

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
গত সোমবার ১৩ জুলাই রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। সারাদিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
বন্যায় ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারানো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তিনি পদুয়া ইউনিয়নের বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বন্যার তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই ব্রিজের বর্তমান অবস্থা এবং চলাচলের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে কার্যকর ও টেকসই সংস্কার ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে তাদের করুণ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়। আকস্মিক বন্যায় ফসলি জমি ও বসতভিটা তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তাদের দৈনন্দিন আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অধিকাংশ পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগীদের মতে, ব্রিজঘাট ব্রিজের বর্তমান জরাজীর্ণ দশা তাদের যাতায়াতকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, যা দ্রুত মেরামত না করলে বৃহত্তর দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ত্রাণ গ্রহণকালে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, সরকারি এই সহায়তা তাদের সাময়িক সংকট মোকাবিলায় কিছুটা স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কৃষি সহায়তার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছেন।
ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সকল পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা হবে। এছাড়া ব্রিজঘাট ব্রিজের সংস্কারের বিষয়ে প্রকৌশল বিভাগকে দ্রুত প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উক্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কুতুবউদ্দিন বাহারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ শওকত আলী নুর, ওয়াকিল আহমদ, ইউছুফ চৌধুরী এবং ভিপি আনসুর উদ্দিন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামোগত এই সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক তদারকি সমানতালে চলমান থাকবে, যাতে বর্ষা মৌসুমের এই দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
পদুয়া ইউনিয়নের এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ও ব্রিজ পরিদর্শন স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে কেবল ত্রাণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি খাতের পুনর্বাসনই এখন স্থানীয়দের প্রধান দাবি। সংসদ সদস্যের এই হস্তক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কার কাজে হাত দিলে জনদুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে রাঙ্গুনিয়ার এই বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থায়ী নীতিমালা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মুখেই থেকে যাবে।