Blog

  • খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে ৩ জন নিহত

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

    খাগড়াছড়ি পানছড়ি উপজেলায় চেঙ্গী ইউনিয়নের মধু মঙ্গল পাড়াতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সংগঠন ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সংগঠনে সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন।

    পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে তিনজন নিহতের খবর দিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ।

    ওসি জানান, পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধু মঙ্গল পাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এসময় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ঘটনাস্থল দুর্গম হওয়ায় লাশ উদ্ধারে সময় লাগছে।

    তবে এনিয়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

  • আশুগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় এপিএসসিএল প্রকৌশলীর স্ত্রী নিহত, চালক আটক


    রিপোর্টার :

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোলচত্বর এলাকায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নারী আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেনের স্ত্রী বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভৈরবের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ। তারা নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করাসহ এর চালককে আটক করতে সক্ষম হয়।

    খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ডভ্যানের চালককে আটক করা হয়েছে এবং গাড়িটি আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

    মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।

  • খাগড়াছড়িতে মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে একজন মৃত্যুদণ্ড

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

    খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মো: শাহিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শিশুটি সাত বছরে বয়সী।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে খাগড়াছড়ি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো: শাহিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    আদালতে নিযুক্ত রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি মো: শাহিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
    আদালত সূত্রে জানা যায় , গত বছরের ২৫ জুলাই খাগড়াছড়ির রামগড়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে রামগড় থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চা–দোকানি মো: শাহিনকে গ্রেপ্তার করে।

    ঘটনার এক বছরের মধ্যেই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সৃজনী ত্রিপুরা বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটির রায় ঘোষণা করায় আমরা সন্তুষ্ট। এই রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।

    অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেদারুল ইসলাম রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট নয়। এ মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় নিই। তাই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে বলে জানান।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    “উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

    সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিবসটির উদ্বোধনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নরুল ইসলাম বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য, পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমবিষয়ক ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, সুফলভোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, অতিথিদের বক্তব্য এবং নির্বাচিত সুফলভোগীদের মাঝে গাছের চারা ও ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

    স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক আবু হাসান মো. সাঈদ বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই পল্লী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খাল খনন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, পরিবার কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ সফলভাবে উদযাপনে সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সমবায় সমিতির সদস্য এবং সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

    আলোচনা সভা শেষে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে রানীনগর কৃষক সমবায় সমিতি এবং নামোগ্রাম মহিলা সমবায় সমিতিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় রানীনগর কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আফসার উল আলম এবং নামোগ্রাম মহিলা সমবায় সমিতির সভাপতি রহিমা আক্তার প্রধান অতিথির কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন।
    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসা. সাহিদা আখতার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জের কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন আলীসহ বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

  • কটিয়াদীতে জমি বিরোধে সাবেক সেনা সদস্যকে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত আপন ছোট ভাই

    কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভাধীন ৬নং ওয়ার্ডের তেলিচাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোঃ রাজু মিয়া (৪৬) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করা হয়েছে। আহত রাজু মিয়া তেলিচাড়া গ্রামের মোঃ হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে মোঃ রাজু মিয়ার সাথে তার আপন ভাই মোঃ মামুন মিয়া (৩৭)-এর বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে মামুন মিয়া রাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওতপেতে থাকে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো দা ও লাঠি দিয়ে রাজু মিয়ার মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে।

    গুরুতর অবস্থায় প্রথমে রাজু মিয়াকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। 

    হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত সেনা সদস্যের মাথার সামনে ও পেছনে নয়টি সেলাই লেগেছে এবং তার অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। প্রথম অবস্থায় তার শাররীক অবস্থা শঙ্কাজনক হওয়ায় 

    উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছিলেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মামুন মিয়া একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। 

    সাম্প্রতিক তার আপন ভাইয়ের সম্পত্তি গ্রাস করতে সে নিষিদ্ধ সংগঠন কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ এমদাদুল হক রাতুল (পিতা: মোঃ বাদল মিয়া, সাং: দশপাখী)-সহ একদল ভাড়াটিয়া ক্যাডারকে নিয়ে এই হামলা চালায়। 

    উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাতুল কিছুদিন আগেই জেল থেকে জামিনে বের হয়ে টাকার বিনিময়ে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

    এই নৃশংস হামলার ঘটনায় আহত সেনা সদস্য রাজু মিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছেন বলে জানা যায় । পুলিশ জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে। 

    ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং গুরুতর আহত সেনাসদস্যের নিজ বাড়িতে তার ছোট ভাই তালাবদ্ধ করে রেখেছে। বর্তমানে বড়ো ভাই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে তার শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়। 

    স্থানীয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • বাংলা একাডেমিতে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক

    স্টাফ রিপোর্টার (যাত্রাবাড়ি,ঢাকা):

    বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি, দেশবরেণ্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিন্তক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক-এর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে রাষ্ট্র ও সর্বস্তরের জনগণ। গতকাল রবিবার (৫ই জুলাই) তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে(ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন -মিরপুর) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    আজ ৬ জুলাই (সোমবার) সকাল ১০:৩০টায় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহ প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে আনা হয়। সেখানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের নেতৃত্বে একাডেমির সচিব, পরিচালকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মন্ত্রী তাঁর স্মৃতি চারণ করে বলেন, “অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন আমাদের সমাজ ও মননশীলতার এক আলোকবর্তিকা।” তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ সংরক্ষণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

    এছাড়াও শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ স্মৃতিসংঘ, বাংলা একাডেমি কর্মচারী ইউনিয়ন, এবং বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিবৃন্দসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারপর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে) সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে মরহুমের শেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে এই মহান শিক্ষাবিদের মরদেহ মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় চিরনিদ্রায় শায়িত করার জন্য।

    শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সাহিত্য সাংসাকৃতিক কর্মীরা বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের এই প্রয়াণে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা আগামী প্রজন্মের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবে।

    উল্লেখ্য, গুণী এই অধ্যাপকের ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দু’টি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই রয়েছে। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’র মতো তার লেখা অন্তত ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো একাধিক গ্রন্থও। এছাড়াও অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

  • জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু

    হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

    হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ও নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু বলেছেন, “জুলাই আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই মাস শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়, বরং অন্যায়, নিপীড়ন, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক। জুলাই আমাদের শিখিয়েছে—দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন হলে মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও পিছপা হয় না।”
    তিনি বলেন, “যারা দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। জুলাইয়ের শহিদরা আমাদের বিবেক, আমাদের অনুপ্রেরণা এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার পথপ্রদর্শক। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত চেতনা আমাদের সবসময় সত্য, ন্যায় ও জনকল্যাণের পথে চলার শক্তি জোগাবে।”
    বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু আরও বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এই চেতনাকে আমাদের ব্যক্তি জীবন, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক আদর্শে ধারণ করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার মধ্য দিয়েই শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।”
    তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের ত্যাগও কোনো অংশে কম নয়। অনেকেই স্থায়ীভাবে শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন, আবার অনেক পরিবার আজও সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। তাঁদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ এবং আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু একজন মানুষকে সহায়তা করা নয়, বরং জুলাইয়ের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো।”
    তিনি আরও বলেন, “নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের প্রকৃত ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং গণমানুষের সংগ্রামের কথা তুলে ধরতে হবে। যেন তারা দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে।”
    শেষে বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের আত্মত্যাগ আমাদের কাছে এক পবিত্র আমানত। এই চেতনা বুকে ধারণ করে দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে শহিদদের প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।”

  • আমতলীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

    “উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনার আমতলী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

    সোমবার সকাল ১০টায় আমতলী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।

    আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম বাদল। শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও পবিত্র গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

    স্বাগত বক্তব্য দেন বিআরডিবি কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আলম।
    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম, আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সোহেল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল, বিআরডিবি চেয়ারম্যান মো. মঈনউদ্দীন মামুন এবং আমতলী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কবির ফকির।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমতলী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আবু জিহাদ, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান সালেহ, সাংবাদিক শাওন খান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায় সমিতির সদস্য, বিআরডিবির গ্রাহক ও সুবিধাভোগী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে মোছা. ফাতেমা বেগম বলেন, “২০১১ সাল থেকে আমি বিআরডিবির সঙ্গে যুক্ত। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা সচেতন হচ্ছি। পরিবেশবান্ধব গ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

    অপর সুবিধাভোগী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “বিআরডিবি থেকে ঋণ নিয়ে আমি ছাগল, হাঁস ও মুরগি পালন শুরু করেছি। বর্তমানে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।”

    বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পল্লী এলাকার অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমবায় কার্যক্রম জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

    সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানের শেষে নির্বাচিত কয়েকজন সুবিধাভোগীর মাঝে নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন উপকারভোগীর হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

    ??????????????????????????????????????????????????????????????????
    আমতলীতে শ্রমিকদল সভাপতিকে কুপিয়ে

    হত্যার ঘটনায় ২ আসামী গ্রেপ্তার

    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।।

    আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়নের শ্রমিক দল সভাপতি কালিবাড়ী গ্রামের মো. রিপন কাজী (৩৫) হত্যা মামলার দুই আসামী সোহাগ কাজী (৩০ ও রাসেল কাজী নামে দুই আসামীকে র‌্যাবের সহযোগিতায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে রবিবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে পটুয়াখালী থানা পুলিশ। সোমবার সকালে তাদেরকে পটুয়াখালী আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার সময় চাচাত ভাইদের হাতে খুন হন রিপন কাজী। এ ঘটনায় ৭ জনকে আসামী করে নিহতের মা আমেনা বেগম পটুয়াখালী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাশ^বর্তী পটুয়াখালী জেলার মুরচবুনিয়া ইউনিয়নের গগন খা বাজারে ঘুরতে গিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে আপন চাচাত ভাইদের হাতে খুন হন গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন কাজী। হত্যা কান্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার ৭জনকে আসামী করে নিহতের মা আমেনা বেগম পটুয়াখালী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পটুয়াখালী সদর থানার পুলিশ র‌্যাব -৮ এর সহায়তায় গোপস সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা শহর থেকে সোহাগ ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করে।

    পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রিপন কাজী হত্যা মামলার ২ আসামীকে র‌্যাবের সহায়তায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা শহর থেকে রবিবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেচচষ্টা চলছে।

  • আইনি মতামতের ভিত্তিতে কুবিতে ৫ অনুষদে ডিন নিয়োগ

    কুবি প্রতিনিধি:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পাঁচটি অনুষদে স্থায়ীভাবে পাঁচজন ডিন নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, কমিটির রিপোর্ট এবং দায়েরকৃত সিভিল পিটিশনের উপর আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে উপাচার্য কর্তৃক এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এই তথ্য জানা যায়।

    ডিন হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন, বিজ্ঞান অনুষদে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার, কলা ও মানবিক অনুষদে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রকৌশল অনুষদে সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ফিনান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: এমদাদুল হক।

    নিয়োগসংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ১০৯ এবং ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এর ধারা ২২, ডিন নিয়োগের বিষয়ে গঠিত কমিটির রিপোর্ট এবং ডিন নিয়োগের বিষয়ে রিট পিটিশন নং-৩০৪৫ অব ২০২০ এবং পরবর্তীতে ‘সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু অ্যাপিল’ নং ৯৩৭ অব ২০২০ এর উপর আইন উপদেষ্টার পরামর্শ বিবেচনায় উপাচার্য ডিন নিয়োগের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

    প্রশাসন থেকে জানানো হয়, এবারের ডিন নিয়োগে বিভাগের পালাক্রম অনুসরণ করা হয়েছে। তবে পূর্বে প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন অনুষদে একাধিকবার বিভাগের পালাক্রমে ব্যত্যয় ঘটানোর ঘটনা ঘটায়, সেগুলোকে আমলে নিয়ে যে বিভাগ থেকে ব্যত্যয় ঘটেছে সেই বিভাগ থেকেই শুরু করা হয়েছে এবারের ডিন নিয়োগের কার্যক্রম।

    এক্ষেত্রে আরো জানায়, বিভাগের পালাক্রমে যে বিভাগ এসেছে, সেখানে আবার শিক্ষকদের মধ্য হতে জৈ্যষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে হলেও উক্ত বিভাগে পূর্বে ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে কিংবা কেউ আইনি জটিলতায় থাকলে তাদের পরবর্তীজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সকল কিছু বিবেচনায় নিয়েই ডিন নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে কোনপ্রকার বিতর্কের জন্ম না হয়।

    সদ্য ডিন নিয়োগের আদেশের আগে গত ২০ মে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ জাকির ছায়াদউল্লাহ খান, প্রকৌশল অনুষদে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ তোফায়েল আহমেদ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, কলা ও মানবিক অনুষদে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম ডিনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সেই অফিস আদেশে বলা হয়েছিল, আইন উপদেষ্টার মতামত না আসা পর্যন্ত তারা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    নতুন ডিন নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, পূর্বে ডিন নিয়োগে একাধিকবার নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। সেসব ব্যত্যয় আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, দায়েরকৃত পিটিশন, আইন উপদেষ্টার মতামত, কমিটির রিপোর্টসহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নগরকান্দায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    ফরিদপুর প্রতিনিধি:

    “উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরের নগরকান্দায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), নগরকান্দা।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন ও সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তারা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা থানা সার্কেল মোহাম্মদ ফাহাদ, নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ রাসুল সামদানী আজাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমবায় সমিতির সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৬ জুলাই সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন, সমবায় এবং আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।