Blog

  • কুবিতে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের উদ্যোগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

    কুবি প্রতিনিধি:
    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’র আয়োজনে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন সনাতন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এই আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, কুবির সভাপতি সজীব বিশ্বাসের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী, ফার্মেসী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ, সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পার্থ চক্রবর্তী, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তমা সাহাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

    এসময় অনুষ্ঠানে ফার্মেসী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, ‘সবাই মেধার স্বাক্ষর রেখেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছ। তাই তোমাদের প্রতি আমার দুটি প্রত্যাশা রয়েছে। প্রথমত, ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সনাতনী শিক্ষার্থীদের গর্বিত করা। দ্বিতীয়ত, লোভ ও আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অনেকেই ভুল পথে পরিচালিত হয়, তাই কোনো প্রকার ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। আমি আশা করি, তোমরা ভবিষ্যতে ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে।’

    পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী বলেন, ‘২০০৭ সালে তখন সাতটি বিভাগের ১৪–১৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল সনাতনী শিক্ষার্থীদের নিজেদের অবস্থান নিজেদেরই তৈরি করা। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। যে-কোনো সমস্যায় তোমরা নির্দ্বিধায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।’

    পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সজীব বিশ্বাস বলেন, ‘নবীন শিক্ষার্থীরাই আমাদের আগামী দিনের শক্তি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু পড়াশোনার নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চারও জায়গা। পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সবসময় সনাতনী শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা আশা করি, নবীন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে একটি সম্প্রীতিময় ক্যাম্পাস গড়ে তুলবে।’

  • ১০০ বোতল ভারতীয় মদ ও প্রাইভেটকারসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    মোঃ নাজিম উদ্দিন:
    ​ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ১০০ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি প্রাইভেটকারসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ​গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি গাজীপুর জেলাধীন শ্রীপুর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে। চক্রটি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অভিনব কায়দায় প্রাইভেটকারে করে মদ পাচার করে ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে আসছিল।

    ​ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ঐ তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ বোতল অবৈধ ভারতীয় মদ এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। ​

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবৎ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল। আটককৃতদের মধ্যে বিশেষ করে শ্রীপুর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের নাজমুল এই চক্রের মূল হোতা। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেটে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ​কোতোয়ালী মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

  • উজিরপুরে মৎস্য বিভাগের অভিযানে অর্ধকোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ


    উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারে মৎস্য বিভাগের বিশেষ অভিযানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। বুধবার ২২ জুলাই দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল ও বোডা জাল উদ্ধার করা হয়। মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০ (সংশোধিত-২০২৫) এর ধারা ৫ (১) অনুযায়ী পরিচালিত এ অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজার সহযোগীতা ও পরামর্শে অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার।

    অভিযানে অংশগ্রহণ করেন ক্ষেত্র সহকারী বিকাশ কুমার নাগ, অফিস সহকারী শৈলেন ঘরামী এবং উজিরপুর মডেল থানার এসআই মোঃ ফাহাদ সহ পুলিশের সদস্যরা। উজিরপুর উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মোট ১৯২টি চায়না দুয়ারি জাল, ১ লাখ ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৮৯টি বোডা জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব নিষিদ্ধ জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হারতা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জালের বেচাকেনা চলছিল।

    এসব জাল ব্যবহার করে নদ-নদী, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে নির্বিচারে মাছ ও মাছের পোনা আহরণ করা হচ্ছিল। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে মৎস্য বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    তারা অবৈধ জালের বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। বিষয়টি নিয়ে জনমত সৃষ্টি হলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে হারতা বাজারে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে বাজারে মজুদ ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি, মজুদ বা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল বিক্রি, মজুদ কিংবা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর হোক না কেন, কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।” উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা বলেন, “মৎস্য সম্পদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।

    নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবৈধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় সচেতন মহল মৎস্য বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শুধু বাজারে অভিযান চালালেই হবে না, নদী-খাল ও মাছ ধরার এলাকাগুলোতেও নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলেই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কমবে এবং দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হারতা বাজারে পরিচালিত এ অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও অবৈধ জালের বেচাকেনা ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন পরিবেশ সুরক্ষিত হবে।

  • চকপাড়া সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চকপাড়া সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৭ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ চকপাড়া বিওপির নায়েক মো. আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮০/৮-এস থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের রিফুজিপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে টহল দল মালিকবিহীন অবস্থায় ৯৭ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ করতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত সিরাপগুলো জিডি করে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সকল প্রকার চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

  • মেডিক্যাল কলেজের উপযোগীক্রম অবকাঠামো পরিদর্শনে; এআইআইবি’র প্রতিনিধি দল

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) সংসদ সদস্য নাসের রহমামা এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান (এআইআইবি’র) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। এ সফরে হাসপাতালের বর্তমান অবকাঠামো, সেবার মান এবং সম্ভাব্য উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলটি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখে এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। এ সফরকে জেলার স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এআইআইবি-এর ডিরেক্টর জেনারেল মিস্টার রজত মিশ্র এবং পিপিপি ডিরেক্টর সাঈয়েদ উদ্দিনের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হাসপাতালের বর্তমান অবকাঠামো, চিকিৎসাসেবার সুযোগ-সুবিধা, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. প্রণয় কান্তি দাশ, সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান, সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহমেদ ফয়সাল জামান এবং সংসদ সদস্য নাসের রহমানের একান্ত সহকারী মোহাম্মদ সাজাহান সিরাজ।

    জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে বুধবার (২২শে জুলাই) বিকেলে জানা যায়, এআইআইবি-এর এই সফরে স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও বিনিয়োগের পরিমাণ বা প্রকল্পের ধরন সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌলভীবাজারে আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার চাহিদা দীর্ঘদিনের। জেলার অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট বা ঢাকায় যেতে হয়। সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ হলে শুধু চিকিৎসাসেবার মানই বাড়বে না, পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    নাসের রহমানের উদ্যোগে এআইআইবি প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনকে মৌলভীবাজারের স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন সবার নজর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে কত দ্রুত বাস্তব উন্নয়ন প্রকল্পে রূপ নেয়।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল শুধু জেলার মানুষের জন্য নয়, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

  • পিএফজি গ্রুপের ত্রৈমাসিক সভায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স এডভাইজার এমা উইন্ড


    বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি:
    সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান এবং ধর্মীয় সহিংসতা পরিহার করে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বনাথ গড়ার লক্ষ্যে ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর সিলেট বিশ্বনাথ পিস ফেসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলা মডেল মসজিদ হলরুমে আয়োজিত এ সভায় বিগত তিন মাসের কাজের পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী তিন মাসের কর্মপন্থার রূপরেখা তৈরি করা হয়। সভায় আগামী দিনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান, আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্রিক সংঘাত রোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়।

    সমাজের সকল শ্রেণী, পেশা ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে পিএফজির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
    বিশ্বনাথ পিএফজির অ্যাম্বাসেডর ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোনায়েম খানের সভাপতিত্বে এবং কো-অর্ডিনেটর সাংবাদিক বদরুল ইসলাম (মহসিন)-এর পরিচালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠান চলাকালীন সভা পরিদর্শনে উপস্থিত হন ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স এডভাইজার এমা উইন্ড, এফসিডিও প্রতিনিধি তাসনিম সিদ্দিক, ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’ বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (মিপস) ড. নাজমুন নাহার নূর লুবনা, ইয়ুথ অ্যান্ড জেন্ডার এক্সপার্ট শারমিন সুলতানা লাবণ্য, এমআইপিএস প্রকল্পের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম মিনা এবং মাঠ সমন্বয়ক কুদরত পাশা।

    সভায় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, “কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের আশা না করে স্রেফ মানুষের কল্যাণে ও শান্তির লক্ষ্যে বিশ্বনাথ পিএফজির সদস্যরা সেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। সমাজে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে চলার মানসিকতা গড়ে তুললেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পিএফজির পিস-অ্যাম্বাসেডর প্রভাষক নাসরিন জাহান, সাংবাদিক তজম্মুল আলী রাজু, আন্তঃধর্মীয় কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা আবুল বশর ফারুক, উপজেলা জাতীয় পার্টির একাংশের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও পিএফজি সদস্য কাওছার খান, হাজী সিতাব আলী, প্রভাষক আফিয়া রশিদ, আব্দুর রব, নাজমা বেগম, রাসনা বেগম, আশিকুর রহমান রানা, হাসান মাহমুদ রিপন, মলয় ভট্টাচার্য, শফিক আহমদ পিয়ার, মুক্তা রানী, মিনা বেগম, জুসনা বেগম।

    এছাড়াও ওয়াইপিজি সদস্য হাসিনা বেগম, ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর শাহ টিপু মিয়া, সদস্য আজিজুর রহমান, ফয়ছল ইসলাম, আবদুল্লাহ, তানিয়া বেগম, সুমা বেগম, লিজা আক্তার শারমিন, সোহানা বেগমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নাচোলে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা মিনি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাস।

    সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও প্রিয়াংকা দাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

    তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ প্রতিরোধ, মাদক, বাল্যবিবাহ, সামাজিক নিরাপত্তা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল দেবনাথ, নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হক, নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহেরাব, পৌর জামায়াতের আমির মনিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সলেহ আকরাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. ফারহানা নবী, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বিআরডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বন্দনা শাহাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, কাজী, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিরা। সভায় উপস্থিত অতিথিরা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও বক্তব্য প্রদান করেন।

  • ফুটবল খেলা দেখতে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না: ১২ দিন পর সেপটিক ট্যাংকে মিলল মরদেহ, তদন্তে অনলাইন জুয়ার বিরোধের তথ্য” মূল আসামি সহ গ্রেপ্তার ৯ জন

    স্টাফ রিপোর্টার:
    বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা দেখতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা যুবক আব্দুল হাফেজ। এরপর টানা ১২ দিন নিখোঁজ থাকার পর উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫ এর জামতলী এলাকার একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হয় তার পচাগলা মরদেহ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অনলাইন জুয়ার টাকার বিরোধের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (৮ এপিবিএন)।

    পুলিশ জানায়, গত ২২ জুন রাতে উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫, জামতলী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাফেজ বন্ধুদের সঙ্গে টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ এপিবিএনের জামতলী পুলিশ ক্যাম্প অনুসন্ধান শুরু করে।

    গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৪ জুলাই রাত ৯টার দিকে ক্যাম্প-১৫ এর ব্লক-এইচ/৭ এলাকায় মোহাম্মদ রফিকের শেডসংলগ্ন একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আব্দুল হাফেজের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
    এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. জমিনুর রহমান বাদী হয়ে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়।

    ৮ এপিবিএনের দাবি, তদন্তে জানা গেছে যে আব্দুল হাফেজ ও প্রধান আসামি মোহাম্মদ রফিক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তারা একসঙ্গে অনলাইন জুয়া খেলতেন। একপর্যায়ে জুয়ায় হাফেজ রফিকের কাছ থেকে প্রায় ৫৬ হাজার টাকা জিতে নেন। ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

    তদন্তকারী সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই বিরোধের জের ধরে রফিক ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে হাফেজকে ডেকে নিয়ে টিপ ছোরা ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়।

    পুলিশ জানায়, গত ২০ জুলাই রাতে জামতলী পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আলা উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মোহাম্মদ রফিককে ক্যাম্প-১৪ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পরদিন ২১ জুলাই কক্সবাজারের আদালতে হাজির করা হলে রফিক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

    মামলার তদন্তে এজাহারভুক্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি মোহাম্মদ রফিকসহ চারজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন—তৈয়বা খাতুন, নাসিমা খাতুন, মো. কাশেম, মোহাম্মদ জাবের, ফেরদৌস, ফাতেমা, আয়েশা এবং সৈয়দুল ইসলাম ওরফে মলয়া।

    ৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম বলেন, “চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ৮ এপিবিএনের সদস্যরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ দমনে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
    তিনি আরও বলেন, “অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। ক্যাম্প এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৮ এপিবিএন সর্বদা সক্রিয় রয়েছে।

    হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর ক্যাম্প এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ক্যাম্প এলাকায় আরও কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশ গড়তে হবে: সালাউদ্দীন আলী


    হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
    পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত “৫ বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ, বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা, নারিকেল গাছের চারা, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের ইব্রাহিম মার্কেট চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। হাটহাজারী আসনের সাংসদ ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এবং নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আলহাজ সালাউদ্দীন আলী।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাউদ্দীন আলী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি চারার পরিচর্যা নিশ্চিত করে বড় করে তুলতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, “বায়ুদূষণের কারণে দেশে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ, ক্যান্সার, চোখ ও মস্তিষ্কের নানা জটিলতা বাড়ছে। এ সংকট মোকাবিলায় প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা কিংবা খালি জায়গায় ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছ ও শাকসবজির চাষের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত “৫ বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নেও সাধারণ মানুষের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং সমাজব্যাপী বৃক্ষরোপণ আন্দোলন গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

    পরিবেশ সংরক্ষণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সালাউদ্দীন আলী বলেন, বনায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকার, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।

    অনুষ্ঠান শেষে সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা, নারিকেল গাছের চারা, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়।

    নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুপালী বৈষ্ণব, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রবিউল আলম বুলবুল, হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ও নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্চু, নজরুল ইসলাম, মাস্টার আজমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক সুবিধাভোগী

  • গাজীপুর জেলা পরিষদ নিয়ে অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’, দাবি মানববন্ধনকারীদের

    গাজীপুর জেলা পরিষদ নিয়ে অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’, দাবি মানববন্ধনকারীদের

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    গাজীপুর জেলা পরিষদকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও কথিত অপপ্রচারের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা দাবি করেন, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে।

    বক্তাদের দাবি, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সরকারি বিধি-বিধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ৩৪ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) সোনালী ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমানে জেলা পরিষদের মোট ১১৫ কোটি টাকার এফডিআর গঠন করা হয়েছে।

    তাদের অভিযোগ, এফডিআর স্থানান্তরের বিষয়টি উপেক্ষা করে ৬২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম (উপসচিব)-এর বিরুদ্ধেও মানহানিকর বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

    মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, টেন্ডারে সুবিধাবঞ্চিত একটি স্বার্থান্বেষী চক্র জেলা পরিষদকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা গত ৩০ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদেরও প্রতিবাদ জানান।

    বক্তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করে জনস্বার্থ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।