Category: আইন/আদালত

  • মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সারসহ ২৩ পাচারকারী আটক


    মোহাম্মদ হোসাইন,টেকনাফ,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    শনিবার ০১ আগস্ট ২০২৬ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন বহিঃনোঙ্গর এলাকায় গত ৩১ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার সকাল ৭ টায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ২ টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে ২৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অবৈধভাবে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সার বহনকারী একটি কার্গো বোট পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী চ্যানেলে অবস্থান করছে।

    পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, একই দিন সকাল ১০ টায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম কর্তৃক পতেঙ্গা ১৫ নাম্বার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কার্গো বোটে থাকা পাচারকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ৪৫০ বস্তা (২২ হাজার ৫০০ কেজি) ডিএপি (DAP) সার এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোট জব্দ করা হয়।

    জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পতেঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • বরিশাল জেলা পুলিশের নতুন ট্রলার সংযোজন এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন


    বরিশাল প্রতিনিধিঃ
    বরিশাল একটি ঐতিহ্যবাহী নদীমাতৃক জেলা। জালের মতো ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল নিয়ে বরিশাল জেলা গঠিত এই জেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নদীপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পানির ওপর পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

    নদীমাতৃক বরিশালের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমান, দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং জেলা পুলিশের অর্থায়নে একটি নতুন ট্রলার ক্রয় করা হয়েছে। বুধবার ২৯ জুলাই দুপুরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুলিশ সুপার ফিতা কেটে নতুন এই ট্রলারের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি ট্রলারের বিভিন্ন কারিগরি দিক ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন। নদীপথে পুলিশ সদস্যদের পারদর্শিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ সুপার মহান উদ্যোগে এই ট্রলার দিয়ে ২১ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বরিশাল জেলা পুলিশের ০৮ জন নির্বাচিত পুলিশ সদস্যকে ট্রলার এবং স্পিডবোট চালানোর বাস্তবমুখী ও নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নদীপথে টহল প্রদান, জরুরি উদ্ধার কাজ পরিচালনা এবং দূরবর্তী চরাঞ্চলে দ্রুততম সময়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তারা পেশাদারিত্ব লাভ করবেন। বর্তমানে জেলা পুলিশ বরিশাল ট্রলারটি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কাজে ব্যবহার করবে। প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর ট্রলারটি বরিশাল জেলার প্রত্যন্ত ও নদী কেন্দ্রিক থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। জলপথে সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং চোরাচালান দমনে পুলিশ সদস্যরা আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপরতা দেখাতে পারবেন।

    নদীমাতৃক অঞ্চলের সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বরিশাল জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও সুদৃঢ় হবে। দক্ষ ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে বরিশাল বাসীকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত নদীপথ উপহার দিতে জেলা পুলিশের এই আন্তরিক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

  • মনুমুখ ইউনিয়নের সাধু হাটি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পিটিয়ে আহত ৫


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২নং মনুমুখ ইউনিয়নের পশ্চিম সাধুহাটি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে একই পরিবারের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা, তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধা মোছা: মালা বেগম (৬০) বাদী হয়ে প্রতিবেশী আনকার মিয়া (৪৫), আনছার মিয়া (৪৮) ও শরীফ মিয়াসহ (২২) তিনজনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, পশ্চিম সাধুহাটি গ্রামের মৃত সাদিক মিয়ার স্ত্রী মালা বেগমের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আনকার মিয়া ও আনছার মিয়াদের জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত বিরোধের জের ধরে গত ২৮ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র, কাঠের রোল ও লাঠিসোটা নিয়ে মালা বেগমের বসতবাড়িতে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

    এ সময় গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা প্রথমে মালা বেগমের পুত্রবধূ হাজেরা বেগমকে (৩০) এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরে লীলাফুলা জখম করে। তাকে বাঁচাতে মালা বেগম ও তাঁর ছেলে আল-আমিন (৪০) এগিয়ে এলে হামলাকারীরা কাঠের বর্গা ও লাঠি দিয়ে তাঁদের ওপরও চড়াও হয় এবং ব্যাপক মারধর করে।

    একপর্যায়ে হামলাকারীরা বসতঘরের দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ১৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনা নিয়ে মামলা না করার জন্য এবং পরিবারটিকে ভিটেমাটি ছাড়া করার প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে কেটে পড়ে।

    পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাজেরা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং মালা বেগম ও আল-আমিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

    এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মালা বেগম জানান, “প্রতিবেশীদের হামলায় আমরা গুরুতর আহত হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকা ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।”

    মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার নিয়ন্ত্রণাধীন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ ওবায়দুল্লাহ বলেন, শুনেছি থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে,অভিযোগ এর কপি আমার হাতে এলে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • রাঙ্গুনিয়া আলোচিত মাসুদ হ,ত্যা মামলায় শুটার ‘ধামা ইলিয়াছ’ আটক

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং চট্টগ্রামে ‘শুটার’ হিসেবে পরিচিত মো. ইলিয়াস ওরফে ‘ধামা ইলিয়াস’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ঢাকার একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন শুনানি শেষে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।

    চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইলিয়াসকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মো. ইলিয়াস সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
    জানা গেছে, গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। ঘটনার দুই দিন পর নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাউজান থানায় মামলা করেন।

    মামলায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান, মো. ইলিয়াস, মো. মোবারক, দিদারুল আলম, মো. ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও আটজনকে আসামি করা হয়।

    পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

  • শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার

    শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার

     

    বিশেষ প্রতিবেদন

    জাতীয়তাবাদী চেতনায় রাজউকের পুনর্জাগরণে মোঃ চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের উদ্যোগ
    একটি জাতির আত্মমর্যাদা শুধু তার ইতিহাসে নয়, তার রাজধানীর চেহারাতেও প্রতিফলিত হয়। পরিকল্পনাহীন নগরায়ন, অবৈধ দখল আর অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ একটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই বাস্তবতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজু যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা অনেকের কাছে জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আইনের শাসনে আপস নয়
    জাতীয়তাবাদী দর্শনের মূলভিত্তি হলো—রাষ্ট্রের আইন সবার জন্য সমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর চেয়ারম্যান অবৈধ স্থাপনা ও নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবহার, অনুমোদনহীন উচ্চতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন—এসব অনিয়মে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
    রাজউকের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে আইন প্রয়োগের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশাসনিক দৃঢ়তারই বহিঃপ্রকাশ। একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার কোনো স্থান নেই—এ বার্তাই দিতে চায় সংস্থাটি।

    ড্যাপ বাস্তবায়ন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়বদ্ধতা
    ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জলাধার, খাল ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ শুধু পরিবেশের বিষয় নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব।
    জাতীয় স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। ড্যাপকে কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।

    সেবায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভরতা
    একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রশাসন হয় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। ভবনের নকশা অনুমোদন, প্লট হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় গতি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।
    দীর্ঘদিনের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে রাজউককে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
    পূর্বাচল-ঝিলমিল: আত্মনির্ভর নগর গঠনের অগ্রযাত্রা
    পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ দ্রুত সম্পন্ন করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
    জাতীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারেরই অংশ।
    অভিযোগ ব্যবস্থায় জবাবদিহি
    দুর্নীতি প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করা হয়েছে। হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
    জনগণের আস্থা অর্জনই যে প্রশাসনের মূল শক্তি—এই উপলব্ধিই এ উদ্যোগের ভিত্তি।

    গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে
    নগর বিশ্লেষকদের মতে, চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের কার্যক্রমে যে দৃশ্যমান কঠোরতা এসেছে, তা দীর্ঘদিনের শৈথিল্য কাটাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
    শেষ কথা
    একটি সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তোলা কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি জাতীয় দায়িত্ব। রাজউকের বর্তমান নেতৃত্ব সেই দায়িত্ব পালনে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা, পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা এবং সেবায় স্বচ্ছতার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

  • বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ঘিরে ঘর নির্মাণকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিক মারাত্মক আহত

    বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ঘিরে ঘর নির্মাণকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিক মারাত্মক আহত

     

    ‎কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি মোঃ মহিবুল্লাহ্ ভূঁইয়া

    কুৃমিল্লার ‎বরুড়া উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নের ছোট তুলাগাঁও এলাকায় বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে এক নির্মান শ্রমিক মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

    ২৬শে ফেব্রুয়ারী সকাল দশটায় প্রবাসী শাহ আলমের বিল্ডিংয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বিদ্যুৎ পিষ্ঠ হয়ে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার রহিমানগর এলাকার খিলা গ্রামের সাখাওয়াত নামে নির্মান শ্রমিক মারাত্মক বৈদ্যুতিক তারের সাথে স্পর্শ হয়ে তিনতলা ভবন থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে যায় পা ভাঙ্গাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে নির্মানাধীন বাড়ির ঠিকাদার ছোটতুলাগাঁও এলাকার বাসিন্দা শরীফ জানান আমরা কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছি একেবারে শেষ পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল বেলা কাজের সময় বিদ্যুৎতের তারের সিমেন্ট পরলে এখান থেকেই সমস্যা সৃষ্টি হয়ে এবং সাকাওয়াত মাটিতে পরে যায়।

    এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান সকাল দশটায় হঠাৎ বিকট শব্দ হলে সবাই দৌড়ে এসে দেখেন নির্মান শ্রমিক সাকাওয়াত মাটিতে পরে আছে। তার অবস্থা খারাপ দেখে পাশ্ববর্তী বাগমারা বাজারে গিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    ‎বাড়ির মালিক শাহ আলম প্রবাস থেকে মুঠো ফোনে প্রতিবেদককে হুমকি ও মামলা দিবে বলেন ধমক দেন তিনি আরো বলেন এবিষয়ে যেন নিউজ না করার হয়।

    ‎এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কুমিল্লা ০১ (বরুড়া)’র ডি জি এম রীশু কুমার ঘোষ বলেন, পল্লী বিদ্যুৎতের খুঁটি ঘরের ভিতরে নিয়ে ঘর নির্মান করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ , আমরা তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নিবো এবং সকল আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবো জানান।
    ‎

    ‎

  • নিত্যনতুন সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম দৃষ্টান্ত: ডাকাতির ছলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে কিশোরসহ দুইজন গ্রেফতার

    নিত্যনতুন সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম দৃষ্টান্ত: ডাকাতির ছলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে কিশোরসহ দুইজন গ্রেফতার

    জাহাঙ্গীর মীর:-

    চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ছলে সংঘটিত নৃশংস হামলায় গৃহবধূ রেহেনা বেগম (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা সমাজে ক্রমবর্ধমান নৈতিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। স্বামী ও ছেলে প্রবাসে থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুখোশধারী হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে আঘাত করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ১২ নম্বর আশ্রাফপুর ইউনিয়নে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিল্লাল হোসেন বিদেশে কর্মরত থাকায় তার স্ত্রী রেহেনা বেগম একাই বাড়িতে বসবাস করতেন।
    অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরিহিত ডাকাত দলের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার দিতে বলে। তিনি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হামলাকারীদের মুখোশ খুলে গেলে তিনি তাদের চিনে ফেলেন। তখন হামলাকারীরা ঘরের ভাঙা কাঁচ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজন ভাঙা কাঁচ দিয়ে তার মাথা ও পিঠে আঘাত করে এবং অন্যজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রেহেনা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে তিনি স্বামীর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
    এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, হামলায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মোঃ আজহারুল ইসলাম সোহান (১৭) ও মোঃ রবিউল হাসান (১৬)-এর নাম উঠে আসে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সোহানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিউল হাসানকেও গ্রেফতার করে। দুই নম্বর আসামি রবিউল জামিন নিয়ে এখন আত্মগোপনে ।

    নিহতের বিবাহিত মেয়ে বলেন, “ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে তারা আমার মাকে হত্যা করেছে। আমরা বিচার চাই, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।”
    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    ২৫ ফেব্রুয়ারি নিহত রেহেনা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতা সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের গভীর সংকেত দিচ্ছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপস নয়

    সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপস নয়

     

    মো: নুরে ইসলাম মিলন :
    সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগ। সংগঠনটি বলেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা এখন সরাসরি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে চরমভাবে বিপন্ন করে তুলছে।
    এক বিবৃতিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগ জানায়, সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত হামলার অধিকাংশ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে, ফলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অনেক ক্ষেত্রে হামলার শিকার সাংবাদিকদেরই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহকে দমিয়ে রাখার সুপরিকল্পিত কৌশল বলে মনে করে সংগঠনটি।
    বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। অথচ বাস্তবে সাংবাদিকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুরক্ষা তো পাচ্ছেনই না, বরং নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও মামলার শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা কার্যত অচল হয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি।
    জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কঠোর দাবি জানিয়ে বলেছে—সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি হামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিরাপদ, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
    পাশাপাশি সংগঠনটি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতিও গঠনমূলক আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান বাস্তবতায় সংবাদ সংগ্রহের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজের সময় অবশ্যই প্রেস লেখা জ্যাকেট পরিধান, গলায় বৈধ পরিচয়পত্র দৃশ্যমান রাখা, এককভাবে না গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগেভাগে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি সহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্বের অংশ বলে উল্লেখ করা হয়।
    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো সাংবাদিক হুমকি, বাধা, হামলা বা হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।
    জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগ স্পষ্টভাবে জানায়—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে সংগঠনটি সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

    মো: নুরে ইসলাম মিলন
    সভাপতি
    জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা
    রাজশাহী বিভাগ।

  • জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: দাউদকান্দির সাবেক চেয়ারম্যান সুমনকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: দাউদকান্দির সাবেক চেয়ারম্যান সুমনকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: দাউদকান্দির সাবেক চেয়ারম্যান সুমনকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

    দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমনকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় ৪ ও ৫ আগস্ট সংঘটিত সহিংস ঘটনায় মো. রিফাত হোসেন ও মো. বাবুকে গুলি করে হত্যাসহ একাধিক নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে আহত করার অভিযোগে মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    এর আগে দাউদকান্দি মডেল থানায় দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় গত ৬ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন।

    উল্লেখ্য, মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার ছেলে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালের এ আদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • খুলনায় আজ দুদকের ১৭৭ তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত

    খুলনায় আজ দুদকের ১৭৭ তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত

    নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানি চলছে।

    এতে কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী প্রধান অতিথি  ও কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ বিশেষ  অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন।

    গণশুনানিতে বিভিন্ন সরকারি অফিসে সেবা প্রাপ্তিতে হয়রানির শিকার বা সেবা বঞ্চিত সংক্ষুব্ধ জনসাধারণ তাদের অভিযোগসমূহ খুলনা জেলার সকল সরকারি দপ্তর প্রধানদের উপস্থিতিতে কমিশনের সামনে তুলে ধরছেন। একই সাথে সেবা বঞ্চিত জনসাধারণের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে দুদক কর্তৃক তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝে সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও মূল্যবোধ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করাই এই গণশুনানির মূল অভিপ্রায়।

    গণশুনানিতে জনসাধারণের সমাগমকল্পে খুলনা সদরের বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহব্যাপী মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, বুথ স্থাপন করে অভিযোগ সংগ্রহ, অভিযোগ বাক্স স্থাপনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুদকের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হয়। ফলে খুলনা সদরের উক্ত গণশুনানির বিষয়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।;