Author: DBC
-
কলমে সমাজভাবনা, হৃদয়ে দায়বদ্ধতা: বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন কথাসাহিত্যিক তুলতুল
কলমে সমাজভাবনা, হৃদয়ে দায়বদ্ধতা: বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন কথাসাহিত্যিক তুলতুল

বিশেষ প্রতিনিধি:চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ মাটি থেকে উঠে এসে নিজের মেধা ও মননের আলোয় দুই বাংলার সাহিত্যাঙ্গন আলোকিত করেছেন যিনি, তিনি শাম্মী তুলতুল। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে যাঁরা বহুমাত্রিক প্রতিভা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি নিঃসন্দেহে এক আলোচিত ও জনপ্রিয় নাম। কেবল দেশের গণ্ডিতেই নয়, তাঁর কলমের জাদু আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের গৌরব।
ঐতিহ্যের শিকড় ও আলোকিত শৈশব
একটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম শাম্মী তুলতুলের। ফলে সাহিত্যচর্চার বীজটি যেন তাঁর রক্তেই মিশে ছিল। তাঁর দাদা আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, লেখক এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্যবন্ধু। অন্যদিকে, তাঁর নানী কাজী লতিফা হকও ছিলেন তৎকালীন সংবাদপত্রের একজন সুপরিচিত লেখক। এমন এক চিন্তা, চেতনা ও সংস্কৃতির আলোকিত পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠাই তুলতুলকে করে তুলেছে অনন্য। শৈশবে ডানপিটে ও প্রাণবন্ত এই মানুষটির নাচ, গান, আবৃত্তি ও খেলাধুলাসহ সব কিছুতেই ছিল সমান পারদর্শিতা।
সংবাদপত্র থেকে বিশ্বমঞ্চে পদচারণা
শৈশব থেকেই দেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোতে নিয়মিত লিখছেন শাম্মী তুলতুল। প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, সমকাল, যুগান্তর, মানবকণ্ঠ, প্রতিদিনের সংবাদ, আমাদের সময়, খোলা কাগজ, আজাদী, পূর্বকোণ এবং শিশু নবারুণসহ বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর শক্তিশালী লেখনী স্থান করে নিয়েছে প্যারিস, কানাডা, নিউ ইয়র্ক, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির বাংলা পত্র-পত্রিকাতেও। এমনকি আমেরিকার মূলধারার গণমাধ্যমেও তাঁর দীর্ঘ ও প্রভাবশালী সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ বহন করে।
সৃষ্টিশীলতার বহুমাত্রিক রূপ
সময়ের আবর্তে লেখালেখিই হয়ে উঠেছে শাম্মী তুলতুলের মূল পরিচয়। তবে তিনি কেবল একজন ঔপন্যাসিক বা গল্পকারই নন; একাধারে শিশুসাহিত্যিক, নজরুল-অনুরাগী, বেতার অনুষ্ঠান পরিচালক, সংবাদ পাঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক, ভয়েস প্রেজেন্টার, দাবাড়ু ও মডেল।
বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। ২০২২ সালের কলকাতা বইমেলায় তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘নরকে আলিঙ্গন’ ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যা বর্তমানে ভারতের জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম Flipkart-এ পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর অন্যান্য বেস্টসেলার উপন্যাস ও বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘চোরাবালির বাসিন্দা’, ‘পদ্মবু’, ‘মনজুয়াড়ি’, ‘একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল’, ‘পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ’, ‘নান্টু ঝান্টুর বক্স রহস্য’, ‘গণিত মামার চামচ রহস্য’ এবং ‘ভূত যখন বিজ্ঞানী’। প্রতিটি বইয়ে বিনোদনের পাশাপাশি তিনি একটি শিক্ষণীয় সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
দৃশ্যমাধ্যম ও গবেষণায় সাহিত্যকর্ম
শিশু-কিশোর সাহিত্যে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর জনপ্রিয় গল্প ‘পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ’ দীপ্ত টিভি-তে নাট্যরূপে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর রচনায় নির্মিত নাটক ‘লাল শরবত’ প্রচারিত হয়েছে সিটি এফএম-এ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রভাব এতটাই যে, সম্প্রতি ভারতের একটি গবেষণামূলক কাজে তাঁর গল্প ব্যবহৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা “রুম টু রিড বাংলাদেশ”-এর এনলিস্টেড লেখিকা হিসেবেও তিনি সম্মানিত হয়েছেন।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রকমারি, প্রথমা, দারাজসহ সব প্রধান মাধ্যমে তাঁর বই পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি রবি বইঘর, বাংলালিংক ও এয়ারটেল অ্যাপসের মাধ্যমে পাঠকরা ই-বুক হিসেবেও তাঁর বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ শাম্মী তুলতুল দেশী-বিদেশী অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
কবি রোকেয়া সুফিয়া কামাল সম্মাননা (দুবার),মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড,
মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড,
সাউথ এশিয়া গোল্ডেন পিস অ্যাওয়ার্ড,
নজরুল অগ্নিবীণা সাহিত্য পুরস্কার,
উইমেন পাওয়ার লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫,ময়ূরপঙ্খী স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫,
রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘রবীন্দ্র রত্ন পুরস্কার ২০২৬।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক সম্মাননা (সেখানকার পাঠকসমাজ ভালোবেসে তাঁকে ‘রাজকন্যা’ উপাধিতে ভূষিত করেছে)। গণমাধ্যমেও তাঁর উপস্থিতি সরব। রেডিওতে খবর পড়ার পাশাপাশি টেলিভিশনে আবৃত্তি পরিবেশন করেন তিনি। সম্প্রতি একটি ম্যাগাজিনের কভারে ‘বেগম রোকেয়া’র রূপে তাঁর মডেলিং দারুণ প্রশংসিত হয়েছে।
সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস ও জীবনদর্শন
সামাজিক ও পারিবারিক নানাবিধ বাধা-বিপত্তি ডিঙিয়ে আজকের এই অবস্থান তৈরি করাটাই শাম্মী তুলতুলের ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি। নারী হিসেবে পথচলার প্রতিকূলতাকে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, তবে বিশ্বাস করেন—প্রতিবন্ধকতাই মানুষকে শক্তিশালী করে তোলে।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে এই কথাসাহিত্যিক বলেন,
”লেখালেখি আমার কাছে শুধু একটা নেশা বা পেশা নয়—এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। মানুষের হৃদয়ে আলোর মশাল পৌঁছে দেওয়ার এক অবিরাম প্রয়াস। সাহিত্য মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করতে পারে। পাঠকের মনস্তত্ত্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
পিছুটান নয়, সমুখে এগিয়ে যাওয়াই যাঁর জীবনের মূলমন্ত্র—সেই শাম্মী তুলতুল আজ শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সমাজ-বাস্তবতা ও মানবিকতার বার্তা হাতে তাঁর কলম দুই বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে প্র (more…)
-
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসছে জুনেই সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাদরেজ জামান
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসছে জুনেই — সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাদরেজ জামা

স্টাফ রিপোর্টার:জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিএনপির বিভিন্ন স্তরে এই কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা ও লবিং-তদবির শুরু হয়েছে। দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন নেতৃত্ব আনতে যাচ্ছে বিএনপি। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন মাসের মধ্যেই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, নতুন নেতৃত্বের প্রতীক্ষা:২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহ এখন তুঙ্গে। দলের হাইকমান্ড সম্ভাব্য শীর্ষ নেতাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ত্যাগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করছে।
তারেক রহমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। ওই বৈঠকে কমিটি পুনর্গঠন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে রাজপথে সক্রিয় থেকে হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েও যাঁরা সংগঠনকে ধরে রেখেছেন, তাঁদের মূল্যায়নের বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এক নেতার এক পদ’ নীতিতে বড় চমকের আভাস:দলের অভ্যন্তরে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আলোচনা থাকায় এবারের কমিটিতে বড় ধরনের চমক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান কমিটির শীর্ষ দুই পদ থেকে নতুন কমিটিতে কাউকে না রাখার আলোচনা নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
সভাপতি পদে এগিয়ে সাদরেজ জামান এই বাস্তবতায় সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক অন্যতম ছাত্রনেতা সাদরেজ জামান। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক দুঃসময়ে মাঠে থাকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তাঁকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান।
এ প্রসঙ্গে সাদরেজ জামান বলেন, যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন জেল-জুলুম-নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েও রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন, তাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে প্রত্যাশা করছি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত থাকব।
সভাপতি পদে আরও যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাঁরা হলেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান।
সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী:সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া মামুন এবং যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম, এগিয়ে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন এবং উত্তরের সভাপতি ফরিদ।
পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকেও নতুন কমিটির নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
নেতাদের প্রত্যাশা ত্যাগীদের মূল্যায়ন হোক:বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো একে একে পুনর্গঠন করা হবে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। তৃণমূল নেতাকর্মী ও মাঠের রাজনীতির সঙ্গে যাদের সম্পর্ক রয়েছে, তারাই কমিটিতে স্থান পাবেন।
নজরুল ইসলাম নোমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং তৃণমূলকে সংগঠিত করে দলকে শক্তিশালী করতে পারবেন, তাদেরকে বিএনপি চেয়ারম্যান মূল্যায়ন করবেন বলে আমার প্রত্যাশা।
মো. শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম বলেন, ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতৃবৃন্দকে মূল্যায়ন করলে স্বেচ্ছাসেবক দল হবে একটি শক্তিশালী সংগঠন। নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে এটা আমার দৃঢ় প্রত্যাশা।
যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ বলেন, মেধাবী, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়দের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে নতুন গতি ফিরে আসবে।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। সাংগঠনিক অভিভাবক যে দায়িত্ব দেবেন, সেটাই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।
সংগঠনে নতুন প্রাণ আসবে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা:দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, এবারের কমিটিতে ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ইমেজের এবং মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হলে সংগঠনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী হবে। সেই বিবেচনায় সভাপতি পদে সাদরেজ জামান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
-
উজিরপুরে শহীদ জিয়া স্মৃতি টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
উজিরপুরে শহীদ জিয়া স্মৃতি টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠি

উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলায় ক্রীড়াই শক্তি ক্রীড়াই বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা যুব সমাজের উদ্যোগে, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম ও পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জিন্নাত খান এর সঞ্চালনায় শহীদ জিয়া স্মৃতি T-20 ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৬ জুন শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উজিরপুর আলহাজ্ব বি এন খান ডিগ্রী কলেজ মাঠে, শহীদ জিয়া স্মৃতি T-20 ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল খেলার শুভ উদ্ধোধন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মহেশ্বর মন্ডল, এসময় উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রকিবুল ইসলাম, উজিরপুর আলহাজ্ব বি এন খান ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান টুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সোহেল হাওলাদার।
পৌর বিএনপির যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মোস্তফা জামান সুমন বালী, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রিয়াজ মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান লিখন, উপজেলা বিএনপির সদস্য বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ মনিরুজ্জামান সোহাগ, উপজেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ সবুজ, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি সোলাইমান খান হাইউম, উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম তোতন।
পৌর যুবদলের যুগ্ন-আহবায়ক হাফিজুর রহমান, কালাম ফরাজী, ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ সেলিম হোসেন, ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন। টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে আছেন শফিকুল ইসলাম বাবু, রায়হানুল রানা, বায়জিদ হোসেন শাকিল, শাওন হোসেন, দীপ্ত দত্ত, আরাফাত হোসেন রাব্বি, শফিকুল ইসলাম রাব্বি, ইব্রাহিম ভুইয়া মিজান, সহ ছাত্রদল যুবদল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীবৃন্দ।
ফাইনাল খেলায় উজিরপুর ইচলাদী একাদশ ও কোটালীপাড়া একাদশ অংশগ্রহণ করেন এবং ইচলাদী একাদশ বিজয় লাভ করেন। খেলা শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সহকারী কমিশনার ভুমি মহেশ্বর মন্ডল বলেন তরুন ও যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি, এই ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করে যুব সমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে কাজ করতে হবে। এত সুন্দর আয়োজন করার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন।
-
মৎস্যজীবীদের হামলা-বঞ্চিত করে বিল ভাতিয়া দখলের অভিযোগ অবৈধ বাঁধের কারনে শঙ্কায় হাজারো কৃষক
মৎস্যজীবীদের হামলা-বঞ্চিত করে বিল ভাতিয়া দখলের অভিযোগ অবৈধ বাঁধের কারনে শঙ্কায় হাজারো কৃষক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
হামলা ও মামলা করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিল ভাতিয়া জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। চাষ করা মাছ আহরণ করতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন বিল ইজারা পাওয়া মৎস্যজীবীরা। এনিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে শিবগঞ্জ উপজেলার কর্নখালী ব্রীজ চত্বরে শনিবার (০৬ জুন) বেলা ১১টায় মানবন্ধন করেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বিলের ইাজারা পায় দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। কিন্তু সমিতির সদস্যের উপর হামলা ও বঞ্চিত করে বিল দখল করেছেন একটি অসাধু চক্র। এরপর থেকেই মাছ আহরণ করতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। এমনকি দখলকারীরা কলমুগাড়া এলাকায় খালে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে পানির অবাধ চলাচল বাধাগ্রস্ত করেছে। এতে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ২ হাজার একর ফসলী জমি। বর্তমানে স্থানীয় কয়েক হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
জামবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম মেম্বার ও ওয়ার্ড আ.লীগের সদস্য আব্দুল কালামের নেতৃত্বে এই দখল ও হামলার অভিযোগ করেন কৃষক ও মৎস্যজীবীরা। তারা আরও বলেন, যুগ যুগ ধরে জেলে সম্প্রদায় জীবিকা নির্বাহ করে বিল থেকে মাছ আহরণের মাধ্যমে। কিন্তু দখলদারদের কারনে নিয়ে তা করতে পারছে না। অস্ত্র নিয়ে জেলেদের উপর হামলা ও মারধর করা হয়েছে। এখনও নানারকম হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এখন অসহায় অবস্থায় দিন যাপন করছে জেলেরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম কালু, সদস্য জিন্নুর আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক আলী, দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আকতারুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকসহ অন্যান্যরা। এসময় দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
-

আশুলিয়ায় ছাগলের ঘাস খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, নারী নিহত
আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধারালো দায়ের কোপে রূপবান বেগম (৪৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে সকালে আশুলিয়ার তাজপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
নিহত রূপবান বেগম তাজপুর এলাকার জয়নাল সরকারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মো. আলিয়া সরকার (৫৫) একই এলাকার মৃত সুলতান সরকারের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে রূপবানের একটি ছাগল মো. আলিয়া সরকারের বাড়ির উঠানে গিয়ে ঘাস খেতে শুরু করে। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আলিয়া সরকার ছাগলটিকে কুপিয়ে মেরে ফেলে। পরে বিষয়টি জানতে রূপবান বেগম অভিযুক্তের কাছে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে আলিয়া সরকার তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে রূপবান বেগমের পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবু তালিব বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে শুনেছি, তবে বিস্তারিত জানা নেই।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিনই মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
-
কবে মাংস খেয়েছেন মনে করতে পারেন না ক্যান্সার আক্রান্ত জাহানারা বেগম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বৈঠাকাটা গ্রামের জাহানারা বেগম কবে মাংস খেয়েছেন, মনে করতে পারেন না। ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন স্বামী জামাল হাওলাদার।পেশায় জেলে জামাল হাওলাদার মাছ ধরে কোনোমতে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন। কিন্তু স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বিক্রি করতে হয়েছে সহায়-সম্বল। এখন খাবার জোটানোই যেখানে কঠিন, সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকার ওষুধ কিনতে হয়।
অভাবের সংসারে অনেক সময় দুপুরের খাবার ছাড়াই থাকতে হয়। নিজেরা মাছ ধরলেও সংসারের খরচ আর ওষুধের চিন্তায় মাছও করতে হয়, খেতে পারেন না, আর মাংস?
শেষ কবে মাংস খেয়েছেন, শুনেই জাহানারা বেগমের চোখ ছল ছল করে ওঠে। মনে করতে পারেন না।
ইসলামিক রিলিফের পক্ষ থেকে দেওয়া ২ কেজি কোরবানির মাংস পেয়ে তিনি ভীষণ আনন্দিত। মাংস হাতে পেয়েই দ্রুত রান্নার আয়োজন শুরু করেন। রান্না শেষ হয়েছে কি না,ছোট ছেলেটি বারবার মায়ের কাছে ছুটে আসে। ভাত তখনও রান্না হয়নি, ছেলের আগ্রহ দেখে মুড়ি দিয়েই কিছু মাংস খেতে দেন।
পাশে বসে ছেলের তৃপ্তি নিয়ে মাংস খাওয়া দেখছিলেন জাহানারা। তার চোখে ছিল অপার মমতা, মুখে প্রশান্তির ছাপ। সন্তানের মুখে এমন আনন্দ দেখে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন নিজের কষ্ট, অসুস্থতা আর অভাবের কথা।
-
কটিয়াদীতে রক্তদান সমিতির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: গাছে গাছে পাখির বাসা ও মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ

কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে।দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে কটিয়াদীর জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘রক্তদান সমিতি’ মাসব্যাপী দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচির সূচনা করেছে।
আজ বিকেলে কটিয়াদী সরকারি কলেজ চত্বরে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সংগঠনের এই বিশেষ ‘সবুজায়ন’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক বদরুল আলম নাঈম।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে পর্যায়ক্রমে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পাখির নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গাছে মাটির কলস (পাখির কৃত্রিম বাসা) স্থাপন এবং জনসচেতনতা তৈরিতে লিফলেট বিতরণ করা হবে।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বদরুল আলম নাঈম বলেন, “বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব আজ জলবায়ু ঝুঁকিতে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।”
সংগঠনের কার্যকরী সমন্বয়ক ও চলচ্চিত্রকর্মী জিসান আজাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান পরিবেশগত সংকটের সিংহভাগই মানবসৃষ্ট। নির্বিচারে বন উজাড় করার কারণে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। পরিবেশকে বাঁচাতে এখনই আমাদের ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, পরিবেশের বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) টিকিয়ে রাখতে পাখিসহ বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সক্রিয় সদস্য কাওসার আহমেদ, ইমরান হোসেন, ইয়াসিন আহমেদ, আরিফুল ইসলাম, হাসিব আল মাহমুদ রাস্কি, সাব্বির হোসেন রিয়াদ, আরিফুল ইসলাম আকাশসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সুধীজন।
-
নেত্রকোণায় ডেঙ্গু সচেতনতায় শোভাযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোণায় ডেঙ্গু সচেতনতায় শোভাযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে নেত্রকোণা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে ১০টায় এক শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।এতে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, নেত্রকোণা পৌরসভার প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, নেত্রকোণা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ একরামুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুখময় সরকার, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাজহারুল আমিনসহ হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। ব্যানার নিয়ে তাঁরা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও হাসপাতালের বিভিন্ন প্রান্ত প্রদক্ষিণ করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ডেঙ্গু সচেতনতায় হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথম কয়েক দিন হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিষ্কার করা হবে। শেষের দিকে হাসপাতালের বাইরে আশপাশের পরিবেশও পরিষ্কার করা হবে। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে হাসপাতালে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণাও থাকবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ একরামুল হাসান বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বর্জ্য তৈরি হয়। এ বর্জ্যগুলো সরিয়ে যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়, হাসপাতালের নির্দিষ্ট স্থানে যাতে বর্জ্য ফেলা হয়—এ বিষয়ে সচেতনতার লক্ষ্যে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করছি। এতে যেমন সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হবে, তেমনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অভ্যাসও গড়ে উঠবে। এতে সারা বছর হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন থাকবে। এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ অভিযান কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
০৬/০৬/২০২৬ ইং