Blog

  • কাঁঠালিয়ায় ব্রিজ ভেঙে ১০ বছর ভোগান্তি, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামে প্রায় এক দশক ধরে ভেঙে খালে পড়ে থাকা একটি ব্রিজের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলা ও যাতায়াতের দুর্ভোগে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। গ্রামটির প্রধান যোগাযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় ভেঙে ঝুলে থাকলেও সংস্কার কিংবা

    পুনর্নির্মাণের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, প্রায় ১০ বছর আগে ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ এক দশক ধরে সরকারি কোন সহায়তা না পেয়ে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করেন। সম্প্রতি সাঁকোটিও ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রামবাসী আবারও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তা মেরামত করে কোনোভাবে চলাচল সচল রেখেছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে শিশু, কিশোর, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেনি পেশার মানুষকে।

    এলাকাবাসী জানান, ব্রিজটি ব্যবহার করে প্রতিদিন অন্তত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক যাতায়াত করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই সড়কটি এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা। ব্রিজটি সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

    নেয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নাইম মোল্লা বলেন, “বিগত ৯ থেকে ১০ বছর ধরে ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে আছে। সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাইনি। দুঃখজনক হলেও সত্য, স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

    স্থানীয় বাসিন্দা মো. আল আমিন হাওলাদার বলেন, “নেয়ামতপুর গ্রামে শুধু ব্রিজটি নয় এই এলাকার রাস্তা ঘাটের অবস্থাও অত্যান্ত নাজুক। বিগত বছর গুলোতে তেমন কোন উন্নয়ন দেখিনি তবে কাজের নামে ছিল বাহানা। আর অনেক বছর যাবৎ এই ব্রিজটি ভেঙ্গে খালে পড়ে আছে। কাঁঠালিয়া থেকে মঠবাড়িয়া দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই ব্রিজটি। এটা দিয়ে অনেক গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। কর্তৃপক্ষের কাছে এই ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার এবং রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা থেকে মুক্ত করতে তাদের প্রতি অনুরোধ করছি।

    পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, “ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর থেকে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনো ব্রিজটি সংস্কার কিংবা নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি”

    এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, “সেতুটি ডিপিপিভুক্ত করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাগবে ভেঙে পড়া ব্রিজটি অপসারণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন একটি টেকসই ও আধুনিক ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে নেয়ামতপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিবেন।

  • ‎বিরামপুর উপজেলায় ৩নং খানপুর ইউনিয়নে ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ উদ্বোধন

    বিরামপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৩নং খানপুর ইউনিয়নে সরকারের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডাব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে মাসিক চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোজ মঙ্গলবার ‎(০৯ জুন ২০২৬) বেলা ০১টা ৩০  মিনিটে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩নং খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিন্তরঞ্জন পাহান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ট্যাগ অফিসার, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্য ও সদস্যাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পরিচালিত ভিডাব্লিউবি কর্মসূচি দরিদ্র ও অসহায় নারীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিয়মিত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হলে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। পরে ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ভাতাভোগীদের মাঝে প্রতি জনকে মাসিক ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।

    চাল গ্রহণ করতে এসে উপকারভোগীরা সরকারের এই সহায়তা কর্মসূচির প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। চাল বিতরণ কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করেন। উপস্থিত অতিথিরা উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসের ন্যায় এবারও নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগীদের মধ্যে সন্তোষ দেখা যায়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • রায়গঞ্জে ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু

    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দুই দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জন) সকালে রায়গঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। কর্মশালার আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও উলাগির ফাউন্ডেশন, রায়গঞ্জ শাখা।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও রায়গঞ্জ উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মো. শাহিন সরকার এর সঞ্চালনা উক্ত কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়

    প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকগণ অংশ নেন। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফম ওবায়দুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, উপজেল মেডিকেল অফিসার ডা. জাকারিয়া, মাদ্রাসাতুল উলুমিল ইসলামিয়া রৌহার মুহতামিম মো. শাহাদাত হোসেন এবং উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিআই) ইন্সট্রাক্টর মো. মইনুল হক।

    বক্তারা বলেন, শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শিষ্টাচার ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষকদের দক্ষতা ও পাঠদানের মান উন্নয়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ।

    দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় ধর্মীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিশু বিকাশ, নৈতিক মূল্যবোধ, পাঠদান কৌশল এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদপত্র বিতরণ করা হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দুই দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জন) সকালে রায়গঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। কর্মশালার আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও উলাগির ফাউন্ডেশন, রায়গঞ্জ শাখা।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও রায়গঞ্জ উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মো. শাহিন সরকার এর সঞ্চালনা উক্ত কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়

    প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকগণ অংশ নেন। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফম ওবায়দুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. উলুমিল ইসলামিয়া রৌহার মুহতামিম মো. শাহাদাত হোসেন এবং উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিআই) ইন্সট্রাক্টর মো. মইনুল হক।

    বক্তারা বলেন, শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শিষ্টাচার ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষকদের দক্ষতা ও পাঠদানের মান উন্নয়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ।

    দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় ধর্মীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিশু বিকাশ, নৈতিক মূল্যবোধ, পাঠদান কৌশল এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদপত্র বিতরণ করা হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

  • সদরপুরে ফরিদপুর জেলার নবাগত ডিসি’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    ,

     

    সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

    ফরিদপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম-এর সঙ্গে সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

     

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ দরবার হলে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন।

     

    সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন শাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, ইমাম, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

     

    এর আগে জেলা প্রশাসক দিনব্যাপী সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সফরসূচি অনুযায়ী তিনি কুমার নদের ভাঙনপ্রবণ এলাকা ও নদী পুনর্খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা ভূমি অফিস, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণও বিতরণ করা হয়।

     

    এছাড়া তিনি উপজেলা পরিষদ অ

  • বিদেশফেরত যুবক সবুজ আজ প্রতিবন্ধী: একটি কৃত্রিম পায়ের অপেক্ষায় নতুন জীবনের স্বপ্ন

    সদরপুর উপজেলা প্রতিনিধি:সদরপুর উপজেলার এক সাধারণ পরিবারের ছেলে সবুজ। পুরো নাম হয়তো অনেকেই জানেন না, কিন্তু এলাকার মানুষ তাকে চিনতেন ‘সবুজ’ নামেই। তার মা জবেদা বেগমকে সবাই ডাকতেন ‘সবুজের মা’ বলে। সেই পরিচয়েই তিনি পরিচিত ছিলেন আমাদের পরিবারেও। ছোটবেলা থেকে সবুজকে দেখেছি। মায়ের সঙ্গে প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আসত সে। চঞ্চল, হাসিখুশি আর ভদ্র স্বভাবের একটি ছেলে ছিল সবুজ।

    তাদের পরিবারটি ছিল অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করা একটি সাধারণ পরিবার। সংসারে ছিল নানা কষ্ট, নানা সীমাবদ্ধতা। তবুও স্বপ্ন দেখা থেমে থাকেনি। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছিল সবুজ। তার একটি বড় বোন ছিল, নাম বেবি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেবি আজ আর পৃথিবীতে নেই। পরিবারের একের পর এক দুঃখ-কষ্টের মাঝেও জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল সবুজ।

    একসময় সংসারের হাল ধরতে বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছিল সে। হাজারো তরুণের মতো সেও স্বপ্ন দেখেছিল নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের। বিদেশে কষ্ট করে উপার্জন করে পরিবারকে স্বচ্ছল করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু মানুষের জীবনে কখন কোন ঘটনা অপেক্ষা করে থাকে, তা কেউ জানে না।

    সম্প্রতি সদরপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে বহুদিন পর হঠাৎ দেখা হয়ে গেল সবুজের সঙ্গে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি সেখানে উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছিল। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড’ বিতরণও ছিল।

    অনুষ্ঠান শেষে হলরুম থেকে বের হয়ে আসছিলাম। এমন সময় পেছন থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো—

    “মামা, কেমন আছেন?”

    আমি থেমে গেলাম। কণ্ঠস্বরটি পরিচিত মনে হলেও মানুষটিকে চিনতে পারছিলাম না। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর সে আবার বলল—

    “মামা, চিনতে পারছেন না? আমি সবুজ।”

    কথাটি শুনে আমি বিস্মিত হয়ে গেলাম। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি সেই সবুজ, কিন্তু তাকে যেন আগের মতো লাগছিল না। তার শারীরিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে আমার মনে প্রশ্ন জাগল—

    “তোমার এমন অবস্থা হলো কীভাবে?”

    প্রশ্নের উত্তরে সবুজ জানাল, প্রায় দুই বছর আগে সদরপুর সোনালী ব্যাংকের সামনে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় সে। দুর্ঘটনায় তার ডান পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা তার পা রক্ষা করতে পারেননি। জীবন বাঁচানোর জন্য হাঁটুর নিচ থেকে ডান পা কেটে ফেলতে হয়।

    কথাগুলো বলতে গিয়ে সবুজের চোখে ছিল অসহায়ত্বের ছাপ। আর আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল সেই ছোট্ট ছেলেটির মুখ, যে একসময় দৌড়ে বেড়াত, হাসত, স্বপ্ন দেখত। আজ সেই সবুজ একটি পা হারিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

    দুর্ঘটনার পর তার জীবন অনেকটাই বদলে গেছে। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা, কাজ করা, পরিবারের দায়িত্ব পালন করা—সবকিছুই হয়ে উঠেছে কঠিন। একজন কর্মক্ষম যুবক থেকে সে আজ শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে লড়াই করা একজন মানুষ।

    তবে সবুজ হার মানেনি। সে এখনও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী একটি উন্নতমানের কৃত্রিম পা লাগাতে পারলে সে আবার স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে, কাজ করতে পারবে, নিজের জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।

    কিন্তু সেই স্বপ্নের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থ। একটি মানসম্মত কৃত্রিম পা সংযোজনের জন্য প্রয়োজন কয়েক লক্ষ টাকা। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। ফলে অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে।

    বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে অসহায় মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, সামাজিক সংগঠন এবং মানবিক হৃদয়ের মানুষদের সম্মিলিত উদ্যোগ একজন সবুজের জীবনকে নতুন করে আলোকিত করতে পারে।

    আজকের এই আবেদন কোনো দান নয়, বরং একজন সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান। যে যুবক একসময় নিজের পরিবারকে সুখী করার জন্য বিদেশে গিয়েছিল, আজ সে নিজেই সমাজের সহযোগিতার প্রত্যাশী।

    সবুজের গল্প শুধু একজন মানুষের গল্প নয়; এটি আমাদের সমাজের অনেক সংগ্রামী মানুষের গল্প, যারা দুর্ঘটনা, দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব।

    আসুন, আমরা সবাই মিলে সবুজের পাশে দাঁড়াই। একটি কৃত্রিম পা হয়তো তার হারিয়ে যাওয়া অঙ্গ ফিরিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু তাকে আবার হাঁটার শক্তি, বাঁচার সাহস এবং নতুন জীবনের স্বপ্ন ফিরিয়ে দিতে পারে।

    ফী আমানিল্লাহ।

  • ‎বোরকা পরে অভিযানে পুলিশ, ইয়াবাসহ গ্রেফতার স্বামী-স্ত্রী ‎ ‎

    মোঃ আল-আমিন বিশেষ প্রতিনিধি:
    ‎কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৬৭ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এক স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

    ‎আটককৃতরা হলেন পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের শেখেরহাটি এলাকার বাসিন্দা রাহিম ভুইয়া (৪০) এবং তার স্ত্রী রিমা বেগম টুক্কি (৩৬)।

    ‎পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই দম্পতি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নজরদারিতে ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ধরতে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে অভিযান পরিচালনা করে।

    ‎অভিযানের অংশ হিসেবে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মবেশ ধারণ করেন। কেউ বোরকা পরে নারী সেজে এবং কেউ অটোরিকশা চালকের বেশে অভিযানে অংশ নেন। পরিকল্পিত এই অভিযানে পুলিশ দ্রুত ওই দম্পতির বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি চালায়।

    ‎তল্লাশিকালে তাদের কাছ থেকে ১৬৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই রাহিম ভুইয়া ও রিমা বেগম টুক্কিকে আটক করা হয়।

    ‎পুলিশের দাবি, আটক দুজনই এলাকায় পরিচিত মাদক কারবারি এবং তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

    ‎এদিকে পুলিশের এই ব্যতিক্রমী ও সফল অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এমন কার্যকর উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।




    ‎মোঃ আল-আমিন অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি:

    ‎কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৬৭ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এক স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

    ‎আটককৃতরা হলেন পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের শেখেরহাটি এলাকার বাসিন্দা রাহিম ভুইয়া (৪০) এবং তার স্ত্রী রিমা বেগম টুক্কি (৩৬)।

    ‎পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই দম্পতি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নজরদারিতে ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ধরতে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে অভিযান পরিচালনা করে।

    ‎অভিযানের অংশ হিসেবে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মবেশ ধারণ করেন। কেউ বোরকা পরে নারী সেজে এবং কেউ অটোরিকশা চালকের বেশে অভিযানে অংশ নেন। পরিকল্পিত এই অভিযানে পুলিশ দ্রুত ওই দম্পতির বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি চালায়।

    ‎তল্লাশিকালে তাদের কাছ থেকে ১৬৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই রাহিম ভুইয়া ও রিমা বেগম টুক্কিকে আটক করা হয়।

    ‎পুলিশের দাবি, আটক দুজনই এলাকায় পরিচিত মাদক কারবারি এবং তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

    ‎এদিকে পুলিশের এই ব্যতিক্রমী ও সফল অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এমন কার্যকর উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

  • নিয়ামতপুরে ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড জনজীবন নিঃস্ব বহু পরিবার সরকারি সহায়তার আকুতি ​

    নিয়ামতপুর নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

    ​নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পানিহারা গ্রামের কয়েকটি পাড়ায় গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আঘাত হানা আকস্মিক ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র আধাঘন্টার তীব্র ঝড়ে নোয়াপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, চকমানপুর ও ভত্তাপাড়া এলাকার ঘরবাড়ি এলোমেলো হয়ে গেছে। পুরো উপজেলায় বৃষ্টিপাত হলেও কেবলমাত্র এই এলাকাটিতে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    ​সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে , ঝড়ের তীব্রতায় নোয়াপাড়ার অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং বৃষ্টিতে মাটির দেওয়াল ধসে পড়েছে। এতে করে পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    ​দুর্ভোগের শিকার ৭০ বছর বয়সী নোয়াপাড়ার বাসিন্দা শিলু বাশিকী অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, বয়সের ভারে তেমন কোনো কাজ করতে পারি না। অনেক কষ্টে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি মাত্র ঘর ছিল, কিন্তু ঝড়ে তাও উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা নেই। সরকারি সহায়তা না পেলে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।

    ​একই পাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত জোহান হেমরম বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের পাড়ার প্রায় প্রতিটি বাড়িরই কম-বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আমার বাড়ির অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। আমরা মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।

    ​​নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন জানান,ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। তবে তিনি দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা যাচাই করে ত্রাণ সহায়তার প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অতীতেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন, এবারও ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।

    ​স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি এলাকাভিত্তিক হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তারা সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন

  • বুড়িচংয়ে সরকারি রাস্তার ইট তুলে জনদুর্ভো তদন্তের নির্দেশ দিলেন ইউএনও

    বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার বুড়িচংয়ে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে নির্মিত একটি রাস্তার ইটের সলিং তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুড়িচং পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে প্রায় তিন বছর আগে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তার ওপর ইটের সলিং বসানো হলে এলাকাবাসী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহার করে আসছিলেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পাশে বসবাসকারী কাসেম মিয়া, তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার ও ছেলে শাকিল দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়ক ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তারা বিভিন্ন সময়ে পথচারীদের চলাচলে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে তারা রাস্তার ইটের সলিং তুলে ফেলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এতে সড়কটি ব্যবহারে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।

    এ ঘটনায় একই এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে মো. শাহিন মিয়া এলাকাবাসীর পক্ষে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা শুধু রাস্তার ইটই তুলে ফেলেননি, বরং ওই পথে চলাচলকারী মানুষদেরও বাধা দিয়ে আসছেন।

    অভিযোগে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে রাস্তা উন্মুক্ত রাখা এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতি করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  • আমতলীতে ডাকাতি স্বর্ণালংকার লুট

    আমতলী(বরগুনা) প্রতিনিধি: আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের ডা. মতি মিয়ার বাড়ীতে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতদল ১৯ ভরি স্বর্নালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে।

    ঘটনা ঘটেছে সোমবার দিবাগত গভীর রাতে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জানাগেছে, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ৮/১০ জনের মুখোশধারী ডাকাতদল অবসরপ্রাপ্ত উপ কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল মতি মিয়ার ঘরের জানালার গ্রীল ভেঙেকমধ্যে প্রবেশ করে। ঘরে থাকা ডা. মতি মিয়ার ছোট ভাই আব্দুস সালামকে বেধে ফেলে।

    পরে ঘরের আলমিরা ভেঙে সমুদয় মালামাল তছনছ করে আমলিরায় থাকা ১৯ ভরি স্বর্নালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। বাড়ীর মালিক ডা. আব্দুল মতি মিয়া বলেন, মুখোশ পরিহীন ৮-১০ জনের একটি ডাকাতদল জানালার গ্রীল ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে।

    তারা আমার আমলিরায় থাকা ১৯ ভরি স্বনালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা লুট করেছে। এ ঘটনায় আৃি মামলা করবো। আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিিপেলে আইন ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

  • বুড়িচংয়ে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা ভাঙচুর

    (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

     

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে মহাসড়কের নিমসার সবজি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

     

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মমিন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়নামতি হাইওয়ে থানার একটি টহল দল মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে চলাচলরত কয়েকটি অবৈধ থ্রি-হুইলার আটক করে। এ সময় থ্রি-হুইলার চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে গাড়িটি ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।

    ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মমিন জানান, অবৈধ থ্রি-হুইলার আটকের পর ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পিটিয়ে ভাঙচুর করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।

    খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।