নেত্রকোনায় ঘুষ বানিজ্যে চ্যাম্পিয়ন সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস দেখার কেউ নেই

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুষ বানিজ্যে জেলার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন একটি বিশেষ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।এই ঘুষ বানিজ্য চলে সাহতা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের নেতৃত্বে এক শ্রেণীর দালালের মাধ্যমে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ওই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহসিলদার) শাহানা আক্তার টাকা ছাড়া কোনো কাজই করেন না। ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো সেবার বিনিময়ে তিনি দালালদের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের হাজার হাজার টাকা। এই অফিসে গ্রাহকদের হয়রানি নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কিছুদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও পত্রিকার মাল্টিমিডিয়ায় দেখা গিয়েছে সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকার সচেতন মহলের ঘুষ বানিজ্যের প্রতিবাদ।

 

সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা গেছে, সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির পর্চা (খসড়া) তুলা সহ ভূমি সংক্রান্ত সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিক ভাবে এক শ্রেণীর দালালের মাধ্যমে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে।এই অফিসে চুক্তির টাকা ছাড়া কোনো ফাইলই নড়ে না। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোনো কাজ আদায় করা যায় না বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা গেছে, এই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার পরও বিভিন্ন ভাবে হয়রারি করছে এমনটাই অভিযোগে উঠেছে।

 

এ বিষয়ে সাহতা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব ও সাবেক ইউপি সদস্য জুবায়ের হুসেন খান রতন বলেন, সাহতা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তার একজন ঘুষখোর ব্যক্তি, তিনি টাকা ছাড়া কিছুই বুঝে না। তার ঘুষ বানিজ্যের বিষয় নিয়ে আমি দরবার শালিস পর্যন্ত করেছি। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমি এমন ঘুষখোর কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করছি।

 

অন্যদিকে সাহতা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের বিষয়ে সাহতা ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক আলমগীর হোসেন ঝুটন বলেন, সাহতা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের মতো একরকম ঘুষখোর কর্মকর্তা দেখতে চাই এই ভূমি অফিসে। তিনি একজন বড় মাপের ঘুষখোর কর্মকর্তা, সে টাকা ছাড়া অন্য কিছুই বুঝে না। তিনি দালালের মাধ্যমে পুরো ইউনিয়নটিকে লুটে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গ্রামের মানুষ সহজ সরল তারা কিছুই বুঝে না, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তার তার দালালের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে হারিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আমি এই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের ঘুষ বানিজ্যের বিষয় নিয়ে দরবার শালিস পর্যন্ত করেছি। তিনি এই অফিসে কিছু দালাল পুষে রাখে। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের এই ইউনিয়নের আহবায়ক হিসেবে এই ঘুষ বানিজ্যের প্রতিবাদ জানাই।

 

সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে মাঠ পর্যায়ে সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তার সহ যারা এখানে-কর্মচারী রয়েছে তারা বিভিন্ন অনিয়ম,ঘুষ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে জমির কাজে সেবা নিতে আসা ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।এই ভূমি অফিসে আসা এক গ্রাহক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, এই অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তার ভূমি অফিসে কাজে আসা গ্রাহকদের কাজ সম্পাদনের বিষয়ে টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে চুক্তি করেন।

 

এই ইউনিয়নের সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা গেছে, এখানে আসা সেবা প্রাপ্তির ৯০ শতাংশ লোকই চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে আজ না-কাল সময়ক্ষেপন করে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত হারে দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে সেবা গ্রহীতারা পান না তাদের কাঙ্খিত সেবা। ভূক্তভোগীরা আরও জানান, এই ভূমি অফিসের ঘুষ দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া কোনো কাজেই হয় না। নামজারির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা আদায় করে এই অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেয়ার কথা বলে। ভুক্তভোগীদের দাবী এই ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের দুর্নীতি রোধে দুদকের সু-হস্তক্ষেপ জরুরি, সেবাগ্রহীতারা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের সহযোগিতা কামনা করেন। এই ঘুষ বানিজ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তার বলেন, আমার অফিসে কোনো অনিয়ম হয় না, আমার বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।এবং কেন তার এই ঘুষ বানিজ্য নিয়ে নিউজ করা হয়েছে, এই প্রতিনিধিকে তিনি হুমকি প্রদান করেন, তিনি বলেন তুমি পত্রিকায় লিখে আমার কিছুই করতে পারবে না। এবং তিনি এই প্রতিনিধিকে আরও বলেন, তোমরা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করে কি করবে, তিনি আরও বলেন, আমাকে হয়তো এখান থেকে অন্য জায়গায় বদলি করে দিবে কতৃপক্ষ, এছাড়া আমার আর কিছুই হবে না।

 

 

০৭/০৬/২০২৬ ইং

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.