Category: অন্যান্য

  • সালথায় খাল খননের পর  বাড়তি ৭৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন

    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের সালথা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করে সব ব্যয় নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক অনন্য দৃ’ষ্টা’ন্ত স্থাপন করেছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দবির উদ্দিন।

    সরকারি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রশংসায় ভাসছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দবির উদ্দিন।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের মোট ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা। প্রায় তিন মাস ধরে পরিচালিত এ প্রকল্পে শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় পরিশোধের পর থেকে যাওয়া ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল খনন প্রকল্প নিয়ে নানা অনিয়ম ও অপব্যয়ের অভিযোগ উঠলেও সালথায় প্রকল্পটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় না করে সঠিকভাবে প্রকল্প সম্পন্ন করায় উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের মান পরিদর্শনে আসেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে তারা উভয়েই কাজের মান, ফিনিশিং এবং স্বচ্ছ বাস্তবায়নের প্রশংসা করেন।

    এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দবির উদ্দিন বলেন, উন্নয়ন কাজের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল অঙ্গীকার। সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। প্রকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমি যেখানেই দায়িত্ব পালন করি, প্রতিটি কাজ নিজের দায়িত্ব মনে করেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করি।
    স্থানীয়দের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এমন স্বচ্ছতা ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা অন্যদের জন্যও অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

    এর আগে মোঃ দবির উদ্দিন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানকার সাধারণ জনগণ এখনও তার কর্মকান্ডের কথা স্বরণ করেন।

    নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি বিলায়েত হোসেন লিটন বলেন, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দবির উদ্দিন একজন ভালো মনের অফিসার। তিনি অল্প সময়েই নগরকান্দা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তিনি নগরকান্দা প্রেসক্লাবের উন্নয়ন কাজের জন্য  প্রায় দুই লক্ষ সরকারী টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করে দেন।

    নগরকান্দা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও তার ব্যবহারের প্রশাংসা করে বলেন তিনি একজন সত্যিকারের মানবিক অফিসার।

  • দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় টয়লেটের পানি নিয়ে বিরোধ: চাচাতো ভাইয়ের লাঠির আঘাতে যুবকের মৃত্যু


    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় বাড়ির সীমানার পাশে টয়লেটের পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওবাইদুল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১২ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়ন এর নাপিতপুকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ওবাইদুলের পিতা ইদ্রিস মিয়া। তিনি নাপিতপুকুরিয়া গ্রামের ডাক্তার শায়ের আহম্মদের বাড়ির বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টয়লেটের পানি ছাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় অভিযুক্ত ইমাম হাসান (চুক্কু) (২৭), পিতা বুদুরুছ মিয়া, একই এলাকার বাসিন্দা, তার মায়ের মাথায় আঘাত লেগে রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা দেখে হাতে থাকা মোটা লাঠি দিয়ে ওবাইদুলের ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    স্বজনরা দ্রুত তাকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    জানা গেছে, নিহত ও অভিযুক্ত পরস্পরের আপন চাচাতো ভাই এবং উভয়েই ডাক্তার শায়ের আহম্মদের ভাতিজা।

    ঘটনার খবর পেয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বড় ভাই এমরান হোসেন (বাচা) ও তার পিতা বুদুরুস মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত ইমাম হাসান (চুক্কু) পলাতক রয়েছেন জানা যায়।

    তবে ঘটনার বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনার কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • নেত্রকোনায় হামলায় জখম নারীর অভিযোগ না নিয়ে ঘটনা সালিশে সমাধানের পরামর্শ ওসির


    নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
    নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দামের বিরুদ্ধে মারধরে জখম হওয়া এক নারীর থঅভিযোগ না নিয়ে সালিশে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওসি চম্পক দাম লিখিত অভিযোগ না নিয়ে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও দুই পক্ষকে থানায় ডেকে আলোচনা করেই শেষ করা হবে জানান ওসি।

    শনিবার দিবাগত রাতে বারহাট্টা থানায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন,উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের আব্দুল্লাহর স্ত্রী মুক্তা বেগম (৪৫) ও তাঁর মেয়ে আঁখি আক্তার (২৮)। হামলাকারী বাদশা মিয়া(৩৬)এই ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী ধনপুর গ্রামের মৃত নুর হাকিমের ছেলে। তিনি মৎস্য ব্যবসায়ী।

    অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে বারহাট্টা উপজেলার ধনপুর গ্রামে আঁখি আক্তারের স্বামী বাদশা মিয়া (৩৬) শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় মেয়েকে রক্ষা করতে গেলে বাদশা লাঠি দিয়ে শাশুড়ি মুক্তা বেগমের পিঠে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত হন।

    এসময় তাকে কিল ঘুষি ও টেনে হিঁচড়ে আহত করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রাত প্রায় ১০টার দিকে তাঁরা বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে যান। সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত বাদশা মিয়াকে আগেই থানায় উপস্থিত দেখতে পান বলে দাবি করেন তাঁরা। মুক্তা বেগম বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলে ওসি প্রথমে তা গ্রহণ করেননি। আগামী বুধবার থানায় উভয় পক্ষকে ডেকে সালিশের মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

    এসব বলে অভিযোগ না নিয়েই তিনি আমাদেরকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। পরে আত্মীয়স্বজনের পরামর্শে রাস্তা থেকে ফেরত গিয়ে অভিযোগ লিখে জমা দিয়ে আসি। আমাদের পরিচিত একজন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে ওসি কিছুটা নমনীয় হয় এবং অভিযোগ নিতে রাজি হয়। হয়। অভিযোগ নেওয়ার পরও ওসি বলেন, এ বিষয়ে বুধবার থানায় আলোচনা হবে, এরপর প্রয়োজন হলে মামলা হবে।

    তিনি আরও বলেন, থানায় গিয়ে দেখি আগে থেকেই অভিযুক্ত বাদশা সেখানে অবস্থান করছে। পুলিশের সাথে তার বেশ সখ্য। তাই হয়তো আমাদের অভিযোগ নিতে চাইছে না পুলিশ। এত বড় জখমের পর কেন অভিযোগ নিতে চাইছে না বুঝতে পারছি না। আমরা তো সালিশ চাই না। আর থানা তো সালিশের জায়গা না।

    একই অভিযোগ করেন অপর ভুক্তভোগী আঁখি আক্তার। তিনি বলেন, শেষমেশ অভিযোগ দিয়েও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। কারণ বদশার সাথে পুলিশের ভালো সম্পর্ক দেখলাম। আমাদেরকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে আগেই থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। ওসি বাদশার বিরুদ্ধে অভিযোগ না নিয়ে উল্টো তার সাথে আলাপ করছিল। সালিশের সময় দিচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তমপক্ষের কাছে আমরা এর বিচার চাই।

    ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ২০২৩ সালে আঁখি আক্তারের সঙ্গে বাদশা মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু হয়। কয়েক লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ ঘটনায় গত বছরের নভেম্বরে আঁখি আক্তার আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি চলমান রয়েছে। তাঁদের এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি বাদশা মিয়া গোপনে আরেকটি বিয়ে করেছেন।

    এ নিয়ে দাম্পত্য বিরোধ আরও তীব্র হয় এবং আঁখি আক্তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গতকাল শনিবার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে আঁখিকে মারধর শুরু করে বাদশা। এসময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে মা মুক্তা বেগমকে লাঠি দিয়ে পিঠে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন বাদশা। এছাড়াও কিল ঘুষি মেরে টেনে হিঁচড়ে আহত করা হয়।

    এ বিষয়ে জানতে হামলাকারী বাদশা মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযোগের বিষয়ে বারহাট্টা থানার ওসি চম্পক দাম বলেন, আভিযোগ নেওয়া হয়েছে। পারিবারিক বিষয় আলোচনা করে শেষ করে দিতে বলা হয়েছে।

    তবে জখমি মুক্তা বেগমের অভিযোগ নেওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। বিষয়টি অবহিত করলে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম বলেন, হামলায় জখমের ঘটনায় অভিযোগ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমন ঘটনায় থানায় সালিসের নিয়ম নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • সেনবাগ কল্যাণ সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি এ বি এম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম নির্বাচিত


    নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
    ঢাকাস্থ সেনবাগবাসীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন সেনবাগ কল্যাণ সমিতি-এর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে এ বি এম ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবদুল হালিম নির্বাচিত হয়েছেন।

    শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) ঢাকার টিকাটুলিস্থ দেলোয়ার কমপ্লেক্সে অবস্থিত সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদের নাম ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার মো. মোজাম্মেল হোসেন (সেলিম)।

    নির্বাচিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন— সহ-সভাপতি মো. ইউনুছ পাটোয়ারী (বাচ্চু), মো. আবুল কাশেম (বীমা কাশেম), এ. কে. এম. শওকত আলী চৌধুরী, মো. ইমাম হোসেন মজুমদার, মো. জাফর আহম্মদ, মিয়া মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহ, মো. সামসুল হক ও মো. শরীফ হোসেন।

    এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাসুদ পারভেজ, আবু জাফর সাইফুল্লাহ (হেলাল) ও প্রফেসর মো. আবদুস ছাত্তার। অর্থ সম্পাদক আবদুর রশিদ পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তফা ও মো. আতাউর রহমান (সুজন), আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার ফামিদা আখতার, প্রচার সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক মো. ফিরোজ আলম, সাহিত্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাকের, সমাজসেবা সম্পাদক ইমতিয়াজ একরাম (রবি), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. সালেহ আহাম্মদ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক খালেদা আখতার (রানু) নির্বাচিত হয়েছেন।

    কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মকবুল আহম্মেদ, মোহাম্মদ শাহজাহান পাটোয়ারী, মো. সাহাদাত হোসেন, মো. শহিদ উল্লাহ ভুঁইয়া, হাজী আবু তালেব, মো. সামসুর রহমান (বাবুল), মো. গিয়াস উদ্দিন (হৃদয়), শেখ তমিজ উদ্দিন এবং আবদুল ওহাব।

    নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সেনবাগবাসীর কল্যাণে ঐক্য, সহযোগিতা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • ‎বরগুনায় পাউবো’র জমি অবৈধ দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ‎


    ‎নিজস্ব প্রতিবেদক:
    ‎বরগুনার তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া সুইজ বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
    ‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ০১নং পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের পঁচাকোড়ালিয়া সুইজ বাজারে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পঁচাকোড়ালিয়া মৌজার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অবৈধ দখল করে ভবন নির্মাণ করে তিনি বসবাস করে আসছেন দ্বীর্ঘ একযুগের অধীক সময়। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পাকা রাস্তার পাশে অবৈধ মার্কেট নির্মাণ করতেছেন তিনি।

    ‎অবৈধ দখলকারী মো. নজরুল ইসলাস আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

    ‎এই অবৈধ বাসভবন ও নির্মাণাধীন মার্কেট উচ্ছেদে করে দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
    ‎স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মজিবুর রহমান বলেন, নজরুল ইসলাম প্রভাবশালী তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময় এই জমি জোর করে অবৈধভাবে দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন এখন বর্তমানে বাজারে সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের একোয়ারকৃত পাকা রাস্তা সংলগ্ন জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করতেছেন।
    ‎উপজেলার ০১নং পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. রুহুল আমীন মুন্সী বলেন, দেখতেছি পরিষদের সামনে নজরুল মাষ্টার মার্কেট নির্মাণ করতেছেন কিন্তু এ জমি যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তা আমি জানতাম না আমি জানি তার নিজের জমি।
    ‎অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে কোন কাগজপত্র নেই। আমার মতো আরো অনেকেই দখল করে আছে।
    ‎বরগুনা পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, সরকারি জমি দখল করে মার্কেট কিনবা কোন স্থাপনা করার সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি যদি কেউ করে থাকে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    ‎

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৭ হাজার ইয়াবাসহ মোটরসাইকেল জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রধান আসামিসহ তিনজন পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নির্দেশে গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জেলায় বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

    এরই অংশ হিসেবে ১১ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল এবং নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে সদর উপজেলার নবাবগঞ্জ পৌরসভার আরামবাগ উত্তরপাড়া জামে মসজিদের সামনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-শিবগঞ্জ সড়কে একটি মোটরসাইকেলকে থামানোর সংকেত দেয় পুলিশ।

    এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশের ভাষ্যমতে, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বোগলাউড়ি বহরাপাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রউফ (৪৪), পিতা- মো. সেন্টু এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইজন রয়েছেন। পালানোর সময় মোটর- সাইকেলের হ্যান্ডেলে ঝুলানো একটি ব্যাগের হাতল ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে গেলে ভেতরে থাকা ইয়াবার প্যাকেট ছড়িয়ে পড়ে।

    পরে স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ঘটনাস্থল থেকে ৭ হাজার পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নওয়াবগঞ্জ-হ-১৩-৪৩২০ নম্বরের একটি নীল রঙের বাজাজ ডিসকভার মোটর- সাইকেল জব্দ করা হয়।
    এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • চা-বাগানের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাছ কাটার মামলা

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্কয়ার গ্রুপের মালিকানাধীন সাবাজপুর চা বাগানে চা বোর্ড ও বনবিভাগের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে সরকারি লীজের (খাস) টিলা ভূমি হতে ১০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাগান ম্যানেজার নাহিদ ফেরদৌস চৌধুরীকে প্রধান ও আরোও ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেছেন উপজেলার ভুগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) পংকজ তালুকদার।

    মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার সাবাজপুর চা বাগানের ম্যানেজার বাগানের ভেতরের বিপিন টিলা, দক্ষিণাঞ্চলের বৈকন্ঠটিলা, আনডহর ও আশপাশ এলাকার টিলাভূমি থেকে প্রায় ৩ মাস ধরে অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে বিক্রি করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ জুলাই সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা অবৈধভাবে কেটে স্টেক করে রাখা বিভিন্ন প্রজাতির ২৫১টি টুকরায় ১৬ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন। যার বাজার মূল্য ১০ লক্ষাধিক টাকা। এতে সরকারের কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া জানান, বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই চা বাগান ব্যাপক হারে গাছ কেটে ফেলে। অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলি তারা বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই গাছ কাঁটায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • ‎ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল নাসিরনগরের ওহি, পরিবার ও বিদ্যালয়ে আনন্দের বন্যা ‎


    ‎ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
    ‎২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী ইফতেখার আহাম্মেদ ওহি। তার এই কৃতিত্বে পরিবার, বিদ্যালয় এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
    ‎
    ‎ওহি ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। সে নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
    ‎
    ‎ওহির বাবা আশরাফ উদ্দিন আহাম্মেদ ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মা শিরিন আক্তার আশা একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত। দুই সন্তানের মধ্যে ওহি বড়।
    ‎
    ‎পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই ওহি পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ও পরিশ্রমী। নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের উৎসাহ-অনুপ্রেরণার ফলেই সে এই সাফল্য অর্জন করেছে।
    ‎
    ‎ওহির এই কৃতিত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভবিষ্যতেও সে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করবে, এমন প্রত্যাশা সবার।
    ‎
    ‎ইফতেখার আহাম্মেদ ওহি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছে।
    ‎

  • যাত্রাবাড়িতে ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ ও সড়ক পরিদর্শন করেন কামাল হোসেন,এমপি


    যাত্রাবাড়ী,ঢাকা প্রতিনিধি:
    ঢাকা-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের উদ্যোগে নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পয়োনিষ্কাশন সমস্যা দূরীকরণে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭০ ও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ ও বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করেন। এসময় এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ৭০ নং ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির কার্যক্রম শুরু করা হয়। এসময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন মেন্দিপুর আমীন উদ্দিন ভোট রোড হইতে আমীরের বাড়ি পর্যন্ত এই ড্রেনেজ নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন ৭০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কামারাম মুনীর ফুয়াদ সহ এলাকার স্থানিয় জনসাধারণ । এসময় তিনি জানান, নতুন এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন ইনশাআল্লাহ ।

    অন্যদিকে ৬৩ নং ওয়ার্ডের কাজলার পাড় ও সামাদ নগর এলাকার তীব্র জলাবদ্ধতা, পয়োনিষ্কাশন সমস্যা নিরসন এবং রাস্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে উক্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
    পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তির চিত্র সরাসরি দেখেন এবং দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সড়ক ও ড্রেন পরিদর্শনকালে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন, জনাব ইমরান আহমেদ (কাউন্সিলর প্রার্থী, ৬৩ নং ওয়ার্ড) সহ এলাকার স্থানিয় জনসাধারণ।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংসদ সদস্যের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন আরো দীর্ঘ স্থায়ী হবে।

  • গুমের নাটক সাজিয়ে ২ বছর আত্মগোপন: নির্দোষ ঠিকাদারকে ৪ মাস জেল খাটিয়ে অবশেষে জীবিত উদ্ধার


    ​কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রায় দুই বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে থেকে নিজের ‘অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের’ মিথ্যা মামলা করানোর এক দুর্ধর্ষ প্রতারণার ঘটনা ফাঁস করেছে পুলিশ। এই সাজানো মামলার জালে ফেঁসে প্রধান আসামি হিসেবে টানা চার মাস কারাভোগ করেছেন জামান মিয়া নামের এক স্থানীয় ঠিকাদার।
    অবশেষে দীর্ঘ তদন্ত ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর থেকে তথাকথিত ‘নিখোঁজ’ যুবক মোস্তফা কামালকে (২৮) জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ।

    ​শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

    ​বিরোধের সূত্রপাত ও নিখোঁজ নাটক
    ​অনুসন্ধানে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া মোস্তফা কামাল মূলত ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার বাসিন্দা হলেও তার পরিবার কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করত। পেশায় রাজমিস্ত্রি কাম সাব-কন্ট্রাক্টর মোস্তফা কামালের সাথে বাজিতপুরের পিরিজপুর এলাকার ঠিকাদার জামান মিয়ার ব্যবসায়িক সুবাদে পরিচয় হয়। একসাথে কাজ করার সময় তাদের মধ্যে কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়।

    ​ঠিকাদার জামান মিয়ার দাবি, মোস্তফা কামাল কাজের হিসাবের বাইরে তার কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা অতিরিক্ত অগ্রিম নিয়ে আর কাজে আসেননি। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরমে পৌঁছালে মোস্তফা কামাল একপর্যায়ে সুকৌশলে বাড়ি ছেড়ে উধাও হয়ে যান এবং পরিবারের সাথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

    এদিকে ​ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা মনোয়ারা বেগম আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়— ঠিকাদার জামান মিয়া ও তার সহযোগীরা মোস্তফা কামালকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করেছে। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি রুজু হয় এবং পুলিশ প্রধান আসামি জামান মিয়াকে গ্রেফতার করে।

    ​নির্দোষ জামান মিয়া শুরু থেকেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর দাবি জানিয়ে আসলেও দীর্ঘ চার মাস তাকে কারাগারে বন্দি থাকতে হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

    জামান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই মিথ্যা মামলার কারণে আমার ব্যবসা, সামাজিক মর্যাদা এবং পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমি এই ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
    ​
    ​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল হক জানান, মামলার তদন্ত করতে গিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণে বেশ কিছু অসঙ্গতি তাদের নজরে আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির নজরদারি বৃদ্ধি করে।

    অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের গাছা থানার ভোগড়াচালা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মোস্তফা কামালকে।

    জানা গেছে, সেখানে তিনি স্বাভাবিকভাবে রাজমিস্ত্রির কাজ করার পাশাপাশি নতুন করে বিয়ে করে সংসারও করছিলেন।
    ​
    ​মিথ্যা গুমের ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের জানান, “আমরা ভেবেছিলাম ছেলেটি সত্যিই খুনের শিকার হয়েছে। এখন জানা গেল সব নাটক। যারা এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করে, তাদের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।”

    ​কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, উদ্ধার হওয়া যুবককে আদালতে হাজির করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “পুরো এই ষড়যন্ত্রের পেছনে আর কারা জড়িত এবং পরিবারের সদস্যরা জেনেশুনে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করেছে কি না— তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”