Blog

  • রাজনৈতিক কোন্দলে বরুড়ায় রক্তাক্ত মির্জানগর, নিহত ১—আহত ২

    রাজনৈতিক কোন্দলে বরুড়ায় রক্তাক্ত মির্জানগর, নিহত ১—আহত ২

     

    আবু ইউছুফ রাবেতঃ

    কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে রাজনৈতিক কোন্দলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হিংসাত্মক হামলায় এক জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
    স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকালে আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে মির্জানগর গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও রাজনৈতিক মতবিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
    হামলায় নিহত হন চান মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একই গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে নূরনবি, মহিন ও ময়নালসহ কয়েকজন ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রবিউল ইসলামসহ অপর দুইজনের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রবিউল ইসলামকে উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু হয়।
    হামলায় আহত অপর দুইজনকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
    ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজনা এড়াতে বরুড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
    বরুড়া থানা পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    স্থানীয় সচেতন মহল রাজনৈতিক সহিংসতার এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • আশুলিয়ায় পুলিশের অভিযানে রিভলবার-ইয়াবা উদ্ধার

    আশুলিয়ায় পুলিশের অভিযানে রিভলবার-ইয়াবা উদ্ধার

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ঢাকার আশুলিয়ায় গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বাড়ি থেকে বিদেশি রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবাসহ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার।
    পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধামসোনা ইউনিয়নের পূর্ব ডেন্ডাবর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযুক্ত আলামিন ওরফে কালু (২৮) ওই এলাকার আসলাম মন্ডলের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
    তল্লাশি চলাকালে তার বসতঘর থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, ৮ পিস ইয়াবা, নগদ ৬০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে যায় আলামিন।
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
    ওসি রুবেল হাওলাদার জানান, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হলেন নূর মোহাম্মদ

    শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হলেন নূর মোহাম্মদ

    আলমাস হোসাইন | স্টাফ রিপোর্টার :
    মুন্সিগঞ্জের হাসাড়া হাইওয়ে থানায় দায়িত্ব পালনকালে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে মামলা তদন্তে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করায় এসআই (নিরস্ত্র) নূর মোহাম্মদ ‘শ্রেষ্ঠ এসআই’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
    হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের অধীন হাসাড়া হাইওয়ে থানায় কর্মরত এই কর্মকর্তাকে সম্মাননা হিসেবে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) পুলিশ সুপারের পক্ষে হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহামুদুল হক তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
    জানা গেছে, এসআই নূর মোহাম্মদ ঢাকা জেলার ধামরাই থানার কুশুরা ইউনিয়নের বকচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. বদর উদ্দিনের ছেলে।
    পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে এসআই নূর মোহাম্মদ বলেন,
    আমি সবসময় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মামলা তদন্তের কাজ করার চেষ্টা করেছি। সেই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হওয়ায় সত্যিই আমি গর্বিত। এই সম্মান ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনে আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।
    এ বিষয়ে হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহামুদুল হক বলেন,
    জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন করা হয়। এই ধরনের পুরস্কার সদস্যদের দায়িত্বশীলতা ও কাজের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নূর মোহাম্মদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব থানার সামগ্রিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা তাকে এ স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

  • ডিবির অভিযানে আশুলিয়ায় দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

    ডিবির অভিযানে আশুলিয়ায় দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:
    ঢাকার আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১০০ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা উত্তর (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানার নয়ারহাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে কয়েকজন মাদক কারবারি মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত রয়েছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ১০০ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ঢাকা জেলার ধামরাই থানার কুমরাইল এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে লেহাজ উদ্দিন (৫৫) এবং আশুলিয়া থানার চাকলগ্রাম এলাকার মো. শুকুর আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ (৪৫)।
    ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
    এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনোভাবেই মাদক কারবারিদের ছাড় দেওয়া হবে না। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
    পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় মাদক প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

  • দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের সঞ্চয়ে কেনা বাড়িতেই আতঙ্কে দিন কাটছে আবুল বিশ্বাসের পরিবার

    দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের সঞ্চয়ে কেনা বাড়িতেই আতঙ্কে দিন কাটছে আবুল বিশ্বাসের পরিবার

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি:
    প্রবাস জীবনের কষ্ট, ঘাম আর নির্ঘুম রাতের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একটি স্বপ্ন—একদিন দেশে ফিরে নিজের একটি বাড়ি হবে, যেখানে পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করবেন। সেই স্বপ্ন পূরণেও পিছপা হননি আবুল বিশ্বাস। টানা ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় দিয়ে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় ছয় শতাংশ জমিসহ একটি একতলা বাড়ি কিনেছিলেন তিনি।
    কিন্তু স্বপ্নের সেই বাড়িই এখন তার ও পরিবারের জন্য আতঙ্কের আরেক নাম। জমি বিক্রেতার লাগাতার হুমকি, মারধর ও চাঁদা দাবিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে এই প্রবাসীর পরিবার।
    ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে দুবাই থেকে দেশে ফিরে প্রায় ৪৩ লাখ টাকায় স্থানীয় আয়নাল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিসহ বাড়িটি কেনেন আবুল বিশ্বাস। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু হয়।
    আবুল বিশ্বাসের স্ত্রী ঝর্ণা খাতুন অভিযোগ করে বলেন,
    বাড়ি কেনার পর থেকেই নানা অজুহাতে চাপ সৃষ্টি শুরু করে আয়নাল। গত তিন মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে, গালিগালাজ করছে। কয়েকবার মারধরও করেছে। এমনকি জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
    তিনি আরও জানান, বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে।
    ঝর্ণা খাতুনের কণ্ঠে অসহায়ত্ব,
    আমরা যাব কোথায়? থানায় মামলা করেছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। পুলিশও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
    আবুল বিশ্বাস বলেন,
    ১৭ বছর দুবাইয়ে কঠোর পরিশ্রম করে এক টাকাও অপচয় করিনি। সব টাকা দিয়ে এই বাড়িটা কিনেছি। এখন আয়নাল ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। না দিলে এখানে থাকতে দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। বাড়িতে এসে মারধর করছে। আমরা খুব ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।
    তিনি জানান, আয়নাল ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কেউ তাদের পক্ষে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
    আয়নালদের ছয় ভাই। আশপাশের মানুষজন সবাই ওদের ভয়ে থাকে। কেউ সাক্ষী দিতে রাজি না। থানায় গেলেও যেন তাদের কথাই বেশি শোনা হয়। আমরা কোথাও বিচার পাচ্ছি না, যোগ করেন তিনি।
    স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আয়নাল এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে কথা বললে ঝামেলার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই চুপ থাকেন।
    এদিকে, এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন আবুল বিশ্বাস ও তার পরিবার।
    সব হারানোর শঙ্কা নিয়ে এই প্রবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই প্রশ্ন—
    দেশে ফিরে নিজের ঘরেও কি একজন প্রবাসী নিরাপদ থাকতে পারবেন না?
    এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহসানূর রহমান প্রধান বলেন,
    মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আপাতত আয়নালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ওএমএস কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে জাকিরের দুর্ব্যবহার: তথ্য সংগ্রহে বাধা ও হুমকির অভিযোগ

    ওএমএস কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে জাকিরের দুর্ব্যবহার: তথ্য সংগ্রহে বাধা ও হুমকির অভিযোগ

    কাউছার আহমেদ পনির:

    মিরপুর ১২ নাম্বার নতুন থানা পাশে বঙ্গবন্ধু কলেজ সংলগ্ন সরকারি ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক জাকিরের দুর্ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং সরকারি সেবা কেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
    ঘটনার বিবরণ
    দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ এবং সহকর্মী আনজার বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে অবস্থিত ওএমএস কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক জাকির দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিলার মাজিদা খাতুন পরিচালিত এই কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ভাতা প্রদান এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকিরের বিরুদ্ধে।
    সূত্র জানায়, কথিত সাংবাদিক জাকির সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “অ্যাসাইনমেন্ট দেখান, আপনারা ভুয়া সাংবাদিক।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমি এখানে অনেক সাংবাদিককে মারধর করেছি। শফিকুল গ্রুপ এবং রূপক গ্রুপের সাংবাদিকদের মারধর করেছি।” এই বলে তিনি স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ এবং আনজারকে মারার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
    ওএমএস কেন্দ্রের তথ্য
    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এই ওএমএস ট্রাকসেল কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়। কেন্দ্রে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রয় করা হয়। জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল বা আটা এবং ২ কেজি প্যাকেট আটা ৫৫ টাকায় সর্বোচ্চ ২ প্যাকেট বিক্রয়ের বিধান রয়েছে।
    ডিলার মোহাম্মদ মাজিদা খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কেন্দ্রে প্রতি রোজবার বিক্রয় কার্যক্রম চলে। অভিযোগ থাকলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০২২২০০৪০৬৭৩) এবং হটলাইন (১৬১৫৫) নম্বরে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
    সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া
    দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ জানান, “আমরা শুধুমাত্র সরকারি ওএমএস কেন্দ্রের কার্যক্রম এবং জনগণের সেবার মান যাচাই করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কথিত সাংবাদিক জাকির আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন এবং মারধরের হুমকি দেন। এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রতি সুস্পষ্ট হুমকি।”
    স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহের অধিকার রাখেন। কোনো ব্যক্তি এই অধিকারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।
    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন
    ওএমএস কেন্দ্র জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি সেবা কর্মসূচি। এখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান এবং হুমকি প্রদান এই স্বচ্ছতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। যদি কেউ সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় বা হুমকি প্রদান করে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    সুপারিশ ও পদক্ষেপ
    সাংবাদিক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, কথিত সাংবাদিক জাকিরের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
    খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সেবা কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। তারা জনগণকে হটলাইন নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
    এদিকে, স্থানীয় সুশীল সমাজ ও নাগরিক সংগঠনগুলো বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও উপেক্ষিত, নির্বাচনী অঙ্গীকারে অনুপস্থিত— বহ্নি বেপারী

    প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও উপেক্ষিত, নির্বাচনী অঙ্গীকারে অনুপস্থিত— বহ্নি বেপারী

    বিশেষ প্রতিনিধি:

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভূমিকা নিয়ে রাজধানীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় নির্বাচন বা গণভোট—যাই হোক না কেন—প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনও কোনো দৃশ্যমান ও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে না।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরিতে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

    আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা–১০ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বহ্নি বেপারী বলেন,
    “বেশিরভাগ বড় রাজনৈতিক দল এখনো নারী প্রার্থী দিতে কার্পণ্য করছে। সেখানে প্রান্তিক নারীদের কথা ভাবা তো আরও দূরের বিষয়। অথচ সমাজে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার এই নারীরাই।”

    তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি ব্যতিক্রমী ভূমিকা রেখেছে।
    “আমাদের দল হিন্দু নারী ও মারমা নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে, যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সবচেয়ে প্রান্তিক। এটি কেবল প্রতীকী সিদ্ধান্ত নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রতি জাতীয় পার্টির অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

    বহ্নি বেপারী আরও বলেন,
    “জাতীয় পার্টি ধর্ম, জাতিসত্তা বা লিঙ্গভেদের রাজনীতি করে না। আমরা মানুষের অধিকারের রাজনীতি করি। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে জাতীয় পার্টি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে।”

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ক্রিশ্চিয়ান এইড-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে বৈষম্য দূরীকরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেবল ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করলে গণতন্ত্রের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গণতন্ত্রের সুফল পৌঁছাবে।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আমরাই পারি’ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

  • কুমিল্লা-৮ আসনে পরিবর্তনের ডাক: বরুড়ায় ভাষা শিক্ষা একাডেমি স্থাপনের ঘোষণা

    কুমিল্লা-৮ আসনে পরিবর্তনের ডাক: বরুড়ায় ভাষা শিক্ষা একাডেমি স্থাপনের ঘোষণা

    মোঃআনজার শাহ

    কুমিল্লা  -৮ (বরুড়া) নির্বাচনী এলাকা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন বরুড়াকে মাদকমুক্ত ও আলোকিত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি বরুড়ায় তাঁর নিজ বাসভবনে দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার বরুড়া উপজেলা প্রতিনিধি আবু ইউসুফ রাবেদকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

    হৃদয়স্পর্শী বক্তব্যে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “বরুড়া আমার শেকড়, আমার স্বপ্ন। এই মাটিকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করাই হবে আমার প্রথম লড়াই।” কণ্ঠে দৃঢ়তা ও চোখে প্রত্যয়ের দীপ্তি নিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, কুমিল্লা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে বরুড়াকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

    শুধু মাদকবিরোধী অঙ্গীকারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এই তরুণ প্রার্থী। সময়ের চাহিদা ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে তিনি বরুড়ায় একটি আধুনিক বিদেশি ভাষা শিক্ষা একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর ভাষায়, “ভাষা জানলেই খুলে যায় বিশ্বের দরজা—বরুড়ার সন্তানরা আর পিছিয়ে থাকবে না।” এই একাডেমি স্থানীয় তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের ভাষা শিক্ষায় দক্ষ করে তুলবে এবং তাদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জাকারিয়া তাহের সুমন আরও বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামাজিক উন্নয়নে বরুড়াকে একটি আদর্শ উপজেলায় রূপান্তরিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “রাজনীতি হবে মানুষের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার, উন্নয়ন হবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর সেতু।”

    তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনায় রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
    বক্তব্য শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি সমর্থন জানিয়ে করতালিতে মুখরিত করে তোলেন পুরো পরিবেশ। তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে একটাই প্রত্যাশা—একটি নিরাপদ, শিক্ষিত ও আলোকিত বরুড়া গড়ার স্বপ্ন।
    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাকারিয়া তাহের সুমনের এই প্রতিশ্রুতি তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বরুড়া উপজেলা মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত। একজন তরুণ ও শিক্ষিত প্রার্থীর হাত ধরে এলাকার উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

    বরুড়ার মাটিতে যেন নতুন করে লেখা হলো এক আশার কবিতা, যার প্রতিটি পংক্তিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে পরিবর্তনের ডাক। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে বরুড়াবাসী।

  • “ঢাকা-১০: লাঙ্গল মার্কার বহ্নি বেপারীর উৎসবমুখর গণসংযোগ”

    “ঢাকা-১০: লাঙ্গল মার্কার বহ্নি বেপারীর উৎসবমুখর গণসংযোগ”

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    ঢাকা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১০ আসনে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিনভর ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও ঝাউচর বেড়িবাঁধ এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী বহ্নি বেপারী। লাঙ্গল মার্কার এই প্রার্থীর পদচারণায় এদিন উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গণসংযোগকালে বহ্নি বেপারী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন।

    এর আগে তিনি ধানমন্ডির নিজাম শংকর প্লাজা, ইবনে সিনা হাসপাতাল গলি ও ছায়ানট প্রাঙ্গণ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এরশাদের উন্নয়নই আমাদের শক্তি ঝাউচর বেড়িবাঁধ এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বহ্নি বেপারী বলেন, “ঢাকার আধুনিকায়নে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান অনস্বীকার্য।

    ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার হাত থেকে ঢাকাবাসীকে বাঁচাতে তিনি যে ঐতিহাসিক বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছিলেন, আজ সেই বাঁধের ওপর দাঁড়িয়েই আমরা সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “ঢাকার উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল এরশাদ সরকারের আমলেই। মানুষ আজও তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।”

    সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী নির্বাচন প্রসঙ্গে এই নারী প্রার্থী বলেন, “যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তবে ঢাকা-১০ আসনে লাঙ্গল মার্কা শতভাগ বিজয়ী হবে। আমি একজন নারী প্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে, ভোটাররা এখন পরিবর্তন চান।” দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পার্টি উন্নয়নের রূপকার, কোনো দুর্নীতির আখড়া নয়। আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা।

    দেশ ও জনগণের কল্যাণে লাঙ্গলকে একবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ গণসংযোগ চলাকালে বহ্নি বেপারীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, ধানমন্ডি থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম দেওয়ান, কলাবাগান থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. অপু শিকদার সহ ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও কলাবাগান এলাকার জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক।

    উল্লেখ্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিশু সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত বহ্নি বেপারী ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে উঠে এসেছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে সাধারণ ভোটারদের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

  • শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

    শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

     

    কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষ জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য গেলে এখানে সরকারি নিয়মের পরিবর্তে ব্যক্তিগত লেনদেন ও দালাল ব্যবস্থার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই অনিয়ম ও ঘুষের কারণে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    সমাজের নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতি এমন এক নোঙ্গর হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসও এর ব্যতিক্রম নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নায়েব ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহজাদী তাহমিনা, যিনি এলাকায় ‘নায়েক শাহজাদী’ নামে পরিচিত, সরকারি বেতন মাত্র ৪০–৫০ হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও নানা অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

    ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত যে কোনো কাজ—খারিজ, নামজারি, খাজনা, পর্চা—শাহজাদী তাহমিনার মাধ্যমে হলে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয়। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের বেড়াখলা গ্রামের রুজিনা লেখম জানান, তিনি বাবার জমি নামজারি করতে গেলে শাহজাদী তাহমিনা তার নিকট ১৯ হাজার টাকা গ্রহণ করে খারিজ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। একইভাবে, ইতালি প্রবাসী মোঃ ফারুক সরকার জানান, মসজিদের নামে জমি ওয়াকল করেও তিনি শাহজাদী তাহমিনার নিকট ৪২ হাজার টাকা দিয়েই নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বাধ্য হন।

    স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য ফাইল জিম্মি রাখা, দালাল ব্যবহার এবং মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ই শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মূল ধারা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী হালিমা আক্তার জানান, নায়েব ছাড়া কোনো কাজই এখানে হয় না, অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারী কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন না।

    জমির কাজের জটিলতা অনুযায়ী অর্থের পরিমাণও ভিন্ন হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাধারণ নামজারির জন্য কয়েক হাজার টাকা, জটিল জমির ক্ষেত্রে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ দিতে হয়। নজরুল ইসলাম খন্দকার জানান, তার একটি জমি বিক্রির কারণে নামজারি করতে গিয়ে শাহজাদী তাহমিনা দালাল রাসেলের মাধ্যমে ১৯ হাজার টাকা নেন। এমন ঘটনা নিয়মিত পর্যায়ে ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    শাহজাদী তাহমিনার কার্যক্রম শুধু অর্থের লেনদেনেই সীমাবদ্ধ নয়; গ্রাহকদের সঙ্গে আচরণও ন্যায্য নয়। এক প্রবাসী জানান, জমির জন্য তিনি অফিসে গেলে নায়েব তার সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করেছেন এবং টাকা ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন হয়নি। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

    স্থানীয় দালালরা বলছেন, নায়েবের অধীনে লেনদেনের ক্ষেত্রে দালালদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়। মোঃ আবু কাউছার জানান, জমির খাজনা আদায় ও নামজারি কার্যক্রমে নায়েবের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না। প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ আবু জাহের জানান, নায়েব নিজের সুবিধার জন্য সমস্ত ফাইলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন এবং বিনা অর্থে কোনো কাজ করতে দেন না।

    শাহজাদী তাহমিনা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে কাজ করছেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি নানাভাবে মোটা অঙ্কের সম্পদ অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দালালদের মাধ্যমে কাজ করান এবং জমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিল কাজে অর্থ আদায় করে থাকেন।

    অপরাধ বিচিত্রা প্রতিনিধিকে এক সাক্ষাৎকারে নায়েব তাহমিনা বলেন, “ভাই, আমার চাকরি আর এক বছর আছে, এ সময় সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করছি। আমি সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করি।” অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফোন রিসিভ না করার কারণে বিষয়টি যাচাই সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, যদি যথাযথ অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি এমন অনিয়ম চলতে থাকে, তাহলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও জনবিশ্বাসের ক্ষতি হবে। শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ফাইল জিম্মি, দালাল ব্যবস্থাপনা এবং মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের ফলে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও সামাজিকভাবে হুমকির মুখে পড়ছেন।

    একজন দালাল আশরাফ জানান, “আমি কাজের জন্য টাকা নিয়েছি, কিন্তু তা নায়েবকে দিয়েছি। সরকারী ফি থাকলেও নায়েবের মাধ্যমে কাজ করতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।” ইতালি প্রবাসী মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, “শাহজাদী তাহমিনা টাকা নিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন না। আমার জমি নামজারি করতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আমি বাধ্য হয়ে উচ্চতর কর্মকর্তার কাছে যেতে বাধ্য হই।”

    বিএনপি ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ বায়েজিদ হোসেন রানা জানান, নায়েব নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং প্রতিটি ফাইলের জন্য অর্থ আদায় করেন। তিনি বলেন, “আমরা অফিসে গিয়ে বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু নায়েব আমাদের কথা তোয়াক্কা করেন না। তিনি নিজের ঘুষের রাজত্ব বজায় রাখছেন।”

    প্রতিনিধিকে নায়েবের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকারের সময় দেখা যায়, তিনি সাংবাদিককে চায়ের আপ্যায়নের মাধ্যমে বিষয়টি ‘নির্ধারিত’ করার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়ম কেবল সাধারণ জনগণের জন্য নয়, সাংবাদিকতার জন্যও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

    স্থানীয়রা সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, নায়েব শাহজাদী তাহমিনার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও সুবিচারমূলক সেবা পাবেন।

    শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অনিয়ম এবং ঘুষের চক্র ভেঙে দেওয়া না গেলে, এটি কেবল ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নয়, আশেপাশের এলাকা থেকেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্থানীয় জনগণ সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি পদে থাকা কর্মকর্তা যদি নিজের স্বার্থে চলেন, তাহলে জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার অপরাধ বিচিত্রাকে জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেছেন। সরকারি পদে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।