চট্টগ্রামের ডবলমুড়িংয়ে ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জুয়া বাণিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শহরে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৈধ ব্যবসার পাশাপাশি কিছু অসাধু চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডও দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জুয়া, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এমনই একটি অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের ডবলমুড়িং থানাধীন হাড্ডি কোম্পানি এলাকার একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত কথিত জুয়ার আসরকে ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ জুয়া বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দিন-রাত প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ওই স্থানে জুয়ার আসর বসে এবং সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয় বলে তাদের অভিযোগ। তাদের দাবি, এ কারণে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তরুণ সমাজের একটি অংশ সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক পরিবারও এ কারণে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অনেকেই দাবি করেন, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জুয়ার এই আসরকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে, যারা বিভিন্নভাবে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হতে হয়। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে যে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুবিধার্থে নিয়মিতভাবে ডবলমুড়িং থানার কিছু কর্মকর্তার কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে ডবলমুড়িং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো অর্থ গ্রহণের প্রশ্নই আসে না। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য-প্রমাণ দেন, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলাম উদ্দিনও নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কাজ করে খাই। সবাইকে দেই।” তবে তিনি “সবাইকে দেই” বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালিত হলে তা শুধু জুয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর সঙ্গে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

এলাকার সচেতন নাগরিকরা দাবি করেছেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করুক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে তারা ওই এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.