েছে সহায়-সম্বল। এখন খাবার জোটানোই যেখানে কঠিন, সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকার ওষুধ কিনতে হয়।

    অভাবের সংসারে অনেক সময় দুপুরের খাবার ছাড়াই থাকতে হয়। নিজেরা মাছ ধরলেও সংসারের খরচ আর ওষুধের চিন্তায় মাছও করতে হয়, খেতে পারেন না, আর মাংস?

    শেষ কবে মাংস খেয়েছেন, শুনেই জাহানারা বেগমের চোখ ছল ছল করে ওঠে। মনে করতে পারেন না।

    ইসলামিক রিলিফের পক্ষ থেকে দেওয়া ২ কেজি কোরবানির মাংস পেয়ে তিনি ভীষণ আনন্দিত। মাংস হাতে পেয়েই দ্রুত রান্নার আয়োজন শুরু করেন। রান্না শেষ হয়েছে কি না,ছোট ছেলেটি বারবার মায়ের কাছে ছুটে আসে। ভাত তখনও রান্না হয়নি, ছেলের আগ্রহ দেখে মুড়ি দিয়েই কিছু মাংস খেতে দেন।

    পাশে বসে ছেলের তৃপ্তি নিয়ে মাংস খাওয়া দেখছিলেন জাহানারা। তার চোখে ছিল অপার মমতা, মুখে প্রশান্তির ছাপ। সন্তানের মুখে এমন আনন্দ দেখে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন নিজের কষ্ট, অসুস্থতা আর অভাবের কথা।

  • কটিয়াদীতে রক্তদান সমিতির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: গাছে গাছে পাখির বাসা ও মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ

    কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
    প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে।

    দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে কটিয়াদীর জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘রক্তদান সমিতি’ মাসব্যাপী দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচির সূচনা করেছে।

    ​আজ বিকেলে কটিয়াদী সরকারি কলেজ চত্বরে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সংগঠনের এই বিশেষ ‘সবুজায়ন’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক বদরুল আলম নাঈম।

    ​আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে পর্যায়ক্রমে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পাখির নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গাছে মাটির কলস (পাখির কৃত্রিম বাসা) স্থাপন এবং জনসচেতনতা তৈরিতে লিফলেট বিতরণ করা হবে।

    ​কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বদরুল আলম নাঈম বলেন, “বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব আজ জলবায়ু ঝুঁকিতে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।”

    ​সংগঠনের কার্যকরী সমন্বয়ক ও চলচ্চিত্রকর্মী জিসান আজাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান পরিবেশগত সংকটের সিংহভাগই মানবসৃষ্ট। নির্বিচারে বন উজাড় করার কারণে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। পরিবেশকে বাঁচাতে এখনই আমাদের ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।”

    ​অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, পরিবেশের বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) টিকিয়ে রাখতে পাখিসহ বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তারা।

    ​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সক্রিয় সদস্য কাওসার আহমেদ, ইমরান হোসেন, ইয়াসিন আহমেদ, আরিফুল ইসলাম, হাসিব আল মাহমুদ রাস্কি, সাব্বির হোসেন রিয়াদ, আরিফুল ইসলাম আকাশসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সুধীজন।

  • নেত্রকোণায় ডেঙ্গু সচেতনতায় শোভাযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত


    নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোণায় ডেঙ্গু সচেতনতায় শোভাযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে নেত্রকোণা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে ১০টায় এক শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

    এতে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, নেত্রকোণা পৌরসভার প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, নেত্রকোণা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ একরামুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুখময় সরকার, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাজহারুল আমিনসহ হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। ব্যানার নিয়ে তাঁরা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও হাসপাতালের বিভিন্ন প্রান্ত প্রদক্ষিণ করেন।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ডেঙ্গু সচেতনতায় হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথম কয়েক দিন হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিষ্কার করা হবে। শেষের দিকে হাসপাতালের বাইরে আশপাশের পরিবেশও পরিষ্কার করা হবে। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে হাসপাতালে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণাও থাকবে।

    হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ একরামুল হাসান বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বর্জ্য তৈরি হয়। এ বর্জ্যগুলো সরিয়ে যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়, হাসপাতালের নির্দিষ্ট স্থানে যাতে বর্জ্য ফেলা হয়—এ বিষয়ে সচেতনতার লক্ষ্যে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করছি। এতে যেমন সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হবে, তেমনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অভ্যাসও গড়ে উঠবে। এতে সারা বছর হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন থাকবে। এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ অভিযান কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

    ০৬/০৬/২০২৬ ইং

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২১ জন গ্রেপ্তার উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজা ও চোলাই মদ


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল এবং বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানে মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা ও চোলাই মদ।

    শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবাবগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাত, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. একরামুল হোসাইনসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

    পুলিশ জানায়, অভিযানে ৬ জন মাদক ব্যবসায়ী, ১০ জন মাদকসেবী, সিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত ১ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ জন এবং নিয়মিত মামলার ১ জন আসামিসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    এদিকে, পৃথক অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হলে একজনকে ২১ দিন এবং অপরজনকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

    অভিযান চলাকালে উদ্ধার করা হয় ৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০০ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ লিটার চোলাই মদ।

    পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত


    বরিশাল প্রতিনিধি: “নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করি, ডেঙ্গু মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার ৬ জুন সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ডেঙ্গু সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

    কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

    র‍্যালি শেষে হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম মাইদুল ইসলাম, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুস সাকিব, মেডিকেল অফিসার ডা. স্বপ্নিল আব্দুল্লাহ, ডা. মাইদুল ইসলাম তুহিনসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীগণ।

    বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন জনসচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ। নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব। তারা ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

    কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • মানবতার নীরব সৈনিক: রোগীর সেবায় নিরলস মাহমুদ হাসান


    ‌বিশেষ প্রতিনিধিঃ
    বর্তমান সমাজে যখন অনেকেই নিজের দায়িত্বটুকু পালন করতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, ঠিক তখনই কিছু মানুষ নীরবে মানবতার আলো ছড়িয়ে যান নিজের কর্ম আর ভালোবাসা দিয়ে। তেমনি একজন মানবিক মানুষ হলেন মাহমুদ হাসান। তিনি একজন দায়িত্বশীল ডাক্তার #№##№## হিসেবে কর্মরত আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ অর্থোপেডিক্স বিভাগে। তার পিতা মরহুম আশরাফুল হক (অবঃ নায়েব সুবেদার, বাংলাদেশ রাইফেল)। গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা সদর শ্রীমন্তপুর গ্রামে।

    রোগীর সেবাকেই তিনি নিজের জীবনের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় কাটে হাসপাতালের রোগীদের পাশে। ক্লান্তিহীন এই মানুষটি সবসময় হাসিমুখে রোগীদের সেবা করে চলেন। রোগীর অভিযোগ, কষ্ট কিংবা উদ্বেগ—সবকিছুই ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেন তিনি। তার ব্যবহারে নেই কোনো বিরক্তি কিংবা অহংকার; বরং প্রতিটি রোগীর প্রতি থাকে সমান সহমর্মিতা ও মানবিকতা।

    হাসপাতালের কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসকের সাথেও তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেন। রোগীর কখন কী প্রয়োজন, কোন ওষুধ লাগবে, কোন পরীক্ষা করাতে হবে কিংবা কার কী সমস্যা—এসব বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখেন তিনি। শুধু দায়িত্ব পালন করাই নয়, রোগীদের মানসিক সাহস জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাহমুদ হাসান।

    অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ডিউটি শেষ হলেও যেন শেষ হয় না তার মানবসেবা। বাসায় ফিরে গিয়েও ফোনে রোগীদের খোঁজখবর নেন নিয়মিত। এমনকি কোনো রোগী হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে ফোন দিলে সাড়া দেন তিনি। রোগীর প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকার এই মানসিকতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

    তার এই আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাকে অত্যন্ত স্নেহ ও ভালোবাসেন। সহকর্মীদের কাছেও তিনি একজন দায়িত্ববান, পরিশ্রমী এবং বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে পরিচিত। অনেক রোগী ও স্বজনের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন ভরসার আরেক নাম।

    মাহমুদ হাসান বলেন,মানুষের সেবা করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও মানবতা। একজন রোগী যখন কষ্টে থাকে, তখন শুধু চিকিৎসা নয়, তার পাশে দাঁড়িয়ে সাহস দেওয়াটাও খুব প্রয়োজন। আমি সবসময় চেষ্টা করি রোগীদের আপনজনের মতো পাশে থাকতে। মানুষের দোয়া আর ভালোবাসাই আমার কাজের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

    মানবতার এই সময়ে মাহমুদ হাসানের মতো মানুষরা সমাজের জন্য সত্যিই অনুকরণীয়। নিঃস্বার্থ সেবা, দায়িত্ববোধ আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে তিনি প্রমাণ করে চলেছেন—মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবতা।

  • জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠন


    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন ঘিরে বিএনপির বিভিন্ন স্তরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন নেতৃত্ব আনতে যাচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে ব্যাপক লবিং-তদবির শুরু হয়েছে।

    বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দলের হাইকমান্ড সম্ভাব্য শীর্ষ নেতাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ত্যাগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন মাসের মধ্যে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে।

    দলের অভ্যন্তরে ‘এক নেতার এক পদ’ এই নীতি কঠোর ভাবে অনুসরণের আলোচনা থাকায় এবারের কমিটিতে বড় ধরনের চমক থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান কমিটির শীর্ষ দুই পদ থেকে নতুন কমিটিতে কাউকে না রাখার আলোচনা নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

    সংগঠনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ইয়াছিন আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। ওই বৈঠকে কমিটি পুনর্গঠন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে গুরুত্ব পায় দীর্ঘদিন বিগত সরকার আমলে রাজপথে সক্রিয় থাকা, হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েও যারা সংগঠনকে ধরে রেখেছেন, তাদের মূল্যায়নের বিষয়টি। একই সঙ্গে নতুন, পুরোনো ও বঞ্চিত নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠনের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এমন বাস্তবতায় সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক অন্যতম ছাত্র নেতা সাদরেজ জামান দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক দুঃসময়ে মাঠে থাকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান। কারণ, অতীতের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না পেলেও এবার ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে আনার নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে সাদরেজ জামান শীর্ষ নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছেন।

    বিশেষ করে বিএনপির দুঃসময়ে ধারাবাহিকভাবে রাজপথে সক্রিয় থাকা, বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ ধরে রাখার কারণে তিনি এখন সভাপতি পদের শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কমিটি পুনর্গঠন করা হবে কি না, এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাদরেজ জামান বলেন, ‘সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন জেল-জুলুম-নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েও রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন, তাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে প্রত্যাশা করছি। যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় এনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি যেই সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত থাকব।’

    সভাপতি পদে আরও যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোঃ জাকারিয়া আলম মামুন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন।

    অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ,সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে এগিয়ে আছেন পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকেও নতুন কমিটির নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

    স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি প্রসঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো একে একে পুনর্গঠন করা হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। তৃণমূল নেতাকর্মী ও মাঠের রাজনীতির সঙ্গে যাদের সম্পর্ক রয়েছে, তারাই কমিটিতে স্থান পাবেন বলে বিশ্বাস আছে।’

    এ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর যারা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং তৃণমূলকে সংগঠিত করে দলকে শক্তিশালী করতে পারবেন, তাদেরকে বিএনপি চেয়ারম্যান মূল্যায়ন করবেন বলে আমার প্রত্যাশা।’সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম বলেন ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের রাজপথের ত্যাগী নির্যাতিত নেতৃবৃন্দদের-কে মূল্যায়ন করলে স্বেচ্ছাসেবক দল হবে আমাদের শক্তিশালী একটি সংগঠন আমার বিশ্বাস নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের-কে মূল্যায়ন করা হবে এটা আমার প্রত্যাশা

    যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ বলেন, ‘মেধাবী, ত্যাগী ও সাংগঠনিক দক্ষ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়দের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে নতুন গতি ফিরে আসবে।’

    যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘জাতীয়তাবাদের আদর্শকে বুকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত। দল যে দায়িত্ব দেবে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।’

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। সাংগঠনিক অভিভাবক যে দায়িত্ব দেবেন, সেটাই পালন করব।’

    দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, এবারের কমিটিতে ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ইমেজের এবং মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হলে সংগঠনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে। সেই বিবেচনায় সভাপতি পদে সাদরেজ জামান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বলে জানা গেছে।

  • কুড়িগ্রামে বানিজ্য মেলা স্থগিত চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আবেদন


    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    কুড়িগ্রামে শিল্প ও বানিজ্যমেলা স্থগিত চেয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর মেলার নির্ধারিত স্থান সংলগ্ন আল্লামা ফজলুল করীম (রহঃ) জামিয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আবেদন জানিয়েছে।

    গতকাল ৫ জুন উক্ত মাদ্রাসার সভাপতি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান আলী জেলা প্রশাসকের কাছে উক্ত আবেদন পেশ করেন।

    মেলা স্থগিত চাওয়ার কারণ হিসেবে আবেদনে বলা হয়, বাবস্যা-বানিজ্য উন্নয়নের নামে এ ভাবে আয়োজিত বানিজ্য মেলায় প্রকৃত শিল্প ও ব্যবসার চেয়ে সার্কাস, লটারী, অশালীন বিনোদন ও বিভিন্ন প্রকার অনৈতিক অনাঙ্খিত কর্মকান্ডই বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে বলে এলাকাবাসীর ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়, নির্ধারিত স্থানের বিপরীতে পূর্বপার্শ্বে মহাসড়ক সংলগ্ন আল্লামা ফজলুল করীম (রহঃ) জামিয়া ইসলামীয়া নামে একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান কওমী মাদ্রাসা অবস্থান। মাদ্রাসায় প্রায় ৪শত আবাসিক ছাত্র অধ্যয়নরত আছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা এ মেলা মাসাধিক কাল চলতে থাকলে মাদক দ্রব্যের বিস্তার, জুয়া, ছিনতাই, চুরি কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। এতে মাদ্রাসায় পড়া লেখা ও পরিবেশ রক্ষা করা বিঘ্নিত হতে পারে বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এজন্য কর্তৃপক্ষ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের ভাবমুক্তি বজায় রাখতে এবং কোলাহল মুক্ত পরিবেশে ছাত্রদের লেখাপড়া সাবলীল গতিতে পরিচালনা স্বার্থে প্রস্তাবিত বানিজ্য মেলার অনুমতি অবিলম্বে বাতিল বা স্থাগিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। ইতোমধ্যে গত ৩ জুন উক্ত মেলার অবকাঠামো নিরমাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

    উল্লেখ্য, লটারির নামে জুয়া এবং মাদকের রমরমা ব্যবসাকে সামনে রেখে সস্তা বিনোদনের নাম করে কুড়িগ্রাম চেম্বার এন্ড কমার্স – এর আয়োজনে কুড়িগ্রামের ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন প্রস্তাবিত ডিসি পার্কে আমামী ২০ জুন থেকে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা(অনুমোদিত) স্থগিত বা বাতিল করার দাবিতে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ গত ৪ জুন মাননীয়
    প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আবেদন করে। আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। মেলা স্থগিতের ওই আবেদনে বলা হয়, ৬০ লক্ষ টাকার অনৈতিক রফাদফায় এই মেলা সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে আয়োজনের প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া মেলাটি স্থগিত বা বাতিলের সঙ্গতঃ কারণ উল্লেখ করে আবেদনকারী বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ ও পিছিয়ে থাকা জেলা। প্রতিবছর বন্যা, নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করে জেলার মানুষ জীবনযাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বর্ষণ ও নদীভাঙনে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ বর্তমান চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এ অবস্থায় বাণিজ্য মেলার আয়োজনকে সময়োপযোগী নয় বলে উল্লেখ করা হয় এবং একই সঙ্গে কুড়িগ্রামে এধরণের মেলার অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলা হয়, এ ধরনের মেলায় স্থানীয় অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পান না। বরং কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি মেলার সময় মাদক, জুয়া, লটারি, কিশোর অপরাধ, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিস্তার ঘটতে পারে এধরণের আশঙ্কাও প্রকাশ করে উক্ত মেলা বাতিলের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

    নিরভরযোগ্য সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের আহ্বানে মেলার আয়োজক কমিটি, স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এক আলোচনায় মেলাটি আদৌ করা যাবে কী না- এ বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। তবে সর্বশেষ মেলাটি স্থগিত কিংবা বাতিলের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি। মেলা স্থগিত বা বাতিলের আবেদনকারীদের পক্ষে বলা হয়েছে সম্ভবত: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এক আবেদেনকারীকে তার আবেদন তুলে নেয়ার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আপরদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, কে কী করে করুক আমরা আমাদের ছাত্রদের কথা বিবেচনা করে প্রস্তাবিত জায়গায় মেলাটি হতে দেব না।