Author: DBC

  • গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে যুবসমাজের নেতৃত্বে সড়কজুড়ে গণবিক্ষোভ


    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    “অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “তুমলিয়াবাসীর অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “মাদকের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”-এমন প্রতিবাদী স্লোগানে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে মুখর হয়ে ওঠে গাজীপুরের কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়ক। মাদকের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচিতে শুধু তরুণরাই নয়, এলাকার নানা বয়সী নারী-পুরুষেরও ব্যাপক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

    মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুমলিয়া সমাজ কল্যাণ সংঘ, তুমলিয়া গ্রামবাসী এবং যুব সমাজের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় গণবিক্ষোভ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি।

    বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সকলের হাতে ছিল নানা ধরনের সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড। সেগুলোতে লেখা ছিল- “মাদকমুক্ত সমাজ, আমাদের অধিকার”, “মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, দেশের যুবসমাজকে বাঁচান”, “নেশা ছেড়ে কলম ধরো, আগামী দিনের দেশ গড়ো”, “মাদক ব্যবসায়ী হুঁশিয়ার, তুমলিয়া ছাড়ো এবার”, “মাদকের সিন্ডিকেট ভাঙুন, আমাদের সন্তানদের জীবন বাঁচান”, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করো, মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করো”, “মাদকের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”, “তারুণ্যের শক্তি, মাদক থেকে মুক্তি”, “তারুণ্যের শক্তি দিয়ে মাদক রুখে দেব”, “মাদক ছাড়ো, নয়তো তুমলিয়া ছাড়ো”, “মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আজ নয়, প্রতিদিন যুদ্ধ”, “মাদককে না বলুন, সুস্থ জীবন গড়ুন”, “সবাই মিলে শপথ করি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি”, “মাদক ধ্বংস করে জীবন” এবং “মাদক নয়, মেধা চাই; সুস্থ জাতি গড়তে চাই”।

    পরে অংশগ্রহণকারীরা কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কসহ আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে মাদকের বিস্তার রোধ এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    কর্মসূচি শেষে সড়কের পাশে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে যুব সমাজের প্রতিনিধি ও এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকারও আহ্বান জানান তারা।

    সমাবেশে উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত তুমলিয়া এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ গ্রহণ করেন।

  • পুলিশের গুলিতে চোখ হারানো নবাব বঞ্চিত ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে,সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ

    দূর্জয়-নেত্রকোনা : নেত্রকোনার মদন উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত আংশিক কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থীভাবে বিবাহিতদের পদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে এক চোখ হারানো ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান নবাব।সোমবার দুপুরে মদন পৌরশহরের একটি চেম্বারের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদলের পদ বঞ্চিত জুবায়ের আহম্মেদ মারুফ ও মোহাম্মদ হিরন।

    এর আগে রোববার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামীমের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মদন উপজেলা ছাত্রদল ও পৌর ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট দুটি আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান নবাব বলেন, নবগঠিত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং পৌর ছাত্রদলের সভাপতি—দুজনই বিবাহিত এবং তাদের সন্তান রয়েছে। তাদের ছাত্রত্বও নেই। দুই কমিটির ১০ জনের মধ্যে সাত জনেরি ছাত্রত্ব নেই। ফলে এ ধরনের কমিটি ছাত্রদলের নীতিমালা ও সাংগঠনিক নিয়মের পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেও তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন, কিন্তু নতুন কমিটিতে তার নামও রাখা হয়নি।

    নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন নির্যাতনের কথা তুলে ধরে নবাব বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হলেও তাকে আসামি করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় এবং তাকে কারাবরণ করতে হয়। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হওয়ার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সিদ্ধান্তে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয় এবং অন্য চোখেও এখনো গুলি রয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসনের বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিবাহিতদের অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত বর্তমান কমিটি বাতিল করে ছাত্রত্ব রয়েছে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হোক।
    এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী বলেন, ছাত্রদল ত্যাগীদের সংগঠন। আমাদের অনেক অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী রয়েছে। আপাতত সংক্ষিপ্ত কমিটি করা হয়েছে। যাদের এই কমিটিতে রাখা হয়েছে তারাও ত্যাগী। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগীদের বিভিন্ন পদ পদবীতে রাখা হবে। পর্যায়ক্রমে সকল ত্যাগীদেরই মূল্যায়িত করা হবে। মেহেদী হাসান নবাব অবশ্যই ত্যাগী। সংগঠনের জন্য তার ত্যাগ রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তার বিষয়টিও আমরা দেখব।

  • মাকক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের অঢেল সম্পদ

    রাজশাহীর জেলা প্রতিনিধি :

    রাজশাহী জেলার,
    গোদাগাড়ী উপজেলার শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয়েছে পুলিশ। তাকে ধরতে ইতোমধ্যে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে পুলিশের অভিযানের আগেই তিনি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। তাকে যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান।

    ‘মাদকমুক্ত থানা গড়ার লক্ষ্যে’ গত ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় হেরোইন ও ইয়াবা মাফিয়া হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলম মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের নিয়ে হাজির হন। এ ঘটনায় অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। সভায় একজন বক্তা মাদক কারবারিদের উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন।

    এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। ‘মাদক নির্মূল সভায় কারবারি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। শুক্রবার রাতে গোদাগাড়ী পৌরসভার মাদারপুর মহল্লায় তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মির্জা মো. আব্দুস ছালাম নিজে অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

    পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযানের আগেই জাহাঙ্গীর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়, কিন্তু কোনো অবৈধ মাদকদ্রব্য বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। তার বক্তব্য জানতে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “জাহাঙ্গীর আলম থানার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। ডিআইজি স্যারের নির্দেশে সার্কেল এএসপির নেতৃত্বে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”

    জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকাশ্যে আসেন। এলাকায় প্রচার রয়েছে, তিনি অথবা তার বাবা নওশাদ আলী গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে আসার পর তিনি মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। মাদক ব্যবসায়ীরা এখন তাকেই টাকা দিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের তুষ্ট রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    জাহাঙ্গীরের বাবা নওশাদ আলী ওরফে নওশাদ জামাতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি গোদাগাড়ী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং বর্তমানে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধেও মাদকের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তিনি সরাসরি মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনজনে মিলে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে অভিযোগ।

    পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় ২০০৮, ২০১০ ও ২০১৪ সালে তিনটি মাদক মামলা এবং একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০১৫ সালে এবং যশোরের কোতোয়ালী থানায় ২০২০ সালে একটি করে মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় হেরোইন, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা উল্লেখ রয়েছে।
    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ছত্রছায়ায় থেকে হেরোইন ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন জাহাঙ্গীর। বারবার গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আসতেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওমর ফারুক চৌধুরী তার বাড়িতে দলবল নিয়ে দাওয়াত খেয়েছেন।
    জাহাঙ্গীরের সম্পদের তালিকা বিস্ময়কর। মাদারপুরে প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। মাদক ব্যবসা আড়াল করতে চার কোটি টাকায় গরু-মহিষের খামার গড়েছেন। তার ছয়টি ট্রাক রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য চার কোটি টাকা। রাজশাহী শহরে ফ্ল্যাট, শিরোইল কলোনিতে সাড়ে সাত কাঠা জমিসহ টিনশেড বাড়ি, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রান্তিক আবাসিক এলাকায় ছয় কাঠা প্লট এবং তিনটি গাড়ি রয়েছে তার। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় তার অঢেল সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিএনপির এক নেতা ও গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী বলেন, “জাহাঙ্গীর ও তার বাবা মাদক সম্রাট। মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। পুলিশ অভিযানের আগাম খবর পেয়ে প্রাইভেট কারে ঢাকায় আত্মগোপন করেছেন।”

    মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তবে জাহাঙ্গীরের মতো প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • চট্টগ্রাম লোহাগাড়া পুরাতন থানা রোডে ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় লোহাগাড়া সদরে জলবদ্ধতা, দুর্ভোগে বাসিন্দারা

    লোহাগাড়ার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়া সদরে মাঝারি বৃষ্টিতেই ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথ দখল ও সংকুচিত হওয়ায় সড়ক তলিয়ে বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে।

    এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সদর এলাকার হাজারো মানুষ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চলতি বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

    সোমবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিতে পুরাতন থানা সড়ক, দরবেশহাট ডিসি সড়ক এবং পোস্ট অফিসের দক্ষিণের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

    কোথাও কোথাও সড়কে কোমর সমান পানি জমায় যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, বৃদ্ধ ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

    লোহাগাড়া সদরের পুরাতন থানা এলাকার বাসিন্দা জয় সুশীল জানান, তার বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং খাটের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আগে ভারী বৃষ্টি হলেও এত পানি জমতো না।

    তিনি অভিযোগ করেন, পানি চলাচলের পথে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    স্থানীয়রা জানান, একসময় পুরাতন থানার গেইট থেকে দক্ষিণ বটতলী পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশ দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন খাল ও নিম্নাঞ্চলে চলে যেত। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না।

    কিন্তু বর্তমানে পানি চলাচলের স্থানগুলোতে অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে ওঠায় ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান জানান, পানি চলাচলের পথগুলো পুনরুদ্ধার না করলে এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

    তিনি পানি চলাচলের পথে গড়ে ওঠা অবৈধ ও অপরিকল্পিত স্থাপনা দ্রুত অপসারণ এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

  • ভারতের মদদপুষ্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দমনে কঠোর হোন:- জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ

    স্টাফ রিপোর্টার- যাত্রাবাড়ি, ঢাকা :

    সাভারে এনসিপির সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে ভারতের মদদপুষ্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দমনে সকলকে কঠোর হওয়ার আহ্বান করেন ।
    গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমাবেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বোমা হামলার ঘটনায় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান এবং সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমেদ গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

    বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভারতের মাটিতে ঘাঁটি স্থাপন করে সামাজিক মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী সহিংসতার হুমকি দিয়ে আসছে। দেশেও বেসরকারি টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও টকশোতে এই সন্ত্রাসবাদের সমর্থনে জুলাই বিপ্লব বিরোধী ঘৃণামূলক অপপ্রচার ও কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপির সমাবেশে বিদ্যুৎ বন্ধ করে বোমা হামলার ঘটনা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার পর সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

    তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এ ধরনের নাশকতামূলক হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সন্ত্রাসবাদী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর সন্ত্রাস, বোমা হামলা বা সহিংসতাকে বিনা চ্যালেঞ্জে মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকারের স্বদিচ্ছা ও সামর্থকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    তারা বলেন, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক সন্ত্রাসী, পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং মদদদাতাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করেন।

    নেতৃদ্বয় আরও বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভারতের মদদপুষ্ট কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ভয়-ভীতি, সন্ত্রাস ও নাশকতার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে জন্য সরকারকে সতর্কতামূলক আগাম কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ বিশ্বাস করে, পতিত ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসী তৎপরতাকে সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করে আইনের কার্যকর প্রয়োগ, ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

  • আমি মুসলিম উদ্দীন। আপনাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি

    লোহাগাড়ার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:

    আমার অঙ্গীকার—সততা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার এবং সকলের জন্য সমান সেবা। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করছি
    ক্ষমতা নয়, মানুষের সেবাই আমার লক্ষ্য।
    আমিরাবাদ ইউনিয়নের উন্নয়ন, শান্তি ও ঐক্যের লক্ষ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আপনাদের মূল্যবান ভোট, দোয়া ও সমর্থন আমার চলার শক্তি।

    আসুন, সবাই মিলে গড়ি একটি সুন্দর আমিরাবাদ। গড়ি
    আমিরাবাদ ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাকে সম্মান জানিয়ে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।

    ইনশাআল্লাহ, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে, স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করব। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন একান্তভাবে কাম্য।

  • চট্টগ্রামে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় শোভাযাত্রা ও সভা অনুষ্ঠিত


    চট্টগ্রামরাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
    উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) উদ্যোগে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত হয়। এ উপলক্ষে ৬ জুলাই সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রশাসনিক এলাকায় শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    বিআরডিবি রাঙ্গুনিয়ার সভাপতি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সংস্থার সহ-সভাপতি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ওসমান গনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নোয়াব মিয়া, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, যুগ্ম আহবায়ক হেলাল উদ্দিন শাহ, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাহেদ কামাল,রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নেজাম উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজাত কুমার চৌধুরী, বিআরডিবি কর্মকর্তা মাসুদ রানা, এওয়াক ম্যানেজার আসহাবুল ইসলাম সিদ্দিকী প্রমুখ।

    সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। বিআরডিবির মাধ্যমে অবহেলিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সরকার ঋণের ব্যবস্থা করে থাকে। এক্ষেত্রে কোনো অনৈতিক কাজ যাতে সংগঠিত না হয় সেদিকে সকলের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেন তিনি।
    শেষে বিআরডিবির বিভিন্ন সমিতিভুক্ত সদস্যদের মাঝে ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

  • ‎মোংলা বন্দরে ১৫৩৮ কোটি টাকার ম্যান্টেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্প: নাব্যতা ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

    ‎
    ‎ডাকুয়া(বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
    ‎মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের নাব্যতা ও ইনার বার ড্রেজিংয়ের সুফল বজায় রাখতে ১৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্প শুরু হয়েছে।
    ‎
    ‎দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পশুর চ্যানেলে শুরু হয়েছে ১৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন সংরক্ষণ বা ম্যান্টেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্প। সম্প্রতি দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর সময় নিয়ে সম্পন্ন হওয়া ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্পের সফল সমাপ্তির পরপরই বন্দর কর্তৃপক্ষ এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মূলত ইনার বার ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেলের যে গভীরতা অর্জন করা হয়েছে, পলি জমে তা যেন পুনরায় ভরাট না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে, যা বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জাহাজ চলাচলের পথকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের নৌ-চ্যানেলের ভূতাত্ত্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বন্দর প্রশাসন।
    ‎
    ‎বন্দর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের মতে, অতীতে ড্রেজিংয়ের অভাবে পশুর চ্যানেলে প্রায়ই নাব্যতা সংকট দেখা দিত, যার ফলে বড় জাহাজগুলো জেটিতে ভিড়তে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ থাকতে হতো। ম্যান্টেন্যান্স ড্রেজিংয়ের এই ৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা কার্যকর করা না গেলে ইনার বার ড্রেজিংয়ের সুফলগুলো দ্রুতই হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। স্টেকহোল্ডারদের অভিযোগ অনুযায়ী, যথাযথ সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের অভাবে অতীতে বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং ও খালাস প্রক্রিয়ায় যে ধীরগতি দেখা গিয়েছিল, তা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ শুরুর ফলে বন্দরের জেটিগুলোতে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার গভীরতার ড্রাফট সম্পন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ সরাসরি নোঙর করতে পারবে, যা বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই ড্রেজিং নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হলে বন্দরের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং ব্যয়বহুল লাইটারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে।
    ‎
    ‎প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও তদারকির বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌবাহিনীর কারিগরি দক্ষতা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে চ্যানেলটি সচল রাখা হবে। প্রকল্পের বাজেট ও সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যাতে পলি জমার হার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করবে না, বরং প্রশাসনিক ও কারিগরি নজরদারির মাধ্যমে ড্রেজিং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই, কারণ পশুর চ্যানেলের তলদেশ সবসময়ই পলির উপস্থিতির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। বন্দর কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ড্রেজিং খাতে অনিয়মের অভিযোগ কমে আসবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    ‎
    ‎এই মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন মোংলা বন্দরকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে বড় জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারায় বন্দরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পথ প্রশস্ত হবে। তবে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্পের সময়সীমা অনুযায়ী কাজ শেষ করাটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যদি প্রকল্পটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তবে মোংলা বন্দর আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করবে এবং দেশের সমুদ্রবন্দর খাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
    ‎

  • ফরিদপুরে নগরকান্দায় স্কুলড্রেস পরিহিত কয়েকজন কিশোরীর ধূমপানের দাবিতে ভিডিও ভাইরাল


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্কুলড্রেস পরিহিত কয়েকজন কিশোরীর ধূমপান করার দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    গত ৫ জুলাই তুরান রহমান নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া কয়েকজন কিশোরী এম এন একাডেমি ও গার্লস স্কুল–এর শিক্ষার্থী এবং তারা স্কুলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় প্রকাশ্যে ধূমপান করছেন।

    তবে ভিডিওটির সত্যতা, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তারা উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী কি না—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

  • দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়েই মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে নাহিদ ইসলাম

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়েই মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই মাদক কারবারিদের বন্ধ করুন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখুন। এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি।

    সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লবীদের মহাসমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার এখনো সেই সংস্কারের বাস্তবায়ন করেনি।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার জাতির সাথে বেইমানি ও গাদ্দারি করেছে। সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও চলতি বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। তিনি দেশে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড হলে, তা যে রাজনৈতিক দলই করুক না কেন, তার সমালোচনা করার সাহস থাকতে হবে। একই সঙ্গে কোনো দল ভালো কাজ করলে সেটিরও প্রশংসা করা উচিত।

    এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হয়ে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে এসে মহাসমাবেশ শেষ হয়।