Category: স্বাস্থ্য

  • টেন্ডার অনিয়ম, ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও নারী সহকর্মী হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    টেন্ডার অনিয়ম, ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও নারী সহকর্মী হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    স্টাফ রিপোর্টার:

    গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং নারী সহকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ এনে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্প, ইজারা কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম-দুর্নীতি চলে আসছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    বক্তাদের অভিযোগ

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বরমী-বরামা-সিংহশ্রী-রায়েদ খেয়াঘাট ইজারা কার্যক্রমে ঘুষ গ্রহণ ও টেন্ডার অনিয়ম, জেলা পরিষদের প্রায় ৬২ কোটি টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট) ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়নে ঘুষ গ্রহণ, ঠিকাদারি বিল থেকে ৬ শতাংশ হারে অবৈধ অর্থ আদায় এবং নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

    বক্তারা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    আগেই দেওয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ

    এর আগে একই অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। গত ১৭ জুন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা তফিজ ওই অভিযোগ দাখিল করেন।

    লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জেলা পরিষদের এফডিআর ভেঙে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অর্থ উত্তোলন, বেয়ারার চেকের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ, ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়নে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি সম্পত্তি ইজারায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।

    এছাড়া গাজীপুর চৌরাস্তার নাওজোর এলাকার দোকান, ইসলামপুর ভাঙা ব্রিজসংলগ্ন জেলা পরিষদের জমি, কালিয়াকৈর ডাকবাংলা এলাকার কাঠবাজার এবং কাপাসিয়ার বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ না করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি বাসভবনে ওঠার কয়েক মাসের মধ্যেই টেন্ডার ছাড়াই ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েকটি খেয়াঘাট ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতাকে বঞ্চিত করে পুনঃপুন দরপত্র আহ্বান, সিডিউল বিক্রয়ে বাধা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

    স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নের স্বার্থে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    এ সময় গাজীপুর জেলা পরিষদে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

    উপস্থিত ছিলেন

    মানববন্ধনে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন আকাশ, সাংবাদিক এইচ. এম. হাকিম, আনজার শাহ, আবুল বাসার মজুমদার, ইসলাম উদ্দিন তালুকদারসহ সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নেত্রকোণায় ডেঙ্গু সচেতনতায় শোভাযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত


    নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোণায় ডেঙ্গু সচেতনতায় শোভাযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে নেত্রকোণা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে ১০টায় এক শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

    এতে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, নেত্রকোণা পৌরসভার প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, নেত্রকোণা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ একরামুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুখময় সরকার, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাজহারুল আমিনসহ হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। ব্যানার নিয়ে তাঁরা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও হাসপাতালের বিভিন্ন প্রান্ত প্রদক্ষিণ করেন।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ডেঙ্গু সচেতনতায় হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথম কয়েক দিন হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিষ্কার করা হবে। শেষের দিকে হাসপাতালের বাইরে আশপাশের পরিবেশও পরিষ্কার করা হবে। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে হাসপাতালে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণাও থাকবে।

    হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ একরামুল হাসান বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বর্জ্য তৈরি হয়। এ বর্জ্যগুলো সরিয়ে যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়, হাসপাতালের নির্দিষ্ট স্থানে যাতে বর্জ্য ফেলা হয়—এ বিষয়ে সচেতনতার লক্ষ্যে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করছি। এতে যেমন সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হবে, তেমনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অভ্যাসও গড়ে উঠবে। এতে সারা বছর হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন থাকবে। এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ অভিযান কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

    ০৬/০৬/২০২৬ ইং

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত


    বরিশাল প্রতিনিধি: “নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করি, ডেঙ্গু মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার ৬ জুন সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ডেঙ্গু সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

    কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

    র‍্যালি শেষে হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম মাইদুল ইসলাম, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুস সাকিব, মেডিকেল অফিসার ডা. স্বপ্নিল আব্দুল্লাহ, ডা. মাইদুল ইসলাম তুহিনসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীগণ।

    বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন জনসচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ। নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব। তারা ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

    কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • আশুলিয়ায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ

    আশুলিয়ায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ

    আলমাস হোসাইন :

    ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় মোতায়েনকৃত জামগড়া আর্মি ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আশুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিনামূল্যের চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প।

    আগামী বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকায় গ্রামীণ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে এই মেডিকেল ক্যাম্প।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ ক্যাম্পে আশুলিয়ার বাইপাইল, ভাদাইল, নরসিংহপুর, জিরাবো, ইয়ারপুর, বাগবাড়ি, তৈয়বপুর, ইউসুফ মার্কেট ও কাশিমপুরসহ আশপাশের এলাকার দুস্থ ও অসহায় জনগণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ পাবেন।

    চিকিৎসা সেবায় অংশ নেবেন মেডিসিন, শিশু, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা, নাক-কান-গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ।

    সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসা গ্রহণে ইচ্ছুকদের নাম নিবন্ধনের জন্য জামগড়া আর্মি ক্যাম্পের মোবাইল নম্বর ০১৭৬৯-০৯৫৩৪৯–এ যোগাযোগ অথবা এসএমএসের মাধ্যমে (রোগীর নাম, বয়স, পেশা, মাসিক আয় ও রোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ) পাঠাতে হবে।

    প্রতি ঘণ্টায় ৭০ জন করে সর্বোচ্চ ৫০০ জন রোগীকে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

    নির্ধারিত দিনে সময়মতো উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল দরিদ্র জনগণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময়: আগামী ২৮ অক্টোবর।
    যোগাযোগ: জামগড়া আর্মি ক্যাম্প
    মোবাইল: ০১৭৬৯-০৯৫৩৪৯