

দূর্জয়-নেত্রকোনা : নেত্রকোনার মদন উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত আংশিক কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থীভাবে বিবাহিতদের পদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে এক চোখ হারানো ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান নবাব।সোমবার দুপুরে মদন পৌরশহরের একটি চেম্বারের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদলের পদ বঞ্চিত জুবায়ের আহম্মেদ মারুফ ও মোহাম্মদ হিরন।
এর আগে রোববার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামীমের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মদন উপজেলা ছাত্রদল ও পৌর ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট দুটি আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান নবাব বলেন, নবগঠিত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং পৌর ছাত্রদলের সভাপতি—দুজনই বিবাহিত এবং তাদের সন্তান রয়েছে। তাদের ছাত্রত্বও নেই। দুই কমিটির ১০ জনের মধ্যে সাত জনেরি ছাত্রত্ব নেই। ফলে এ ধরনের কমিটি ছাত্রদলের নীতিমালা ও সাংগঠনিক নিয়মের পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেও তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন, কিন্তু নতুন কমিটিতে তার নামও রাখা হয়নি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন নির্যাতনের কথা তুলে ধরে নবাব বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হলেও তাকে আসামি করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় এবং তাকে কারাবরণ করতে হয়। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হওয়ার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সিদ্ধান্তে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয় এবং অন্য চোখেও এখনো গুলি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসনের বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিবাহিতদের অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত বর্তমান কমিটি বাতিল করে ছাত্রত্ব রয়েছে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হোক।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী বলেন, ছাত্রদল ত্যাগীদের সংগঠন। আমাদের অনেক অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী রয়েছে। আপাতত সংক্ষিপ্ত কমিটি করা হয়েছে। যাদের এই কমিটিতে রাখা হয়েছে তারাও ত্যাগী। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগীদের বিভিন্ন পদ পদবীতে রাখা হবে। পর্যায়ক্রমে সকল ত্যাগীদেরই মূল্যায়িত করা হবে। মেহেদী হাসান নবাব অবশ্যই ত্যাগী। সংগঠনের জন্য তার ত্যাগ রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তার বিষয়টিও আমরা দেখব।