Category: অপরাধ

  • আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

     

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি :

     

    ঢাকার আশুলিয়ায় বেসরকারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
    বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান।

    এর আগে বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আশুলিয়ার ফুলেরটেক, বাইশমাইলসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর পূর্বে গত ২ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো—গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার ভূইয়া (২২), তাজুল ইসলাম তাজ (২০), শ্রাবণ সাহা উৎস (২১) এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থী অন্তু দেওয়ান (২৪)।

    মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে পিকনিকে নেওয়ার কথা বলে আসামিরা ভুক্তভোগীকে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায়। পথিমধ্যে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে পান করালে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে একটি মেসের ভেতরে দেখতে পান এবং বুঝতে পারেন যে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে।

    এসময় ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে আসামিরা ধারণকৃত ভিডিও ও অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। সেই সাথে এসিড নিক্ষেপ, প্রাণনাশসহ নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিক ধাপে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

    গত ৪ নভেম্বর এবং ৬ নভেম্বর ভুক্তভোগীকে আবারও শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। রাজি না হলে মারধর ও জোরপূর্বক নেশাজাতীয় পানীয় খাওয়ানো হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি কোনোমতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে সহপাঠী ও শিক্ষকরা গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    চিকিৎসা শেষে গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে আইন বিভাগের একাডেমিক কক্ষে আটকে রেখে আগের অভিযোগ তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষে তিনি থানায় মামলা করতে বাধ্য হন।

    এ বিষয়ে ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৭ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের আগামীকাল আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ

    ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার: 

    রাজউক কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন জোনে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে রাজউকের জোন ৩/২–এ দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন জোন ৪/২–এ। জোন স্থানান্তর হলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ধারা থামেনি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর কল্যাণপুর লেকপাড় এলাকার মিনার প্রোপার্টিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আবুল কালাম আজাদ তিন লক্ষ টাকা ঘুষ নেন। লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন ইয়াছিন নামের একজন ব্যক্তি। অভিযোগকারীরা জানান, ভবন অনুমোদন ও নির্মাণসংক্রান্ত কাগজপত্র দ্রুত এগিয়ে দিতে এবং পরিদর্শনে ‘সমস্যা না দেখানোর’ আশ্বাস দিয়ে কালাম এ অর্থ গ্রহণ করেন।

    এছাড়া মিরপুর এলাকার বাসিন্দা শামিমা রশিদের কাছ থেকেও তিনি দুই লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার দাবি, নির্মাণাধীন ভবনের নথিপত্রে কোন ত্রুটি না ধরার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে পরিদর্শক কালাম এই অর্থ দাবি করেন এবং পরে গ্রহণও করেন। একইভাবে কল্যাণপুর এলাকায় আরেকটি নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের কাছ থেকে অতিরিক্ত এক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্যে উঠে এসেছে—অবৈধ অর্থ নেওয়াকে আবুল কালাম নিয়মিত ‘প্রক্রিয়ার অংশ’ বলেই দাবি করেন।

    রাজউকের ভেতরে ও বাইরে আলোচিত আরেক পরিদর্শক সুলাইমানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদের মুখে সুলাইমানকে দ্রুত চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলেও একই ধরনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আবুল কালাম আজাদ বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষসহ ভুক্তভোগীরা।

    রাজউকের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে ‘প্রভাবশালী মহলের’ সহায়তা পেয়ে আসছেন। যার কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কোন বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়নি। এমনকি ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আগেই তাদের ‘সমাধানের আশ্বাস’ দেখিয়ে নিরব থাকতে বাধ্য করা হয়।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘুষ–দুর্নীতির মাধ্যমে ভবন নির্মাণে অনিয়মকে উৎসাহিত করছেন এই কর্মকর্তা। আবুল কালামের মতো পরিদর্শকরা দুর্নীতি করলে নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ বেড়ে যায়, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

    এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত ও দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “একজন পরিদর্শকের দুর্নীতির কারণে পুরো এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। সুলাইমানকে বরখাস্ত করা হয়েছে, কিন্তু আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এটাই আমাদের প্রশ্ন।”

    রাজউক প্রশাসনের প্রতি দাবি—ঘুষ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং নির্মাণশিল্পে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হোক।

  • সাভারে ডিবির অভিযানে ৪০০ ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক

    সাভারে ডিবির অভিযানে ৪০০ ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:

    রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারে গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় ব্যর্থ হলো মাদক কারবারিদের ইয়াবা বিস্তার পরিকল্পনা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত সফল অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

    শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় সন্দেহভাজন অবস্থানে থাকা ওই দুই ব্যক্তিকে ঘিরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে মাদক কারবারিদের বিচরণ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগের পর বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল বলে ডিবি সূত্র জানায়।

    আটককৃতরা হলেন—ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার উথুলি এলাকার মৃত আ. ওয়াহাবের ছেলে মো. সোহরাব (৪১) এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার শান্তিনগর হারবাং এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ হাসান (২৪)। তাদের মধ্যে সোহরাব দীর্ঘদিন ধরে সাভারের উত্তরপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দুজনই বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত।

    ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানায়, ভোরে পাওয়া একটি গোপন খবরে জানা যায়—সাভার রেডিও কলোনি এলাকায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়–বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই শেষে ডিবির বিশেষ টিম দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুই কারবারিকে আটক করে। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হচ্ছে এবং মাদক চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

    তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। এলাকায় শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রেডিও কলোনি এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযান এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

  • সাভারে ডিবি পুলিশের অভিযানে চোলাই মদসহ এক ব্যক্তি আটক

    সাভারে ডিবি পুলিশের অভিযানে চোলাই মদসহ এক ব্যক্তি আটক

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:

    ঢাকার সাভারে বিশেষ অভিযানে চোলাই মদসহ দুদু মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাভার মডেল থানার ফিরিঙ্গিকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার হেফাজত থেকে ৬০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে।

    বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জালাল উদ্দিন।

    ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে ফিরিঙ্গিকান্দা এলাকায় কিছু ব্যক্তি চোলাই মদ ক্রয়–বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে দুদু মিয়াকে আটক করা হয়।

    আটক দুদু মিয়া সাভারের ফিরিঙ্গিকান্দা এলাকার মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে।

    ওসি মোঃ জালাল উদ্দিন জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • রনি–আমেনা চক্রের বিরুদ্ধে জনমতের ঝড়: মাদক দমনের নামে সৃষ্টি হয়েছে দুর্নীতির শিল্প!

    ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ময়মনসিংহ বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় কি সত্যিই মাদক দমন করছে—নাকি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত, মাসোয়ারা বাণিজ্য এবং “সেফ জোন” সৃষ্টির অন্ধকার চক্রে পরিণত হয়েছে? বহুদিন ধরে স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ানো অভিযোগ এবার ভয়ংকর বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ২০ নভেম্বর ফাঁস হওয়া এক ভয়েস রেকর্ডে ডিএনসির এএসআই আমেনা বেগম নিজ মুখে স্বীকার করেছেন—পরানগঞ্জের অবৈধ মদপল্লী থেকে তিনি নিয়মিত মাসোয়ারা নেন! কথোপকথনের অপর প্রান্তে থাকা মদ ব্যবসায়ী অমলকে গালাগালি, হুমকি, মাসোয়ারা আদায় এবং অপকর্মের বর্ণনা—সবকিছুই উঠে এসেছে অডিওটিতে। শোনা যায়—“আগে যা দিছস, এবারও তাই দিবি! আমার লাইনে চলবি—না হলে মামলা হইব!” ফাঁস হওয়া অডিও জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন—“যে বাহিনী দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক থেকে রক্ষা করার কথা, সেই কর্মকর্তারাই যদি মদপল্লীর মাসোয়ারা খেয়ে বাঁচেন—তাহলে রাষ্ট্রকে রক্ষা করবে কে?”

    অডিও ফাঁসের পর উন্মোচিত আরেক ভয়ংকর সত্যঃ রনির ডিজি অফিসে ‘অদৃশ্য ক্ষমতার ছাতা’! এএসআই আমেনা অডিওতে ভয় পেয়ে মিনতি করতে করতে বলেন—“ভাই, রনি শুনলে আমার চাকরি চলে যাবে। রনির ডিজি অফিসে বড় কর্মকর্তার সঙ্গে খুব সখ্যতা আছে! যে কাউকে বদলি করে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই নিরপরাধ একজনকে খাগড়াছড়ি বদলি করাইছে। ভাই, আমার চাকরি খাইয়েন না…” এই কথাগুলো থেকেই স্পষ্ট—মাদক দমনকারী বাহিনীর অভ্যন্তরে একটি অদৃশ্য শক্তিশালী সিন্ডিকেট বহুদিন ধরেই সক্রিয়। ডিজি অফিস পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী এই সিন্ডিকেট—শাস্তির ভয় দূর করে অধীনস্থদের দিয়ে মাসোয়ারা কালেকশন করায়! নিজ জেলার গডফাদারদের সুরক্ষা দেয়! যাকে খুশি বদলি করার ক্ষমতা দেখায়! এএসআই আমেনার ভয়, কাঁপা কণ্ঠে মিনতি—এই সিন্ডিকেটের ভয়ংকর ক্ষমতার নির্মম প্রমাণ।

    অভিযোগের কেন্দ্রে সহকারী পরিচালক কাওসারুল হাসান রনি! রনির বাড়ি—ময়মনসিংহের ত্রিশাল! এএসআই আমেনার বাড়ি—ঈশ্বরগঞ্জ! এএসআই ফারুকের বাড়ি—নান্দাইল! একই জেলার তিন কর্মকর্তা–কর্মচারী বছরের পর বছর একই জেলায় থেকে একটি ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করেছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—“নিজ জেলায় পোস্টিং পেয়ে কি তারা মাদক গডফাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে দুর্নীতির সাম্রাজ্য বানিয়েছেন?” অনেকে বলছেন—“এত বিপুল দুর্নীতি একদিনে হয়নি। তাহলে কর্তৃপক্ষ এতদিন কোথায় ছিল? দেখেও কি না দেখার ভান করা হয়েছে?”

    ১. গডফাদারদের সুরক্ষা—‘মাসোয়ারা নিলেই সেফ জোন’ ঘোষণা! ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২০ জন কুখ্যাত মাদক গডফাদারকে মাসোয়ারার বিনিময়ে “নিরাপদ এলাকা” ঘোষণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। তালিকায় রয়েছে—ময়না–বুচি, নজরুল–নাজু, ডালিয়া, রুমা, রুজি, স্মৃতি, কুদু, হামে, রেহেনা, দুখিনী, সুরমা, সুবর্ণা–দেলু, মোখলেস, আনু, হাফিজুল, মোফাজ্জল, আহাদ, কাইয়ুমসহ আরও অনেকে। মাসোয়ারার টাকা ভাগ হতো—এএসআই ফারুক, এএসআই মাহাবুব, সিপাহি পাবেল, সিপাহি সোহেলের মধ্যে।

    ২. নিজ জেলার মাদক ব্যবসায় অন্ধত্ব—বাইরের জেলায় ‘সাফল্যের নাটক’! রনি নিজের জেলায় থেকে গডফাদারদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিয়েছেন—এমন অভিযোগ পুরনো। বেশিরভাগ মামলাই করা হয়েছে বাইরের জেলায়—যাকে বলা হচ্ছে “ফাইল সাফল্যের নাটক”।

    ৩. উদ্ধার ও মামলার অমিল—‘উদ্ধারের বড় অংশ কোথায় যায়?’ উদাহরণ: উদ্ধার ২০ কেজি গাঁজা—মামলায় ১৮ কেজি! উদ্ধার ২,০০০ ইয়াবা—মামলায় ১,৯৫০টি! নগদ টাকাও কম দেখানোর অভিযোগ! জনমনে প্রশ্ন—“বাকি অংশ কার পকেটে গেল?”

    ৪. অধীনস্থদের হঠাৎ সম্পদবৃদ্ধি—“বেতনে কীভাবে সম্ভব?” বিশেষ করে এএসআই ফারুকের—শম্ভুগঞ্জে জমি, গোয়ালকান্দিতে ১৬ শতক, সানকিপাড়ায় বাড়ি, নিজ গ্রামে আলিশান ভবন! সচেতন মহলের মন্তব্য—“এএসআইয়ের বেতনে এসব হয় না—এটাই দুর্নীতির বড় প্রমাণ।”

    ৫. রনির ব্যক্তিজীবনেও ঝড়—স্ত্রীর মামলা ও বিচ্ছেদ! পারিবারিক সূত্র বলছে—রনির ব্যক্তিজীবনে নানা অভিযোগ ও অস্থিতিশীলতা ছিল। কথা উঠছে—“নিজ পরিবারই যখন সামলাতে পারেননি—রাষ্ট্রের তরুণ সমাজকে কীভাবে রক্ষা করবেন?”

    ৬. দীপ পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধ—পরিচালকের বিস্ফোরক অভিযোগ। জেলা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দীপ পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধে রনির ‘মনগড়া রিপোর্ট’ দায়ী—এমন অভিযোগ করেছেন পরিচালক মো. আরিফ সিদ্দিকী (সুমন)। তিনি বলেন—“রনি আমার শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কেন্দ্র বন্ধ করিয়েছে।” সরজমিনে দেখা গেছে—অন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে ভয়ংকর অনিয়ম থাকলেও সেখানে কোনো অভিযান নেই। কারণ—সেখান থেকেও আসে মাসোয়ারা! নাগরিক সমাজ বলছে—“এটি রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।”

    এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জনমনের জোর দাবি—অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত! তদন্তের দাবিসমূহঃ ১. এএসআই আমেনার ভয়েস রেকর্ডের ফরেনসিক বিশ্লেষণ। ২. রনির দায়ের করা সব মামলার রিভিউ। ৩. উদ্ধার ও জব্দ তালিকার পূর্ণ অডিট। ৪. এএসআই ফারুক–মাহাবুবসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পদ তদন্ত। ৫. সহকারী পরিচালক রনিকে অবিলম্বে অপসারণ। ৬. পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স–বেড–অনুমোদন সংক্রান্ত ঘুষ চক্রের তদন্ত।

    অভিযুক্তদের অস্বীকার—কিন্তু প্রশ্নের পাহাড়! রনি ও তার টিম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু—ভয়েস রেকর্ড, উদ্ধার–মামলার অমিল, গডফাদার সুরক্ষা, হঠাৎ সম্পদবৃদ্ধি, নিজ জেলায় বছরের পর বছর পোস্টিং! ডিজি অফিসে অদৃশ্য প্রভাব! নিরপরাধকে খাগড়াছড়িতে বদলি! চুরির অভিযুক্তকে কিশোরগঞ্জে (ভৈরবে) প্রাইজ পোস্টিং! পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধের প্রশ্নবিদ্ধ রিপোর্ট! এসব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দাবি—“মাদক দমনের নামে দুর্নীতির সাম্রাজ্য ভেঙে দিন—নইলে জনগণের আস্থা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।”

    জাতীয় নিরাপত্তার সংকট! এটি শুধু একটি জেলার সমস্যা নয়—এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঘোষণা করা এক নীরব যুদ্ধ। জনগণের বার্তা পরিষ্কার—“মাদক দমনের নামে দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দিন—না হলে দেশে মাদক ব্যবসাই সরকারি লাইসেন্স পেয়ে যাবে!”

  • আশুলিয়ায় সেনা অভিযানে ছিনতাই চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

    আশুলিয়ায় সেনা অভিযানে ছিনতাই চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

    আলমাস হোসাইন, ঢাকা জেলা প্রতিনিধি:

     

    ঢাকার আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ছিনতাই চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চালায় জামগড়া আর্মি ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল।

    রবিবার (৯ নভেম্বর) রাতভর আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত এ অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

    অভিযানের বিবরণ

    সেনাবাহিনী জানায়, স্থানীয়দের অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে জানা যায়, ইউনিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্র দীর্ঘদিন ধরে পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছিল।

    এরপর পরিকল্পিতভাবে পাঁচটি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতদের নাম

    আজহার (৩২), রকিবুল (২৩), কাওসার (২৪), আফজাল (২৯), আরিফুল ইসলাম (২৩) ও জুঁই (২৬)।

    উদ্ধারকৃত অস্ত্র

    অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে ৯টি চাপাতি, ২টি ছুরি, ১টি চাইনিজ কুড়াল এবং ৯টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

    পরবর্তী ব্যবস্থা

    গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা আশুলিয়ার বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে নিয়মিত ছিনতাই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
    অভিযান শেষে আসামিদের আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সাভারে নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক, উদ্ধার অর্ধ কেজি গাঁজা

    সাভারে নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক, উদ্ধার অর্ধ কেজি গাঁজা

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি

    ঢাকার সাভারে অভিযান চালিয়ে অর্ধ কেজি গাঁজাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    অভিযান পরিচালনা

    রবিবার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের বড়দেশী পশ্চিমপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। এসময় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ এক নারীকে হাতেনাতে আটক করে ডিবি পুলিশ।

    গ্রেপ্তারকৃত নারী

    গ্রেপ্তারকৃত নারী মাদক ব্যবসায়ীর নাম কমলা বেগম (৪৫)। তিনি রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার ধানচন্দ্রপুর গ্রামের মজিবরের স্ত্রী। বর্তমানে সাভারের বড়দেশী পশ্চিমপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন বলে জানা গেছে।

    পুলিশের বক্তব্য

    ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন,

    গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করি। তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

     

    আটককৃত কমলা বেগমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডিবি পুলিশ।

  • আশুলিয়ায় ক্লুলেস হত্যার রহস্য উন্মোচন: মূলহোতা বিদ্যুৎ মণ্ডল গ্রেপ্তার

    আশুলিয়ায় ক্লুলেস হত্যার রহস্য উন্মোচন: মূলহোতা বিদ্যুৎ মণ্ডল গ্রেপ্তার

    আলমাস হোসাইন:
    সাভারের আশুলিয়ায় ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা মো. বিদ্যুৎ মণ্ডল (৩৭)–কে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    রবিবার (৯ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. জালাল উদ্দিন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিএমপির খিলগাঁও থানার পশ্চিম নন্দিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে ডিবি পুলিশের একটি টিম।

    গ্রেপ্তারকৃত বিদ্যুৎ মণ্ডল জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার তালোরা বাইগুনি এলাকার মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দিপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

    ডিবি পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি আশুলিয়া থানাধীন চারাবাগ কুমকুমারি এলাকায় এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির রহস্য উদঘাটনে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।

    রবিবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা কৌশল অবলম্বন করে বিদ্যুৎ মণ্ডলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম খিলগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিদ্যুৎ মণ্ডল হত্যার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানায়, নিহত নারী তার তৃতীয় স্ত্রী নারগিস আক্তার (২৭)। বিদ্যুৎ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে তার বোনজামাই শাকিলুরও সরাসরি জড়িত ছিল এবং তারা মিলে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে।

    ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের ওসি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক শাকিলুরকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • পরকীয়ার জেরে অটোরিকশাচালক রাব্বি খুন: ঘাতক স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

    পরকীয়ার জেরে অটোরিকশাচালক রাব্বি খুন: ঘাতক স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

    আলমাস হোসাইন : ঢাকা জেলা প্রতিনিধি
    সাভারের কলমা এলাকায় পরকীয়ার জের ধরে অটোরিকশাচালক ফজলে রাব্বি (২২)-কে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখার ঘটনায় জড়িত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    রবিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল মিয়া।
    এর আগে শনিবার টাঙ্গাইল সদর থানা এলাকার বেলটিয়াবাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সাভারের কলমা উত্তরপাড়ার জাকির আলী ভূঁইয়ার ছেলে আবির হোসেন রাতুল (২৩) এবং তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ইতি (২৩)। ঘটনার পর তারা টাঙ্গাইল শহরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নিহত রাব্বি একই এলাকার মৃত ছবদর খানের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি অটোরিকশা চালাতেন।

    পুলিশ জানায়, গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে উত্তর কলমা এলাকার স্ট্রবেরি বাগানসংলগ্ন জঙ্গল থেকে ফজলে রাব্বির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাব্বির মামা ওহাব আলী (৪০) বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    তদন্তে উঠে আসে, রাব্বির সঙ্গে রাতুলের স্ত্রী ইতির অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে রাতুল পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করে।

    ওসি জুয়েল মিয়া বলেন, পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে টাঙ্গাইল থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে তাদের পাঠানো হয়েছে।

  • পিরোজপুরে ধাওয়া ইউনিয়নের সচিব শ্যামল বড়ালের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

    স্টাপ রিপোর্টার:পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার দাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের অতিরিক্ত দায়িত্ব সচিব শ্যামল বড়ালের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তিনি সরকারি বরাদ্দ ও তহবিলের অর্থ অপব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। এই অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে, এবং শ্যামল বড়ালের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও শাস্তির দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগীসহ সাধারণ জনগণ।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্যামল বড়াল ভান্ডারিয় সদর গৌরিপুর ইউনিয়নের সচিব থাকাকালীন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। বিশেষ করে রাস্তা নির্মাণ, সেচ প্রকল্প ও অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বরাদ্দে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হলেও, ঘনিষ্ঠ মহল ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এসব তহবিল থেকে লাভবান হচ্ছে। বর্তমানে তিনি দাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের অতিরিক্ত দায়িত্বে সচিব হিসেবে কর্মরত।

    এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব সচিব শ্যামল বড়ালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বলেন আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান টুলু ডাকুয়া ও তার সহযোগী মিরাজের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে শুনেছি।

    সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠলেও তা ধামাচাপা পড়ে যায়।

    এ বিষয়ে একাধিক ভুক্তভোগী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, শ্যামল বড়াল পূর্বে মিরাজ ও মহারাজের দুর্নীতির প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, শ্যামল বড়ালকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    দুর্নীতির এই অভিযোগে দাওয়া ইউনিয়নে নেমেছে চাঞ্চল্য, এবং সচিবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

    লোকমুখে এখন একই কথা, গৌরিপুর ইউনিয়ন খেয়ে এখন আসছে দাওয়া ইউনিয়ন খেতে।