Author: DBC

  • জামায়াত-শিবির পরিচয়ে মার্কেট দখল, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

    ঢাকা প্রতিনিধি:
    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২ (নগর প্লাজা) দখল করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে একটি গ্রুপ চাঁদাবাজি ও বিপুল অর্থ আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কেটের একদল দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী। তবে তারা বলেছেন, মার্কেটে বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কোনো দখলদারি বা চাঁদাবাজি নেই।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নগর প্লাজার নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা।

    ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মার্কেট সমিতির তৎকালীন সভাপতি এলাকা ছেড়ে চলে গেলে মো. সুমন, আউয়াল, ফারুক ও হানিফ বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

    তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এরপর থেকে তারা চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ, দোকান মালিকদের উচ্ছেদ, স্থায়ী দোকানের সামনে ও ফুটপাতে দোকান বসানো, লিফট মেরামতের নামে অর্থ আদায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও ওয়াসা বিল আদায়সহ বিভিন্ন খাতে টাকা উত্তোলন করেছে।

  • বিশ্বনাথে অলংকারী ইউনিয়ন জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত


    বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) অলংকারী ইউনিয়নের হযরত আমির হামজা( রাঃ) জামেয়া ইসলামীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট জেলা মজলিসে শূরার অন্যতম সদস্য, বিশ্বনাথ উপজেলা আমীর এবং আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে হবে।”

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান, দৌলতপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ রুবেল আহমেদ, অলংকারী ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান (মেম্বার) আবুল হোসেন. ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মকবুল হোসাইন এবং এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মাওলানা আতিকুর রহমান ।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অলংকারী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর কামাল আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জামায়াত নেতা আবুল কালাম ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে বলেও তারা জানান।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা বিভিন্ন প্রজাতিরগাছের চারা রোপণ করেন।

  • কুবির চিত্তনামার নেতৃত্বে ফাহাদ-রিক্তা


    কুবি প্রতিনিধি:
    চিন্তা ও চিত্তের প্রকাশ ঘটুক, মূল্যবোধের চর্চা হোক’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাহিত্য ও মূল্যবোধভিত্তিক সংগঠন চিত্তনামার নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংগঠনটির নবীনবরণ অনুষ্ঠান।

    সোমবার (৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বাংলা বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল ফাহাদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মার্কেটিং বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিক্তা চক্রবর্তীর নাম ঘোষণা করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। পরে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

    সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি মারুফ শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপরামর্শক ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. মোর্শেদ রায়হান এবং শিশু ও কিশোর মেলা সাহিত্য সংগঠনের সম্পাদক দীপা মজুমদার।

    নবনির্বাচিত সভাপতি আল ফাহাদ বলেন, সংগঠনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে পূর্বসূরিদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাঁদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে বর্তমান সময়ে মূল্যবোধের চর্চা ও মানবিকতা জাগ্রত রাখতে কাজ করবেন বলে তিনি জানান।

    সাধারণ সম্পাদক রিক্তা চক্রবর্তী বলেন, চিত্তনামা মানুষের হয়ে ওঠা, চিন্তার বিকাশ এবং মূল্যবোধ চর্চার একটি প্ল্যাটফর্ম। নতুন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে ড. নাহিদা বেগম বলেন, স্বাধীন ও সাহসের সঙ্গে চিত্তের কথা প্রকাশ করাই চিত্তনামার মূল শক্তি। ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও সদস্যদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা সংগঠনটিকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • বুড়িচংয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও ঋণের চেক বিতরণ

    বুড়িচং
    (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

    ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা এবং সমবায়ীদের মাঝে ঋণের চেক, গাছের চারা ও সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) বুড়িচংয়ের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের প্রশিক্ষণ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআরডিবির চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ভূঁইয়া।

    সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রাসেল সারওয়ার। উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ, বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, পয়াত কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, গোপীনাথপুর কৃষক সমবায় সমিতির প্রতিনিধি মো. নজরুল ইসলাম এবং বুড়িচং পূর্ব মধ্যপাড়া কৃষক সমবায় সমিতির প্রতিনিধি ডা. গোলাম রাব্বাবী।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. মীর হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাখাওয়াত আহমেদ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফওজিয়া আক্তার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা, ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান, সহকারী সমবায় কর্মকর্তা মোসা. মাহমুদা আক্তার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবেদ কাউছার সবুজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, বিআরডিবির হিসাবরক্ষক সুজিত কুমার মজুমদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

    আলোচনা সভা শেষে সমবায়ীদের মাঝে ঋণের চেক, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা এবং সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।

  • খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে ৩ জন নিহত

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

    খাগড়াছড়ি পানছড়ি উপজেলায় চেঙ্গী ইউনিয়নের মধু মঙ্গল পাড়াতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সংগঠন ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সংগঠনে সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন।

    পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে তিনজন নিহতের খবর দিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ।

    ওসি জানান, পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধু মঙ্গল পাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এসময় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ঘটনাস্থল দুর্গম হওয়ায় লাশ উদ্ধারে সময় লাগছে।

    তবে এনিয়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

  • আশুগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় এপিএসসিএল প্রকৌশলীর স্ত্রী নিহত, চালক আটক


    রিপোর্টার :

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোলচত্বর এলাকায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নারী আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেনের স্ত্রী বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভৈরবের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ। তারা নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করাসহ এর চালককে আটক করতে সক্ষম হয়।

    খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ডভ্যানের চালককে আটক করা হয়েছে এবং গাড়িটি আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

    মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।

  • খাগড়াছড়িতে মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে একজন মৃত্যুদণ্ড

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

    খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মো: শাহিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শিশুটি সাত বছরে বয়সী।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে খাগড়াছড়ি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো: শাহিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    আদালতে নিযুক্ত রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি মো: শাহিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
    আদালত সূত্রে জানা যায় , গত বছরের ২৫ জুলাই খাগড়াছড়ির রামগড়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে রামগড় থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চা–দোকানি মো: শাহিনকে গ্রেপ্তার করে।

    ঘটনার এক বছরের মধ্যেই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সৃজনী ত্রিপুরা বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটির রায় ঘোষণা করায় আমরা সন্তুষ্ট। এই রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।

    অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেদারুল ইসলাম রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট নয়। এ মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় নিই। তাই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে বলে জানান।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    “উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

    সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিবসটির উদ্বোধনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নরুল ইসলাম বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য, পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমবিষয়ক ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, সুফলভোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, অতিথিদের বক্তব্য এবং নির্বাচিত সুফলভোগীদের মাঝে গাছের চারা ও ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

    স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক আবু হাসান মো. সাঈদ বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই পল্লী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খাল খনন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, পরিবার কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ সফলভাবে উদযাপনে সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সমবায় সমিতির সদস্য এবং সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

    আলোচনা সভা শেষে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে রানীনগর কৃষক সমবায় সমিতি এবং নামোগ্রাম মহিলা সমবায় সমিতিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় রানীনগর কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আফসার উল আলম এবং নামোগ্রাম মহিলা সমবায় সমিতির সভাপতি রহিমা আক্তার প্রধান অতিথির কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন।
    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসা. সাহিদা আখতার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জের কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন আলীসহ বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

  • কটিয়াদীতে জমি বিরোধে সাবেক সেনা সদস্যকে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত আপন ছোট ভাই

    কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভাধীন ৬নং ওয়ার্ডের তেলিচাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোঃ রাজু মিয়া (৪৬) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করা হয়েছে। আহত রাজু মিয়া তেলিচাড়া গ্রামের মোঃ হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে মোঃ রাজু মিয়ার সাথে তার আপন ভাই মোঃ মামুন মিয়া (৩৭)-এর বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে মামুন মিয়া রাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওতপেতে থাকে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো দা ও লাঠি দিয়ে রাজু মিয়ার মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে।

    গুরুতর অবস্থায় প্রথমে রাজু মিয়াকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। 

    হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত সেনা সদস্যের মাথার সামনে ও পেছনে নয়টি সেলাই লেগেছে এবং তার অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। প্রথম অবস্থায় তার শাররীক অবস্থা শঙ্কাজনক হওয়ায় 

    উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছিলেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মামুন মিয়া একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। 

    সাম্প্রতিক তার আপন ভাইয়ের সম্পত্তি গ্রাস করতে সে নিষিদ্ধ সংগঠন কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ এমদাদুল হক রাতুল (পিতা: মোঃ বাদল মিয়া, সাং: দশপাখী)-সহ একদল ভাড়াটিয়া ক্যাডারকে নিয়ে এই হামলা চালায়। 

    উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাতুল কিছুদিন আগেই জেল থেকে জামিনে বের হয়ে টাকার বিনিময়ে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

    এই নৃশংস হামলার ঘটনায় আহত সেনা সদস্য রাজু মিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছেন বলে জানা যায় । পুলিশ জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে। 

    ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং গুরুতর আহত সেনাসদস্যের নিজ বাড়িতে তার ছোট ভাই তালাবদ্ধ করে রেখেছে। বর্তমানে বড়ো ভাই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে তার শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়। 

    স্থানীয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • বাংলা একাডেমিতে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক

    স্টাফ রিপোর্টার (যাত্রাবাড়ি,ঢাকা):

    বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি, দেশবরেণ্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিন্তক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক-এর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে রাষ্ট্র ও সর্বস্তরের জনগণ। গতকাল রবিবার (৫ই জুলাই) তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে(ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন -মিরপুর) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    আজ ৬ জুলাই (সোমবার) সকাল ১০:৩০টায় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহ প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে আনা হয়। সেখানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের নেতৃত্বে একাডেমির সচিব, পরিচালকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মন্ত্রী তাঁর স্মৃতি চারণ করে বলেন, “অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন আমাদের সমাজ ও মননশীলতার এক আলোকবর্তিকা।” তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ সংরক্ষণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

    এছাড়াও শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ স্মৃতিসংঘ, বাংলা একাডেমি কর্মচারী ইউনিয়ন, এবং বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিবৃন্দসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারপর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে) সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে মরহুমের শেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে এই মহান শিক্ষাবিদের মরদেহ মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় চিরনিদ্রায় শায়িত করার জন্য।

    শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সাহিত্য সাংসাকৃতিক কর্মীরা বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের এই প্রয়াণে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা আগামী প্রজন্মের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবে।

    উল্লেখ্য, গুণী এই অধ্যাপকের ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দু’টি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই রয়েছে। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’র মতো তার লেখা অন্তত ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো একাধিক গ্রন্থও। এছাড়াও অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।