Blog

  • বিএমডিসি নিবন্ধনের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের স্মারকলিপি, ২০ হাজার গ্র্যাজুয়েটের কর্মসংস্থান সংকটের আশঙ্কা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের (ম্যাটস) মতো ৪ বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন-২০১০-এর ১৫ ধারা ও ৫ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে পেশাগত নিবন্ধন দেওয়ার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি পাঠানো হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশের অধীনে ৪ বছর মেয়াদি ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল)’ কোর্স সম্পন্ন করলেও ২০১০ সালের বিএমডিসি আইনে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে বিএমডিসির নিবন্ধন না থাকায় তারা আইনগতভাবে দেশে বা বিদেশে ডেন্টাল চিকিৎসা ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ করতে পারছেন না। ডেন্টাল পরিষদের দাবি, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী আইনি স্বীকৃতির অভাবে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। এছাড়া দেশের ৯টি সরকারি ও শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার নতুন ডিপ্লোমাধারী বের হচ্ছেন, যাদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের (ম্যাটস) বিএমডিসির নিবন্ধন দেওয়া হলেও ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এমনকি ১৯৮০ সালের আইনের আওতায় শুধুমাত্র পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেককে ‘এফ’ ক্যাটাগরিতে প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছিল, যা এখনও নবায়ন করা হচ্ছে। ডেন্টাল পরিষদের নেতারা জানান, ১৯৮৩ সালে বিএমডিসির কার্যনির্বাহী কমিটি ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ২০০৯ সালে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ও জানায়, ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের কাজের পরিধি নির্ধারণ করে নিবন্ধনের জন্য একাধিকবার সুপারিশ পাঠালেও বিএমডিসি তা বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করা হয়। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে বিএমডিসি আইন সংশোধনের বিষয়ে মতামত চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুনরায় মতামত চাওয়া হলেও বিএমডিসি এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম আযম বলেন, সমযোগ্যতা সম্পন্ন অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মতো ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদেরও বিএমডিসি আইনের ১৫ ধারা ও ৫ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে নিবন্ধন দেওয়া সময়ের দাবি। তারা দ্রুত আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার ডিপ্লোমাধারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায়ে ডেন্টাল চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

  • শ্রীমঙ্গলে অনলাইনে জুয়া চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার, ৪টি স্মার্টফোন জব্দ।


    নিজস্ব (মৌলভীবাজার)প্রতিবেদক:

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন জুয়া চক্রের ৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। এ সময় তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত ৪টি স্মার্ট মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
    গত ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ১০:৪০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল থানাধীন আশিদ্রোন ইউনিয়নের দক্ষিণ টিকরিয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ৪ জুলাই র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
    গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:
    ১. মোঃ ইলিয়াস মিয়া (২৬), পিতা- মোঃ ইসমাইল মিয়া।
    ২. মোঃ জাফর আলী (২৫), পিতা- আবুল মিয়া।
    ৩. মোঃ মাহফুজ আহম্মেদ রাফিন (২৬), পিতা- দুদু মিয়া।
    ৪. মোঃ জাহিদ মিয়া (৩৮), পিতা- মৃত ইছাক মিয়া।
    গ্রেফতারকৃত সকলের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার দক্ষিণ টিকরিয়া গ্রাম।
    র‍্যাব জানায়, র‍্যাব-৯, সিপিসি-২ (মৌলভীবাজার ক্যাম্প)-এর একটি আভিযানিক দল শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান বাজারে অবস্থানকালে গোপন সূত্রে খবর পায় যে, দক্ষিণ টিকরিয়া গ্রামের আব্দুল বারেক ভুইয়ার ভূষি মালের দোকানের ভেতরে একদল যুবক অনলাইনে জুয়া খেলছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১০:৫০ মিনিটে র‍্যাবের দলটি সেখানে অভিযান চালায়। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ওই ৪ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
    মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চলত জুয়া:
    জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে মোবাইল ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়া খেলে আসছিল। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে জব্দকৃত মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া খেলার সুনির্দিষ্ট আলামত পাওয়া যায়।
    গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
    র‍্যাব-৯ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এই ধরণের অপরাধ দমনে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • সদরপুর সরকারি কলেজে ভূগোল বিভাগের নতুন প্রধানকে বরণ, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শাহীন উদ্দিনকে বিদায়

    ফরিদপুর প্রতিনিধি:

    ফরিদপুরের সদরপুর সরকারি কলেজে একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে একদিকে নতুন বিভাগীয় প্রধানকে বরণ, অন্যদিকে একজন শিক্ষককে বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) কলেজে এ উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
    এদিন কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন প্রফেসর মো. এরফানুল হক শোয়ায়েব। যোগদান উপলক্ষে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এনামুল হক এবং ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সালমা আক্তার। এ সময় কলেজের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে ভূগোল বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে।
    অপরদিকে, বদলিজনিত কারণে কলেজ থেকে বিদায় নেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শাহীন উদ্দিন। তাঁকে বিদায় শুভেচ্ছা জানান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এনামুল হক, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. ইসমাইল হোসেন এবং প্রভাষক সৈয়দ আমিনুল হক।
    বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শাহীন উদ্দিন দায়িত্বশীলতা, কর্মনিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে একজন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। কলেজে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁরা তাঁর নতুন কর্মস্থলে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
    অন্যদিকে, নবাগত বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. এরফানুল হক শোয়ায়েব কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং ভূগোল বিভাগের সার্বিক অগ্রগতিতে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
    একই দিনে নতুন শিক্ষককে বরণ এবং একজন সহকর্মীকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে সদরপুর সরকারি কলেজে আবেগঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

  • কুবিতে ‘ক্যাম্পাস ফুড সেফটি অ্যাওয়ারনেস’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত


    কুবি প্রতিনিধি:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও সেই সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ক্যাম্পাস ফুড সেফটি অ্যাওয়ারনেস’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সম্মেলন কক্ষে অধ্যাপক ড. এম. আমিনুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হকের সঞ্চালনায় এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। কী-নোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোয়েব। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

    সেমিনারে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা তাদের হলের খাবার সংক্রান্ত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি খাবারে ভিন্নতা ও মান নিশ্চিতের জন্য ভর্তুকি প্রদানের প্রয়োজনীয়ত

  • পত্নীতলায় জুয়া খেলার অপরাধে গ্রেফতার ৬, নগদ টাকা ও তাস জব্দ

    পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: আব্দুল আজিজ
    নওগাঁর পত্নীতলা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়া খেলার অপরাধে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতরাতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পত্নীতলা থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
    থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতরাতে থানা এলাকার একটি জুয়ার আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে জুয়া খেলা অবস্থায় হাতেনাতে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে জুয়া খেলার ২৬,৬৮০/- (ছাব্বিশ হাজার ছয়শত আশি) টাকা এবং ৫২টি তাস (কার্ড) জব্দ করা হয়েছে।
    পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এলাকায় সব ধরনের অপরাধ ও জুয়া নির্মূলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

  • কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ


    কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ জালালপুর-লোহাজুরী সড়কটি এখন যেন এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা এই সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত দুই লাখ মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় খানাখন্দ, যা জমে থাকা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব অদৃশ্য গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। উল্টে যাচ্ছে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিন্নাবাইদ, চরমান্দালিয়া, গোহালবাড়িয়া ও পাইকান এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু বছরের পর বছর সড়কটির কোনো স্থায়ী সংস্কার করা হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ভাঙা ইট ফেলে জোড়াতালির ‘দায়সারা’ মেরামত করা হলেও তা কোনো কাজেই আসেনি। বরং ইটগুলো ঠিকমতো রোলিং না করায় এবং অল্প দিনেই সেগুলো সরে যাওয়ায় রাস্তাটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী প্রতিদিন এই সড়কটি ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি এখন বিশেষ করে বয়স্ক, গুরুতর অসুস্থ এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ভাঙাচোরা এবং ঝাঁকুনির এই রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় প্রসূতি মায়েরা মাঝপথেই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।

    সড়কের এই কঙ্কালসার অবস্থার কারণে এই রুটে গণপরিবহন চলাচল অর্ধেকের চেয়েও কমে গেছে। লোহাজুরী রুটের অটোরিকশা চালক জামাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন,
    “রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে সপ্তাহে অন্তত দুইবার গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে মেরামত করতে হয়। চাকা নষ্ট হয়, বডি ভেঙে যায়। বাধ্য হয়ে একটু বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা রাগ করেন। সব মিলিয়ে আমরা চালকেরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছি।”

    পরিবহন সংকটের এই সুযোগে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী বাড়তি ভাড়া দিতে না পেরে কাদা-পানি মাড়িয়ে পায়ে হেঁটেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

    কটিয়াদী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি বাজারটি এই সড়কের পাশেই অবস্থিত। এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহনের মূল ধমনীও এটি। অথচ রাস্তার বেহাল দশার কারণে বাজারে সময়মতো সবজি আনা যাচ্ছে না। কাদা আর জমে থাকা পানির কারণে ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় বড় পাইকাররা এখন আর এই সড়ক দিয়ে আসতে চাচ্ছেন না। ফলে একদিকে যেমন সবজি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পাইকার না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অর্থনৈতিকভাবে ধস নামছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।

    উপজেলা সদরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, চিকিৎসাসেবা এবং প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটির কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত এই সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

    এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পথচারীরা আর কোনো ‘জোড়াতালির সংস্কার’ চান না। তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সড়কটির স্থায়ী ও দ্রুত কার্পেটিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন।

  • গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে যুবসমাজের নেতৃত্বে সড়কজুড়ে গণবিক্ষোভ


    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    “অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “তুমলিয়াবাসীর অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “মাদকের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”-এমন প্রতিবাদী স্লোগানে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে মুখর হয়ে ওঠে গাজীপুরের কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়ক। মাদকের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচিতে শুধু তরুণরাই নয়, এলাকার নানা বয়সী নারী-পুরুষেরও ব্যাপক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

    মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুমলিয়া সমাজ কল্যাণ সংঘ, তুমলিয়া গ্রামবাসী এবং যুব সমাজের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় গণবিক্ষোভ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি।

    বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সকলের হাতে ছিল নানা ধরনের সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড। সেগুলোতে লেখা ছিল- “মাদকমুক্ত সমাজ, আমাদের অধিকার”, “মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, দেশের যুবসমাজকে বাঁচান”, “নেশা ছেড়ে কলম ধরো, আগামী দিনের দেশ গড়ো”, “মাদক ব্যবসায়ী হুঁশিয়ার, তুমলিয়া ছাড়ো এবার”, “মাদকের সিন্ডিকেট ভাঙুন, আমাদের সন্তানদের জীবন বাঁচান”, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করো, মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করো”, “মাদকের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”, “তারুণ্যের শক্তি, মাদক থেকে মুক্তি”, “তারুণ্যের শক্তি দিয়ে মাদক রুখে দেব”, “মাদক ছাড়ো, নয়তো তুমলিয়া ছাড়ো”, “মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আজ নয়, প্রতিদিন যুদ্ধ”, “মাদককে না বলুন, সুস্থ জীবন গড়ুন”, “সবাই মিলে শপথ করি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি”, “মাদক ধ্বংস করে জীবন” এবং “মাদক নয়, মেধা চাই; সুস্থ জাতি গড়তে চাই”।

    পরে অংশগ্রহণকারীরা কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কসহ আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে মাদকের বিস্তার রোধ এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    কর্মসূচি শেষে সড়কের পাশে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে যুব সমাজের প্রতিনিধি ও এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকারও আহ্বান জানান তারা।

    সমাবেশে উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত তুমলিয়া এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ গ্রহণ করেন।

  • পুলিশের গুলিতে চোখ হারানো নবাব বঞ্চিত ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে,সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ

    দূর্জয়-নেত্রকোনা : নেত্রকোনার মদন উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত আংশিক কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থীভাবে বিবাহিতদের পদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে এক চোখ হারানো ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান নবাব।সোমবার দুপুরে মদন পৌরশহরের একটি চেম্বারের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদলের পদ বঞ্চিত জুবায়ের আহম্মেদ মারুফ ও মোহাম্মদ হিরন।

    এর আগে রোববার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামীমের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মদন উপজেলা ছাত্রদল ও পৌর ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট দুটি আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান নবাব বলেন, নবগঠিত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং পৌর ছাত্রদলের সভাপতি—দুজনই বিবাহিত এবং তাদের সন্তান রয়েছে। তাদের ছাত্রত্বও নেই। দুই কমিটির ১০ জনের মধ্যে সাত জনেরি ছাত্রত্ব নেই। ফলে এ ধরনের কমিটি ছাত্রদলের নীতিমালা ও সাংগঠনিক নিয়মের পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেও তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন, কিন্তু নতুন কমিটিতে তার নামও রাখা হয়নি।

    নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন নির্যাতনের কথা তুলে ধরে নবাব বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হলেও তাকে আসামি করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় এবং তাকে কারাবরণ করতে হয়। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হওয়ার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সিদ্ধান্তে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয় এবং অন্য চোখেও এখনো গুলি রয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসনের বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিবাহিতদের অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত বর্তমান কমিটি বাতিল করে ছাত্রত্ব রয়েছে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হোক।
    এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী বলেন, ছাত্রদল ত্যাগীদের সংগঠন। আমাদের অনেক অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী রয়েছে। আপাতত সংক্ষিপ্ত কমিটি করা হয়েছে। যাদের এই কমিটিতে রাখা হয়েছে তারাও ত্যাগী। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগীদের বিভিন্ন পদ পদবীতে রাখা হবে। পর্যায়ক্রমে সকল ত্যাগীদেরই মূল্যায়িত করা হবে। মেহেদী হাসান নবাব অবশ্যই ত্যাগী। সংগঠনের জন্য তার ত্যাগ রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তার বিষয়টিও আমরা দেখব।

  • মাকক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের অঢেল সম্পদ

    রাজশাহীর জেলা প্রতিনিধি :

    রাজশাহী জেলার,
    গোদাগাড়ী উপজেলার শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয়েছে পুলিশ। তাকে ধরতে ইতোমধ্যে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে পুলিশের অভিযানের আগেই তিনি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। তাকে যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান।

    ‘মাদকমুক্ত থানা গড়ার লক্ষ্যে’ গত ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় হেরোইন ও ইয়াবা মাফিয়া হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলম মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের নিয়ে হাজির হন। এ ঘটনায় অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। সভায় একজন বক্তা মাদক কারবারিদের উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন।

    এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। ‘মাদক নির্মূল সভায় কারবারি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। শুক্রবার রাতে গোদাগাড়ী পৌরসভার মাদারপুর মহল্লায় তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মির্জা মো. আব্দুস ছালাম নিজে অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

    পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযানের আগেই জাহাঙ্গীর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়, কিন্তু কোনো অবৈধ মাদকদ্রব্য বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। তার বক্তব্য জানতে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “জাহাঙ্গীর আলম থানার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। ডিআইজি স্যারের নির্দেশে সার্কেল এএসপির নেতৃত্বে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”

    জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকাশ্যে আসেন। এলাকায় প্রচার রয়েছে, তিনি অথবা তার বাবা নওশাদ আলী গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে আসার পর তিনি মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। মাদক ব্যবসায়ীরা এখন তাকেই টাকা দিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের তুষ্ট রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    জাহাঙ্গীরের বাবা নওশাদ আলী ওরফে নওশাদ জামাতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি গোদাগাড়ী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং বর্তমানে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধেও মাদকের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তিনি সরাসরি মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনজনে মিলে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে অভিযোগ।

    পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় ২০০৮, ২০১০ ও ২০১৪ সালে তিনটি মাদক মামলা এবং একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০১৫ সালে এবং যশোরের কোতোয়ালী থানায় ২০২০ সালে একটি করে মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় হেরোইন, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা উল্লেখ রয়েছে।
    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ছত্রছায়ায় থেকে হেরোইন ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন জাহাঙ্গীর। বারবার গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আসতেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওমর ফারুক চৌধুরী তার বাড়িতে দলবল নিয়ে দাওয়াত খেয়েছেন।
    জাহাঙ্গীরের সম্পদের তালিকা বিস্ময়কর। মাদারপুরে প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। মাদক ব্যবসা আড়াল করতে চার কোটি টাকায় গরু-মহিষের খামার গড়েছেন। তার ছয়টি ট্রাক রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য চার কোটি টাকা। রাজশাহী শহরে ফ্ল্যাট, শিরোইল কলোনিতে সাড়ে সাত কাঠা জমিসহ টিনশেড বাড়ি, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রান্তিক আবাসিক এলাকায় ছয় কাঠা প্লট এবং তিনটি গাড়ি রয়েছে তার। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় তার অঢেল সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিএনপির এক নেতা ও গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী বলেন, “জাহাঙ্গীর ও তার বাবা মাদক সম্রাট। মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। পুলিশ অভিযানের আগাম খবর পেয়ে প্রাইভেট কারে ঢাকায় আত্মগোপন করেছেন।”

    মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তবে জাহাঙ্গীরের মতো প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • চট্টগ্রাম লোহাগাড়া পুরাতন থানা রোডে ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় লোহাগাড়া সদরে জলবদ্ধতা, দুর্ভোগে বাসিন্দারা

    লোহাগাড়ার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়া সদরে মাঝারি বৃষ্টিতেই ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথ দখল ও সংকুচিত হওয়ায় সড়ক তলিয়ে বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে।

    এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সদর এলাকার হাজারো মানুষ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চলতি বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

    সোমবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিতে পুরাতন থানা সড়ক, দরবেশহাট ডিসি সড়ক এবং পোস্ট অফিসের দক্ষিণের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

    কোথাও কোথাও সড়কে কোমর সমান পানি জমায় যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, বৃদ্ধ ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

    লোহাগাড়া সদরের পুরাতন থানা এলাকার বাসিন্দা জয় সুশীল জানান, তার বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং খাটের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আগে ভারী বৃষ্টি হলেও এত পানি জমতো না।

    তিনি অভিযোগ করেন, পানি চলাচলের পথে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    স্থানীয়রা জানান, একসময় পুরাতন থানার গেইট থেকে দক্ষিণ বটতলী পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশ দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন খাল ও নিম্নাঞ্চলে চলে যেত। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না।

    কিন্তু বর্তমানে পানি চলাচলের স্থানগুলোতে অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে ওঠায় ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান জানান, পানি চলাচলের পথগুলো পুনরুদ্ধার না করলে এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

    তিনি পানি চলাচলের পথে গড়ে ওঠা অবৈধ ও অপরিকল্পিত স্থাপনা দ্রুত অপসারণ এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।