Author: DBC

  • ধামসোনা ইউপি নির্বাচনে আলোচনায় নতুন মুখ হাজী মো.  ইসরাফিল হোসেন

    ধামসোনা ইউপি নির্বাচনে আলোচনায় নতুন মুখ হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    আসন্ন ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক নতুন নাম—হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন। নির্বাচনের মাঠে তিনি তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই তার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে।
    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ডিইপিজেড–ভাদাইল আঞ্চলিক সড়কে তীব্র যানজট ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ পথচারী, শ্রমিক ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। সম্প্রতি এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিয়ে ওই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করেন হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন। তার উদ্যোগে যানজট নিরসন এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এ ঘটনাই তাকে দ্রুত মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
    এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন একজন বিনয়ী, নিরহংকারী এবং সহজ-সরল মানুষ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থেকে তিনি সকল শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। এলাকার নানা সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব অর্থায়নেও সমাধানের উদ্যোগ নেন, যা স্থানীয়দের কাছে তাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
    ভাদাইল প্রাইমারি ফ্রেন্ডস ক্লাবের অন্যতম সদস্য ইয়ার হোসেন বলেন,
    ইসরাফিল ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে আছেন। এলাকার যেকোনো সমস্যায় তাকে সবসময় এগিয়ে আসতে দেখা যায়। আমরা চাই, তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিন। তার মতো সৎ ও ভালো মনের মানুষ নির্বাচিত হলে ধামসোনা ইউনিয়নের মানুষ সত্যিকার অর্থেই উপকৃত হবে।
    স্থানীয় বাসিন্দা পনির হোসেনের ভাষায়,
    “বর্তমান সময়ে ইসরাফিল হোসেনের মতো নির্লোভ, সৎ ও মানবিক মানুষ খুবই বিরল। আমরা তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই, যাতে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবার কাজ আরও গতিশীল হয়।
    এ বিষয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন,
    “আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসী যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন এবং দায়িত্ব অর্পণ করেন, তাহলে ধামসোনা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও সেবামুখী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
    স্থানীয়দের মতে, যদিও এখনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের আস্থার কারণে হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন ধামসোনা ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই একটি আলোচিত ও সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে উঠে আসছেন।

  • আশুলিয়ায় ফের বিতর্কে এসআই আনোয়ার, ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত

    আশুলিয়ায় ফের বিতর্কে এসআই আনোয়ার, ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত

    আলমাস হোসেন | ঢাকা প্রতিনিধি
    আশুলিয়ায় আবারও গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় উঠে এসেছেন আশুলিয়া থানার বিতর্কিত এসআই আনোয়ার। জিরা বোঝাই একটি ট্রাক আটকে রেখে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার আশুলিয়া এলাকায় জিরা বোঝাই একটি ট্রাক থামিয়ে এসআই আনোয়ার জোরপূর্বক ১৫ লাখ টাকা আদায় করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারকে জানান।

    অভিযোগ পাওয়ার পর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি মোড় নেয়। পুলিশ সুপারের চাপের মুখে এসআই আনোয়ার ভুক্তভোগী ফারুক খানকে আদায় করা পুরো ১৫ লাখ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। ঘটনার খবর দ্রুতই আশুলিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ গতকাল রাতেই এসআই আনোয়ারকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে জোরপূর্বক একটি গরুর খামার থেকে সাতটি গরু নিয়ে আসার অভিযোগসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার বলেন, এসআই আনোয়ারকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ক্লোজড করা হয়েছে। তবে কী কারণে তাকে ক্লোজড করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান।

    একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা এসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে এবার দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় কেবল ক্লোজড নয়, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

  • আশুলিয়ায় ভাদাইল প্রাইমারি ফেন্ডস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

    আশুলিয়ায় ভাদাইল প্রাইমারি ফেন্ডস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্যকে ধারণ করে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় ভাদাইল প্রাইমারি ফেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভাদাইল ইসরাফিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একসঙ্গে ইফতার করেন। রমজানের আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মাহফিল এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায় এবং এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
    অনুষ্ঠানে ক্লাবের সভাপতি ও ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী ইসরাফিল হোসেন বলেন, রমজান আমাদের সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। সমাজে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত রাখতে ভাদাইল প্রাইমারি ফেন্ডস ক্লাব নিয়মিতভাবে সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
    ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বি, তরুণ সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে সার্থক করে তোলেন।
    দোয়া মাহফিলে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে আয়োজিত এই আয়োজন শেষ হয় পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে।

  • বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিজিএমইএ ভবনের সামনে শ্রমিক বিক্ষোভ

    বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিজিএমইএ ভবনের সামনে শ্রমিক বিক্ষোভ

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    গাজীপুরে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির নেতৃত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিথি গ্রুপের এ্যাপারেলস ২১ লিঃ ও ফমকম ফ্যাশন লিঃ-এর কারখানা বেআইনিভাবে বন্ধ হওয়ায় এবং শ্রমিকদের নামে হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা দায়ের হওয়ায় শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

    রবিবার (১লা মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ভবনের সামনে শেষ হয়। শতাধিক শ্রমিক জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্লাকার্ড হাতে নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং কারখানা পুনরায় খোলার দাবি জানান।

    জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বলেন,শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানার বেতন-বোনাস আটকে আছে। অবিলম্বে কারখানা খোলা হোক এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।

    বন্ধ কারখানার শ্রমিক লাভলী আক্তার বলেন,কারখানা বন্ধ থাকার কারণে আমাদের জীবিকা বিপন্ন। মাসের পর মাস বেকার রয়েছি। পরিবার নিয়ে সমস্যা বেড়েছে।

    অন্য শ্রমিক রজিনা বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় বাসা ভাড়া দেওয়া যাচ্ছে না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে পড়েছি মহা বিপদে। আজ তাই উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনের সামনে এসেছি, দেখি তারা কি সমাধান দেয়।

    জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির গাজীপুর জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান, দাবি মানা না হলে তারা পর্যায়ক্রমে আরও বিক্ষোভ চালাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কারখানা খোলার পর বেতন, বোনাস এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।

    শ্রমিকরা মনে করছেন, এটি শুধু বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর আন্দোলন নয়, বরং শ্রমিক অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

    অন্য শ্রমিক রজিনা বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় বাসা ভাড়া দেওয়া যাচ্ছে না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে পড়েছি মহা বিপদে। আজ তাই উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনের সামনে এসেছি, দেখি তারা কি সমাধান দেয়।

    জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির গাজীপুর জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান, দাবি মানা না হলে তারা পর্যায়ক্রমে আরও বিক্ষোভ চালাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কারখানা খোলার পর বেতন, বোনাস এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।

  • শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার

    শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার

     

    বিশেষ প্রতিবেদন

    জাতীয়তাবাদী চেতনায় রাজউকের পুনর্জাগরণে মোঃ চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের উদ্যোগ
    একটি জাতির আত্মমর্যাদা শুধু তার ইতিহাসে নয়, তার রাজধানীর চেহারাতেও প্রতিফলিত হয়। পরিকল্পনাহীন নগরায়ন, অবৈধ দখল আর অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ একটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই বাস্তবতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজু যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা অনেকের কাছে জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আইনের শাসনে আপস নয়
    জাতীয়তাবাদী দর্শনের মূলভিত্তি হলো—রাষ্ট্রের আইন সবার জন্য সমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর চেয়ারম্যান অবৈধ স্থাপনা ও নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবহার, অনুমোদনহীন উচ্চতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন—এসব অনিয়মে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
    রাজউকের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে আইন প্রয়োগের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশাসনিক দৃঢ়তারই বহিঃপ্রকাশ। একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার কোনো স্থান নেই—এ বার্তাই দিতে চায় সংস্থাটি।

    ড্যাপ বাস্তবায়ন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়বদ্ধতা
    ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জলাধার, খাল ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ শুধু পরিবেশের বিষয় নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব।
    জাতীয় স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। ড্যাপকে কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।

    সেবায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভরতা
    একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রশাসন হয় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। ভবনের নকশা অনুমোদন, প্লট হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় গতি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।
    দীর্ঘদিনের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে রাজউককে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
    পূর্বাচল-ঝিলমিল: আত্মনির্ভর নগর গঠনের অগ্রযাত্রা
    পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ দ্রুত সম্পন্ন করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
    জাতীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারেরই অংশ।
    অভিযোগ ব্যবস্থায় জবাবদিহি
    দুর্নীতি প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করা হয়েছে। হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
    জনগণের আস্থা অর্জনই যে প্রশাসনের মূল শক্তি—এই উপলব্ধিই এ উদ্যোগের ভিত্তি।

    গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে
    নগর বিশ্লেষকদের মতে, চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের কার্যক্রমে যে দৃশ্যমান কঠোরতা এসেছে, তা দীর্ঘদিনের শৈথিল্য কাটাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
    শেষ কথা
    একটি সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তোলা কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি জাতীয় দায়িত্ব। রাজউকের বর্তমান নেতৃত্ব সেই দায়িত্ব পালনে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা, পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা এবং সেবায় স্বচ্ছতার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

  • বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ঘিরে ঘর নির্মাণকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিক মারাত্মক আহত

    বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ঘিরে ঘর নির্মাণকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিক মারাত্মক আহত

     

    ‎কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি মোঃ মহিবুল্লাহ্ ভূঁইয়া

    কুৃমিল্লার ‎বরুড়া উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নের ছোট তুলাগাঁও এলাকায় বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে এক নির্মান শ্রমিক মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

    ২৬শে ফেব্রুয়ারী সকাল দশটায় প্রবাসী শাহ আলমের বিল্ডিংয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বিদ্যুৎ পিষ্ঠ হয়ে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার রহিমানগর এলাকার খিলা গ্রামের সাখাওয়াত নামে নির্মান শ্রমিক মারাত্মক বৈদ্যুতিক তারের সাথে স্পর্শ হয়ে তিনতলা ভবন থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে যায় পা ভাঙ্গাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে নির্মানাধীন বাড়ির ঠিকাদার ছোটতুলাগাঁও এলাকার বাসিন্দা শরীফ জানান আমরা কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছি একেবারে শেষ পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল বেলা কাজের সময় বিদ্যুৎতের তারের সিমেন্ট পরলে এখান থেকেই সমস্যা সৃষ্টি হয়ে এবং সাকাওয়াত মাটিতে পরে যায়।

    এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান সকাল দশটায় হঠাৎ বিকট শব্দ হলে সবাই দৌড়ে এসে দেখেন নির্মান শ্রমিক সাকাওয়াত মাটিতে পরে আছে। তার অবস্থা খারাপ দেখে পাশ্ববর্তী বাগমারা বাজারে গিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    ‎বাড়ির মালিক শাহ আলম প্রবাস থেকে মুঠো ফোনে প্রতিবেদককে হুমকি ও মামলা দিবে বলেন ধমক দেন তিনি আরো বলেন এবিষয়ে যেন নিউজ না করার হয়।

    ‎এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কুমিল্লা ০১ (বরুড়া)’র ডি জি এম রীশু কুমার ঘোষ বলেন, পল্লী বিদ্যুৎতের খুঁটি ঘরের ভিতরে নিয়ে ঘর নির্মান করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ , আমরা তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নিবো এবং সকল আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবো জানান।
    ‎

    ‎

  • নিত্যনতুন সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম দৃষ্টান্ত: ডাকাতির ছলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে কিশোরসহ দুইজন গ্রেফতার

    নিত্যনতুন সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম দৃষ্টান্ত: ডাকাতির ছলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে কিশোরসহ দুইজন গ্রেফতার

    জাহাঙ্গীর মীর:-

    চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ছলে সংঘটিত নৃশংস হামলায় গৃহবধূ রেহেনা বেগম (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা সমাজে ক্রমবর্ধমান নৈতিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। স্বামী ও ছেলে প্রবাসে থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুখোশধারী হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে আঘাত করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ১২ নম্বর আশ্রাফপুর ইউনিয়নে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিল্লাল হোসেন বিদেশে কর্মরত থাকায় তার স্ত্রী রেহেনা বেগম একাই বাড়িতে বসবাস করতেন।
    অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরিহিত ডাকাত দলের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার দিতে বলে। তিনি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হামলাকারীদের মুখোশ খুলে গেলে তিনি তাদের চিনে ফেলেন। তখন হামলাকারীরা ঘরের ভাঙা কাঁচ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজন ভাঙা কাঁচ দিয়ে তার মাথা ও পিঠে আঘাত করে এবং অন্যজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রেহেনা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে তিনি স্বামীর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
    এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, হামলায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মোঃ আজহারুল ইসলাম সোহান (১৭) ও মোঃ রবিউল হাসান (১৬)-এর নাম উঠে আসে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সোহানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিউল হাসানকেও গ্রেফতার করে। দুই নম্বর আসামি রবিউল জামিন নিয়ে এখন আত্মগোপনে ।

    নিহতের বিবাহিত মেয়ে বলেন, “ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে তারা আমার মাকে হত্যা করেছে। আমরা বিচার চাই, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।”
    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    ২৫ ফেব্রুয়ারি নিহত রেহেনা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতা সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের গভীর সংকেত দিচ্ছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জিয়া সৈনিক দলের বিক্ষোভ মিছিল

    জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জিয়া সৈনিক দলের বিক্ষোভ মিছিল

    মোঃ মাহাবুব আলম:
    বিশেষ প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাব–এর সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দল। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

    সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ অবস্থায় অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন।

    কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মোঃ এনামুল হক মোল্লা। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদের চলমান অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি থানার ওসিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের স্বার্থে জননিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

    কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ রিয়াজউদ্দিন বাদশা। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মিডিয়া সেল কমিটির আহ্বায়ক মোঃ মাহাবুব আলমসহ থানা ও ওয়ার্ড কমিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। বক্তারা গণমানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

    সমাবেশ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

  • সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী নয়, তাদের উপর বারবার হামলা কেন? — প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক সজিব

    সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী নয়, তাদের উপর বারবার হামলা কেন? — প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক সজিব

    নিজস্ব প্রতিনিধি:

    সংবাদ সংগ্রহে বের হওয়া একজন সাংবাদিকের হাতে থাকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা নোটবুক — কোনো অস্ত্র নয়। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর পুলিশি হামলা, লাঞ্ছনা ও কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক আবুল হাসনাত সজিব।

    তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা কোনো সন্ত্রাসী বা মাদক ব্যবসায়ী নয় যে তাদের উপর প্রশাসন বারবার হামলা চালাবে। সংবাদ সংগ্রহ কোনো অপরাধ নয়। গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। তাই একজন সাংবাদিকের উপর হামলা মানে জনগণের জানার অধিকারকে সরাসরি আঘাত করা।”

    সাংবাদিক সজিব আরও বলেন, “বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে কার্যকর জবাবদিহি এখনো নিশ্চিত হয়নি। একটি কার্যকর গণতন্ত্রে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যম — উভয়েরই দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই পারস্পরিক সম্মান, সমন্বয় ও স্পষ্ট নীতিমালার আলোকে কাজ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।”
    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থবিরোধী তথ্য আড়াল হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।
    মাঠে কী ঘটছে?

    সংঘর্ষ, রাজনৈতিক কর্মসূচি, দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন জনস্বার্থে সত্য তথ্য তুলে ধরতে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া, ক্যামেরা ভাঙচুর, এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক সাংবাদিক জানিয়েছেন, এখন সংবেদনশীল স্থানে কাজ করতে গেলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

    কেন ঘটছে এমন ঘটনা?
    অধিকারকর্মী ও সচেতন মহলের মতে, পূর্ববর্তী হামলার ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত না হওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। যখন অপরাধীরা জবাবদিহির বাইরে থাকে, তখন ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটার পথ তৈরি হয়।

    সমাধানে যা করতে হবে:
    সাংবাদিক সজিব দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের গণমাধ্যমবান্ধব আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ জোরদারের দাবিও তুলেছেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, সাংবাদিক নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রণয়ন, যৌথ কর্মশালা আয়োজন এবং জরুরি সহায়তার জন্য হটলাইন চালু করা এখন সময়ের দাবি।

    বারবার গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা শুধু একটি পেশার সংকট নয় — এটি গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংকট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন জাতীয় দায়িত্ব।

  • কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনে ভয়ংকর সিন্ডিকেট: জুয়েলসহ ২৪ জনের চক্রে সর্বস্বান্ত শত শত কৃষক

    কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনে ভয়ংকর সিন্ডিকেট: জুয়েলসহ ২৪ জনের চক্রে সর্বস্বান্ত শত শত কৃষক

    মোঃ সোহেল চট্টগ্রাম

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলইপুল ও আশপাশের এলাকায় কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনের পেছনে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। মোঃ জুয়েল মিয়াসহ অন্তত ২৪ জনের একটি শক্তিশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই সিন্ডিকেটের কারণে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের কৃষিজমি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। ফসল উৎপাদনের উপযোগী জমি ক্রমেই মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে, যার ফলে কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
    আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—চক্রটি সাধারণত বিকেলের সূর্য ঢলার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক ও ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এ সময় কেউ বাধা দিতে গেলে বা প্রতিবাদ করলে কৃষকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। ফলে এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস অনেকেরই নেই।
    এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী মোঃ জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় মূল অপরাধীরা পালিয়ে গেলেও জুয়েল মিয়া মোটরসাইকেলে ম্যাজিস্ট্রেটের অবস্থান অনুসরণ করে অপরাধীদের তথ্য সরবরাহ করছিলেন—যা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন।
    কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনে সহায়তার দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০১০ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে আরও ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
    এলাকাবাসীর দাবি, শুধু একজনকে শাস্তি দিলেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না। পুরো ২৪ জনের সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে কৃষিজমি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তারা দ্রুত প্রশাসনের আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান কামনা করেছেন।