আলমাস হসাইন | স্টাফ রিপোর্টার
ধামসোনা ইউনিয়নকে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও ঐক্যবদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আলেম সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ইসরাফিল হোসেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাইপাইল এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভায় ধর্মীয় মূল্যবোধ, সুশাসন এবং স্থানীয় উন্নয়নকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে আসে, যা উপস্থিতদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী (দা. বা.)। তিনি বলেন, একটি সমাজের সার্বিক উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে নেতৃত্বের সততা ও নৈতিকতার ওপর। নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত ব্যক্তির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই তিনি জনগণকে সৎ, দায়িত্বশীল ও আদর্শবান প্রার্থী নির্বাচনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, নেতৃত্ব এমন ব্যক্তির হাতে থাকা উচিত, যিনি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এবং আল্লাহভীরু।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব মো. ইসরাফিল হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন মুফতি আল আমীন খন্দকার আমীনী।
এ সময় বক্তব্য রাখেন মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা ইলিয়াস, মাওলানা আজহারুল ইসলাম, মাওলানা আবু বক্কর, মাওলানা আবু সালেহ, মাওলানা আলমগীর, মাওলানা নাসির উদ্দীন, মাওলানা আলমগীর হোসেন জাফরী, মাওলানা আমীর হোসেন ও মাওলানা সাইফুল্লাহ প্রমুখ। বক্তারা ধামসোনা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়ন এবং আলেম-ওলামাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি আদর্শ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচিত হলে ধামসোনা ইউনিয়নের প্রতিটি সড়ক উন্নয়নের আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভাটি স্থানীয় জনগণের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। উপস্থিত অনেকেই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান। সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এ ধরনের সভা এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
Author: DBC
-

ধামসোনা ইউনিয়নের আলেম সমাজের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসরাফিল হোসেনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
-

ফায়ার সার্ভিস ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক পোস্টার লাগানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক ফায়ার ফাইটারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান (৪৩) বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) মিরপুর মডেল থানায় একটি জিডি দায়ের করেন। জিডি নং-২৭০৪ (ট্র্যাকিং: F8PXG3)। জিডিতে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মোঃ কামাল (৪২), যিনি ডেমরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার হিসেবে কর্মরত, এবং মোঃ খায়রুল আলম (৩৬), যিনি কালীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কামাল ভুক্তভোগীকে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক ব্যানার ও পোস্টার লাগানোর প্রস্তাব দেন। এ কাজের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের আশ্বাসও দেন তিনি। তবে ভুক্তভোগী এ ধরনের বেআইনি ও অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কামাল একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। জিডিতে উল্লেখ রয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
এদিকে অপর অভিযুক্ত খায়রুল আলমের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জিডিতে বলা হয়, তিনি ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানানোর জন্য ভুক্তভোগীর ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ পেলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন। এতে করে ভুক্তভোগী আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন।
ভুক্তভোগী আরও জানান, পরবর্তীতে অপরিচিত একটি নম্বর থেকেও তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং অশোভন ভাষায় কথা বলা হয়। এতে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না এবং প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কামাল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, কামাল নিজেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করতেন এবং তাকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করতেন। একইসঙ্গে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসা রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কথাও প্রচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও অভিযুক্ত কামালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ তাকে ‘ফায়ার সার্ভিসের ক্যান্সার’ বলেও অভিহিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ করতেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালাতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কামাল বঙ্গভবনের প্রভাব ব্যবহার করে মন্ত্রণালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাধ্যমে এক লাখ টাকার বিনিময়ে পদক গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক লেখালেখি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগেও অভিযুক্ত।
আরও জানা গেছে, তিনি নিয়মিত দায়িত্বস্থলে উপস্থিত না থেকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন এবং নিজেকে তথাকথিত ‘ম্যাচ ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারে লিপ্ত থাকেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপসারণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন তিনি, এই মর্মে যে তিনি ডিজি ও পরিচালকদের পরিবর্তন করাতে সক্ষম হবেন। তবে পরে সেই অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের ৩৩ জন ড্রাইভার, ফায়ার ফাইটার ও লিডারদের বদলি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তিনি এসব অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। তিনি নিয়মিত বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং বর্তমান মহাপরিচালক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে তা এড়িয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এমনকি তাকে দূরবর্তী স্থানে বদলি করা হলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হন।
তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তাকে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ফায়ার স্টেশনে বদলি করা হয়। তবে তিনি সেখানে যোগদান করেননি। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সেই বদলি আদেশ বাতিল করা হয় এবং তিনি পুনরায় পূর্বের স্থানে বহাল থাকেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তিনি নিয়মিত বঙ্গভবনে যাতায়াত করতেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। এমনকি তার ছোট ভাইকেও রাষ্ট্রপতির প্রভাব খাটিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তি গাজীপুরে কর্মরত রয়েছেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় হলেও তিনি ভুয়া কোটার মাধ্যমে বগুড়া থেকে চাকরিতে যোগদান করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাবেক সরকার প্রধান দেশ ত্যাগের পরও অভিযুক্তরা নতুন পরিস্থিতিতেও পুরনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে তৎকালীন মহাপরিচালককে ফোন করিয়ে ভুক্তভোগীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
বর্তমানে চাকরি হারানো ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান তার চাকরি পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।
তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আপনি নিউজ করেন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”
-

আশুলিয়ায় জুয়ার বিস্তার: অপরাধ বাড়ছে, নীরবতায় প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা
আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব কর্মকাণ্ডে জননিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ, আর একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগাবাড়ি বাজার এলাকার শাজাহানের একটি বহুতল ভবনে নিয়মিত বসছে একটি বড় জুয়ার আসর। অভিযোগ রয়েছে, মেহেদী ও কাজল নামের দুই ব্যক্তি এই আসর পরিচালনা করছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন এই আসরে বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন হয়। এর প্রভাব পড়ছে আশেপাশের এলাকায়—বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। স্থানীয়দের দাবি, জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রই এসব অপরাধে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। এরপরই আশেপাশে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আমরা আতঙ্কে থাকি, কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে পারি না।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে তা কেবল অপরাধ বাড়াবে না, সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে তরুণদের একটি অংশ জুয়ার মতো অবৈধ পথে ঝুঁকে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এ অবস্থায় দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, জুয়ার আসর বন্ধ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা গেলে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।
-

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেফতার
আলমাস হোসাইন , ঢাকা প্রতিনিধি
সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তর-এর ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পৃথক তিনটি অভিযানে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিনব্যাপী ও রাতের বিভিন্ন সময়ে সাভার ও আশুলিয়ার একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে মোট ১৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৭০০ পুরিয়া হেরোইন (প্রায় ৭০ গ্রাম) জব্দ করা হয়।
প্রথম অভিযানে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাভারের বক্তারপুর বেদেপল্লী এলাকা থেকে মো. শাহীন (২৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় অভিযানে রাতের দিকে সাভার মডেল থানার আক্রান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আলীম মোল্লা (৩৮) ও মো. আকাশ (২০) নামে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ হাজার টাকা।
এদিকে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া কাঠালতলা এলাকায় তৃতীয় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেফতার করে ডিবি। তারা হলেন— মো. জসিম তালুকদার (৩৮), মো. রেজাউল করিম (২৪), আকবর হোসেন (৩২) ও নাজমুল হক (২৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে আগে একটি মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

আশুলিয়ায় আইনজীবীদের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ
আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
আশুলিয়ায় কর্মরত আইনজীবীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও পেশাগত ঐক্য জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সংগঠন আশুলিয়া ল’ ইয়ার্স এসোসিয়েশন।যেথায় থাকুক—যে যেখানে, বাঁধন আছে প্রাণে প্রাণে, এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঈদ পুনর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসবের আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আশুলিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের আইনজীবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দুপুর গড়াতেই অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়, যেখানে পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও উঠে আসে সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতার বন্ধন।
পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল উচ্ছ্বাস, আন্তরিকতা এবং একতার বার্তা। বৈশাখী আবহে আয়োজন পায় উৎসবের রঙ, যা উপস্থিত সকলকে একসাথে উদযাপনের অনুভূতিতে আবদ্ধ করে।
এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট মাজহারুল আনোয়ার (টিটু) এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মঞ্জুর আলী।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম সিহাব, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াস হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আখতারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সহিদুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম।
নবগঠিত কমিটির নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, আশুলিয়ায় আইনজীবীদের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। সেই চাহিদা থেকেই এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই সংগঠন পেশাগত উন্নয়ন, আইনি সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবীরাও নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের সহায়তা করাই হবে সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী নিঝুম সরকারের সঙ্গীত পরিবেশনা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। তার পরিবেশিত গানগুলো মুহূর্তেই অনুষ্ঠানে অন্যরকম আবহ তৈরি করে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা একসাথে গানে গানে মেতে ওঠেন। এতে করে আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি তৈরি হয় প্রাণখোলা আনন্দের পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে সকলের অংশগ্রহণে একাত্মতার বার্তা তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, আইনজীবীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—তাই তাদের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা থাকলে তা সমাজের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে, উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া আশুলিয়া ল’ ইয়ার্স এসোসিয়েশন-এর পথচলা ভবিষ্যতে আশুলিয়ার আইন অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
-

চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবিতে আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
আলমাস হোসাইন | স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার আশুলিয়ার বগাবাড়ী বাজারে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনটির নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় বগাবাড়ী বাজারস্থ ফেডারেশন অফিসের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি নাজমুল হক। সংহতি বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, মনসুর আলী,মাসুদ রানা সুলতান প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় মাদক কারবারি মামুন ও তার সহযোগীরা শ্রমিক ইউনিটির কার্যালয়ে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
তাদের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে ওই চক্রটি সংগঠনের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে বলেছে, চাঁদা না দিলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ও থানা কমিটির সভাপতি নাজমুল হককে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই গুম করা হবে। এমন হুমকিতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সমাবেশ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
-

আশুলিয়ায় শ্রমিক সংগঠনের অফিসে হামলা, চাঁদা না পেয়ে নগদ টাকা লুটের অভিযোগ
আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি শ্রমিক সংগঠনের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার বাইপাইল বগাবাড়ী এলাকার সমির সুপার মার্কেটে অবস্থিত জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংগঠনের কর্মী দুলালী আক্তার ও আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি নাজমুল হক আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, মামুন মন্ডল (৪৫) ও আব্দুস সালাম (৩৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বুধবার (১৫এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধভাবে অফিসে প্রবেশ করে। তারা দুলালী আক্তারের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে নাজমুল হকের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, চাঁদার টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।দুলালী আক্তার বলেন,দীর্ঘদিন ধরে তারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। চাঁদা না দেওয়ায় অফিসে হামলা চালানো হয়েছে।
নাজমুল হক বলেন,অফিসে হামলার খবর পেয়ে গেলে আমাকে মারধর করা হয় এবং আমার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, কিছুদিন ধরে মামুন নামের ওই ব্যক্তি আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দেওয়ায় অফিসে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
-

সাভারের নবীনগরে সেনা শপিং কমপ্লেক্সে শিশুর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাই
স্টাফ রিপোর্টার:
সাভারের নবীনগর সেনা শপিং কমপ্লেক্সে পয়লা বৈশাখের ভিড়ের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কমপ্লেক্সের ২ নম্বর গেটে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী সাংবাদিক আলমাস হোসেন জানান, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি কেনাকাটা করতে কমপ্লেক্সে যান। কেনাকাটা শেষে বের হওয়ার সময় হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে তার ছোট মেয়ের গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইনটি ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,মার্কেট বন্ধের সময় শুধুমাত্র ২ নম্বর গেট খোলা রাখা হয় এবং অন্য গেটগুলো বন্ধ থাকায় সেখানে তীব্র ভিড় তৈরি হয়। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি কোনোভাবেই মার্কেট কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারে না।
এ ঘটনায় উপস্থিত অন্য ক্রেতারাও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, শপিং কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদার না থাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, যা পরিবার নিয়ে কেনাকাটায় উদ্বেগ তৈরি করছে।
এ বিষয়ে সেনা শপিং কমপ্লেক্সের ইনচার্জ মো. হাসান বলেন,ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎসবকেন্দ্রিক ভিড়ের সময় বাড়তি নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
-

গলায় মরণব্যাধি টিউমার, তিন সন্তানকে বুকে নিয়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় আশুলিয়ার শান্তি।
আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
গলায় ভয়াবহ টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন শান্তি খাতুন (৩৫)। যে নারী একসময় স্থানীয় একটি ওয়াশিং কারখানায় কাজ করে তিন সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতেন, আজ তিনি নিজেই একফোঁটা খাবার গিলতে পারছেন না। অসহ্য যন্ত্রণা আর অর্থাভাবে থেমে গেছে তার চিকিৎসা।স্বামী মুজা অনেক আগেই তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তার। ছোট সন্তানগুলো শুধু দেখছে—তাদের মা ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের মেয়ে শান্তি খাতুন স্বামীর সঙ্গে আশুলিয়ায় এসে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। বর্তমানে তিনি পশ্চিম বাইপাইল এলাকায় একটি টিনসেট বাসায় ভাড়া থাকেন। অসুস্থতার কারণে কাজ বন্ধ, ঘরে নেই কোনো আয়।
শান্তির ভাই আল-আমীন বলেন,আমরা গরিব মানুষ, যা ছিল সব চিকিৎসায় শেষ। এখন কিছুই নেই। কেউ সাহায্য করলে হয়তো বোনটা বাঁচবে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত চিকিৎসা পেলে তার জীবন রক্ষা সম্ভব।
সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতাই বাঁচাতে পারে এক মায়ের জীবন এবং তার তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ।
-

আশুলিয়ায় বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ সন্ত্রাসী আটক
আলমাস হোসেন | স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার আশুলিয়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ রুবেল (৩৫) নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে আশুলিয়ার জামগড়ার ছয়তলা নামক এলাকার একটি গার্মেন্টস কারখানার ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন স্থান থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক রুবেল বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ওটরা গ্রামের ইউসুফের ছেলে। সে চিহ্নিত সন্ত্রাসী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীর অবস্থানের খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় রুবেলের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজেকে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, আটক রুবেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা বলছেন, এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।
আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হবে।