Blog

  • নেত্রকোণায় বন্যাকবলিত কৃষকদের মাঝে ব্র্যাকের বিনামূল্যে ধান ও সবজি বীজ বিতরণ

    নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স। জেলার নেত্রকোণা-১ অঞ্চলের সদর এলাকা অফিসের উদ্যোগে ১৬০ জন কৃষান-কৃষাণীর মাঝে বিনামূল্যে ধান ও সবজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

    এসময় বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের নেত্রকোনা-১ অঞ্চলের সিনিয়র আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং বিডিসি শেখ মোঃ খায়রুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদর এলাকার এলাকা ব্যবস্থাপক মোঃ জান্নাতুল ইসলাম ও বিডিইউ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    আয়োজকরা জানান, আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনরায় চাষাবাদে উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় ১৬০ জন কৃষান-কৃষাণীর হাতে ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজি বীজ তুলে দেওয়া হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ১৮০ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ১৮০ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১৮০ গ্রাম হেরোইনসহ টিয়া (৩০) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৫। র‍্যাব-৫, সিপিসি-১ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে একটি আভিযানিক দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল।

    এ সময় নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া এলাকার একটি সেতুর ওপর এক ব্যক্তি মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে র‍্যাব সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

    ব্যাগের ভেতরে থাকা দুটি পলিথিন প্যাকেট থেকে মোট ১৮০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত টিয়া সদর উপজেলার কৃষ্ণগোবিন্দপুর পাঠানপাড়া এলাকার মৃত বাবলুর রহমানের ছেলে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। র‍্যাব আরও জানায়, উদ্ধারকৃত হেরোইন জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃত আসামি ও জব্দকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক নির্মূল এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

  • রায়গঞ্জের নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের স্বেচ্ছাচারিতায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা বিপাকে জনসাধারণ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পের পাশ দিয়ে যুগ যুগ ধরে বয়ে যাওয়া দীর্ঘদিনের কেনেল বন্ধ করে মাটি ভরাট করায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী ছাত্র -ছাত্রী ও ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী।

    রবিবার (১৪ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পের উন্নয়নের নামে শত বছরের আগের তৈরি ক্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এই জলাবদ্ধতা ।

    ২টি করাতকল (ছ-মিল) ১টি মৎস্য হ্যাচারি, শতাধিক দোকান ও ৬০ এর অধিক বসতবাড়ির লোকজনসহ ২টি বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা পড়েছে মহা বিপাকে।

    কারণ হিসাবে জানা যায়, নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মাসুদ রানা তত্ত্বাবধানে পুকুর সংস্কারের কাজ চলছে, এতে করে তিনি অত্র ক্যানেলটি মাটি দিয়ে ভরাট করেন। নিমগাছী ক্যানেল সংলগ্ন বসতবাড়ির মালিক পুতুল রানী, কার্তিক মাহাতো, দীপক পোদ্দার, স্বদীপ মালির বাড়িতে হাঁটু সমান পানি।

    অত্র ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য রামকৃষ্ণ গুণ বলেন মাসুদের সেচ্ছাচারিতার কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মুঠোফোনে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদ্বাচারণ করেন।

    সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার বলেন, জনস্বার্থে ক্যানেলের মাটি অপসারণ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প ( রাজস্ব) সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ রানার মুঠোফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, পানি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • নেত্রকোনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষক ও সিএনজি চালকের মৃত্যু 

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা সদর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষক ও সিএনজি চালকের মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, রবিবার (১৪ জুন) সকালে উপজেলার আমতলা ও কাইলাটি ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে সকালে আমতলা ইউনিয়নের সাপমারা গ্রামে বজ্রপাতে জামাল মুন্সি (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নান্নু মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজ আদায়ের পর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গ্রামের আরও চার কৃষকের সঙ্গে বাড়ির পাশের আইঞ্চার বিল এলাকায় মাছ ধরতে যান জামাল মুন্সি। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে সঙ্গে থাকা অন্য কৃষকেরা তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ভোরে বৃষ্টির মধ্যে জামাল মুন্সি বিলে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ারও সুযোগ পাওয়া যায়নি।অপরদিকে, সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের সিএনজিচালক সবুজ মিয়াও বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সকালে পার্শ্ববর্তী বাজারে টেলিভিশনে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখে বাড়ি ফেরেন সবুজ মিয়া। পরে গ্রামের সামনে পানিতে ডুবে থাকা জমিতে জাল নিয়ে মাছ ধরতে গেলে বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়। কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে গিয়ে জমিতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

    এ বিষয়ে নেত্রকোনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আল মামুন সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • কিশোরগঞ্জে রোগীর স্বজনকে আটকে মারধরের অভিযোগ ডা.মৌ-এর বিরুদ্ধে; ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

    কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনকে কক্ষে আটকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও হাসপাতালের কর্মচারীদের দিয়ে মারধর করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

     

    অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা.ইসরাত জাহান মৌ-এর উপস্থিতিতে ঘটা এই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

     

    ​এদিকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

     

    ​গত শনিবার (১৩ জুন) সকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।

     

    ​ভুক্তভোগী মো.উবায়দুল্লাহ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুস বাছেদের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ ওই হাসপাতালের চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত।

     

    ​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে উবায়দুল্লাহ তার অসুস্থ স্ত্রী ও আট মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসেন। নির্ধারিত চিকিৎসক সময়মতো উপস্থিত না থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন এবং অন্য রোগীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। চিকিৎসকের সহকারী বিষয়টি ডা. মৌ-কে জানালে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১১টার দিকে তিনি কক্ষে আসেন।

     

    ​ভুক্তভোগী উবায়দুল্লাহ বলেন ​”আমি কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসক আমার পরিচয় জানতে চান এবং ভিডিও ধারণের কারণ জিজ্ঞেস করে সেটি মুছে ফেলতে চাপ দেন। একপর্যায়ে চিকিৎসকের নির্দেশে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ আমাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। এমনকি চিকিৎসক নিজেও আমার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং গলা চেপে ধরেন।”

    ​এ সময় কক্ষে থাকা তার অসুস্থ স্ত্রী ও কোলে থাকা আট মাসের শিশুসন্তান ভয়ে চিৎকার ও কান্না করতে থাকে। পরে বাইরে থাকা অন্য রোগীরা এগিয়ে এসে দরজা খোলার চেষ্টা করলে উবায়দুল্লাহ সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপরই তিনি কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

     

    ​ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, হঠাৎ করেই ১৩৭ নম্বর কক্ষের ভেতর থেকে উচ্চশব্দ ও মারধরের আওয়াজ শোনা যায়। দরজা বন্ধ থাকায় বাইরে থাকা সাধারণ রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময় পর দরজা খোলা হলে একজন ব্যক্তিকে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও উত্তেজিত অবস্থায় বের হতে দেখা যায়।

     

    ​স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা.ইসরাত জাহান মৌ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জেলখানা মোড় এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন তিনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব অবহেলা করে রোগীদের নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে (ডা. ইসরাত জাহান মৌ স্কিন অ্যান্ড লেজার কেয়ার সেন্টার) ভাগিয়ে নেওয়ার অসংখ্য পুরোনো অভিযোগ রয়েছে।

     

    ​বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াজ ইবনে জসিম বলেন: ​”সরকারি হাসপাতালে এসে যদি সাধারণ মানুষ এভাবে হেনস্তা ও মারধরের শিকার হয়, তবে মানুষের যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকে না। আমরা অবিলম্বে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

     

    ​চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি

    ​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ইসরাত জাহান মৌ মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন:

    ​”অভিযোগকারী উবায়দুল্লাহ হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সিরিয়াল অমান্য করে জোরপূর্বক আমার কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষে থাকা অন্য রোগীদের সঙ্গেই তার বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি প্রথমে আমার সাহায্যকারীকে এবং পরে আমাকেও ধাক্কা দেন।”

     

    ​তার বিরুদ্ধে আনা কলার ধরা বা গলা চেপে ধরার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি সদর মডেল থানায় একটি লিখিত পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    ​এদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক) ডা. নূর মো. শামসুল আলম দাবি করেন, রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উল্টো অভিযোগকারী উবায়দুল্লাহই চিকিৎসকের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন এবং তার ওপর হামলা চালিয়েছেন।

     

    ​কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা.মো. নাজমুল করিম জানান, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     

    ​কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, ভুক্তভোগী ওবায়দুল্লাহ থানায় এসেছিলেন। তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসকও থানায় একটি লিখিত পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণেই এ বাজেট , এমপি তাহসিনা রুশদীর

    বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, ‘আগামী দিনের বাংলাদেশকে একটি পরিবর্তনশীল, উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণ চিন্তা করেই নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

    ​শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণের লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    ​এমপি লুনা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর কর কমানো হয়েছে, যাতে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি কোনো করের বোঝা না চাপে। সেই বিষয়টি বিশেষভাবে মাথায় রেখেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বাজেট দিয়েছেন। আমরা সবাই যদি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করি, তবে দেশে অবশ্যই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে এর জন্য আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’

    ​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    ​উপজেলা বিএনপি নেতা কাওছার খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিন মামুনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

    এরপর তিনি রামপাশা- বৈরাগী বাজার -সিঙ্গের কাছ বাজার- টুকের বাজার রাস্তার মেরামত কাজ শেষে উদ্বোধন করেন এবং বাগিচা বাজার- গুদাম ঘাট -দেওকলস রাস্তার উদ্বোধন করেন ।

  • নেত্রকোনায় চলচ্চিত্র পরিষদের মুক্ত আলোচনা ও স্থানীয় পর্যায়ে সুস্থধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর প্রয়োজনীয়তা অনুষ্ঠিত

     

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনায় চলচ্চিত্র পরিষদের মুক্ত আলোচনা সভা ও স্থানীয় পর্যায়ে সুস্থধারার চলচ্চিত্র প্রদশর্নীর প্রয়োজনীয়তা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১১ টায় নেত্রকোনা চলচ্চিত্র পরিষদের আয়োজনে জেলা প্রেসক্লাবের হল রুমে এই মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ, নেত্রকোনা চলচ্চিত্র পরিষদের উপদেষ্টা মৃত্যুঞ্জয় রায় (সেন্টু রায়), নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।

    এছাড়াও সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. পারভীন জলী, চলচ্চিত্র শিক্ষক, নির্মাতা ও গবেষক সাজেদুল ইসলাম, নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরাকাশ পত্রিকার সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী, নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল প্রমূখ।

    এসময় উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা চলচ্চিত্র পরিষদের সভাপতি কে. এম. নাজমুল আলম ও সঞ্চালনা করেন নেত্রকোনা চলচ্চিত্র পরিষদের সদস্য ডা. মাকসুদা আক্তার রিমি। এসময় উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সাংবাদিক সুধীজন সকলেই চলচ্চিত্র পরিষদের সাফল্য কামনা করেন।

  • অষ্টগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ: অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করলেন এমপি ফজলুর রহমান

    মোঃ আল-আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

     

    ‎শনিবার (১৩ জুন) অষ্টগ্রাম সরকারি রটারি ডিগ্রি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় স্বজনপ্রীতি হয়েছে—এটি সত্য। কেউ যদি তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ‎তিনি আরও বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

    ‎অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রোকনুজ্জামান, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইয়াদ আহমেদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অষ্টগ্রাম সরকারি রটারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা আরিফ খান।

    ‎সরকার হাওরাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করার পর কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় প্রস্তুত করা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

    ‎উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ৬ হাজার ৪ জন কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠে।

    ‎স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তালিকায় এমন কিছু ব্যক্তির নাম রয়েছে যারা দীর্ঘদিন আগে মারা গেছেন কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন।

    ‎অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাঙালপাড়া ইউনিয়নের উসমানপুর গ্রামের মৃত ইসহাক মিয়ার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের অলি মিয়া এবং দেওঘর গ্রামের সোহেল আহমেদের নামও তালিকায় রয়েছে, যদিও স্থানীয়দের দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন।

    ‎এছাড়াও এমন অনেক ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যাদের নিজস্ব কৃষিজমি নেই কিংবা তারা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

    ‎সরেজমিনে কলমা ইউনিয়নের সাপান্ত, বাজরী, কাকুরিয়া ও জেলে পল্লী এলাকায় গিয়ে কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকস্মিক বন্যা ও হাওরের পানিতে তাদের ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে।

    ‎সাপান্ত গ্রামের কৃষক জহরলাল দাস বলেন,

    ‎৫০ ক্ষের জমিতে ধান আবাদ করেছিলাম। সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান কাটতে পারিনি। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছে শুনেছি, কিন্তু সেখানে আমার নাম নেই।

    ‎কাকুরিয়া গ্রামের কৃষক অনিল দাস বলেন,

    ‎৩০ ক্ষের জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এখন খুব কষ্টে দিন কাটছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় আমার নাম নেই।

    ‎একই গ্রামের কৃষক পরিমল দাস বলেন,

    ‎২০ ক্ষের জমির ধান পানিতে নষ্ট হয়েছে। ধান ঘরে তুলতে পারিনি। কিন্তু কোনো সহায়তার তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

    ‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

    ‎এ ধরনের অভিযোগের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

    ‎স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা পুনঃযাচাই করতে হবে। পাশাপাশি অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে।

    ‎তাদের মতে, সরকারের সহায়তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে পৌঁছালে শুধু কৃষকরাই উপকৃত হবেন না, বরং সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

    ‎তালিকা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, কৃষকের সংখ্যা কমানো-বাড়ানো নিয়ে দফায় দফায় সংযোজন-বিয়োজন করতে গিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল।

    ‎তিনি আরও বলেন, আমি শুরুতেই প্রশাসনের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, হাওরাঞ্চলের প্রতিটি সেচ প্রকল্পের (স্কিম) ম্যানেজারদের কাছে প্রকৃত কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছে। সেখানে কৃষকের নাম-ঠিকানাসহ কে কতটুকু জমি আবাদ করেছেন এবং কারা বর্গাচাষি—এসব তথ্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত আছে। সেই তালিকার ভিত্তিতে তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম প্রস্তুত করা হলে মৃত, প্রবাসী কিংবা অকৃষকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ থাকত না। কারণ হাওরাঞ্চলের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষক বিভিন্ন সেচ প্রকল্পের আওতায় এবং বাকি ২০ শতাংশ কৃষক ব্যক্তিগত সেচ ব্যবস্থার আওতায় অথবা সেচ প্রকল্পের বাইরে চাষাবাদ করে থাকেন।

    ‎প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে বাদ পড়া প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

    ‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, তিনি সাধারণত সাংবাদিকদের ফোনকল গ্রহণ করেন না। কখনও যোগাযোগ স্থাপিত হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • তৃণমূলের আস্থা ও ত্যাগের প্রতীক আবুল বাশার: বাঁকা ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী মুখ

    তৃণমূলের আস্থা ও ত্যাগের প্রতীক আবুল বাশার: বাঁকা ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী মুখ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একটিই নাম—আবুল বাশার।

    বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সফল সাধারণ সম্পাদক এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল বাশার তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক লড়াকু সৈনিক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং চরম প্রতিকূলতার মাঝেও জীবননগর ও বাঁকা ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন তিনি।

    দলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্যের প্রমাণ মেলে তার রাজনৈতিক জীবনের পদাঙ্ক লক্ষ্য করলে। স্বৈরাচারী আমলে মিথ্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়ে তাকে ১২টি রাজনৈতিক মামলার বোঝা মাথায় নিতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে জেল-জুলুম ও অমানবিক নির্যাতন। দীর্ঘ এক মাস কারাবরণ করেও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। উল্টো কারাগার থেকে ফিরে দ্বিগুণ উদ্দীপনায় রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন এবং নিজের পকেটের অর্থ ব্যয় করে অবরুদ্ধ ও নির্যাতিত দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, দিয়েছেন নিয়মিত আর্থিক ও আইনি সহযোগিতা।

    শুধু দলীয় গণ্ডিতেই নয়, করোনাকালীন চরম সংকটের সময় তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক অনুদান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তৎকালীন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের সময়েও তিনি জনগণের ভোটে মেম্বার নির্বাচিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের পক্ষে কথা বলায় এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তৎকালীন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান তার ৩১ মাসের ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানী ভাতা আবুল বাশারকে দেননি। কিন্তু কোনো অন্যায় বা চাপের কাছে মাথা নত করেননি আবুল বাশার।

    রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক পরিমণ্ডলেও আবুল বাশারের সুনাম সর্বজনবিদিত। তিনি বর্তমানে এলাকার স্বনামধন্য সামাজিক সংগঠন ‘লোকমর্চা’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে বিগত ৭ বছর ধরে তিনি মাঠপর্যায়ে আপসহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

    একই সঙ্গে তিনি সমাজকে কলঙ্কমুক্ত করতে মাদকের বিরুদ্ধে শতভাগ জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এলাকার প্রতিটি অঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র, দিনমজুর ও হতদরিদ্র মানুষের বিপদে-আপদে তিনি নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরম বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা তাকে বাঁকা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মী ও আপামর জনসাধারণের মাঝে আবুল বাশারের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার ও সুদৃঢ় সমর্থন সৃষ্টি হয়েছে। দল ও সমাজের প্রতি এমন ত্যাগী, সৎ, সাহসী ও পরীক্ষিত নেতাকে যদি আসন্ন বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তিনি জয়লাভ করবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা শতভাগ নিশ্চিত।

    আবুল বাশার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দল তাকে মূল্যায়ন করলে এবং দলের পক্ষ থেকে তাকে সমর্থন করলে তিনি বাঁকা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভোটের নীরব বিপ্লবের মাধ্যমে এই ইউনিয়নটি দেশনায়ক তারেক রহমান ও বিএনপিকে উপহার দেবেন।

    চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে তিনি জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার, অবহেলিত গ্রামীণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবেন। একই সঙ্গে তিনি বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদকে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য প্রশাসনিক সেবা শতভাগ নিশ্চিত ও সহজলভ্য করার অঙ্গীকার করেছেন।

    এলাকার সাধারণ ভোটারদের দাবি—ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাঁকা ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে আবুল বাশারের মতো সুযোগ্য ও জনদরদী নেতার কোনো বিকল্প নেই।

  • ন্যায্য মজুরির দাবিতে বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি, আশ্বাসে এক মাসের জন্য স্থগিত আন্দোলন

    শার্শা,যশোর প্রতিনিধি: ন্যায্য মজুরির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও আন্দোলনে নেমেছিলেন বেনাপোল স্থল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১ ও ৯২৫- এই দুইটি সংগঠনের শ্রমিকরা।

    রবিবার (১৪ জুন২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেনাপোল স্থল বন্দরের প্রধান ফটকের সামনে রাজপথে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তারা।

    আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০১২ সালে বেনাপোল পোর্ট কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিং বাবদ ৩৩ টাকা আদায় করলেও শ্রমিকরা পেতেন মাত্র ১৮ টাকা। বর্তমানে ২০২৬ সালে সেই হ্যান্ডলিং চার্জ বেড়ে ৭৮ টাকায় উন্নীত হলেও শ্রমিকদের মজুরি এখনো ১৮ টাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

    শ্রমিকদের দাবি, প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ম্যানুয়াল শ্রমিকদের মজুরি ৩৫ টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৩০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, ৮৯১ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদুর রহমান রিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক লিটন, ৯২৫ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী।

    পরে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের দাবিগুলো এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এ সময় তারা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে জানান, শ্রমিকদের দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ এর সহ-সাধারণ সম্পাদক (১) মোঃ আব্দুল মজিদ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক(২) মোঃ জিয়াউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম,সহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইদ্রিস আলী ডাক্তার,প্রচার সম্পাদক ওমর ফারুক, কোষাধ্যক্ষ মোঃ সবুজ হোসেন কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান সহ ৮৯১ ও ৯২৫ এর সকল শ্রমিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ সরকারের বাজেট প্রণয়নের চলমান সময় বিবেচনায় নিয়ে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি এক মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

    তবে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক মাস পর পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ধরনের কাজকর্ম বন্ধ রেখে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    শ্রমিকদের এ কর্মসূচির কারণে সকালে বন্দর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য কর্মচাঞ্চল্যে স্থবিরতা দেখা দিলেও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।