Category: আন্তর্জাতিক

  • টেন্ডার অনিয়ম, ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও নারী সহকর্মী হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    টেন্ডার অনিয়ম, ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও নারী সহকর্মী হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    স্টাফ রিপোর্টার:

    গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং নারী সহকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ এনে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্প, ইজারা কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম-দুর্নীতি চলে আসছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    বক্তাদের অভিযোগ

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বরমী-বরামা-সিংহশ্রী-রায়েদ খেয়াঘাট ইজারা কার্যক্রমে ঘুষ গ্রহণ ও টেন্ডার অনিয়ম, জেলা পরিষদের প্রায় ৬২ কোটি টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট) ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়নে ঘুষ গ্রহণ, ঠিকাদারি বিল থেকে ৬ শতাংশ হারে অবৈধ অর্থ আদায় এবং নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

    বক্তারা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    আগেই দেওয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ

    এর আগে একই অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। গত ১৭ জুন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা তফিজ ওই অভিযোগ দাখিল করেন।

    লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জেলা পরিষদের এফডিআর ভেঙে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অর্থ উত্তোলন, বেয়ারার চেকের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ, ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়নে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি সম্পত্তি ইজারায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।

    এছাড়া গাজীপুর চৌরাস্তার নাওজোর এলাকার দোকান, ইসলামপুর ভাঙা ব্রিজসংলগ্ন জেলা পরিষদের জমি, কালিয়াকৈর ডাকবাংলা এলাকার কাঠবাজার এবং কাপাসিয়ার বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ না করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি বাসভবনে ওঠার কয়েক মাসের মধ্যেই টেন্ডার ছাড়াই ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েকটি খেয়াঘাট ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতাকে বঞ্চিত করে পুনঃপুন দরপত্র আহ্বান, সিডিউল বিক্রয়ে বাধা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

    স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নের স্বার্থে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    এ সময় গাজীপুর জেলা পরিষদে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

    উপস্থিত ছিলেন

    মানববন্ধনে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন আকাশ, সাংবাদিক এইচ. এম. হাকিম, আনজার শাহ, আবুল বাসার মজুমদার, ইসলাম উদ্দিন তালুকদারসহ সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত।

    স্টাফ রিপোর্টার-ঢাকা: বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির উদ্যোগে “সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক আজ (২৪ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর। তিনি সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরেন।

    গোলটেবিল বৈঠকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইউসুফ আম্মার। তিনি প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির পক্ষ থেকে করণীয় প্রস্তাবনা পেশ করেন:
    ১. সীমান্ত হত্যা ০% নামিয়ে আনতে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
    ২. সীমান্তে নিহত নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
    ৩. ভারতকে বাংলাদেশ সীমান্তে নিহত নাগরিকদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
    ৪. সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সীমান্তবর্তী নাগরিকদের প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
    ৫. সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সর্বদলীয় কাউন্সিল করে ঐক্যবদ্ধ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে।
    ৬.পুশইন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে অবস্থান সুস্পষ্ট করা এবং এর যৌক্তিক সমাধান করা।
    ৭. সরকারের পক্ষ থেকে কূটনীতিক, মানবাধিকার কর্মী ও মিডিয়ার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে আন্তর্জাতিকভাবে তার বাস্তবতা তুলে ধরতে হবে।
    ৮. সীমান্তে আধুনিক নজরদারী ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা।
    ৯. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে আধুনিকায়ন করা।
    ১০. নাগরিক নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।
    ১১. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
    ১২. রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা।

    বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশইন, সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

    আলোচনায় এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সীমান্ত কেবল রাষ্ট্রের মানচিত্রের একটি রেখা নয়; এটি লাখো মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সীমান্তে একজন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যুও জাতির জন্য বেদনাদায়ক। সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
    তিনি আরও বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

    এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে বিজিবির আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত নজরদারী ব্যবস্থা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে।”
    তিনি সীমান্তবর্তী নাগরিকদের জন্য প্রাথমিক সামরিক ও নিরাপত্তা সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “সচেতন ও প্রশিক্ষিত নাগরিক সমাজ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।”

    আলোচনায় জাতীয় সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত- মহিলা)মারদিয়া মমতাজ, ডেল এইচ খান, সামান্তা শারমিন- এনসিপি, এবং আব্দুল্লাহ আল জাবের- ইনকিলাব মঞ্চ
    সীমান্ত হত্যা বন্ধে দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং পুশইন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখার পাশাপাশি সীমান্তে প্রাণহানি ও পুশইনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান জরুরি।

    গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • ইসরাইলি হামলায় চিকিৎসক দম্পতির ৯ সন্তান নিহত

    ইসরাইলি হামলায় চিকিৎসক দম্পতির ৯ সন্তান নিহত

    অনলাইন ডেস্ক: ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় এক চিকিৎসক দম্পতির ৯ সন্তান নিহত হয়েছে বলে শনিবার জানায় গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা। অন্যদিকে, এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ।

    গাজা সিটি থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সম্প্রতি গাজায় ইসরাইলি অভিযান জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ২ মার্চ থেকে আরোপ করা সম্পূর্ণ অবরোধ আংশিকভাবে শিথিল করার পর, আরও মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি প্রদানের দাবিও উঠে এসেছে।

    গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, “ডা. হামদি আল-নাজ্জার ও তার স্ত্রী ডা. আলা আল-নাজ্জারের বাড়ি থেকে নয় শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীর পুড়ে গেছে। তারা সবাই ওই দম্পতির সন্তান।”

    তিনি আরো জানান, শুক্রবারের হামলায় হামদি আল-নাজ্জার এবং তাদের আরেক সন্তান আদম গুরুতর আহত হয়েছে । তাদের নাসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের এক সূত্র জানিয়েছে, আদামের বয়স ১০ বছর।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনীর আলবুরশ এক্স-এর পোস্টে লেখেন, চিকিৎসক হামদি আল-নাজ্জার তার শিশু বিশেষজ্ঞ স্ত্রীকে ওই হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে ঘরে ফেরার সময় হামলার ঘটনা ঘটে।

    তিনি আক্ষেপ করে আরো জানান, “এটাই গাজার চিকিৎসকদের বাস্তবতা। এ কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মত না।”
    বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা পুড়ে যাওয়া মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে বের করছেন।

    এএফপির ফুটেজে দেখা যায়, শিশুদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় নাসের হাসপাতালে। সেখানে সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়া মরদেহ ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

    উইসাম আল-মাধুন নামে এক স্বজন বলেন, “হঠাৎ করে একটি এফ-১৬ মিসাইল এসে পুরো বাড়ি ধ্বংস করে দেয়। আমার বোন, তার স্বামী আর তাদের সন্তানরা  সবাই বেসামরিক নাগরিক। এই শিশুগুলোর কী অপরাধ নেতানিয়াহুর কাছে?”

    ঘটনার বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা সেনাদের নিকটস্থ একটি স্থাপনায় সক্রিয় সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে খান ইউনিস শহরকে বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র বলেও দাবি করেন।

    তবে “নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে” বলে জানানো হয় সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে। এতে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে বিমান বাহিনী ১শ টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

    মাহমুদ বাসাল জানান, শনিবার ভোর থেকে চালানো হামলায় গাজাজুড়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

    এর মধ্যে খান ইউনিসের আমাল এলাকায় ভোররাতে এক বাড়িতে হামলায় দুই শিশুসহ এক দম্পতি নিহত হন।

    শহরের পশ্চিমে, ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভিড়ে চালানো ড্রোন হামলায় আরও পাঁচজন প্রাণ হারান।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার বলেন, “গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে নিষ্ঠুর পর্ব পার করছে ফিলিস্তিনিরা।”

    তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিনের অবরোধের কারণে খাদ্য ও ওষুধের ভয়াবহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

    ২ মার্চের পর প্রথমবার গত সোমবার সীমিত আকারে গাজায় ত্রাণ প্রবেশ শুরু হয়।

    এদিকে গাজা সিটি পৌরসভা শনিবার সতর্ক করে জানায়, ভেঙে যাওয়া অবকাঠামো মেরামতের উপকরণ না থাকায় “পানিসংকট প্রকট” হতে পারে।

    এদিকে, শনিবার রাতে তেল আবিবে ফের বিক্ষোভ হয়, অংশগ্রহণকারীদের “জিম্মিদের বাঁচান, যুদ্ধ বন্ধ করুন” লেখা ব্যানার বহন করতে দেখা যায়।

    বিক্ষোভরত জোনাথন আদেরেথ বলেন, “আমরা এখনই যুদ্ধের সমাপ্তি চাই। কারণ আমরা বুঝে গেছি, এই যুদ্ধ জিম্মিদের মুক্তি দেবে না, বরং উভয় পক্ষের জন্য আরো মৃত্যু ও দুর্ভোগ বয়ে আনবে।”

    শনিবার সকালে ইসরাইলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট জানায়, তারা এমন অনেক ফোনকলের তথ্য পেয়েছে, যেখানে “জিম্মির কণ্ঠস্বর, বিস্ফোরণের শব্দ ও চিৎকারের রেকর্ডিং বাজানো হয়েছে।”

    ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানায়, এসব ফোনে শোনা যাওয়া অডিও সম্ভবত হামাস কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত জিম্মি ইয়োসেফ হাইম ওহানার ভিডিও থেকে নেওয়া।

    তবে ডিরেক্টরেট এটিকে “জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রয়াস” বলে অভিহিত করে বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানান।

    দু’মাসের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল গত ১৮ মার্চ থেকে ফের অভিযান শুরু করে গাজায়।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, নতুন করে হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ হাজার ৭৪৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৯০১ জনে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।;

  • জার্মানিতে ১৭ জনকে ছুরি চালিয়ে আহত করেছে এক নারী

    জার্মানিতে ১৭ জনকে ছুরি চালিয়ে আহত করেছে এক নারী

    জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় শহর হামবুর্গের প্রধান ট্রেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতে কমপক্ষে ১৭ জন আহত হওয়ার পর এক নারীকে গ্রেফতার করেছে জার্মান কর্তৃপক্ষ।

    জার্মানির জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের কেন্দ্রস্থলে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    শনিবার (২৪ মে) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    হামবুর্গ পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ৩৯ বছর বয়সী এক জার্মান নারীকে ঘটনাস্থল থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেফতার করেছে।

    জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এআরডিতে প্রকাশিত মন্তব্যে মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান অ্যাবেনসেথ সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা তার কাছে গেলে তিনি কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই নিজেকে গ্রেফতার করতে দেন।

    ওই মুখপাত্র আরো বলেন, ‘ওই নারীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে সম্পর্কে এ মুহূর্তে আমাদের কাছে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন কি-না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’

    হামবুর্গ পুলিশ এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত নারী একাই হামলাটি করেছেন।

    হ্যানোভার ফেডারেল পুলিশ অধিদফতরের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ওই নারী রেলস্টেশনে যাত্রীদের ওপর হামলা চালান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তদন্ত চলাকালে রেলস্টেশনের চারটি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেয়া হয় এবং জার্মানির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেলওয়ে কোম্পানি ডয়চে বান হামলার ঘটনায় ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ বলে জানায়। হামলার পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জও হামবুর্গের মেয়রের সাথে ফোনে শোক প্রকাশ করেন।;

  • ট্রাম্পের হুমকির কাছে মাথা নত করবো না: মাসুদ পেজেশকিয়ান

    ট্রাম্পের হুমকির কাছে মাথা নত করবো না: মাসুদ পেজেশকিয়ান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   সম্প্রতি কাতার সফরে ইরান নিয়ে বেশকিছু মন্তব্য করে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতি উত্তরে ইরানও ছেড়ে কথা বললো না। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানালেন, ট্রাম্পের কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না ইরান।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। তিন দিনের উপসাগরীয় সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের সমালোচনা করলে তার জবাবেই এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন পেজেশকিয়ান।

    বুধবার (১৪ মে) রাষ্ট্রীয় টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের জন্য শহীদ হওয়া বিছানায় মৃত্যুর চেয়ে অনেক মধুর। আমরা কোনও হুমকির কাছে মাথা নত করব না।

    এর আগে, মঙ্গলবার রিয়াদে জিসিসি শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে চুক্তি করতে হলে আগে দেশটিকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। রক্তাক্ত প্রক্সি যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে পারমাণবিক অস্ত্র বানানো।

    ট্রাম্প আরও বলেন, যদি ইরান এই শান্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

    এরইমধ্যে ওয়াশিংটন এবং তেহরান ওমানের মধ্যস্থতায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চারটি বৈঠক করেছে। যদিও এখনও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দেশ দুটি।;

  • হায়দ্রাবাদে করাচি বেকারিতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিজেপি-র কর্মীরা

    হায়দ্রাবাদে করাচি বেকারিতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিজেপি-র কর্মীরা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে স্থানীয় সময় শনিবার (১০ মে) তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদে করাচি বেকারির একটি আউটলেটে ভাঙচুর চালিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মীরা। এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার এ তথ্য জানায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, আরজিআই বিমানবন্দর থানা এলাকার শামশাবাদ শাখায় স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে করাচি বেকারিতে ভাঙচুর করা হয়। গেরুয়া শাল পরিহিত ভাঙচুরকারীরা পাকিস্তানি পতাকা পদদলিত করে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

    ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তারা লাঠি দিয়ে সাইনবোর্ডে আঘাত করছে, বিশেষ করে ‘করাচি’ শব্দটি লক্ষ্য করে।

    উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সাল থেকে হায়দ্রাবাদের একটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান এই করাচি বেকারি। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় প্রায়শই আক্রমণের শিকার হয় এই প্রতিষ্ঠান। মূলত, ‘করাচি’ নামটি ভারতের স্বাধীনতার আগে প্রতিষ্ঠাতার নিজ শহরকে নির্দেশ করে। বছরের পর বছর ধরে বারবার আক্রান্ত হওয়ার পরও, বেকারিটি তার প্রতিষ্ঠাতার শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নাম পরিবর্তন করেনি।;

  • মোদিকে রাহুলের সংসদে বিশেষ অধিবেশনের আহ্বান

    মোদিকে রাহুলের সংসদে বিশেষ অধিবেশনের আহ্বান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরদিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি পাঠালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। তিনি সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান। খবর এনডিটিভি‘র।

    রাহুল গান্ধি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করছি। পেহেলগামের জঙ্গি হামলা, অপারেশন সিন্ধুর ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি। দেশের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের ঐক্য দেখানোও প্রয়োজন।’

    রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও একই অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘২৮ এপ্রিল আমি ও রাহুল গান্ধি আপনাকে চিঠি দিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। পেহেলগামের নৃশংস হামলার প্রেক্ষিতে এই আলোচনা জরুরি।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘যুদ্ধবিরতির ঘোষণাটি প্রথমে এসেছে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে। পরে ভারত ও পাকিস্তান সরকার সেটি নিশ্চিত করে। এই প্রেক্ষাপটে আমি রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধির আহ্বানকে সমর্থন জানাচ্ছি।’

    পেহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল। এরপর পাকিস্তান ও পিওকে-তে চালানো হয় বিমান হামলা, যেটিকে ‘অপারেশন সিন্ধুর’ বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সেই বৈঠকে উপস্থিত না থাকাটা সমালোচনার কারণ হয়েছে। তবে সেই বৈঠকে বিরোধীরা সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিল।

    এদিকে হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে। তিনি ট্রুথ সোস্যালে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তান সম্পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। শুভবুদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তার জন্য দুই দেশকে অভিনন্দন।’;

  • পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    রোববার (১১ মে) এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ লেখেন, ‘বিশ্ব শান্তির জন্য ট্রাম্পের অগ্রণী নেতৃত্ব ও অঙ্গীকারের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি আনতে বড় ভূমিকা রাখছেন এবং আরও সক্রিয় হতে চেয়েছেন। যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাধ্যমে পাকিস্তান একজন প্রকৃত অংশীদার পেয়েছে। এই অংশীদারিত্ব শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সব ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্রেই শক্তিশালী হবে পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক।’

    এরআগে ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তান সম্পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এরপরই পাকিস্তানের তরফে ধন্যবাদ জানান দেশটির শীর্ষ নেতারা।

    এদিকে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও কোনো মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি।;

  • ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে ইরান

    ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে ইরান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনব্যাপী উত্তেজনার পর ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে ইরান। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতি অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

    দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানায়, ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের এই সিদ্ধান্তকে দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করেন।  যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শনিবার দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।  ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে ‘ঐতিহাসিক ও বীরোচিত’ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন এবং কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যতে কাজ করার ঘোষণা দেন।;

  • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। শনিবার (১০ মে) বিকেলে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর, ভারত ও পাকিস্তান অবিলম্বে একটি পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এ সময়, বিচক্ষণতা ও দুর্দান্ত বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য উভয় দেশকে অভিনন্দনও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আমরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছি। পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার সাথে আপস না করে, সবসময় এ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    অপরদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই স্থল, আকাশ ও সমুদ্রেপথে সকল ধরনের গুলিবর্ষণ এবং সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    এর আগে, কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। এর জবাবে রাতেই পাল্টা হামলা চালানো শুরু করে পাকিস্তান।;