Author: DBC

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির মাসিক সমন্বয় সভায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেলেন সিপাহি জাকারিয়া হোসেন


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়ের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই ) জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান। সভায় উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম, ‘ক’ সার্কেলের উপপরিদর্শক মো. মুস্তাফিজুর রহমান, উপপরিদর্শক মামুনুর রশিদসহ জেলা কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সভায় জুন ২০২৬ মাসের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় জানানো হয়, মে ২০২৬ মাসের তুলনায় জুন ২০২৬ মাসে নিয়মিত মাদক মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে এ সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হয় এবং তাদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়। এছাড়া, জুন মাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাদক মামলা সফলভাবে উদ্ঘাটনে বিশেষ অবদান রাখায় ‘খ’ সার্কেলের সিপাহী মো. জাকারিয়া হোসেনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা জেলার মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • শ্রীপুরে এক রাতে কৃষকের তিনট‌ি খামার থেকে ৬ গরু চুরি

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের শ্রীপুরে গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে এক রাতে কৃষকের তিনটি খামারে ছয়টি গরু চুরি ঘটনা ঘটেছে। চুরি হওয়া গরুর মধ্যে রয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাভিন গাভী ও একটি ষাঁড়। গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা।

    ভুক্তভোগী কৃষক কবির হোসেন জানান, বুধবার (৮ জুলাই) রাত দেড়টা পর্যন্ত গোয়ালঘরে গিয়ে গরুগুলো দেখে ঘুমাতে যান। ভোররাতে ঘুম ভেঙে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, গেট ও গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তার তিনটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরু চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে কালো ও সাদা রঙের দুটি গাভী গাভিন ছিল এবং প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩২ লিটার দুধ দিত। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই দুধ বিক্রি করতেন। গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা।

    একই রাতে কৃষক হাদিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে দুটি এবং খামারি আজিজুল ইসলামের একটি গাভী চুরি হয়েছে। আজিজুল ইসলাম বলেন, তার চুরি হওয়া গাভীর আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন আগেও একই গ্রামের কাজল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। একের পর এক চুরির ঘটনায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

    শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাখাল চন্দ্র বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজন কৃষকের তিনটি গরু চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্য দুই ভুক্তভোগী এখনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, তিনি ছুটিতে থাকলেও সকালে বিষয়টি জেনেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

  • সরকারি অর্থে ১৫ হাজার স্বাস্থ্য কার্ড বস্তাবন্দী পরিত্যক্ত অবস্থায়

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সরকারি অর্থে ছাপানো প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড বছরের পর বছর মানুষের হাতে না পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্ডগুলোর ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে বস্তাভর্তি স্বাস্থ্য কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

    তিনি জানান, ২০২৪ সালে বড়লেখায় যোগদানের পর তিনি এসব কার্ডের বিষয়ে অবগত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেবাগ্রহীতাদের তথ্য বারবার রেজিস্টারে লেখার পরিবর্তে ট্যাবভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের সুবিধার জন্য কার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, তথ্যগত ত্রুটি ও কিছু ডুপ্লিকেট কপি থাকায় কার্ডগুলো বিতরণ করা হয়নি।

    তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রশ্ন, যদি কার্ডগুলোতে তথ্যগত ত্রুটি থেকেই থাকে, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে এত বিপুল সংখ্যক কার্ড কেন ছাপানো হয়েছিল? ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর কেন তা সংশোধন করা হয়নি? কেন বিষয়টি যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি? আর কেন বছরের পর বছর কার্ডগুলো বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে রইল?

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও দৌড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। একদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে তৈরি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কার্ডগুলো ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। তাদের মতে, এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    সচেতন মহলের দাবি, এ ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নাকি এর পেছনে আরও বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, তদন্তে যদি দায়িত্বে অবহেলা, পরিকল্পনার ব্যর্থতা বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা স্বাস্থ্য কার্ডগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে এবং এ কারণে সরকারি অর্থের কতটা ক্ষতি হয়েছে—সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

    উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই কার্ডগুলো ছাপানো ও সংরক্ষণের বিষয়টি ঘটে। তিনি বলেন, বর্তমানে কার্ডগুলো অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।

  • আমতলীতে অংশীদারদের সঙ্গে এরিয়া প্রোগ্রামের বার্ষিক পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত


    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
    বরগুনার আমতলী উপজেলায় অংশীদারদের অংশগ্রহণে এরিয়া প্রোগ্রামের বার্ষিক পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    কর্মশালায় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, যুব প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা উন্নয়ন ও কমিউনিটি অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আমতলী উপজেলার সোনালী কমিউনিটি সেন্টারে আমতলী এরিয়া প্রোগ্রাম (এপি), ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এরিয়া প্রোগ্রামের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন এনএসএস-এর মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন স্পেশালিস্ট আখতারুজ্জামান।

    প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিকুল আলম। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না, ওয়ার্ল্ড ভিশন আমতলী এপির চাইল্ড প্রোটেকশন ও এপি স্পন্সরশিপ অফিসার চার্চিল দাস, এনএসএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃদুল সরকার, এনএসএস-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার সিনিয়র সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আবু জিহাদ, ওয়ার্ল্ড ভিশনের জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার অতিদাস ও প্রতিভা মণ্ডল, এনএসএস-এর ফিল্ড অপারেশন অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার জ্যাকলিন টুম্পা মণ্ডল, খোকন দাস, রাধা রানী ও তানিয়া আক্তার।

    এছাড়াও কর্মশালায় তারুণ্যের আলো যুব ফোরামের সভাপতি মুক্তারানী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, উপকারভোগী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    কর্মশালায় গত এক বছরে এরিয়া প্রোগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও অর্জন পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করা হয়। আলোচনায় শিশু সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, জীবিকা উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নারী ও যুব উন্নয়ন এবং কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জবাবদিহিমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

    এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক কর্মশালা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
    কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা আগামী বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • ‎সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের চাপে আত্মসমর্পণ বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্যের ‎


    বাগেরহাট প্রতিনিধি:
    ‎
    ‎সুন্দরবনে দীর্ঘদিনের ত্রাস সৃষ্টিকারী বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
    ‎
    ‎সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকারী দস্যু বাহিনী বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তরে আত্মসমর্পণ করা এই দস্যুরা হলেন আল আমিন হোসেন, তৈবুর রহমান এবং মনিরুজ্জামান ওরফে মামুন। তাদের সাথে জিম্মি থাকা একজন জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্‌দীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযানে তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান এবং ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়েই তারা এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে চলমান বিশেষ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এটি একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
    ‎
    ‎আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে সুন্দরবনের জেলে ও বাওয়ালীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এই বাহিনীটি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল দিয়ে মাছ ধরার নৌকায় আক্রমণ চালাত এবং অর্থ আদায় না হওয়া পর্যন্ত জেলেদের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। ভুক্তভোগী জেলেদের দাবি অনুযায়ী, এই চক্রের সদস্যরা শুধু মুক্তিপণ আদায়ই নয়, বরং বাওয়ালীদের নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে রেখেছিল। দস্যু বাহিনীর এমন ত্রাসের কারণে স্থানীয় বনজীবীরা চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করছিলেন। উদ্ধার হওয়া জিম্মি জেলের জবানবন্দি অনুযায়ী, দস্যুরা তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গভীর বনে নিয়ে যেত এবং মুক্তিপণের জন্য পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করত। এই বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কোস্ট গার্ডের ক্রমাগত চাপের ফলে তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ায় তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    ‎
    ‎এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সুন্দরবনে দস্যুতা নির্মূলে পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামক দুটি বিশেষ অভিযানের সফলতা দৃশ্যমান হচ্ছে। কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্‌দীন জানান, দস্যু চক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙতে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা শাখা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আগে গত ২১ মে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যের আত্মসমর্পণের ঘটনা সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং যারা এখনও দস্যুতার সাথে জড়িত, তাদের অতি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় কঠোর সামরিক ও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
    ‎
    ‎সুন্দরবনের দস্যুমুক্ত হওয়ার এই প্রক্রিয়া বননির্ভর অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটন শিল্প এবং মৎস্য আহরণ ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দস্যুতা পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে কেবল আত্মসমর্পণই যথেষ্ট নয়, বরং বনের অভ্যন্তরে নিয়মিত টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুন্দরবনকে পুনরায় নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত করার যে লড়াই কোস্ট গার্ড শুরু করেছে, তার চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করছে দস্যু চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার ওপর। দস্যুমুক্ত সুন্দরবন নিশ্চিত করা গেলে বাওয়ালী ও জেলেদের ভয়হীন জীবিকা অর্জনের পথ প্রশস্ত হবে, যা সামগ্রিকভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
    ‎

  • সরকারি চাকুরি করেও প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক, তদন্তে প্রমাণ মেলায় ডা. ইসমাইলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    সরকারি হাসপাতালে চাকুরি করেও প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগের প্রমাণ মেলায় বিভাগীয় মামলা হয়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় মামলা করেছে।

    জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চাকুরি করলেও ডা. ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালের উল্টো দিকে রাস্তার ওপারেই গড়ে উঠা ম্যাক্স হাসপাতালে মালিকানা রয়েছে। এনিয়ে সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদকে লিখিত অভিযোগ দিলে তা তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানান। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত এর সত্যতা পেলে ডা. ইসমাইলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে।

    গত ৫ জুলাই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সাক্ষর করেছেন। প্রজ্ঞাপনে তাকে পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

    এদিকে, ম্যাক্স হাসপাতাল ছাড়াও জেলা হাসপাতালের বিপরীতে থাকা আরেকটি প্রাইভেট ক্লিনিকে তার শেয়ার রয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গর্ভমেন্ট অর্ডার (জিও) ও নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছাড়াই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ রয়েছে। এনওসি ও জিও ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা বিদেশ গেলে, তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে, যার মধ্যে চাকরিচ্যুতিও অন্তর্ভুক্ত। অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাওয়াকে সরকারকে ধোঁকা দেওয়া এবং তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট গ্রহণের অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন গতবছরের ০৩ সেপ্টেম্বর থেকে ০৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭ দিন অবস্থান করেছিলেন ইউরোপের দেশ স্পেনে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ০৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে স্পেনগামী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে স্পেন যান ডা. ইসমাইল হোসেন। ০৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি বিমানে স্পেন থেকে দুপুর ১২টায় ঢাকায় এসে পৌঁছান তিনি।

    গর্ভমেন্ট অর্ডার (জিও) ও নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছাড়াই তিনি এই ভ্রমণ করেন। এছাড়াও ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, ডা. ইসমাইল হোসেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীন, একই বছরের ফেব্রুয়ারীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ২০২৩ সালে মিশর, ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ছয় দফায় বিদেশ ভ্রমণ করেন।

  • চুনতিতে বন্যহাতির তান্ডবে ৪ বসতবাড়ি লন্ডভন্ড।

    লোহাগাড়া চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুনতিতে একদল বন্যহাতি রাতব্যাপী তান্ডব চালিয়ে চার পরিবারের বসতঘরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষক্ষতি করেছে। হাতির আক্রমণ থেকে জানমাল রক্ষা করতে পাহাড়ঘেঁষা গ্রামের মানুষ বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে। বন্যহাতির আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চার পরিবারের বাসিন্দারা।

    গতকাল রাতে বন্যহাতির দল চারটি বসতঘরে তাণ্ডব চালায় বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় চৌকিদার বাদশা জানান, গতকাল রাতে বন্যহাতির দল চুনতি চাঁন্দা এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবুল কাসেমের বসতঘরে তাণ্ডব চালায়। এরপরে একই এলাকার নারিশ্চা শিলটুর পাহাড়ের আবুল হাসেমের বসতঘর,চাঁন্দা আশ্রয়ণ প্রকল্পের দক্ষিণ পার্শ্বে শরীয়ত উল্যাহ`র বসতঘরে এবং একই এলাকার মোঃ রাসেলের বসতঘরে তাণ্ডব চালায়। এতে চার পরিবারের সদস্যরা কোন রকমের বসতঘর থেকে প্রানে বেঁচে যায়। হাতির তান্ডবে চারটি বসতঘরে আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় মালামাল তছনছ করে ফেলে।

  • রায়গঞ্জে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা :

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে রিয়াদ (১১) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিয়াদ বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাছ ধরছিল রিয়াদ। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

    রিয়াদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, রিয়াদ শান্ত স্বভাবের ও মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার এ অকাল মৃত্যুতে গ্রামের সবাই মর্মাহত।

    রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সম্পর্কে বিস্তারিক জানতে ফোর্স পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

  • সলঙ্গার কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎ খাস ইজারাভুক্তি না হওয়ায় সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ঘুড়কা ইউনিয়নের কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎকে সরকারিভাবে খাস ইজারাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সদস্য ও এলাকাবাসী।দীর্ঘদিন ধরে সকল শর্ত পূরণ করেও আড়ৎটি সরকারি খাস ইজারার আওতায় না আসায় তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
    জানা যায়,বাসুদেবকোল মৌজার কুতুবের চর এলাকায় ২৫ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে “কুতুবের চর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতি লিমিটেড” গঠন করা হয়।পরে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সমিতিটি নিবন্ধন লাভ করে। নিবন্ধন নম্বর-০০২৭।
    মৎস্য আড়ৎ ও হাট পরিচালনার স্বার্থে সমিতির পক্ষ থেকে সরকারকে ৩০ শতক ভূমি লিখিতভাবে প্রদান করা হয়েছে।এছাড়াও সমিতির উদ্যোগে ব্যক্তি মালিকানাধীন ২ দশমিক ০৭ একর লিজকৃত জমির ওপর আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মৎস্য আড়ৎ গড়ে তোলা হয়েছে।
    সমিতির সদস্যরা নিজেদের অর্থায়নে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট, শেড নির্মাণ,পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, যানবাহন পার্কিং, টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন।ফলে আড়ৎটি বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাছ বেচাকেনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
    প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মেট্রিক টন মাছ এখানে আসে।নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা মাছ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারায় আড়ৎটির সুনাম দিন দিন বাড়ছে।প্রতিদিন এখানে প্রায় ১ কোটি ৩০-৪০ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
    এলাকাবাসীর দাবী,এই মৎস্য আড়ৎকে কেন্দ্র করে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।যা স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
    আড়ৎটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সংশোধনী নিবন্ধন নং ০২ এর মাধ্যমে রায়গঞ্জ,সিরাজগঞ্জ সদর,কামারখন্দ, উল্লাপাড়া ও তাড়াশ এই ৫ উপজেলার সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৬।

    স্থানীয়দের অভিযোগ,রহস্যজনক কারণে এখনও সরকারি খাস ইজারার আওতায় আনা হয়নি আড়ৎটি।এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
    এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আব্দুল খালেক পাটোয়ারী জানান,কুতুবের চর মৎস্য আড়তটির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট-পিটিশন দায়ের করা আছে। নিষ্পত্তি হলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎকে খাস ইজারাভুক্ত করার দাবী জানিয়েছেন সমিতির সদস্য ও এলাকাবাসী।

  • নেত্রকোনায় নারী শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানী ও যৌন হয়রানী’র অভিযোগ ওলামালীগ নেতার বিরুদ্ধে

    সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা : নেত্রকোণায় এক নারী শিক্ষিকাকে দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দেওয়া, শ্লীলতাহানির চেষ্টা, হুমকি ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শ্রীরামপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক ও বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামালীগের নেত্রকোণা জেলা কমিটির সদস্য সোলায়মান হোসেন এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী ওলামালীগের সদস্য মো: সোলায়মান হোসেন এর বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ইসলামী ফাউন্ডেশন নেত্রকোণা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।

    লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী মদিনা আক্তার নোয়াগাঁও দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার একজন নিয়মিত শিক্ষিকা।আটপাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক মো: সোলায়মান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন সময়ে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করছেন।অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক নোয়াগাঁও দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় কর্মরত থাকাকালেও অভিযোগকারীকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতেন এবং অশালীন কথাবার্তা বলতেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পারলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। এরপরও এই আওয়ামী ওলামালীগ নেতা অভিযোগকারীর শিক্ষিকা মদিনা আক্তারে স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি এর আগে ইসলামী ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে অভিযোগের কার্যকর কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং অভিযোগ করার পর থেকে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগকারীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছেন।

    লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জুন ২০২৬ নেত্রকোণা শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত শিক্ষক তার পথরোধ করে পুনরায় হয়রানি ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশন নেত্রকোণা জেলা শাখার উপ-পরিচালক মো. শাহ্ আলম বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। আমি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অসুস্থ থাকার কারণে বিষয়টির ব্যবস্থা নিতে পারিনি। কিছুটা সুস্থ হলেই অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক ও আওয়ামী ওলামালীগ নেতা মো. সোলায়মান হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে উনার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।