Category: অন্যান্য

  • গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষকদের পাহারায় ব্যর্থ ট্রান্সফরমার চুরি, ফেলে গেল পরিচয়পত্র সহ নানা আলামত

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির আরেকটি চেষ্টা স্থানীয়দের সতর্কতায় ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় চোরচক্রের সদস্যরা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, গেঞ্জি, টর্চ (ডায়াস) লাইট, সিগারেটের প্যাকেট, দুই জোড়া প্লাস্টিকের স্যান্ডেল, প্লাস্টিকের রশি, মানিব্যাগ, একটি বাঁশসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ফেলে যায়। এসব আলামত ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজমতপুর মৌলভীবাড়ি গভীর নলকূপের আওতায় কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার জন্য তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে একটি ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে পালাক্রমে রাত জেগে ট্রান্সফরমার পাহারা দিচ্ছেন।

    স্থানীয়দের দাবি, ১৩ জুলাই দিবাগত গভীর রাতে একই চক্র আবারও একটি ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে আসে। তবে পাহারায় থাকা লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। তড়িঘড়ি করে পালানোর সময় ঘটনাস্থলে ফেলে যায় চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

    গভীর নলকূপের চালক আবু তৈয়ব আখন্দ জানান, রাত প্রায় ৩টার দিকে তিনি ট্রান্সফরমার দেখতে গেলে দুই ব্যক্তিকে সেখানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তিনি তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপি, মানিব্যাগ, টর্চ লাইট, প্লাস্টিকের রশিসহ বিভিন্ন আলামত পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় কৃষক আনিসুর রহমান আখন্দ, শফিকুল ইসলাম, মজিবুর রহমান ও আকিব হোসেন বলেন, “ট্রান্সফরমার রক্ষা করতে এখন আমাদেরই রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। কৃষিকাজ সামলানোর পাশাপাশি এ দায়িত্ব পালন করা খুবই কঠিন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা গভীর রাতে চোরদের বাধা দিতে গেলে জীবনের ঝুঁকিও থাকে। বারবার চুরির ঘটনায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

    তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে যখন গভীর নলকূপের প্রয়োজন থাকে না, তখন ট্রান্সফরমার খুলে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হলে চুরির আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে। শুষ্ক মৌসুমে আবার তা পুনরায় স্থাপন করা যেতে পারে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা একাধিকবার ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র বারবার একই স্থানে হামলার সাহস পাচ্ছে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতেই ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। কোনো গ্রাহক আবেদন করলে বর্ষা মৌসুমে ট্রান্সফরমার খুলে পল্লী বিদ্যুতের হেফাজতে অথবা গ্রাহকের নিজস্ব হেফাজতে রাখা যেতে পারে। পরে প্রয়োজন হলে পুনরায় সেটি স্থাপন করে দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, “এ ধরনের ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে গ্রাহকের আবেদন ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।”

  • অনিয়মের অভিযোগে বাপুস নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ, পুনঃগণনা আবেদন

    ঝালকাঠি সংবাদদাতাঃ বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) ঝালকাঠি জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন (২০২৬–২০২৯)-এ সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট পুনর্গণনা, অভিযোগ তদন্ত এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলের কার্যকারিতা স্থগিতের দাবিতে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন পরাজিত প্রার্থী আবু জাফর বিশ্বাস।

    আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গণনার সময় তাঁর মনোনীত পোলিং এজেন্ট মাওলানা মোহাম্মদ মহসিনকে কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই গণনাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ফলে তিনি ভোট গণনা প্রত্যক্ষ করতে পারেননি এবং ফলাফল সংক্রান্ত নথিতে তাঁর স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, এ ধরনের ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

    আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোট গণনা শুরুর আগেই প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে—মর্মে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, যা নির্বাচন পরিচালনার স্বাভাবিক বিধি ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি দাবি করেছেন।

    আবু জাফর বিশ্বাস বলেন, “আমি সদস্যদের গণতান্ত্রিক রায়কে সর্বোচ্চ সম্মান করি। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সদস্যদের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। আমি কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধে নয়; বরং সত্য উদ্ঘাটন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সংগঠনের গণতান্ত্রিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে সকল প্রার্থী বা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদক পদের সব ব্যালট পুনর্গণনার আবেদন জানিয়েছি।

    আবেদনে তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সকল প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভোট পুনর্গণনা, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বাপুসের গঠনতন্ত্র ও নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক পদের ঘোষিত ফলাফলের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।

    এ বিষয়ে বাপুস ঝালকাঠি জেলা শাখার নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপরই পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করবে।

    এদিকে, বাপুসের সদস্যদের একাংশের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনে ভোট পুনর্গণনার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে এবং সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চা ও সদস্যদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

  • চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকার ও অস্ত্র সহ গ্রেফতার ৩


    লোহাগাড়ার প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়া থানাধীন চুনতি জাঙ্গালিয়া চেকপোস্টে পুলিশি সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করে একটি প্রাইভেটকার সহ তিনজন অস্ত্রধারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে ২টি দেশীয় তৈরি এলজি (অস্ত্র) উদ্ধার করা হয়।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সরকারি মহিলা কলেজের গেটের সামনে মহাসড়কে এ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন পর্যায়ক্রমে ১) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার গাছির বাড়ীর বাসিন্দা মৃত রব পাটোয়ারীর ছেলে হোসাইন আহম্মেদ (৪২)। ২) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা আবদু শুক্কুরের ছেলে আয়াত উল্লাহ(২৮)। ৩) ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ কোনাপাড়া, সরতাজ বাহের এলাকার বাসিন্দা নবী হোসেন এর পুত্র মো: আসাদুজ্জামান(৩৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে চুনতি জাঙ্গালিয়া চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে কক্সবাজারমুখী একটি সিলভার রঙের প্রাইভেটকারকে (ঢাকা মেট্রো-গ-১৭-৩০৬৫) থামার সংকেত দেয় পুলিশ। কিন্তু চালক সংকেত অমান্য করে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

    তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ গাড়িটির পেছনে ধাওয়া করে এবং চুনতি সরকারি মহিলা কলেজের গেটের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটি থামাতে সক্ষম হয়। পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের সিটের নিচ থেকে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ২টি দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে গাড়িতে থাকা ৩ আরোহীকে গ্রেফতার এবং প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।

    সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামীকাল সকালে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন


    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ক্ষিরতলায় বাল্য বিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

    ১৪ জুলাই মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় উপজেলার ক্ষিরতলায় জেলা তথ্য, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলীর আয়োজনে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

    স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ কাজী মুদ্দীন কাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ঘোষক জেলা তথ্য অফিস মোঃ বাবুল হোসেন, সিনে অপারেটর রেজাউল করিম, এপি প্রোগ্রাম অপারেটর আব্দুর রউফসহ জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

    উক্ত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের সকলকে সচেতন হয়ে একসাথে একযোগে কাজ করাসহ বাল্য বিবাহ ও অল্প বয়সে বিয়ের কুফল সম্পর্কে জানতে পারে।

    ‘আমার গ্রাম, আমার দায়িত্ব, শিশুর জীবন হোক বাল্যবিবাহ মুক্ত’- শ্লোগানকে ধারণ করে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে

    স্থানীয় লোকজনসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব, বিভিন্ন মন্দিরের পুরোহিত, শিক্ষার্থীবৃন্দ ও স্থানীয়রা উপস্থিত থেকে চলচিত্রটি উপভোগ করেন।

  • ডিএসসিসি প্রশাসকের সাথে ঢাকা ৪ ও ৫ আসনের এমপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


    যাত্রাবাড়ি,ঢাকা:
    ঢাকা মহানগরীর দখলকৃত খাল ও খেলার মাঠ উদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মশক নিধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের সাথে এক যৌথ মতবিনিময় সভা করেছেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
    আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নগর ভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিএসসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় রাজধানীর যানজট ও নাগরিক ভোগান্তি দূর করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:দখলকৃত খাল ও খেলার মাঠ দ্রুত উদ্ধার করা।জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়ন।বাসা-বাড়ির ময়লার অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান।আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা।রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার।এলাকাভিত্তিক মাদকবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়ন।রকাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, “নাগরিকদের বিদ্যমান সকল সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা যৌথভাবে কাজ করব। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, ৭৫ বোতল ভারতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। জব্দকৃত সিরাপের কোনো দাবিদার না থাকায় এগুলো মালিকবিহীন হিসেবে উদ্ধার করা হয়।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চকপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। নায়েক মো. আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সীমান্ত পিলার ১৮২/৩-এস থেকে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের উনিশদীঘি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।

    অভিযান চলাকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ উদ্ধার করে বিজিবি। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিজিবি জানায়, জব্দ করা সিরাপগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, মাদক ও চোরাচালান নির্মূলে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

  • সরফভাটায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সরফভাটা ইউনিয়নের ভারী বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রি বিতরন করা হয়।

    ১৪ জুলাই মঙ্গলবার সকালে সরফভাটা ইউনিয়নের ইত্যাদি চত্বরে সরফভাটার ৯ ওয়ার্ডের প্রায় ৫ শত পরিবারকে এই ত্রাণ সামগ্রি প্রদান করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আলমগীর চৌধুরী, আব্দুল করিম চৌধুরী, সৈয়দ নুর,রফিকুল ইসলাম,আকতার হোসেন,আবসার মেম্বার,ফরিদুল আবসার,দিদার আলম,জসিম উদ্দিন,খাইরুল ইসলাম,সরোয়ার উদ্দিন,সালাউদ্দিন চৌধুরী,মাওলানা ইউসুফ,মাহবুব মেম্বার,দেলোয়ার হোসেন সহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী।

  • শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর জীবনের ঝুঁকি নওগাঁর রাতোয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন এক মরণফাঁদ


    নওগাঁ প্রতিনিধি:
    নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার রাতোয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিদ্যালয়ের ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল, দেয়াল ও কাঠামোর নাজুক অবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। একই সঙ্গে শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির ভবন সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ক্রমেই বড় হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ভবনের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

    একসময় এ বিদ্যালয় থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। মানুষ গড়ার এই বিদ্যাপীঠ আজ নিজেই অবহেলা ও অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান বেহাল চিত্র দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের ভাষায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

    অভিভাবকদের দাবি, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিদিন উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়। তারা চান, দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, বরং তার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। কারণ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মুহূর্তেই বহু পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, বিদ্যালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি? যদি এসে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ এখনো শুরু হয়নি কেন? বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাই রাতোয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দ্রুত পরিপূর্ণ সংস্কার অথবা প্রয়োজন হলে নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, আর কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়—অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারে।

  • ‎সুন্দরবনে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ ‎


    ‎বাগেরহাট প্রতিনিধি:
    ‎সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করা কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেন।
    ‎
    ‎সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনের চরপুটিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম এ তথ্য জানান।
    ‎
    ‎কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বনদস্যুদের নির্মূল করতে বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় তাদের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জন জেলে ও বনজীবীকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
    ‎
    ‎টানা অভিযানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু চক্রের কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে একের পর এক বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিচ্ছেন। এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ সদস্য আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
    ‎
    ‎
    ‎আত্মসমর্পণের সময় দস্যুরা কোস্ট গার্ডের কাছে তিনটি বিদেশি বন্দুক, একটি এইট শুটার, একটি ফোর শুটার, পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, দুটি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দেন।
    ‎
    ‎আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা হলেন-জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইয়ুব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাহজাহান শেখ (৪২) ও হেলাল (৩৮)। তারা খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা।
    ‎
    ‎এ ছাড়া আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দা আকরাম শেখ (৪৫), নূরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০) ও শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১)। অপর সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮) পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা।
    ‎
    ‎কোস্ট গার্ড জানায়, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম, জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রক্রিয়া এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
    ‎
    ‎কোস্ট গার্ড সুন্দরবনে সক্রিয় অন্য সব বনদস্যুকেও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বাহিনীটি বলেছে, যারা আত্মসমর্পণ করবে, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    ‎
    ‎কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা ও সবার সহযোগিতায় অচিরেই সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাহিনীটি।
    ‎
    ‎
    ‎
    ‎

  • ‎বাগেরহাট আদালত ভবনে ছাদের পলেস্তারা ধসে আহত ৫ নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা


    বাগেরহাট প্রতিনিধি:
    ‎বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিনতলা ভবনের পলেস্তারা খসে পাঁচ বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন, যা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
    ‎
    ‎১৩ জুলাই সোমবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিনতলা ভবনের নিচতলায় কচুয়া আদালতের এজলাসসংলগ্ন বারান্দায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন হঠাৎ ওপর থেকে পলেস্তরার বড় একটি অংশ নিচে অবস্থানরত বিচারপ্রার্থীদের ওপর আছড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই সুমন দাস, হৃদয় হাওলাদার, হাবিবুল্লাহ শেখ, মো. ফিরোজ শেখ এবং মোতালেব হোসেন গুরুতর আহত হন। ঘটনার আকস্মিকতায় আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিচারিক কার্যক্রম সাময়িক বিঘ্নিত হয়। দায়িত্বরতরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করেন, যেখানে বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিচারপ্রার্থীদের ওপর ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
    ‎
    ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ছাদের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছিল। আহত বিচারপ্রার্থী মো. ফিরোজ শেখসহ অন্যরা জানান, এজলাসসংলগ্ন বারান্দাটি সবসময় জনাকীর্ণ থাকে, অথচ ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ আদনান হোসেন জানিয়েছেন, আহতদের মাথায়, ঘাড়ে ও পায়ে আঘাত লেগেছে, যা নির্দেশ করে পলেস্তারাটি বেশ ভারী ছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আদালতে এসে অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে শারীরিক ক্ষতির শিকার হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনার পর থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে আগত বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে, কারণ ভবনটির অন্যান্য অংশও যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
    ‎
    ‎ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এম এম মাহাবুব মোর্শেদ লালন জানিয়েছেন, ভবনটি অত্যন্ত পুরোনো এবং এর স্থাপত্য কাঠামো বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

    তিনি জানান, ঘটনার পরপরই বিচারকরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের গাফিলতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সংস্কারের জন্য এর আগেও একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অভাবে আজ এই দুর্ঘটনা ঘটল। বর্তমানে বিচারক ও আইনজীবীরা অবিলম্বে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা অথবা জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের মেরামতের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রাণহানির মতো ঘটনা না ঘটে।
    ‎
    ‎পরিশেষে, বাগেরহাটের এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং দেশের পুরোনো সরকারি ভবনগুলোর ভঙ্গুর দশার একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেখানে রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব, সেখানে আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভবনে এমন ধস বিচারিক কার্যক্রমের ওপর আস্থা ও নিরাপত্তার সংকট তৈরি করে। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা প্রবল।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে বিচারপ্রার্থীদের আদালতে আসার পরিবেশ ও নিরাপত্তা উভয়ই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে।
    ‎