Author: DBC

  • ভারী বর্ষণে জনদুর্ভোগে দুঃখ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান।

    হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

    কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।
    গতকাল রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় তরুণ সমাজের প্রতি সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
    ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান বৈরী আবহাওয়ায় মানুষের জানমাল রক্ষা এবং দুর্গত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
    তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী কঠিন এ পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
    এদিকে টানা বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, পাহাড়ি সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন এবং জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে চট্টগ্রামে বিমান ও ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে।
    দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • মানবতার ফেরিওয়ালা রামিম: এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের অনুপ্রেরণার গল্প

    নরসিংদী প্রতিনিধি:

    “মানুষ মানুষের জন্য”—এই চিরন্তন সত্যই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। চারপাশে যখন স্বার্থপরতার ছাপ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, তখনও কিছু তরুণ নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।

    তেমনই একজন মানবিক স্বেচ্ছাসেবক রামিম, যিনি নিজের সময়, শ্রম ও মানবিকতা দিয়ে হয়ে উঠেছেন অনেক মানুষের আস্থার প্রতীক।

    ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারির সময় চারদিকে যখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন রামিমের মনে জন্ম নেয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্প। সেই সময় থেকেই তিনি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে তিনি শুধু একজন রক্তদাতা নন, বরং অসহায় মানুষের নির্ভরতার নাম হয়ে ওঠেন।

    রামিমের মানবিক যাত্রার অন্যতম অধ্যায় রক্তদান। ২০২২ সালে প্রথমবার একজন রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীকে রক্তদান করার মাধ্যমে তিনি উপলব্ধি করেন, একটি ব্যাগ রক্ত একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত রক্তদান করে আসছেন। এখন পর্যন্ত তিনি ১২ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।

    যখনই কোনো রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়, তিনি সাড়া দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার বিশ্বাস, প্রতিটি জীবনই অমূল্য।
    রক্তদানের পাশাপাশি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কম্বল বিতরণ, বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়া প্রবীণদের খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং অসহায় মানুষের মুখে একবেলা খাবার তুলে দেওয়ার মতো নানা মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত অংশ নেন তিনি।

    নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাকেই তিনি জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করেন।

    নিজের অনুপ্রেরণার কথা জানিয়ে রামিম বলেন, “স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার জীবনের ব্রত। মানুষের বিপদে এগিয়ে আসতে পারার যে আনন্দ, তা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। আমি চাই, যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে।

    সমাজ যখন ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, তখন রামিমের মতো তরুণদের মানবিক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার নিরলস পথচলা প্রমাণ করে, মানুষের সেবা করতে বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন একটি সহানুভূতিশীল মন এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা। রামিমের এই মানবিক অভিযাত্রা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হোক এমন প্রত্যাশাই সবার।

  • নেত্রকোনা জেলা সাব-রেজিস্টার অফিসে পিয়ন সেলিমের অবৈদ টাকা লেনদেন ভিডিও ভাইরাল

    সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা : নেত্রকোনা জেলা সাব-রেজিস্টার অফিসকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রের সাথে অফিসের কিছু কর্মচারীর যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।সাংবাদিকরা তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের উপরে শক্তিশালী সিন্ডিকেট হামলা করে ও ভিডিও ধারণে বাধা দেয়। ভিডিও ও তথ্য-প্রমাণসহ একাধিক সেবা গ্রহীতা অভিযোগ করেছেন, সরকারি ফি’র বাইরে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের কাছে এমন ভিডিও ফুটেজ আছে যেখানে অফিসের ভেতরে দালদের দৌরাত্ম্য এবং টাকা লেনদেনের দৃশ্য ধরা পড়েছে। সেবা গ্রহীতাদের অফিসের বিভিন্ন কক্ষে ঘোরানো এবং অতিরিক্ত টাকা দাবির কথোপকথনও রেকর্ড করা আছে বলে তারা জানান।

    অভিযোগকারীদের একজন বলেন, “কিছু পিয়ন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই লাখ লাখ টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকাই তাদের আয়ের উৎস। টাকা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে থাকে।” সূত্র জানায়, প্রথমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়। এরপর বাইরের দালরা এসে “দ্রুত কাজ করে দেওয়ার” কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এই টাকার একটি অংশ অফিসের ভেতরের লোকদের কাছে যায় বলে অভিযোগ। তাছাড়া অফিসের কর্মচারী নিজের মুখে স্বীকার করেন ক্যামেরার সামনে ।

    এ বিষয়ে সাব-রেজিস্টার বলেন, “লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করব। দুর্নীতির সাথে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভুক্তভোগীরা ভিডিও ও তথ্য-প্রমাণসহ জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি নির্বাচিত দশমিনার কৃতি সন্তান হাবিবুর রহমান

    স্টাফ রিপোর্টার:

    পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মো. হাবিবুর রহমান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্ধিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত এ কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নিজ এলাকা আলীপুরা ইউনিয়নসহ পুরো দশমিনা উপজেলায় আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মো. হাবিবুর রহমান সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং দলের প্রতি নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

    নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় আলীপুরা ইউনিয়ন ও দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সচেতন মহল তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও তাঁর এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, নতুন দায়িত্বে থেকে মো. হাবিবুর রহমান সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন এবং ছাত্রসমাজের কল্যাণে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

    প্রতিক্রিয়ায় মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণের জন্য তিনি দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর জন্য সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

    স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, তাঁর নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং দলের আদর্শ বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

  • জলবায়ু মোকাবিলায় নাঙ্গলমোড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিতরণ হলো উন্নতমানের চারা

    হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উদ্যোগে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) সংসদীয় আসনের নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
    “গ্রীন নাঙ্গলমোড়া” গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে মাননীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপির পক্ষে স্থানীয় জনগণের মাঝে জিপিএস-মানসম্পন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।
    চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আলহাজ লায়ন সালাউদ্দিন আলী, হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম হাসান , নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নাঙ্গলমোড়া গড়ে তুলতে এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তারা আরও বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশই রক্ষা করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর আবাস নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
    বক্তারা উপস্থিত সকলের প্রতি বিতরণকৃত চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান, যাতে নাঙ্গলমোড়াকে একটি সবুজ, সমৃদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব ইউনিয়নে পরিণত করা সম্ভব হয়।

  • রাঙ্গুনিয়ায় টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের আশংকায় হাজার পরিবার…

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
           
    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ, যাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ধস, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল এবং ব্যাপক জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় জনজীবনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উপজেলার পাহাড়ের পাদদেশ, টিলা সংলগ্ন এলাকা এবং নদীতীরবর্তী জনপদগুলো বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, দুর্যোগের পূর্বাভাস মাথায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটির স্থায়িত্ব কমে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • রায়গঞ্জে স্কুলের ভবনে গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থী


    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার দাদপুর-সাহেবগঞ্জ পুরাতন ঝুঁকিপূ্র্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের উপর গাছ পড়ে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অত্র ভবনে কোমলমতি ১ম শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীর নিয়মিত ক্লাস হয়। গতকাল সরেজমিনে ও তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১৭ মে রাতে উক্ত ভবনের উপর গাছ পড়ে ভবনের সামনের অংশ ফেটে ভেঙ্গে পড়েছে। ২০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গাছটি অপসারণের জন্য প্রধান শিক্ষক একটি আবেদন করেন। ১ মাস অতিবাহিত হলে গাছটি এখনও অপসারণ না করায় শিক্ষার্থী অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ আছেন আতঙ্কে। দাদাপুর সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা সুলতানা বলেন,যথাযথ নিয়ম মেনে গাছটি দ্রুত অপসারণ করা হলে কোমলমতি শিশুদের নিরাপদে রাখতে পারবো। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বেলাল হোসেন বলেন,ভেঙ্গে পড়া গাছটি সড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, গাছ অপসারণে জন্য বন বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাল কার্ড প্রদর্শন, কুইজ প্রতিযোগিতা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বালুগ্রাম আদর্শ ডিগ্রি কলেজে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
    কলেজের অধ্যক্ষ মো. গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান, কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আজাদ আলী এবং সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) আজমাইন মাহতাব।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদক শুধু একটি পরিবার নয়, একটি সমাজ ও পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। সুস্থ, সুন্দর ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, মাদকের কারণে তরুণদের ভবিষ্যৎ ও সৃজনশীলতা নষ্ট হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে জানাতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার এবং সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভা শেষে সংগীতশিল্পী বাবলু হক মাদকবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে কলেজের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জন এবং মেধাবী ৩ জন শিক্ষার্থীর হাতে প্রধান অতিথি পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকবিরোধী প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক নিজ হাতে কলেজের দেয়ালে মানবদেহে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা একটি অ্যামবসড ফেস্টুন সাঁটিয়ে দেন। অনুষ্ঠানের শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদকবিরোধী লাল কার্ড প্রদর্শন ও শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

  • ‎ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল: উপকূলীয় বাগেরহাটে চরম সংকটে মৎস্য খাত


    ‎
    ‎,বাগেরহাট :
    ‎
    ‎বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ জালের দৌরাত্ম্যে বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ইলিশের দেখা মিলছে না, যা জেলে ও আড়তদারদের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

    ‎বাগেরহাটসহ গোটা উপকূলীয় অঞ্চলে ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, যা স্থানীয় মৎস্য অর্থনীতিতে গভীর সংকট তৈরি করেছে। বঙ্গোপসাগরে বারবার সৃষ্ট লঘুচাপ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা নিয়মিত মাছ ধরতে পারছেন না, ফলে অধিকাংশ ট্রলার সাগরে না গিয়ে উপকূলে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক গতিপথ ও অভিবাসন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পশুর ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় অবৈধ বেহুন্দি জালসহ নানা ক্ষতিকর জাল পেতে রাখায় ঝাঁক বেঁধে ইলিশের উপকূলীয় নদ-নদীতে প্রবেশের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে সাগর ও নদী উভয় ক্ষেত্রেই মাছের প্রাচুর্য আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। ট্রলারের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এই অঞ্চলের জেলেরা গভীর সমুদ্রে গিয়ে মাছ আহরণেও ব্যর্থ হচ্ছেন, যা পাইকারি মাছের আড়তগুলোতে ইলিশের সরবরাহ তলানিতে নামিয়ে এনেছে।
    ‎
    ‎জেলে ও আড়তদারদের অভিযোগ, উপকূলীয় মোহনাগুলোতে অবৈধ জালের অবাধ ব্যবহার এবং ভারতীয় ট্রলারের অনুপ্রবেশ ইলিশের বংশবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। স্থানীয় জেলেরা দাবি করছেন যে, শুধুমাত্র বাংলাদেশে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করলে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে সাগরে অভিন্ন অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। ট্রলার মালিকদের মতে, বড় বড় টোলিং জাহাজের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে স্থানীয় জেলেরা তাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাছের আকাল থাকায় ঋণের দায়ে জর্জরিত জেলে পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে তারা পেশা বদল করতেও হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি প্রণোদনা হিসেবে চাল পেলেও তা দীর্ঘমেয়াদী এই সংকট উত্তরণে পর্যাপ্ত নয় বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন।
    ‎
    ‎জেলা মৎস্য বিভাগ ও সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, মোহনাগুলোতে বাধা এবং অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। মৎস্য বিভাগ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সুন্দরবন অঞ্চল মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনের স্বার্থে গোটা সুন্দরবনের নদ-নদীতে সারা বছর মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। তবে সুন্দরবন বন বিভাগের মতে, এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে কয়েক হাজার জেলে পরিবারের জন্য কার্যকর বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও, সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে মোহনাগুলোতে অবৈধ জাল নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না, যা মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    ‎
    ‎ইলিশের এই আকাল কেবল জেলেদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ভরা মৌসুমেও মাছের এই দুষ্প্রাপ্যতা ভোক্তা পর্যায়ে ইলিশের দামকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে। যদি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং যৌথ জলসীমা ব্যবস্থাপনায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য শিল্প ধসে পড়ার পাশাপাশি হাজার হাজার জেলে কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র পুনরুদ্ধারে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি এবং জেলেদের পুনর্বাসনের কোনো বিকল্প নেই।
    ‎

  • বাঘাইছড়িতে পাহাড় ধসে বৃদ্ধের মৃত্যু, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়ার আহ্বান প্রশাসনের।

    বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

    রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড পশ্চিম লাল্যাঘোনায় পাহাড় থেকে গাছের গুঁড়ি ধসে পড়ে লক্ষী বিলাশ চাকমা (৭০) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাইল্যাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি পাহাড়ের নিকটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গরুর খড়ের স্তূপে পানি জমে যায়। সেই পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন করার সময় হঠাৎ উপর থেকে একটি বড় গাছের গুঁড়ি উপড়ে এসে তার গায়ের উপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    নিহত লক্ষী বিলাশ চাকমা স্থানীয়ভাবে পরিচিত লক্ষ্মী ডাক্তারের ভাই বলে জানা গেছে।

    নিহতের ছোট বোন মিনাক্ষী চাকমা বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের কাজ করা কালীন পাহাড় থেকে গাছের গুঁড়ি উপড়ে পড়ে আমার ভাই মারা যায়।”

    বড় ভাই নির্মলেন্দু চাকমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট ভাই লক্ষী বিলাস চাকমা মায়া-মমতার বন্ধন ছিন্ন করে আজকে আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে। সে গরুর খড়ের স্তূপের পানি সরানোর জন্য ড্রেন করার সময় উপর থেকে গাছের গুঁড়া তার গায়ের উপর পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

    বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান বলেন “মূলত পাহাড় থেকে একটি গাছের গুঁড়ি ধসে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।”

    তিনি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত সকলকে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি এড়াতে নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

    এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।