
আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
ঢাকার আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০ বোতল বিদেশি মদসহ তিনজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘদিন ধরে মাদকের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এ অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানার বাইপাইল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে ২০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
নোয়াখালী জেলার সদর থানার সূর্য নারায়ণপুর এলাকার ফারুকের ছেলে রুবেল ইসলাম রাশেদ (২০),
শেরপুর জেলার সদর থানার আন্দারিয়া কামারপাড়া এলাকার মৃত মান্নান মিয়ার ছেলে সোহাগ আহম্মেদ রাব্বি (২০)
এবং নোয়াখালী জেলার সদর থানার দামোধরপুর এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে নুর আলম (২৫)।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার মাদক কারবারি বলে স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আশুলিয়াসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিদেশি মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে আসছিল।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ডিবি পুলিশের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাইপাইল এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
এই এলাকায় কিছুদিন ধরেই মাদকের দৌরাত্ম্য বেড়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যার পর অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ছিল। ডিবির এই অভিযান আমাদের জন্য স্বস্তির।
স্থানীয় এক অভিভাবক জানান,
মাদক কারবারিদের কারণে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকা অনেকটাই নিরাপদ হবে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
আমরা চাই, শুধু গ্রেপ্তার নয়—মাদকের মূল উৎস ও সিন্ডিকেটকেও আইনের আওতায় আনা হোক।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন,
মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
আশুলিয়াসহ শিল্পাঞ্চলগুলোকে মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।