Blog

  • নেত্রকোনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবাসহ নারী আটক

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ মরিয়ম বেগম (৩৬) নামে এক নারীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। জব্দকৃত ইয়াবার মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে ডিএনসি। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের হেনারগাতী বাজার এলাকায় আঠারোবাড়ী-কেন্দুয়াগামী সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।আটক মরিয়ম উপজেলার রয়েলবাড়ী ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের কুখ্যাত মাদক কারবারি জুয়েল মিয়ার স্ত্রী।

    নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে কেন্দুয়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান আসছে। এমন গোপন সংবাদে আজ সকালে সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে আঠারোবাড়ী-কেন্দুয়াগামী সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে চট্রগ্রাম থেকে আসা ‘আশেকানে হাওলাপুরী’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ওই বাসে থাকা মরিয়ম বেগমের কাছ থেকে দুটি প্যাকেটে রাখা মোট ৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। এছাড়া একটি আইটেল বাটন মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির ৩ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। পরে তাকে আটক করা হয়।

    ডিএনসি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম ও তার স্বামী জুয়েল মিয়া কুখ্যাত মাদক কারবারি। মরিয়ম চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবার বড় চালান নিয়ে আসতেন। পরে এসব ইয়াবা স্বামী-স্ত্রী মিলে এলাকায় বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় আটক মরিয়ম বেগমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী মাদক আইনে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক বলেন, মরিয়মকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বর্তমান সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সর্বদা তৎপর রয়েছে। মাদক অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • লোহাগাড়ায় বন্যাদুর্গত পরিবারের পাশে যুবদল নেতা এম.এ.মোরশেদ আলম : বিতরণ করলেন ঢেউটিন

    লোহাগাড়ার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা যুবদলের সাবেক গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এম.এ.মোরশেদ আলম।

    মঙ্গলবার ( ১৪ জুলাই ) দুপুরে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপজেলার তিনটি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

    যুবদল নেতা এম.এ.মোরশেদ আলম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আমি কাছ থেকে দেখেছি। অনেক পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁইও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।
    আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

    তিনি সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    এদিকে , ঢেউটিন পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বন্যায় আমাদের ঘরের চাল নষ্ট হয়ে যায়। টিন পাওয়ায় এখন ঘর মেরামত করতে পারব। এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।

    স্থানীয়রা জানান, দুর্যোগের সময় এম.এ.মোরশেদ আলমের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও তিনি অসহায় মানুষের পাশে থেকে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবেন।

    বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরের চাল ও বসতঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে প্রয়োজনীয় ঢেউটিন তুলে দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।

  • প্রাথমিক বৃত্তিতে উপজেলার শীর্ষে সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল

    নাটোর প্রতিনিধিঃ
    ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শীর্ষে অবস্থান করছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

    ​২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত সুনাম কুড়ানো এই প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ‘বিয়াম ফাউন্ডেশন’ দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।

    ​চলতি বছরের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ২২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ১৬ জন শিক্ষার্থীই কৃতিত্বের সাথে বৃত্তি লাভ করেছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৯ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। পাসের হার ও বৃত্তির সংখ্যার দিক থেকে এটি উপজেলার মধ্যে সেরা ফলাফল।
    ​প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শাহাদত হোসেন জানান, ২০২২ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবারও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। বিরতির আগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরে তারা আনন্দিত। তিনি বলেন।

    ​সর্বশেষ ২০২২ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১১ জনই বৃত্তি পেয়েছিল, যা ছিল শতভাগ সাফল্য। স্কুল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নিবিড় পাঠদান এবং অভিভাবকদের সচেতনতা ও সহযোগিতার সম্মিলিত ফসলই আজকের এই অনন্য অর্জন। আমরা আশাবাদী, সাফল্যের এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

    ​প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও নিয়মিত মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন।

    ​”উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ সু-শৃঙ্খল পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। পিছিয়ে পড়া বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পরিচর্যার ব্যবস্থাও রয়েছে। আমরা সবসময়ই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করছি। এই নিয়মতান্ত্রিকতা ও কঠোর তদারকির কারণেই শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর এমন গৌরবময় ফলাফল উপহার দিতে পারছে।

  • উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মুন্না, সদস্য সচিব সিয়াম


    বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুরে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত সংগঠনের এক সভায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পূর্ববর্তী কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সর্বসম্মতিক্রমে ৩ সদস্যবিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

    সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আমার সংবাদ ও ভোরের অঙ্গীকার প্রতিনিধি নাজমুল হক মুন্নাকে আহ্বায়ক এবং দৈনিক ঘোষণা ও সময়ের বার্তা প্রতিনিধি মোঃ জুনায়েদ খান সিয়ামকে সদস্য সচিব, যুগ্ম আহ্বায়ক দৈনিক হিরন্ময় প্রতিনিধি বিপ্লব চন্দ্র হাজারী মনোনীত হয়।

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৯০ (নব্বই) দিন অথবা পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি সদস্য তালিকা হালনাগাদ, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং আমাদের সময় ও বাংলার জাগরণ প্রতিনিধি আঃ রহিম সরদার। সভা পরিচালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক এশিয়ান টিভি বরিশাল জেলা প্রতিনিধি মোঃ নাসির উদ্দিন ও দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি কল্যাণ কুমার চন্দ।

    এ সময় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ, উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও সময়কাল প্রতিনিধি বাসুদেব পাড়ুয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং আমার দেশ ও বৈশাখী টেলিভিশন প্রতিনিধি মোঃ মাহাফুজুর রহমান মাসুম, সদস্য বিডি প্রভাত প্রতিনিধি মোঃ রফিকুল ইসলাম, দৈনিক কালবেলা প্রতিনিধি মোঃ সোহাগ হোসেন, দৈনিক শাহনামা প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা আকাশ সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বক্তারা বলেন, উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকাশ, সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং পেশাগত কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি সাংবাদিকদের ঐক্য সুসংহত করা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

    বক্তারা আরও বলেন, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে উজিরপুরে কর্মরত সকল পেশাদার সাংবাদিকের সহযোগিতা, গঠনমূলক পরামর্শ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করা হয়।

  • গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষকদের পাহারায় ব্যর্থ ট্রান্সফরমার চুরি, ফেলে গেল পরিচয়পত্র সহ নানা আলামত

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির আরেকটি চেষ্টা স্থানীয়দের সতর্কতায় ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় চোরচক্রের সদস্যরা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, গেঞ্জি, টর্চ (ডায়াস) লাইট, সিগারেটের প্যাকেট, দুই জোড়া প্লাস্টিকের স্যান্ডেল, প্লাস্টিকের রশি, মানিব্যাগ, একটি বাঁশসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ফেলে যায়। এসব আলামত ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজমতপুর মৌলভীবাড়ি গভীর নলকূপের আওতায় কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার জন্য তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে একটি ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে পালাক্রমে রাত জেগে ট্রান্সফরমার পাহারা দিচ্ছেন।

    স্থানীয়দের দাবি, ১৩ জুলাই দিবাগত গভীর রাতে একই চক্র আবারও একটি ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে আসে। তবে পাহারায় থাকা লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। তড়িঘড়ি করে পালানোর সময় ঘটনাস্থলে ফেলে যায় চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

    গভীর নলকূপের চালক আবু তৈয়ব আখন্দ জানান, রাত প্রায় ৩টার দিকে তিনি ট্রান্সফরমার দেখতে গেলে দুই ব্যক্তিকে সেখানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তিনি তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপি, মানিব্যাগ, টর্চ লাইট, প্লাস্টিকের রশিসহ বিভিন্ন আলামত পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় কৃষক আনিসুর রহমান আখন্দ, শফিকুল ইসলাম, মজিবুর রহমান ও আকিব হোসেন বলেন, “ট্রান্সফরমার রক্ষা করতে এখন আমাদেরই রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। কৃষিকাজ সামলানোর পাশাপাশি এ দায়িত্ব পালন করা খুবই কঠিন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা গভীর রাতে চোরদের বাধা দিতে গেলে জীবনের ঝুঁকিও থাকে। বারবার চুরির ঘটনায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

    তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে যখন গভীর নলকূপের প্রয়োজন থাকে না, তখন ট্রান্সফরমার খুলে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হলে চুরির আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে। শুষ্ক মৌসুমে আবার তা পুনরায় স্থাপন করা যেতে পারে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা একাধিকবার ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র বারবার একই স্থানে হামলার সাহস পাচ্ছে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতেই ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। কোনো গ্রাহক আবেদন করলে বর্ষা মৌসুমে ট্রান্সফরমার খুলে পল্লী বিদ্যুতের হেফাজতে অথবা গ্রাহকের নিজস্ব হেফাজতে রাখা যেতে পারে। পরে প্রয়োজন হলে পুনরায় সেটি স্থাপন করে দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, “এ ধরনের ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে গ্রাহকের আবেদন ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।”

  • অনিয়মের অভিযোগে বাপুস নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ, পুনঃগণনা আবেদন

    ঝালকাঠি সংবাদদাতাঃ বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) ঝালকাঠি জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন (২০২৬–২০২৯)-এ সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট পুনর্গণনা, অভিযোগ তদন্ত এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলের কার্যকারিতা স্থগিতের দাবিতে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন পরাজিত প্রার্থী আবু জাফর বিশ্বাস।

    আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গণনার সময় তাঁর মনোনীত পোলিং এজেন্ট মাওলানা মোহাম্মদ মহসিনকে কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই গণনাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ফলে তিনি ভোট গণনা প্রত্যক্ষ করতে পারেননি এবং ফলাফল সংক্রান্ত নথিতে তাঁর স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, এ ধরনের ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

    আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোট গণনা শুরুর আগেই প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে—মর্মে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, যা নির্বাচন পরিচালনার স্বাভাবিক বিধি ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি দাবি করেছেন।

    আবু জাফর বিশ্বাস বলেন, “আমি সদস্যদের গণতান্ত্রিক রায়কে সর্বোচ্চ সম্মান করি। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সদস্যদের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। আমি কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধে নয়; বরং সত্য উদ্ঘাটন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সংগঠনের গণতান্ত্রিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে সকল প্রার্থী বা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদক পদের সব ব্যালট পুনর্গণনার আবেদন জানিয়েছি।

    আবেদনে তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সকল প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভোট পুনর্গণনা, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বাপুসের গঠনতন্ত্র ও নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক পদের ঘোষিত ফলাফলের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।

    এ বিষয়ে বাপুস ঝালকাঠি জেলা শাখার নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপরই পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করবে।

    এদিকে, বাপুসের সদস্যদের একাংশের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনে ভোট পুনর্গণনার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে এবং সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চা ও সদস্যদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

  • চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকার ও অস্ত্র সহ গ্রেফতার ৩


    লোহাগাড়ার প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়া থানাধীন চুনতি জাঙ্গালিয়া চেকপোস্টে পুলিশি সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করে একটি প্রাইভেটকার সহ তিনজন অস্ত্রধারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে ২টি দেশীয় তৈরি এলজি (অস্ত্র) উদ্ধার করা হয়।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সরকারি মহিলা কলেজের গেটের সামনে মহাসড়কে এ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন পর্যায়ক্রমে ১) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার গাছির বাড়ীর বাসিন্দা মৃত রব পাটোয়ারীর ছেলে হোসাইন আহম্মেদ (৪২)। ২) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা আবদু শুক্কুরের ছেলে আয়াত উল্লাহ(২৮)। ৩) ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ কোনাপাড়া, সরতাজ বাহের এলাকার বাসিন্দা নবী হোসেন এর পুত্র মো: আসাদুজ্জামান(৩৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে চুনতি জাঙ্গালিয়া চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে কক্সবাজারমুখী একটি সিলভার রঙের প্রাইভেটকারকে (ঢাকা মেট্রো-গ-১৭-৩০৬৫) থামার সংকেত দেয় পুলিশ। কিন্তু চালক সংকেত অমান্য করে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

    তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ গাড়িটির পেছনে ধাওয়া করে এবং চুনতি সরকারি মহিলা কলেজের গেটের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটি থামাতে সক্ষম হয়। পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের সিটের নিচ থেকে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ২টি দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে গাড়িতে থাকা ৩ আরোহীকে গ্রেফতার এবং প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।

    সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামীকাল সকালে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • ‎নাসিরনগরের মহিষবেড়ে বাড়ির সিঁড়িতে মিলল ০২-০৩ দিনের নবজাতক, খোঁজ নেই মা-বাবার। ‎


    , স্টাফ রিপোর্টার :

    ‎ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের মহিষবেড় গ্রামে একটি বাড়ির সিঁড়ি থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের (প্রায় ২-৩ দিন বয়সী) এক নবজাতক ছেলে শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে শিশুটিকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
    ‎মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার মহিষবেড় গ্রামের ফাইজুল ইসলামের মাদারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    ‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের কোনো এক সময় কে বা কারা বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় ওঠার সিঁড়িতে নবজাতক শিশুটিকে রেখে চলে যায়। সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে শিশুর কান্নার শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে তাকে দেখতে পান। পরে তারা শিশুটিকে কোলে নিয়ে প্রাথমিক পরিচর্যা করেন।
    ‎খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে একনজর দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। এ সময় অনেকেই শিশুটিকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করলে সেখানে কিছুটা হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

    ‎নাসিরনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল জানান, নবজাতকটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। তার পরিচয় শনাক্ত, চিকিৎসা এবং দত্তক সংক্রান্ত বিষয়ে আগামীকাল সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরিচয় শনাক্ত না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করে যোগ্য দম্পতির কাছে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ‎নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নবজাতকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং সমাজসেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে আছে। কেউ শিশুটিকে দত্তক নিতে চাইলে সমাজসেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।”

    ‎নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, “শিশুটি সুস্থ রয়েছে। বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিচয় শনাক্ত না হলে আইন অনুযায়ী দত্তকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  • এইচএসসি পরীক্ষা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি: সংকট উত্তরণে আবেগের চেয়ে বিবেক ও যৌথ দায়বদ্ধতা বেশি প্রয়োজন


    এইচ এম হাকিম:

    প্রকৃতির আকস্মিক রূপবদল আমাদের মাঝে মাঝেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করায়। সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক ও লোকালয় হুট করেই প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্রতা ও পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনার কারণে গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন পানির নিচে। প্রকৃতির এই আকস্মিক আচরণে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন তার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসে লেগেছে আমাদের তরুণ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর। বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা গ্রহণ ও স্থগিত করা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে চরম উত্তেজনা। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, কিছু শিক্ষার্থী বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি তুলে রাজপথে নেমেছে। কিন্তু আবেগের বশে নেওয়া এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলন পরিস্থিতিকে কতটা জটিল করে তুলছে, তা আজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
    আন্দোলনের নামে রাজপথে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা
    দাবি আদায়ের অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজে সকলেরই রয়েছে। কিন্তু সেই দাবি আদায়ের পথ যদি সহিংসতা ও জনভোগান্তির জন্ম দেয়, তবে তা মূল লক্ষ্যকেই কলঙ্কিত করে। আজ ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যে ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই সচেতন সমাজ আশা করেনি।
    সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেয়। প্রথমার্ধে আন্দোলন শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিক থাকলেও, দুপুরের পর কিছু অতি-উৎসাহী এবং উস্কানিদাতার অনুপ্রবেশে পরিস্থিতি দ্রুত ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
    গণপরিবহন ভাঙচুর ও পথচারী ভোগান্তি: দুপুরের পর দেশের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষের প্রাইভেট কারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালানো হয়। সড়ক পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখায় রাজপথে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মুমূর্ষু রোগী থেকে শুরু করে সাধারণ অফিসগামী মানুষ ও বয়োবৃদ্ধদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
    সরকারি স্থাপনায় হামলা ও সংঘর্ষ: একপর্যায়ে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশের সাথে তাদের দফায় দফায় ধস্তাধস্তি হয়। বোর্ডে থাকা সরকারি সম্পত্তি ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ পথচারী আহত হন।
    শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে কখনো শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এই সহিংসতা সাধারণ মানুষের সহানুভূতি অর্জনের পরিবর্তে উল্টো ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।
    অতীতে শিক্ষা খাতের সংস্কার ও এহসানুল হক মিলনের আপসহীন নেতৃত্ব
    যারা আজ আন্দোলনের মাঠে দাঁড়িয়ে বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন, তাদের হয়তো বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের ইতিহাস এবং এহসানুল হক মিলনের পূর্বতন অবদান সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই। অতীতেও তিনি অতি বিচক্ষণতার সহিত এই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করেছিলেন। সেই সময়কার শিক্ষা খাত আর আজকের শিক্ষা খাতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। তাঁর আমলের কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ আজও দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে:
    নকল মুক্ত পরীক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন: বিংশ শতাব্দীর শেষে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলাদেশের পরীক্ষা পদ্ধতিকে গ্রাস করেছিল ‘নকলের মড়ক’। সেই অন্ধকার যুগ থেকে দেশকে মুক্ত করতে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন। কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করে, গভীর রাতে ও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নিজে সশরীরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে নকল সরবরাহকারী ও অসদুপায় অবলম্বনকারীদের হাতেনাতে ধরেছেন। তাঁর এই আপসহীন অনমনীয় পদক্ষেপের ফলেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘নকল মুক্ত’ পরীক্ষা পদ্ধতির যুগে প্রবেশ করে।
    প্রশ্নফাঁসের কঠোর প্রতিরোধ: বর্তমানের মতো উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি বা সিসিটিভি ক্যামেরা সে আমলে ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁর অসাধারণ গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক নজরদারির কারণে প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেটগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। প্রশ্ন কেনাবেচার বাজার তিনি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সক্ষম হন।
    সেশন জটের অভিশাপ থেকে মুক্তি: দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা সেশন জট নিরসনে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মতান্ত্রিক ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করে তিনি লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে গতি ফিরিয়ে এনেছিলেন।
    যিনি শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কারিগর, তাঁকে আজ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো চরম অকৃতজ্ঞতা ও অবিবেচকতার শামিল।
    পরীক্ষা আয়োজনের যৌথ দায়বদ্ধতা: মন্ত্রী একা দায়ী নন
    একটি সাধারণ সত্য আমাদের উপলব্ধি করতে হবে—এইচএসসি বা সমমানের একটি বিশাল জাতীয় পাবলিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। এটি একটি অত্যন্ত জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে বহু স্তরবিশিষ্ট চেইন কাজ করে।

    নীতিনির্ধারণী পর্যায়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা সচিব এবং দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে সামগ্রিক খসড়া তৈরি হয়।
    field-level বা মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন: মাঠ পর্যায়ে সরাসরি দায়িত্বে থাকেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। প্রতিটি কেন্দ্র পরীক্ষা নেওয়ার উপযোগী কি না, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে কি না—তার চাক্ষুষ রিপোর্ট দেন তারা।
    বাস্তবায়নকারী শক্তি: কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অংশগ্রহণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
    যখন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, রাস্তাঘাটের বন্যা এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের দেওয়া বাস্তব রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষা স্থগিত বা বিকল্প চিন্তা করা হয়, তখন তার পুরো দায় একা শিক্ষা মন্ত্রীর ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক? দেশের এই বিশাল দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রশাসন সম্মিলিতভাবে যে সিদ্ধান্ত নেয়, তা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মঙ্গলের জন্যই নেওয়া হয়। এখানে এককভাবে কাউকে বলির পাঁঠা বানানো মোটেও কাম্য নয়।
    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রীর বার্তা এবং আর একটি সুযোগের যৌক্তিকতা
    আজকের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে অত্যন্ত ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল বক্তব্য রেখেছেন শিক্ষা মন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন:
    “আমরা বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যালোচনা করছি। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে তাদের পরীক্ষাটি পুনরায় গ্রহণের ব্যাপারেও আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেব। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তারা আমার সন্তানের মতো; আমি অনুরোধ করব তোমরা বিশৃঙ্খলা পরিহার করে পড়ার টেবিলে ফিরে যাও।”
    একই সাথে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প প্রশ্নপত্রের সেটে পরীক্ষা নেওয়ার বিশেষ টেকনিক্যাল প্রস্তুতিও শিক্ষা বোর্ড গ্রহণ করছে।
    শিক্ষা মন্ত্রীর এই সহমর্মিতাপূর্ণ বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তিনি সমস্যার সমাধান করতে আন্তরিক। সংকটের এই ক্রান্তিলগ্নে তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়ার জেদ না ধরে, তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। অভিজ্ঞতা এবং কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যার রয়েছে, তিনিই পারেন এই অচলাবস্থা থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পথ বের করে দিতে।
    বিকল্পের শূন্যতা: তিনি না থাকলে হাল ধরবে কে?
    বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না—আজ যদি শিক্ষার্থীদের হঠকারী দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রী পদত্যাগ করেন, তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কাকে করা হবে? এমন জাতীয় সংকটের মুহূর্তে নতুন কেউ এসে কি এহসানুল হক মিলনের মতো একজন প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী এবং কঠোর প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন?
    নতুন কোনো ব্যক্তির পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো এই বিশাল ও জটিল প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞ বুঝে উঠতে উঠতেই দীর্ঘ সময় কেটে যাবে। এর ফলে পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য থমকে যাবে, যা প্রকারান্তরে শিক্ষার্থীদের সেশন জটের নতুন ও ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে। আবেগ দিয়ে সাময়িক তৃপ্তি পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু তা ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কোনো কাজে আসে না।

  • যেই কথা সেই কাজ এমপি আব্দুল মান্নান, ১০১ শয্যার অনুমোদন পেল নবীনগর হাসপাতাল

    নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি :

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও সহজে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করবেন।

    জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের যোগাযোগ করেন। তার এই উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতেই নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন পাওয়া যায়।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে দেশের বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং নবসৃষ্ট উপজেলাসহ ১৩টি নতুন ১০১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, “আমি নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে নবীনগরবাসীকে কথা দিয়েছিলাম, ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেই প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফল এসেছে। হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন হয়েছে। এটি নবীনগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও আমার নির্বাচনী অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন।”

    তিনি আরও বলেন, “এতে শুধু শয্যা বাড়বে না, নতুন চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামো যুক্ত হওয়ায় নবীনগরের মানুষকে চিকিৎসার জন্য অযথা জেলা শহর বা ঢাকামুখী হতে হবে না। আমি নবীনগরের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, মানসম্মত ও জনবান্ধব করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাব।”