Category: অপরাধ

  • সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপস নয়

    সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপস নয়

     

    মো: নুরে ইসলাম মিলন :
    সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগ। সংগঠনটি বলেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা এখন সরাসরি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে চরমভাবে বিপন্ন করে তুলছে।
    এক বিবৃতিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগ জানায়, সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত হামলার অধিকাংশ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে, ফলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অনেক ক্ষেত্রে হামলার শিকার সাংবাদিকদেরই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহকে দমিয়ে রাখার সুপরিকল্পিত কৌশল বলে মনে করে সংগঠনটি।
    বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। অথচ বাস্তবে সাংবাদিকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুরক্ষা তো পাচ্ছেনই না, বরং নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও মামলার শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা কার্যত অচল হয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি।
    জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কঠোর দাবি জানিয়ে বলেছে—সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি হামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিরাপদ, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
    পাশাপাশি সংগঠনটি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতিও গঠনমূলক আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান বাস্তবতায় সংবাদ সংগ্রহের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজের সময় অবশ্যই প্রেস লেখা জ্যাকেট পরিধান, গলায় বৈধ পরিচয়পত্র দৃশ্যমান রাখা, এককভাবে না গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগেভাগে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি সহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্বের অংশ বলে উল্লেখ করা হয়।
    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো সাংবাদিক হুমকি, বাধা, হামলা বা হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।
    জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগ স্পষ্টভাবে জানায়—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে সংগঠনটি সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

    মো: নুরে ইসলাম মিলন
    সভাপতি
    জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা
    রাজশাহী বিভাগ।

  • সাংবাদিকতার আড়ালে ব্ল্যাকমেইল সিন্ডিকেট: ভূঁইফোড় পোর্টালের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    দেশের মূলধারার সাংবাদিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং প্রচলিত আইনকে তোয়াক্কা না করে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা একগুচ্ছ নিবন্ধনহীন ভূঁইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বর্তমানে রীতিমতো ‘চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটে’ পরিণত হয়েছে। ‘দৈনিক আমার স্বাধীন বাংলাদেশ’, ‘দৈনিক বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি’, ‘দুর্নীতির ডায়েরি’, ‘এনবিবি (NBB)’, ‘সকালের ডাক’, ‘সাজের বেলা’ ও ‘নবান্নের আলো’-এর মতো নামসর্বস্ব পোর্টালগুলো এখন সরকারি কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করার প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ছাড়াই মনগড়া সংবাদ সাজিয়ে প্রথমে তা অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হয় এবং পরবর্তীতে সংবাদ নামানোর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রটি।

    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব নিউজ পোর্টালের ওয়েবসাইটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, বাস্তবে সেখানে কোনো অফিসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি যোগাযোগের জন্য দেওয়া নম্বরগুলোও সুকৌশলে অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখা হয়। অভিযুক্ত এসব পোর্টালের কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের অফিসিয়াল নম্বরে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায় এবং ঠিকানায় গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। মূলত ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেই তারা এই সাইবার অপরাধ ও চাঁদাবাজি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

    সরকারি কোনো নিবন্ধন বা আইনি বৈধতা না থাকলেও এরা দীর্ঘ দিন ধরে ‘গণমাধ্যম’ পরিচয় দিয়ে বন বিভাগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (EED), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের টার্গেট করে আসছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তাদের ‘আওয়ামী দোসর’ বা ‘দুর্নীতিবাজ’ সাজিয়ে তথ্যবিহীন সংবাদ প্রচারের ভয় দেখিয়ে দেদারসে চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে।

    ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। শিক্ষা প্রকৌশল ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন প্রকৌশলী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই চক্রটির যন্ত্রণায় তাঁরা অতিষ্ঠ। নিজেদের এবং পারিবারিক সম্মানের কথা চিন্তা করে অনেক সময় তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিলেও রেহাই মেলে না। এক পোর্টালে টাকা দেওয়ার কয়েকদিন পরই অন্য একটি বেনামী পোর্টালে একই মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবারও সংবাদ প্রচার করা হয় এবং নতুন করে টাকা দাবি করা হয়। এরা মূলত পেশাদার চাঁদাবাজ, সাংবাদিকতার সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই।

    বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মূলধারার নিবন্ধিত গণমাধ্যমগুলোকেও সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তাদের নিকট সন্দেহের চোখে দেখতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক গণমাধ্যম জগতের জন্য এক বড় হুমকি। প্রতিবেদকের হাতে আসা বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, এই চক্রটি তাদের চাঁদাবাজির টাকা লেনদেনে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, বিকাশ এবং নগদ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে। গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে সরাসরি কর্মকর্তাদের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক কল রেকর্ড ও লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ এখন প্রশাসনের নাগালের মধ্যে রয়েছে।

    মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক নেতা শাহিন বিশ্বাস এ প্রসঙ্গে বলেন, “গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ এবং মানুষের অধিকার আদায়ের শেষ অস্ত্র। অথচ নিবন্ধনহীন ভূঁইফোড় কোনো চক্র যদি এই পবিত্র সাইনবোর্ড ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও দস্যুতা চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এদের কারণে মূলধারার সাংবাদিকতা আজ হুমকির মুখে।” জানা গেছে, এই সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে এবং অবৈধ নিউজ পোর্টালগুলোর কার্যক্রম চিরতরে বন্ধের দাবিতে প্রতিটি আক্রান্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে পৃথক মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে বিটিআরসি (BTRC) এবং তথ্য মন্ত্রণালয়কে এসব অবৈধ সাইট বন্ধের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীরাও এই অপসাংবাদিকতা প্রতিহত করতে প্রশাসনের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

  • পুলিশ পরিচয়ে ট্রাক লুট: আশুলিয়ায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার সাড়ে ১২ টন রড

    পুলিশ পরিচয়ে ট্রাক লুট: আশুলিয়ায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার সাড়ে ১২ টন রড

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ঢাকার আশুলিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১৩ টন রড বোঝাই একটি ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভার ও কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত প্রায় সাড়ে ১২ টন রড উদ্ধার করা হয়েছে।
    শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুবেল হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির চার সদস্যকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং লুট করা মালামালের অবস্থান জানায়।
    তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাভারের কান্দি ভাকুতা বাজারের ‘মেসার্স জাকারিয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকান থেকে ৫ হাজার ৩০০ কেজি এবং কেরানীগঞ্জের বড়াইকান্দি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত কলমি ক্ষেত থেকে আরও ৭ হাজার ২০০ কেজি রড উদ্ধার করা হয়।
    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সোহেল (২৬), মো. বিজয় (২৮), মো. মানিকুল (৪১) ও চোরাই মাল ক্রেতা মো. সাইদুল ইসলাম (৩৫)।
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকে ১৩ টন রড নিয়ে একটি ট্রাক টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ পরিচয়ে ৭-৮ জনের একটি দল ট্রাকটি থামায়। পরে চালক ও হেলপারকে জিম্মি করে ট্রাকসহ রড লুট করে নিয়ে যায়।
    ওসি রুবেল হাওলাদার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • আশুলিয়ায় দেশীয় অস্ত্রসহ যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল গ্রেপ্তার

    আশুলিয়ায় দেশীয় অস্ত্রসহ যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল গ্রেপ্তার

    আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও বিভিন্ন দেশীয় সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
    বিস্তারিত আসছে

  • আশুলিয়ায় দেশীয় অস্ত্রসহ যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল গ্রেপ্তার

    আশুলিয়ায় দেশীয় অস্ত্রসহ যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল গ্রেপ্তার

    আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও বিভিন্ন দেশীয় সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
    বিস্তারিত আসছে

  • ডিবির অভিযানে আশুলিয়ায় দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

    ডিবির অভিযানে আশুলিয়ায় দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ঢাকার আশুলিয়ায় পৃথক দুটি অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০০ পুড়িয়া হেরোইন ও ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম।
    ডিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২০০ পুড়িয়া হেরোইনসহ সাদ্দাম হোসেন (৪৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তিনি শেরআলী মার্কেট এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে।
    এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইসলাম নগর এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আতিকুর রহমান (৪২) নামে আরও এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আবুল কালাম আজাদের ছেলে।
    পুলিশ জানায়, আটক সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি এবং আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্তত একটি মাদক মামলা রয়েছে।
    ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • আশুলিয়ায় পুলিশের অভিযানে রিভলবার-ইয়াবা উদ্ধার

    আশুলিয়ায় পুলিশের অভিযানে রিভলবার-ইয়াবা উদ্ধার

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ঢাকার আশুলিয়ায় গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বাড়ি থেকে বিদেশি রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবাসহ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার।
    পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধামসোনা ইউনিয়নের পূর্ব ডেন্ডাবর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযুক্ত আলামিন ওরফে কালু (২৮) ওই এলাকার আসলাম মন্ডলের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
    তল্লাশি চলাকালে তার বসতঘর থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, ৮ পিস ইয়াবা, নগদ ৬০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে যায় আলামিন।
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
    ওসি রুবেল হাওলাদার জানান, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • ডিবির অভিযানে আশুলিয়ায় দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

    ডিবির অভিযানে আশুলিয়ায় দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:
    ঢাকার আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১০০ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা উত্তর (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানার নয়ারহাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে কয়েকজন মাদক কারবারি মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত রয়েছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ১০০ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ঢাকা জেলার ধামরাই থানার কুমরাইল এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে লেহাজ উদ্দিন (৫৫) এবং আশুলিয়া থানার চাকলগ্রাম এলাকার মো. শুকুর আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ (৪৫)।
    ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
    এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনোভাবেই মাদক কারবারিদের ছাড় দেওয়া হবে না। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
    পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় মাদক প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

  • ওএমএস কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে জাকিরের দুর্ব্যবহার: তথ্য সংগ্রহে বাধা ও হুমকির অভিযোগ

    ওএমএস কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে জাকিরের দুর্ব্যবহার: তথ্য সংগ্রহে বাধা ও হুমকির অভিযোগ

    কাউছার আহমেদ পনির:

    মিরপুর ১২ নাম্বার নতুন থানা পাশে বঙ্গবন্ধু কলেজ সংলগ্ন সরকারি ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক জাকিরের দুর্ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং সরকারি সেবা কেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
    ঘটনার বিবরণ
    দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ এবং সহকর্মী আনজার বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে অবস্থিত ওএমএস কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক জাকির দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিলার মাজিদা খাতুন পরিচালিত এই কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ভাতা প্রদান এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকিরের বিরুদ্ধে।
    সূত্র জানায়, কথিত সাংবাদিক জাকির সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “অ্যাসাইনমেন্ট দেখান, আপনারা ভুয়া সাংবাদিক।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমি এখানে অনেক সাংবাদিককে মারধর করেছি। শফিকুল গ্রুপ এবং রূপক গ্রুপের সাংবাদিকদের মারধর করেছি।” এই বলে তিনি স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ এবং আনজারকে মারার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
    ওএমএস কেন্দ্রের তথ্য
    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এই ওএমএস ট্রাকসেল কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়। কেন্দ্রে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রয় করা হয়। জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল বা আটা এবং ২ কেজি প্যাকেট আটা ৫৫ টাকায় সর্বোচ্চ ২ প্যাকেট বিক্রয়ের বিধান রয়েছে।
    ডিলার মোহাম্মদ মাজিদা খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কেন্দ্রে প্রতি রোজবার বিক্রয় কার্যক্রম চলে। অভিযোগ থাকলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০২২২০০৪০৬৭৩) এবং হটলাইন (১৬১৫৫) নম্বরে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
    সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া
    দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ জানান, “আমরা শুধুমাত্র সরকারি ওএমএস কেন্দ্রের কার্যক্রম এবং জনগণের সেবার মান যাচাই করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কথিত সাংবাদিক জাকির আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন এবং মারধরের হুমকি দেন। এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রতি সুস্পষ্ট হুমকি।”
    স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহের অধিকার রাখেন। কোনো ব্যক্তি এই অধিকারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।
    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন
    ওএমএস কেন্দ্র জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি সেবা কর্মসূচি। এখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান এবং হুমকি প্রদান এই স্বচ্ছতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। যদি কেউ সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় বা হুমকি প্রদান করে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    সুপারিশ ও পদক্ষেপ
    সাংবাদিক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, কথিত সাংবাদিক জাকিরের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
    খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সেবা কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। তারা জনগণকে হটলাইন নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
    এদিকে, স্থানীয় সুশীল সমাজ ও নাগরিক সংগঠনগুলো বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

  • শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

    শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

     

    কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষ জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য গেলে এখানে সরকারি নিয়মের পরিবর্তে ব্যক্তিগত লেনদেন ও দালাল ব্যবস্থার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই অনিয়ম ও ঘুষের কারণে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    সমাজের নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতি এমন এক নোঙ্গর হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসও এর ব্যতিক্রম নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নায়েব ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহজাদী তাহমিনা, যিনি এলাকায় ‘নায়েক শাহজাদী’ নামে পরিচিত, সরকারি বেতন মাত্র ৪০–৫০ হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও নানা অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

    ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত যে কোনো কাজ—খারিজ, নামজারি, খাজনা, পর্চা—শাহজাদী তাহমিনার মাধ্যমে হলে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয়। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের বেড়াখলা গ্রামের রুজিনা লেখম জানান, তিনি বাবার জমি নামজারি করতে গেলে শাহজাদী তাহমিনা তার নিকট ১৯ হাজার টাকা গ্রহণ করে খারিজ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। একইভাবে, ইতালি প্রবাসী মোঃ ফারুক সরকার জানান, মসজিদের নামে জমি ওয়াকল করেও তিনি শাহজাদী তাহমিনার নিকট ৪২ হাজার টাকা দিয়েই নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বাধ্য হন।

    স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য ফাইল জিম্মি রাখা, দালাল ব্যবহার এবং মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ই শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মূল ধারা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী হালিমা আক্তার জানান, নায়েব ছাড়া কোনো কাজই এখানে হয় না, অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারী কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন না।

    জমির কাজের জটিলতা অনুযায়ী অর্থের পরিমাণও ভিন্ন হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাধারণ নামজারির জন্য কয়েক হাজার টাকা, জটিল জমির ক্ষেত্রে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ দিতে হয়। নজরুল ইসলাম খন্দকার জানান, তার একটি জমি বিক্রির কারণে নামজারি করতে গিয়ে শাহজাদী তাহমিনা দালাল রাসেলের মাধ্যমে ১৯ হাজার টাকা নেন। এমন ঘটনা নিয়মিত পর্যায়ে ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    শাহজাদী তাহমিনার কার্যক্রম শুধু অর্থের লেনদেনেই সীমাবদ্ধ নয়; গ্রাহকদের সঙ্গে আচরণও ন্যায্য নয়। এক প্রবাসী জানান, জমির জন্য তিনি অফিসে গেলে নায়েব তার সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করেছেন এবং টাকা ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন হয়নি। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

    স্থানীয় দালালরা বলছেন, নায়েবের অধীনে লেনদেনের ক্ষেত্রে দালালদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়। মোঃ আবু কাউছার জানান, জমির খাজনা আদায় ও নামজারি কার্যক্রমে নায়েবের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না। প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ আবু জাহের জানান, নায়েব নিজের সুবিধার জন্য সমস্ত ফাইলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন এবং বিনা অর্থে কোনো কাজ করতে দেন না।

    শাহজাদী তাহমিনা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে কাজ করছেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি নানাভাবে মোটা অঙ্কের সম্পদ অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দালালদের মাধ্যমে কাজ করান এবং জমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিল কাজে অর্থ আদায় করে থাকেন।

    অপরাধ বিচিত্রা প্রতিনিধিকে এক সাক্ষাৎকারে নায়েব তাহমিনা বলেন, “ভাই, আমার চাকরি আর এক বছর আছে, এ সময় সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করছি। আমি সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করি।” অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফোন রিসিভ না করার কারণে বিষয়টি যাচাই সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, যদি যথাযথ অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি এমন অনিয়ম চলতে থাকে, তাহলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও জনবিশ্বাসের ক্ষতি হবে। শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ফাইল জিম্মি, দালাল ব্যবস্থাপনা এবং মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের ফলে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও সামাজিকভাবে হুমকির মুখে পড়ছেন।

    একজন দালাল আশরাফ জানান, “আমি কাজের জন্য টাকা নিয়েছি, কিন্তু তা নায়েবকে দিয়েছি। সরকারী ফি থাকলেও নায়েবের মাধ্যমে কাজ করতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।” ইতালি প্রবাসী মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, “শাহজাদী তাহমিনা টাকা নিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন না। আমার জমি নামজারি করতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আমি বাধ্য হয়ে উচ্চতর কর্মকর্তার কাছে যেতে বাধ্য হই।”

    বিএনপি ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ বায়েজিদ হোসেন রানা জানান, নায়েব নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং প্রতিটি ফাইলের জন্য অর্থ আদায় করেন। তিনি বলেন, “আমরা অফিসে গিয়ে বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু নায়েব আমাদের কথা তোয়াক্কা করেন না। তিনি নিজের ঘুষের রাজত্ব বজায় রাখছেন।”

    প্রতিনিধিকে নায়েবের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকারের সময় দেখা যায়, তিনি সাংবাদিককে চায়ের আপ্যায়নের মাধ্যমে বিষয়টি ‘নির্ধারিত’ করার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়ম কেবল সাধারণ জনগণের জন্য নয়, সাংবাদিকতার জন্যও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

    স্থানীয়রা সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, নায়েব শাহজাদী তাহমিনার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও সুবিচারমূলক সেবা পাবেন।

    শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অনিয়ম এবং ঘুষের চক্র ভেঙে দেওয়া না গেলে, এটি কেবল ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নয়, আশেপাশের এলাকা থেকেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্থানীয় জনগণ সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি পদে থাকা কর্মকর্তা যদি নিজের স্বার্থে চলেন, তাহলে জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার অপরাধ বিচিত্রাকে জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেছেন। সরকারি পদে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।