Category: অন্যান্য

  • রাঙ্গুনিয়ায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ ও ভেসে যাওয়া সেতু পরিদর্শন করলেন হুমাম কাদের এমপি


    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    গত সোমবার ১৩ জুলাই রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। সারাদিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

    বন্যায় ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারানো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তিনি পদুয়া ইউনিয়নের বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বন্যার তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই ব্রিজের বর্তমান অবস্থা এবং চলাচলের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে কার্যকর ও টেকসই সংস্কার ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে তাদের করুণ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়। আকস্মিক বন্যায় ফসলি জমি ও বসতভিটা তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তাদের দৈনন্দিন আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অধিকাংশ পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগীদের মতে, ব্রিজঘাট ব্রিজের বর্তমান জরাজীর্ণ দশা তাদের যাতায়াতকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, যা দ্রুত মেরামত না করলে বৃহত্তর দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ত্রাণ গ্রহণকালে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, সরকারি এই সহায়তা তাদের সাময়িক সংকট মোকাবিলায় কিছুটা স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কৃষি সহায়তার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছেন।

    ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সকল পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা হবে। এছাড়া ব্রিজঘাট ব্রিজের সংস্কারের বিষয়ে প্রকৌশল বিভাগকে দ্রুত প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উক্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কুতুবউদ্দিন বাহারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ শওকত আলী নুর, ওয়াকিল আহমদ, ইউছুফ চৌধুরী এবং ভিপি আনসুর উদ্দিন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামোগত এই সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক তদারকি সমানতালে চলমান থাকবে, যাতে বর্ষা মৌসুমের এই দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

    পদুয়া ইউনিয়নের এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ও ব্রিজ পরিদর্শন স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে কেবল ত্রাণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি খাতের পুনর্বাসনই এখন স্থানীয়দের প্রধান দাবি। সংসদ সদস্যের এই হস্তক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কার কাজে হাত দিলে জনদুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে রাঙ্গুনিয়ার এই বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থায়ী নীতিমালা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মুখেই থেকে যাবে।

  • ছাত্র হত্যা, গুম ও থানায় ধর্ষণের পৈশাচিক খলনায়ক ডিসি আলমগীর: বরখাস্তের পরও খুনের লাইসেন্স ও ডাবল প্রমোশন দিয়ে এবার রংপুর রেঞ্জের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ‘এসপি অ্যাডমিন’

    বিশেষ প্রতিনিধিঃ
    ফ্যাসিবাদী জল্লাদ সরকারের অন্যতম প্রধান লাঠিয়াল, সীমাহীন দুর্নীতি, লম্পটতা ও পাশবিকতার জীবন্ত নরকখণ্ড পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের গা শিউরে ওঠা আমলনামা ফাঁস হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে ঝাঁঝরা করা, ব্যবসায়ীকে গুমের চেষ্টা, খোদ থানার ভেতরেই অসহায় নারীকে পৈশাচিক ধর্ষণ এবং নিরীহ মানুষের চোখ কলম দিয়ে খুঁচিয়ে উপড়ে অন্ধ করার মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতার মূল হোতা এই আলমগীর। চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, সরকারি তদন্তে এই পিশাচের সমস্ত জঘন্য অপরাধ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত “বরখাস্ত” (Dismissal from service) করার সুপারিশ করার পরও এই নরপশুর গায়ের একটা পশমও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি।

    এর পেছনে রয়েছে এক চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আঁতাত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে এবং সেই ‘ক্যাডার কোটার’ অন্ধ প্রভাবে আলমগীরের খুঁটির জোর ছিল আকাশচুম্বী। আর এই সুযোগে আইন ও নিয়মনীতিকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তার ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হন বিগত খুনী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সরাসরি আশীর্বাদ ও ক্ষমতার কালো থাবায় চাকুরীতে পুনর্বহাল করা হয় এই চিহ্নিত অপরাধীকে। শুধু পুনর্বহালই নয়, উপহার হিসেবে দেওয়া হয় পর পর দুইটি জবরদস্ত পদোন্নতি! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবের প্রত্যক্ষ মদদে ডিএমপির ‘ডিসি ক্রাইম’-এর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পদ ভাগিয়ে নিয়ে বিগত ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে খুনের নেশায় মেতে উঠেছিল এই নরপিশাচ। আর বর্তমানেও সমস্ত অপরাধ আড়াল করে সে বাগিয়ে নিয়েছে রংপুর রেঞ্জের পুলিশ সুপার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স)-এর মতো প্রভাবশালী ও দোর্দণ্ড প্রতাপশালী চেয়ার!

    প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ফিল্মি কায়দায় গুমের চেষ্টা ও ৪৫ মিনিটে ৫ মামলা!

    অনুসন্ধানে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া নথির সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে মৌলভীবাজারের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার থাকাকালে আলমগীর হোসেন ও তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ডা: রাজিয়া সুলতানা মিলে জে পি এল ডোর এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজ ও জালালাবাদ প্রোডাক্টস লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম সজীবের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর ব্যবসা সম্প্রসারণের লোন, বাকিতে দামি ফার্নিচার ও গাড়ি কেনা বাবদ ব্যবসায়ী সজীবের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা সুকৌশলে হাতিয়ে নেন আলমগীর।

    পরবর্তীতে সজীব নিজের পাওনা টাকা ফেরত চাইতেই হিংস্র বাঘের মতো গর্জে ওঠে এই উর্দিধারী ডাকাত। পাওনাদারকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট ব্যবসায়ী সজীবকে ঢাকার তার বাসা থেকে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ করে গুম করার উদ্দেশ্যে তুলে নিয়ে যায় আলমগীর ও তার বাহিনী। কিন্তু স্থানীয় জনতা ও উপস্থিত মিডিয়াকর্মীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে গুমের মিশন ব্যর্থ হলে তাকে সরাসরি মৌলভীবাজার মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে মাত্র ৪৫ মিনিটের ব্যবধানে সজীবের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ৫টি সম্পূর্ণ সাজানো, বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা ঠুকে দেয় এই জালিয়াত পুলিশ কর্মকর্তা।

    এই পৈশাচিক ষড়যন্ত্রের পেছনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের চিফ হুইপ ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এবং তার ছোট ভাই মোসাদ্দেক হোসেন মানিক। আলমগীর তার খালাতো ভাই সোহেল রানা, বান্ধবী ডা: রাজিয়া সুলতানা এবং নিজের বডিগার্ড নাজিম উদ্দিনকে বাদী বানিয়ে এই মিথ্যা মামলাগুলো করায়। এরপর ব্যবসায়ী সজীবকে জেলে পুরে দিনের পর দিন চালানো হয় অমানুষিক ও অর্বাচীন নির্যাতন। ধ্বংস করে দেওয়া হয় তার শত শত শ্রমিকের রুটি-রুজির কর্মস্থল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

    চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশ ডাস্টবিনে ফেলে প্রমোশনের মহোৎসব!

    এই পৈশাচিক জুলুমের প্রতিকার চেয়ে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম সজীব ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে আলাদা দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্তে আলমগীরের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি পৈশাচিকতার সত্যতা প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে “চাকুরী হতে বরখাস্ত” (Dismissal from service) করার গুরুদণ্ড প্রদান পূর্বক পিএসসির চূড়ান্ত মতামত চায়। একই বছরের ২১ অক্টোবর পাবলিক সার্ভিস কমিশনও (PSC) তাকে সরকারি চাকরি থেকে চিরতরে বরখাস্ত করার সপক্ষে চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়।

    দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশকে স্রেফ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, ক্ষমতার দাপটে পার পেয়ে যান আলমগীর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সকল নিয়ম ও তদন্তকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে তাকে আবার চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। এই খুনের লাইসেন্স ও জোড়া প্রমোশন ব্যবহার করেই ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে সাধারণ ছাত্র-জনতার রক্তে হোলি খেলায় মেতে ওঠে এই নরঘাতক।

    থানার ভেতর ধর্ষণ ও কলম দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার পৈশাচিকতা!

    আলমগীরের অপরাধের খতিয়ান কোনো সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সার্কেলের দায়িত্বে থাকাকালীন খোদ থানার ভেতরেই এক অসহায় নারীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ও চরম ন্যাক্কারজনক অপরাধে লিপ্ত হন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে এই মহাধর্ষণকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ওই ধর্ষিতা নারীর স্বামী লিটন হাসান ইমনকে উল্টো মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করে এই লম্পট। এছাড়াও নিরীহ মানুষকে থানায় আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চোখ কলম দিয়ে খুঁচিয়ে অন্ধ করে দেওয়ার মতো একাধিক মধ্যযুগীয় ও লোমহর্ষক বর্বরতার অভিযোগ রয়েছে এই জল্লাদের বিরুদ্ধে।

    বর্তমান অবস্থান: রংপুর রেঞ্জের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ‘এসপি অ্যাডমিন’

    বিভাগীয় তদন্ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চূড়ান্ত রায়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর এবং ছাত্র-জনতা হত্যার সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার পরও এই নরপিশাচ আলমগীর হোসেন (বিপি নং-৭৯০৬১১১১৪৩) বর্তমানে বহাল তবিয়তে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পুলিশ সুপার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) হিসেবে বহাল থেকে বীরদর্পে রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন!

    বিভাগীয় তদন্তে অপরাধের পাহাড় প্রমাণিত হওয়ার পরও কীভাবে এমন এক প্রমাণিত ধর্ষক, খুনি, অপহরণকারী ও চাঁদাবাজ পুলিশ কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে প্রমোশন পেয়ে পুলিশের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের মতো সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাগিয়ে দাপট দেখায়— তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে দেশের আমলারা ও সাধারণ মানুষ। এই নরপিশাচ আলমগীর এবং তার সহযোগী ১ ওসি ও ৪ এসআই-সহ অপরাধী চক্রকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার এবং দেশের আপামর ছাত্র-জনতা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসির উদ্দিন আহমেদ ‘প্রতিবেদক’কে স্পষ্টভাবে জানান-

    “এই অতি গুরুতর অভিযোগের তদন্তভার আমার ওপর অর্পণ করা হয়েছিল। আমি অত্যন্ত নিখুঁত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে সমস্ত অপরাধের অকাট্য প্রমাণসহ চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তর শৃঙ্খলা শাখায় পাঠিয়ে দিয়েছি।”

    এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস)-এর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এই জল্লাদের আরও ভয়ঙ্কর সব কীর্তি নিয়ে চোখ রাখুন আগামী সংখ্যায়… (চলবে..

  • বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে স্বপ্নতরী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন


    কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    কক্সবাজারের  বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে স্বপ্নতরী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন। সংগঠনটির উদ্যোগে শনিবার (১২ জুলাই) চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পহরচাঁন্দা পশ্চিমপাড়া এলাকায় বন্যাকবলিত ৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্গত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তারা বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, মানবতার সেবাই স্বপ্নতরী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের মূল লক্ষ্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংগঠনটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।

    ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সাত দিন ধরে তারা পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে কিছু সহায়তা পেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা। এ অবস্থায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন এবং মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এলাকাবাসী।

    ত্রাণ পেয়ে উপকৃত পরিবারগুলো স্বপ্নতরী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও সংগঠনটির সময়োপযোগী এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে এমন সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আশাব্যঞ্জক।

  • নাঙ্গলমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জনে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছআ


    হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাঙ্গলমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে বৃত্তি অর্জন করায় তাদের অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ও নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু। একই সঙ্গে নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এ গৌরবময় অর্জনে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    এক শুভেচ্ছা বার্তায় বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু বলেন, এই সাফল্য শুধু পাঁচজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং নাঙ্গলমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং সমগ্র নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি শিক্ষার্থীদের এই অর্জনের পেছনে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক সহযোগিতা রয়েছে, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার যথাযথ বিকাশে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।

    এদিকে, নাঙ্গলমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।

  • বাঘাইছড়িত টিন কেটে দুর্ধর্ষ চুরি, জাহাঙ্গীরের দোকান থেকে ৭০ হাজার টাকার মালামাল লুট


    বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:
    গভীর রাতে দোকানের টিন কেটে ভেতরে ঢুকে প্রায় ৭০ হাজার টাকার মালামাল লুট করেছে চোরের দল। ঘটনাটি ঘটেছে বাঘাইছড়ি উপজেলার দুরছড়ি মুসলিম পাড়ায়।

    ভুক্তভোগী দোকানদারের নাম জাহাঙ্গীর। তিনি দুরছড়ি মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ই জুলাই (শনিবার)রাত ১০টায় দোকানের বেচা-কেনা শেষ করে জাহাঙ্গীর দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসেন। এরপর ওই রাতেই ঘটে এই দুর্ধর্ষ চুরি।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চোরেরা দোকানের দরজার উপরের টিন কেটে ভেতরের শিকল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দোকানের সব মালামাল এলোমেলো করে প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে যায়।

    জাহাঙ্গীর বলেন, রাত ৩টার দিকে নুর আলম আমাকে ফোন করে জানায় দোকানের দরজা খোলা। শুনে আমি হতবিহ্বল হয়ে যাই। এসে দেখি দোকানের ভেতর সব তছনছ। প্রায় ৭০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়ে গেছে।

    কাউকে সন্দেহ করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কাউকে সন্দেহ করছি না। তবে প্রকৃত চোরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”

    এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, “আজ দোকানে চুরি হয়েছে, কাল ঘরবাড়িতে ডাকাতি হবে। এখনই অপরাধ দমন না করলে ভবিষ্যতে চরম মাশুল দিতে হবে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”

    স্থানীয়দের ধারণা, চুরির সময় ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ের ফুটবল বিশ্বকাপের ৩য় কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ চলছিল। রাস্তায় মানুষের আনাগোনা থাকায় চোরেরা বেশি সময় থাকতে পারেনি, তাই আরও বড় লুট করতে পারেনি।

    এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানিয়েছে।

  • ‎বাগেরহাটে টানা বর্ষণে সাত হাজার ঘের তলিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষতি, নিঃস্ব মৎস্যচাষিরা ‎


    বাগেরহাট প্রতিনিধি:
    ‎বাগেরহাটে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে সাত হাজারেরও বেশি মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো মৎস্যচাষি।
    ‎
    ‎গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় বাগেরহাট জেলার নিম্নাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়েছে। মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জেলার ফকিরহাট, চিতলমারী ও মোল্লাহাট উপজেলাসহ মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ এলাকার অন্তত ৭ হাজার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। অতিরিক্ত পানির চাপে খাল, নদী ও মাঠ একাকার হয়ে যাওয়ায় ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চাষিদের কয়েকশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিশেষ করে চিংড়ি চাষের জন্য পরিচিত এই এলাকাগুলোতে মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার ফলে চাষিরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টির তীব্রতা এবং পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় ঘেরের পাড় ভেঙে মাছ বেরিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা ঘটেছে, যা জেলার মৎস্য খাতের ওপর এক বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে।
    ‎
    ‎ভুক্তভোগী মৎস্যচাষিদের অভিযোগ, ব্যাংক ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা মাছ চাষ করেছিলেন, কিন্তু এই দুর্যোগ তাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। ফকিরহাট উপজেলার মৎস্যচাষি কাজী মিরাজুল ইসলাম জানান, ঘেরের ওপর হাঁটু সমান পানি থাকায় নেট ও কচুরিপানা দিয়ে মাছ রক্ষার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। মোল্লাহাট উপজেলার নাসির মিয়া জানান, তার ৫০ বিঘার দুটি ঘেরসহ আশপাশের এলাকা পানির নিচে চলে যাওয়ায় কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।

    চিতলমারীর মুমিনুল হক টুলুর মতো অনেক চাষিই এখন ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এদিকে, ঘের তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা খেওলা জাল নিয়ে পানিতে ভেসে আসা মাছ ধরতে ভিড় করছেন। মাঠজুড়ে ঘের ও ফসলি জমি একাকার হয়ে যাওয়ায় চিংড়ি, রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উন্মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যা চাষিদের জন্য চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    ‎
    ‎সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এবং ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, চাষিদের আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনা করে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং এনজিওর কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে মৎস্য বিভাগ সরাসরি কোনো আর্থিক সহায়তার কথা না জানালেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল চাষিদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিচ্ছেন।

    তিনি দাবি করেন, প্রতি বছর একই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়, তাই চাষিদের ঘেরের গভীরতা ও পাড়ের উচ্চতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবে চাষিদের অভিযোগ, দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি বা সরকারি কোনো কার্যকর সুরক্ষানীতি না থাকায় বারবার তাদের এমন লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে, যার কোনো সরকারি ক্ষতিপূরণ তারা পান না।
    ‎
    ‎এই প্রলয়ংকরী জলাবদ্ধতা কেবল বর্তমানের মৎস্য উৎপাদনকেই ব্যাহত করেনি, বরং ভবিষ্যতে জেলার সামগ্রিক মৎস্য অর্থনীতিকে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। কৃষি ও মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলের মানুষের জীবিকা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

    যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান বা পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নেওয়া না হয়, তবে আগামী মৌসুমে মাছ চাষে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাগেরহাটের মৎস্য ঘেরগুলো যেভাবে একের পর এক ধ্বংস হচ্ছে, তাতে কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
    ‎

  • কুবিতে নানা আয়োজনে জুলাই প্রতিরোধ দিবস পালিত


    কুবি প্রতিনিধি:
    জুলাই বিপ্লবে প্রথম সহিংস পুলিশি হামলা ও হামলার প্রতিবাদের স্বীকৃতিস্বরূপ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘প্রথম প্রতিরোধ দিবস’ পালিত হয়েছে।

    রবিবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

    অনুষ্ঠানে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম, মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনাম এবং আইসিটি বিভাগের প্রভাষক মবিনুর রহমান।

    এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর জাতীয় সংগীত ও জুলাই আন্দোলনে শহিদ কুবি ছাত্র আবদুল কাইয়ুমের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরবর্তীতে দেশাত্মবোধক গান এবং জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বীরত্ব খচিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনে কুবি শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা স্থানীয় লোকদের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে আলোচনা সভাটি শুরু হয়।

    শিক্ষার্থীদের পক্ষ হতে বক্তব্যে জুলাই পরবর্তী সময়ে ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও নতুন ক্যাম্পাসের সঙ্গে পুরাতন ক্যাম্পাসের সংযোগের জন্য একটি সংযোগ সড়কের দাবিও উপস্থাপন করা হয়।

    এসময় বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “২৪ এর আন্দোলন শুধু সরকার পতনের নয়, এটি রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলন। আমরা এমন রাষ্ট্র চাই যেখানে আইনের শাসন হবে, মেধার মূল্যায়ন হবে, গবেষণা, মানবতা ও জাতীয় উন্নয়ন রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারে এই দেশ আমাদের, এই দেশ ন্যায়ের, এই দেশ মানবতার। এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার।”

    উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ​”ইতিহাস আমাদের শুধু অতীতকে মনে করায় না, ভবিষ্যতের পথও দেখায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, সত্যে অবিচল থাকা এবং গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াই প্রতিরোধের প্রকৃত শিক্ষা। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে মতের ভিন্নতা ও প্রতিযোগিতা থাকলেও সহিংসতা, বৈষম্য বা পারস্পরিক অসম্মান থাকবে না।”

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরিফুল করীম বলেন, “​আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’। জুলাইতে ছাত্রীরা তাদের ভাইদেরকে আগলে রেখেছিল, তাদের ভাইদেরকে বিজয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। তাদের ভূমিকাকে স্মরণীয় করে রাখতে ছাত্রীদের জন্য আমরা একটি কর্নার তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, নাম হবে ‘অরুণিমা কর্নার’। কর্নারটিতে থাকবে, স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম, নামাজ পড়ার স্থান এবং ক্লাসের ফাঁকে বিশ্রাম নেয়ার ব্যবস্থা। প্রয়োজনে সেখানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারেরও ব্যবস্থা করা হবে বলেন জানান।”

    মুখ্য আলোচক অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, “জুলাইয়ের এই সফলতার মূল মন্ত্র ছিলো ঐক্য। দলমত নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের সকল মানুষ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। রাষ্ট্রের বিরোধী এই ক্ষমতার বিরুদ্ধে এই ঐক্যবদ্ধ শক্তি দাঁড়িয়েছিল বলেই এই দিবস সফল হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন শিক্ষার মানের উন্নয়ন। কুবির শিক্ষার্থীদের খাবার, আবাসন এবং যাতায়াত সুবিধার অগ্রগতির জন্য বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্ব দেয়ার প্রতি আহ্বান করছি।”

    সরকারি চাকুরি প্রাপ্তির বিষয়ে সায়মা ফেরদৌস বলেন, এখন পেছনের দরজা দিয়ে চাকুরি পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর হয়েছে, এসব বন্ধ করতে পেরেছি। সফলভাবে প্রশ্নফাঁস রোধ হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

    ​জুলাই প্রতিরোধ দিবস অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “ উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, আজকের অনুষ্ঠানের সম্মানিত মুখ্য আলোচক এবং আমার সকল সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যাঁদের আন্তরিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

  • ঘুষ না দেওয়ায় কোম্পানীগঞ্জে ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের বিল আটকে রাখার অভিযোগ

    নোয়াখালী প্রতিনিধি:
    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন খাতের বরাদ্দের বিল ছাড়ে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা।

    একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলার প্রায় ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কন্টিনজেন্সি বিল, বিদ্যুৎ বিল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিল, বিভিন্ন দিবস উদযাপন ব্যয়, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার উপকরণ ক্রয়, ক্রীড়া কার্যক্রম’র অর্থ জুলাই মাস’র ১২ তারিখ পেরিয়ে গেলেও এখনো ছাড় করা হয়নি। তাঁদের দাবি, ঘুষ না দেওয়ায় এসব বিল আটকে রাখা হয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়,অড়িট খরচ’র কথা বলে বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এ অর্থ সংগ্রহে কয়েকজন অসাধু প্রধান শিক্ষক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অফিস এবং কয়েকজন শিক্ষক নেতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা:আশরাফ-উল-আলম অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অফিসে জনবল সংকটের কারণে বিল প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আজই বিলগুলো ছাড় করে দেওয়া হবে। ঘুষ বা অবৈধ অর্থ দাবি করার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

    তবে, অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, বিল ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

  • বৃষ্টি প্লাবিত ৪৮ নং ওয়ার্ড পরিদর্শন করলেন কমিশনার প্রার্থী ওয়াকিল উদ্দিন রিফাত


    যাত্রাবাড়ি, ঢাকা প্রতিনিধি:
    কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির ফলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৮ নং ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলসমূহে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় প্লাবিত এলাকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চরম জনদুর্ভোগ নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আজ প্লাবিত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ৪৮ নং ওয়ার্ড কমিশনার পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট ওয়াকিল উদ্দিন (রিফাত)।

    সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় অ্যাডভোকেট ওয়াকিল উদ্দিনের সাথে উপস্থিত ছিলেন যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানার আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমানসহ ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে সৃষ্ট ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। ভোগান্তির শিকার নাগরিকদের আশ্বস্ত করে কমিশনার পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট ওয়াকিল উদ্দিন (রিফাত) বলেন, “টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনগণের যে কষ্ট হচ্ছে, তা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা সাধারণ মানুষের পাশে আছি।
    এই তীব্র জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ থেকে দ্রুততম সময়ে মুক্তির জন্য এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জনদুর্ভোগ থেকে সবাইকে হেফাজত করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রামগড় ৪৩ বিজিবি, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ


    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
    পাহাড়ের টানা বৃষ্টির ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত খাগড়াছড়ি জেলায় রামগড় উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রামগড় ৪৩ বিজিবি। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

    রবিবার (১২ জুলাই) ৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা, বন্যা পরিস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে জোন কমান্ডার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্ষয়ক্ষতি, জরুরি প্রয়োজন এবং চলমান পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।