Blog

  • ঝালকাঠিতে নদী ভাঙ্গন রোধে এলাকাবাসীর  মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি:  ঝালকাঠির নলছিটিতে খয়রাবাদ নদীর ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন, উপজেলার  ভুক্তভোগী জনগন।

    রবিবার (৭ জুন) নলছিটি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন নলছিটি দপদপিয়া সড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাসদ নেত্রী বরিশাল জেলা সমন্বয়ক ডা: মনিষা চক্রবর্তীসহ ভুক্তভোগী জনগন। মানববন্ধন শেষে বাসদ নেত্রী ডা: মনিষা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষন করে।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খয়রাবাদ নদীর ভাঙনে নদী তীরের মানুষ সবকিছু হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের ঘরবাড়ি, কৃষি জমি সবকিছু নদী কেড়ে নিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। অতিদ্রুত ভাঙন রোধে পদক্ষেপ না নিলে আরও শতশত মানুষ গৃহহীন হবে।

    বাসায় নেত্রী ডা: মনিষা চক্রবর্তী বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হওয়ার পর আমরা দেখতে পেয়েছি গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোন সরকারই নদীর তীরবর্তী মানুষদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান সরকার যদি খয়রাবাদ নদীসহ অন্যান্য নদীর তীরবর্তী মানুষদের রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহন না করে তাহলে আমরা বুঝে নিবো দেশে কোন পরিবর্তন আসেনি।

    আরও বক্তব্য রাখেন, দপদপিয়া ইউনিয়ন নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব মো. রমজান আকন হৃদয়, আহবায়ক ফরিদ আহমদ, স্থানীয় সমাজকর্মী বালী তাইফুর রহমান তূর্য, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ক্রিড়া সম্পাদক গাজী বেলাল হোসেন, বাসদ বরিশাল জেলার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক খেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট বাকেরগঞ্জ উপজেলার উপদেষ্টা আমিনুর রহমান, স্থানীয় ভুক্তভোগী রহিমা বেগম, রানী বেগম, হৃদয়, হেনারা বেগম প্রমূখ।

    এসময় উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের খয়রাবাদ এলাকার বিভিন্ন শ্রেনীপেশার দুই শতাধিক নারী পুরুষ ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন ও মিছিলে অংশ নেন।

     

  • বিতর্কিত পুলিশ সদস্য জুয়েলকে বরখাস্ত ও আইনজীবী মিন্টুর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

    শার্শা যশোর প্রতিনিধি   যশোরের শার্শা উপজেলার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী।

     

    শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টার সময় শার্শা উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুপাশে শার্শা উপজেলা বিএনপির ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি এবং তার বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

     

    মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং জনসমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

     

    বক্তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

     

    মানববন্ধন শেষে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহারসহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

     

    মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, শার্শা উপজেলার আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মশিয়ার রহমানের ছেলে কনস্টেবল মামুন হাসান জুয়েলকে পুলিশ বাহিনী থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

     

    তার পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, চোরাচালান ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিবারের সদস্যকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

     

    মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সুশাসনের স্বার্থে বিতর্কিত নিয়োগগুলো পুনঃমূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কনস্টেবলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

     

    মানববন্ধন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণাও দেওয়া হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনদাবি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

     

    এর আগে গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে শার্শার শ্যামলাগাছী গ্রামে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল মামুন হাসান জুয়েল অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জনরোষে গ্রেফতারে ব্যর্থ হয় পুলিশ সদস্যরা।

  • ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কার পার্কিংয়ে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

     

    স্টাফ রিপোর্টার:
    ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কার পার্কিং ও ফুটপাত এলাকায় অবৈধ দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়, পার্কিং ও ফুটপাতের বিভিন্ন অংশে অস্থায়ী দোকান, মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অনুমতি নিতে হয় এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। তাদের দাবি, দিনের তুলনায় সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব কার্যক্রম আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
    কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন আদায়কৃত অর্থ মধ্যরাতে ভাগ-বণ্টন করা হয় এবং এর পরিমাণ লক্ষাধিক টাকায় পৌঁছায়।

    অভিযোগে বিমানবন্দর রেলওয়ে ফারির ইনচার্জ হারুনুর রশিদ, নিরাপত্তা বিভাগের একজন কমান্ডার শহিদুল্লাহ, সিআই শাখার সালাউদ্দিন এবং হাবিলদার জিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • নেত্রকোনায় ঘুষ বানিজ্যে চ্যাম্পিয়ন সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস দেখার কেউ নেই

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুষ বানিজ্যে জেলার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন একটি বিশেষ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।এই ঘুষ বানিজ্য চলে সাহতা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের নেতৃত্বে এক শ্রেণীর দালালের মাধ্যমে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ওই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহসিলদার) শাহানা আক্তার টাকা ছাড়া কোনো কাজই করেন না। ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো সেবার বিনিময়ে তিনি দালালদের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের হাজার হাজার টাকা। এই অফিসে গ্রাহকদের হয়রানি নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কিছুদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও পত্রিকার মাল্টিমিডিয়ায় দেখা গিয়েছে সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকার সচেতন মহলের ঘুষ বানিজ্যের প্রতিবাদ।

     

    সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা গেছে, সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির পর্চা (খসড়া) তুলা সহ ভূমি সংক্রান্ত সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিক ভাবে এক শ্রেণীর দালালের মাধ্যমে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে।এই অফিসে চুক্তির টাকা ছাড়া কোনো ফাইলই নড়ে না। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোনো কাজ আদায় করা যায় না বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা গেছে, এই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার পরও বিভিন্ন ভাবে হয়রারি করছে এমনটাই অভিযোগে উঠেছে।

     

    এ বিষয়ে সাহতা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব ও সাবেক ইউপি সদস্য জুবায়ের হুসেন খান রতন বলেন, সাহতা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তার একজন ঘুষখোর ব্যক্তি, তিনি টাকা ছাড়া কিছুই বুঝে না। তার ঘুষ বানিজ্যের বিষয় নিয়ে আমি দরবার শালিস পর্যন্ত করেছি। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমি এমন ঘুষখোর কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করছি।

     

    অন্যদিকে সাহতা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের বিষয়ে সাহতা ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক আলমগীর হোসেন ঝুটন বলেন, সাহতা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের মতো একরকম ঘুষখোর কর্মকর্তা দেখতে চাই এই ভূমি অফিসে। তিনি একজন বড় মাপের ঘুষখোর কর্মকর্তা, সে টাকা ছাড়া অন্য কিছুই বুঝে না। তিনি দালালের মাধ্যমে পুরো ইউনিয়নটিকে লুটে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গ্রামের মানুষ সহজ সরল তারা কিছুই বুঝে না, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তার তার দালালের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে হারিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আমি এই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের ঘুষ বানিজ্যের বিষয় নিয়ে দরবার শালিস পর্যন্ত করেছি। তিনি এই অফিসে কিছু দালাল পুষে রাখে। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের এই ইউনিয়নের আহবায়ক হিসেবে এই ঘুষ বানিজ্যের প্রতিবাদ জানাই।

     

    সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে মাঠ পর্যায়ে সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তার সহ যারা এখানে-কর্মচারী রয়েছে তারা বিভিন্ন অনিয়ম,ঘুষ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে জমির কাজে সেবা নিতে আসা ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।এই ভূমি অফিসে আসা এক গ্রাহক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, এই অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তার ভূমি অফিসে কাজে আসা গ্রাহকদের কাজ সম্পাদনের বিষয়ে টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে চুক্তি করেন।

     

    এই ইউনিয়নের সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা গেছে, এখানে আসা সেবা প্রাপ্তির ৯০ শতাংশ লোকই চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে আজ না-কাল সময়ক্ষেপন করে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত হারে দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে সেবা গ্রহীতারা পান না তাদের কাঙ্খিত সেবা। ভূক্তভোগীরা আরও জানান, এই ভূমি অফিসের ঘুষ দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া কোনো কাজেই হয় না। নামজারির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা আদায় করে এই অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেয়ার কথা বলে। ভুক্তভোগীদের দাবী এই ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের দুর্নীতি রোধে দুদকের সু-হস্তক্ষেপ জরুরি, সেবাগ্রহীতারা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের সহযোগিতা কামনা করেন। এই ঘুষ বানিজ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তার বলেন, আমার অফিসে কোনো অনিয়ম হয় না, আমার বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।এবং কেন তার এই ঘুষ বানিজ্য নিয়ে নিউজ করা হয়েছে, এই প্রতিনিধিকে তিনি হুমকি প্রদান করেন, তিনি বলেন তুমি পত্রিকায় লিখে আমার কিছুই করতে পারবে না। এবং তিনি এই প্রতিনিধিকে আরও বলেন, তোমরা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করে কি করবে, তিনি আরও বলেন, আমাকে হয়তো এখান থেকে অন্য জায়গায় বদলি করে দিবে কতৃপক্ষ, এছাড়া আমার আর কিছুই হবে না।

     

     

    ০৭/০৬/২০২৬ ইং

  • ঝালকাঠির প্রতিবন্ধী বিএনপি কর্মী এমরাজকে অটোরিকশা উপহার দিলেন এ্যাড. শাহাদাৎ

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি

    ঝালকাঠিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিএনপি কর্মী মো. এমরাজ হাওলাদারের কর্মসংস্থানের জন্য একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দিয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন।

     

    শনিবার (৬ জুন) রাত ৮টায় শহরের মহিলা কলেজ রোড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি নিজ হাতে এমরাজের কাছে অটোরিকশাটি হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ত্যাগী এ তৃণমূল কর্মীর জন্য স্থায়ী আয়ের একটি সুযোগ সৃষ্টি হলো।

     

    অটোরিকশা হস্তান্তরকালে অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় ত্যাগী ও সংগ্রামী কর্মীদের মূল্যায়ন করে। দলের প্রতিটি কর্মীর সুখ-দুঃখে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও তৃণমূলের কর্মীদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকব।”

     

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) ও ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন, ঝালকাঠি পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রনি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিক হাওলাদার, জেলা তাঁতী দলের সভাপতি মো. বাচ্চু হাসান খানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

     

    উপহার হিসেবে অটোরিকশা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মো. এমরাজ হাওলাদার। তিনি অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

     

    স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, দলের একজন অসচ্ছল ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার এ উদ্যোগ মানবিক রাজনীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

     

  • কলমে সমাজভাবনা, হৃদয়ে দায়বদ্ধতা: বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন কথাসাহিত্যিক তুলতুল

    কলমে সমাজভাবনা, হৃদয়ে দায়বদ্ধতা: বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন কথাসাহিত্যিক তুলতুল

    ​বিশেষ প্রতিনিধি:চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ মাটি থেকে উঠে এসে নিজের মেধা ও মননের আলোয় দুই বাংলার সাহিত্যাঙ্গন আলোকিত করেছেন যিনি, তিনি শাম্মী তুলতুল। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে যাঁরা বহুমাত্রিক প্রতিভা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি নিঃসন্দেহে এক আলোচিত ও জনপ্রিয় নাম। কেবল দেশের গণ্ডিতেই নয়, তাঁর কলমের জাদু আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের গৌরব।

     

    ​ঐতিহ্যের শিকড় ও আলোকিত শৈশব

    একটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম শাম্মী তুলতুলের। ফলে সাহিত্যচর্চার বীজটি যেন তাঁর রক্তেই মিশে ছিল। তাঁর দাদা আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, লেখক এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্যবন্ধু। অন্যদিকে, তাঁর নানী কাজী লতিফা হকও ছিলেন তৎকালীন সংবাদপত্রের একজন সুপরিচিত লেখক। এমন এক চিন্তা, চেতনা ও সংস্কৃতির আলোকিত পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠাই তুলতুলকে করে তুলেছে অনন্য। শৈশবে ডানপিটে ও প্রাণবন্ত এই মানুষটির নাচ, গান, আবৃত্তি ও খেলাধুলাসহ সব কিছুতেই ছিল সমান পারদর্শিতা।

     

    ​সংবাদপত্র থেকে বিশ্বমঞ্চে পদচারণা

    শৈশব থেকেই দেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোতে নিয়মিত লিখছেন শাম্মী তুলতুল। প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, সমকাল, যুগান্তর, মানবকণ্ঠ, প্রতিদিনের সংবাদ, আমাদের সময়, খোলা কাগজ, আজাদী, পূর্বকোণ এবং শিশু নবারুণসহ বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর শক্তিশালী লেখনী স্থান করে নিয়েছে প্যারিস, কানাডা, নিউ ইয়র্ক, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির বাংলা পত্র-পত্রিকাতেও। এমনকি আমেরিকার মূলধারার গণমাধ্যমেও তাঁর দীর্ঘ ও প্রভাবশালী সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ বহন করে।

     

    ​সৃষ্টিশীলতার বহুমাত্রিক রূপ

    সময়ের আবর্তে লেখালেখিই হয়ে উঠেছে শাম্মী তুলতুলের মূল পরিচয়। তবে তিনি কেবল একজন ঔপন্যাসিক বা গল্পকারই নন; একাধারে শিশুসাহিত্যিক, নজরুল-অনুরাগী, বেতার অনুষ্ঠান পরিচালক, সংবাদ পাঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক, ভয়েস প্রেজেন্টার, দাবাড়ু ও মডেল।

     

    ​বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। ২০২২ সালের কলকাতা বইমেলায় তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘নরকে আলিঙ্গন’ ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যা বর্তমানে ভারতের জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম Flipkart-এ পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর অন্যান্য বেস্টসেলার উপন্যাস ও বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘চোরাবালির বাসিন্দা’, ‘পদ্মবু’, ‘মনজুয়াড়ি’, ‘একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল’, ‘পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ’, ‘নান্টু ঝান্টুর বক্স রহস্য’, ‘গণিত মামার চামচ রহস্য’ এবং ‘ভূত যখন বিজ্ঞানী’। প্রতিটি বইয়ে বিনোদনের পাশাপাশি তিনি একটি শিক্ষণীয় সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

     

    ​দৃশ্যমাধ্যম ও গবেষণায় সাহিত্যকর্ম

    শিশু-কিশোর সাহিত্যে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর জনপ্রিয় গল্প ‘পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ’ দীপ্ত টিভি-তে নাট্যরূপে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর রচনায় নির্মিত নাটক ‘লাল শরবত’ প্রচারিত হয়েছে সিটি এফএম-এ।

     

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রভাব এতটাই যে, সম্প্রতি ভারতের একটি গবেষণামূলক কাজে তাঁর গল্প ব্যবহৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা “রুম টু রিড বাংলাদেশ”-এর এনলিস্টেড লেখিকা হিসেবেও তিনি সম্মানিত হয়েছেন।

    ​অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রকমারি, প্রথমা, দারাজসহ সব প্রধান মাধ্যমে তাঁর বই পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি রবি বইঘর, বাংলালিংক ও এয়ারটেল অ্যাপসের মাধ্যমে পাঠকরা ই-বুক হিসেবেও তাঁর বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

     

    ​পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:

    সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ শাম্মী তুলতুল দেশী-বিদেশী অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

    ​কবি রোকেয়া সুফিয়া কামাল সম্মাননা (দুবার),​মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড,

    ​মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড,

    ​সাউথ এশিয়া গোল্ডেন পিস অ্যাওয়ার্ড,

    ​নজরুল অগ্নিবীণা সাহিত্য পুরস্কার,

    ​উইমেন পাওয়ার লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫,​ময়ূরপঙ্খী স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫,

    ​রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘রবীন্দ্র রত্ন পুরস্কার ২০২৬।

     

    ​খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক সম্মাননা (সেখানকার পাঠকসমাজ ভালোবেসে তাঁকে ‘রাজকন্যা’ উপাধিতে ভূষিত করেছে)। ​গণমাধ্যমেও তাঁর উপস্থিতি সরব। রেডিওতে খবর পড়ার পাশাপাশি টেলিভিশনে আবৃত্তি পরিবেশন করেন তিনি। সম্প্রতি একটি ম্যাগাজিনের কভারে ‘বেগম রোকেয়া’র রূপে তাঁর মডেলিং দারুণ প্রশংসিত হয়েছে।

     

    ​সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস ও জীবনদর্শন

    সামাজিক ও পারিবারিক নানাবিধ বাধা-বিপত্তি ডিঙিয়ে আজকের এই অবস্থান তৈরি করাটাই শাম্মী তুলতুলের ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি। নারী হিসেবে পথচলার প্রতিকূলতাকে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, তবে বিশ্বাস করেন—প্রতিবন্ধকতাই মানুষকে শক্তিশালী করে তোলে।

     

    ​নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে এই কথাসাহিত্যিক বলেন,

    ​”লেখালেখি আমার কাছে শুধু একটা নেশা বা পেশা নয়—এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। মানুষের হৃদয়ে আলোর মশাল পৌঁছে দেওয়ার এক অবিরাম প্রয়াস। সাহিত্য মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করতে পারে। পাঠকের মনস্তত্ত্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”

     

    ​পিছুটান নয়, সমুখে এগিয়ে যাওয়াই যাঁর জীবনের মূলমন্ত্র—সেই শাম্মী তুলতুল আজ শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সমাজ-বাস্তবতা ও মানবিকতার বার্তা হাতে তাঁর কলম দুই বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে প্র (more…)

  • স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসছে জুনেই সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাদরেজ জামান

    স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসছে জুনেই — সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাদরেজ জামা

    স্টাফ রিপোর্টার:জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিএনপির বিভিন্ন স্তরে এই কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা ও লবিং-তদবির শুরু হয়েছে। দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন নেতৃত্ব আনতে যাচ্ছে বিএনপি। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন মাসের মধ্যেই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, নতুন নেতৃত্বের প্রতীক্ষা:২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহ এখন তুঙ্গে। দলের হাইকমান্ড সম্ভাব্য শীর্ষ নেতাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ত্যাগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করছে।

    তারেক রহমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। ওই বৈঠকে কমিটি পুনর্গঠন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে রাজপথে সক্রিয় থেকে হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েও যাঁরা সংগঠনকে ধরে রেখেছেন, তাঁদের মূল্যায়নের বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    এক নেতার এক পদ’ নীতিতে বড় চমকের আভাস:দলের অভ্যন্তরে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আলোচনা থাকায় এবারের কমিটিতে বড় ধরনের চমক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান কমিটির শীর্ষ দুই পদ থেকে নতুন কমিটিতে কাউকে না রাখার আলোচনা নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

    সভাপতি পদে এগিয়ে সাদরেজ জামান এই বাস্তবতায় সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক অন্যতম ছাত্রনেতা সাদরেজ জামান। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক দুঃসময়ে মাঠে থাকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তাঁকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান।

    এ প্রসঙ্গে সাদরেজ জামান বলেন, যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন জেল-জুলুম-নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েও রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন, তাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে প্রত্যাশা করছি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত থাকব।

    সভাপতি পদে আরও যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাঁরা হলেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান।

    সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী:সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া মামুন এবং যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম, এগিয়ে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন এবং উত্তরের সভাপতি ফরিদ।

    পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকেও নতুন কমিটির নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

    নেতাদের প্রত্যাশা ত্যাগীদের মূল্যায়ন হোক:বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো একে একে পুনর্গঠন করা হবে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। তৃণমূল নেতাকর্মী ও মাঠের রাজনীতির সঙ্গে যাদের সম্পর্ক রয়েছে, তারাই কমিটিতে স্থান পাবেন।

    নজরুল ইসলাম নোমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং তৃণমূলকে সংগঠিত করে দলকে শক্তিশালী করতে পারবেন, তাদেরকে বিএনপি চেয়ারম্যান মূল্যায়ন করবেন বলে আমার প্রত্যাশা।

    মো. শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম বলেন, ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতৃবৃন্দকে মূল্যায়ন করলে স্বেচ্ছাসেবক দল হবে একটি শক্তিশালী সংগঠন। নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে এটা আমার দৃঢ় প্রত্যাশা।

     

    যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ বলেন, মেধাবী, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়দের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে নতুন গতি ফিরে আসবে।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। সাংগঠনিক অভিভাবক যে দায়িত্ব দেবেন, সেটাই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।

    সংগঠনে নতুন প্রাণ আসবে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা:দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, এবারের কমিটিতে ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ইমেজের এবং মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হলে সংগঠনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী হবে। সেই বিবেচনায় সভাপতি পদে সাদরেজ জামান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

  • উজিরপুরে শহীদ জিয়া স্মৃতি টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

    উজিরপুরে শহীদ জিয়া স্মৃতি টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠি

    উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলায় ক্রীড়াই শক্তি ক্রীড়াই বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা যুব সমাজের উদ্যোগে, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম ও পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জিন্নাত খান এর সঞ্চালনায় শহীদ জিয়া স্মৃতি T-20 ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

     

    ৬ জুন শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উজিরপুর আলহাজ্ব বি এন খান ডিগ্রী কলেজ মাঠে, শহীদ জিয়া স্মৃতি T-20 ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল খেলার শুভ উদ্ধোধন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মহেশ্বর মন্ডল, এসময় উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রকিবুল ইসলাম, উজিরপুর আলহাজ্ব বি এন খান ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান টুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সোহেল হাওলাদার।

     

    পৌর বিএনপির যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মোস্তফা জামান সুমন বালী, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রিয়াজ মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান লিখন, উপজেলা বিএনপির সদস্য বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ মনিরুজ্জামান সোহাগ, উপজেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ সবুজ, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি সোলাইমান খান হাইউম, উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম তোতন।

    পৌর যুবদলের যুগ্ন-আহবায়ক হাফিজুর রহমান, কালাম ফরাজী, ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ সেলিম হোসেন, ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন। টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে আছেন শফিকুল ইসলাম বাবু, রায়হানুল রানা, বায়জিদ হোসেন শাকিল, শাওন হোসেন, দীপ্ত দত্ত, আরাফাত হোসেন রাব্বি, শফিকুল ইসলাম রাব্বি, ইব্রাহিম ভুইয়া মিজান, সহ ছাত্রদল যুবদল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীবৃন্দ।

    ফাইনাল খেলায় উজিরপুর ইচলাদী একাদশ ও কোটালীপাড়া একাদশ অংশগ্রহণ করেন এবং ইচলাদী একাদশ বিজয় লাভ করেন। খেলা শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সহকারী কমিশনার ভুমি মহেশ্বর মন্ডল বলেন তরুন ও যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি, এই ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করে যুব সমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে কাজ করতে হবে। এত সুন্দর আয়োজন করার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন।