Category: জাতীয়

  • সৌদিতে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কুমিল্লার সজিবের

    সৌদিতে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কুমিল্লার সজিবের

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে হুতিদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোনের আঘাতে মো. সজিব হোসেন নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় জানায়, রোববার (৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় হুতিদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশি নাগরিক সজিব হোসেন প্রাণ হারান।

    বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    সজিবের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস তাঁর পরিবারের সদস্য ও নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে দূতাবাস।

    এদিকে সজিব হোসেনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনায় তাঁর স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল

    চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন’।

    এ দাবিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছেন আন্দোলনকারীরা। পুরান পল্টনের মুক্তি ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী অংশ নেন।

    মিছিলটি পুরান পল্টন এলাকা থেকে প্রেসক্লাব হয়ে কদম ফোয়ারা ঘুরে পল্টন মোড়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    মিছিলে আন্দোলনকারীদের ‘এই মাটি কারও বাপের না, এই মাটি আমাদের’, ‘এই মাটি দালালের না’, ‘এই মাটি আমেরিকার দালালের না’, ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘এই রক্ত দেব, জীবন দেব, বন্দর দেব না’—এ ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    এ সময় আন্দোলনকারীরা বন্দর ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের প্রতি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

  • ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ, তদন্তে পাঁচটির সত্যতা পাওয়ার দাবি

    ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ, তদন্তে পাঁচটির সত্যতা পাওয়ার দাবি

    নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রথমে প্রত্যাহার এবং পরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে।

    এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলমকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতা, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চোরাই তেল ও নদীর মাটি কাটার সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ১১টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অভিযোগগুলোর তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত পাঁচটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ওসি মাহবুব আলম তা অস্বীকার করেছেন।

    প্রকাশিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফতুল্লা মডেল থানার প্রায় ৩০০ গজের মধ্যে মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর পাশে গড়ে ওঠা প্রায় ২০টি অবৈধ চোরাই তেলের দোকান থেকে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ছাড়া থানার এসআই ও এএসআইদের বদলি ঠেকানোর কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে লাখ টাকা করে নেওয়া এবং জহির নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে থানার মুন্সি পদে পদায়নের জন্য এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, থানার ভেতরে ধর্ষণ মামলার আপস-মীমাংসা করে বাদীর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। রাসেল নামের কথিত এক মাদক কারবারিকে আটক করে দুই দফায় মোট আট লাখ টাকা উৎকোচ নেওয়া এবং নদী থেকে মাটি কাটায় জড়িত ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো কয়েকটি ছবিতে ওসি মাহবুব আলমকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের কয়েকটি ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন রুবেল হোসেন, যার নামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগটি জমা পড়েছে বলে আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। রুবেল দাবি করেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি এবং তাঁর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে কেউ অভিযোগ দিয়ে থাকতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয়।

    ওসি মাহবুব আলমও অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগে উল্লিখিত কোনো ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই এবং অভিযোগটি সত্য নয়। তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী কোনো মহল তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দিয়ে থাকতে পারে।

    এদিকে সম্প্রতি ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও ওসি মাহবুব আলমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর বক্তাবলী বাজার এলাকায় হামলায় তাওহীদুলসহ এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে এ ঘটনায় বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান গাফফারি অভিযোগ করেন, হামলার পর থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে মামলা নিতে অনাগ্রহ দেখান ওসি। পরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ এনসিপির নেতারা থানায় গেলে রাত প্রায় ১টার দিকে মামলা নেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।

    গাফফারি আরও বলেন, একজন থানার ওসির প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সবার প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করা। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রকাশ্যে প্রশংসা করা কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মতো আচরণ পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত ফতুল্লা মডেল থানায় গ্রহণ করা হয় এবং মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি মাহবুব আলম নিজেই। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ঘিরে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলমের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা ও পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • তামিম হত্যা মামলায় মন্ত্রী রবিউলসহ ৯ জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ

    তামিম হত্যা মামলায় মন্ত্রী রবিউলসহ ৯ জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে ওই নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিম্ন আদালত যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা বহাল থাকল।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম।

    মামলার নথি অনুযায়ী, তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তবে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

    তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও নিহত তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। তিনি অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান।

    গত ৩ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পিবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলাটি আরও তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

    পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে ৫ অক্টোবর আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত বাদীর রিভিশন আবেদন খারিজ করেন।

    মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়জন হলেন—শেখ রবিউল আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।

    অন্যদিকে পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় হামলার শিকার হন দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ রবিউল আলম, প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১১ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। ফলে নয়জনকে মামলায় সম্পৃক্ত করার বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এখন উচ্চ আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ঢামেকের বাথরুমে নারীর মরদেহ, রক্তমাখা ছুরি ঘিরে রহস্য

    ঢামেকের বাথরুমে নারীর মরদেহ, রক্তমাখা ছুরি ঘিরে রহস্য

    ঢামেক প্রতিনিধি:

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তমাখা একটি ছুরি পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। নারীটি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি মহিলা বাথরুমের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৮ বছর।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষের দরজায় নক করেন। ৪ নম্বর কক্ষে একাধিকবার নক করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সহকর্মীদের ডাকেন। পরে দরজা খুলে ভেতরে ওই নারীকে ঝুলন্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যদের জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

    পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ জানান, কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে দরজা খুলে নারীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

    কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তমাখা ছুরি

    মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি ফল কাটার ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই এলাকায় ফোঁটা ফোঁটা রক্তের দাগও পাওয়া যায়।

    পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী সন্তোষ জানান, সকালে রক্তমাখা ছুরিটি পড়ে থাকতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি ওই স্থান পরিষ্কার করেন। পরে ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। কয়েক ঘণ্টা পর বাথরুমে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন তিনি।

    ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান জানান, সকালে হাসপাতালে এসে তিনি বাথরুমে নারীর ঝুলন্ত মরদেহের খবর পান। পরে কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তের দাগ ও ছুরি পাওয়ার বিষয়টিও জানতে পারেন।

    তিনি বলেন, হাসপাতালের ওই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

    ঘটনাস্থলে শাহবাগ থানা পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। মরদেহের পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটও সেখানে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ উদ্ধার, আলামত পরীক্ষা এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

    ওসি জানান, নারীর ব্যাগে পাওয়া একটি চিরকুট ও ব্যাংকের নথিতে ‘তন্ময় মণ্ডল’ নাম পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ওই নারীর নাম ‘ঝুমা রানী দে’ বলে জানা গেলেও পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

    তন্ময় মণ্ডল নামে কেউ আটক আছেন কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ নামে কাউকে তাদের থানায় আটক করা হয়নি।

    পুলিশ জানিয়েছে, রক্তমাখা ছুরিটি ওই নারীর মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পলাশপুরে দশতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

    রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পলাশপুরে দশতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    রাজধানীর কদমতলী থানার পলাশপুর এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি দশতলা ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৭-এর আওতাধীন পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় ভবনটি নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও বশির গংয়ের নামে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে রাজউকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তবে ভবনটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি ও নির্মাণ নকশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডেভেলপার অভিযোগ করে বলেন, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি রাজউকের জোন-৭-এর অথরাইজার ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও করেন।

    ওই ডেভেলপারের দাবি, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কারণে একসময় তাকে অন্য জোনে বদলি করা হয়েছিল। পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি আবার আগের জোনে ফিরে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

    অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের অথরাইজার ইলিয়াসের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশপুর এলাকায় আরও বেশ কিছু ভবন নির্মাণে রাজউকের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এসব ভবনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি তাদের।

    পলাশপুরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাজউকের অনুমোদন ও নির্মাণবিধি অনুসরণ না করেই যদি ভবন নির্মাণের সুযোগ থাকে, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তারা নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    এ বিষয়ে ভবনের মালিক আনোয়ার ও বশির গং বলেন, ‘ভাই, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা শহরে কোনো ভবন তৈরি হয়নি। আমরাও করতে পারিনি। আর রাজউককে ম্যানেজ না করে কেউ কাজ করতে পারবে না।’

    নির্মাণাধীন ভবনটির অনুমোদন এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাই হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • পোস্তগোলায় দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেল ঘিরে অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ

    পোস্তগোলায় দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেল ঘিরে অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক :

    রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদকসেবী ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আনাগোনার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজধানীর শ্যামপুর থানার আওতাধীন পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত পাশে এবং শ্যামপুর থানার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। দিন-রাত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের আনাগোনা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাচলের কারণে স্থানীয় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

    এলাকাবাসীর দাবি, হোটেলটির আশপাশে নিয়মিত মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচল দেখা যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আনাগোনার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

    স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেলকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। হোটেলটির সামনে ও আশপাশে বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের আড্ডা ও চলাচলের কারণে চুরি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধের আশঙ্কা বেড়েছে বলে তারা মনে করছেন।

    একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “দিন-রাত হোটেলটির সামনে বিভিন্ন ধরনের মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। এতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা ব্যবসা করি, কিন্তু এমন পরিস্থিতির কারণে সব সময় উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়।”

    অভিযোগের বিষয়ে হোটেলসংশ্লিষ্ট হানিফ ও বিপ্লব-এর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা দাবি করেন, তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাদের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, হোটেলটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো আবাসিক হোটেল যদি নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের আখড়া হয়ে ওঠে, তাহলে এর প্রভাব শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; আশপাশের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের নিরাপত্তার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    এলাকাবাসী আরও জানান, পোস্তগোলা ও শ্যামপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও সিটি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজরে নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

  • মায়ের দুধই শিশুর জীবনের প্রথম সুরক্ষা: রাঙ্গুনিয়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন

    কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
    ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধকরি পান, টেকসই উন্নয়ন করি বেগবান। — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ (১-৭ আগস্ট) উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে র‍্যালি শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রধান কর্মকর্তা ডাক্তার জয়নাব জমিলা। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

    আলোচনা সভায় মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা, নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি এবং মায়ের দুধের উপকারিতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. রীতা দাশ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদুর শাহেদিন চৌধুরী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পলাশ বনিক এবং পরিবেশবাদী সংগঠন
    গ্রীন ফর সোসাইটির প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক নেজাম উদ্দীন।

    বক্তারা বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পান করানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। একজন নবজাতকের শারীরিক গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মেধা ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। অপ্রয়োজনে ফর্মুলা ফিডিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবার ও সমাজের সবাইকে মায়েদের স্তন্যপান করানোর জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, “ফর্মুলা ফিডিং নয়, মায়ের দুধই সন্তানের জন্য সবচেয়ে উপকারী। মায়ের দুধ শুধু শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে না, এটি শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।”

    তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মায়েদের জন্য বেস্ট ফিডিং রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর।

    অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাইকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এনসিপির মিছিলে বিএনপির হামলা,আহত-২৫, গুরুতর-৭

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে এনসিপি। গতকাল এই উপজেলায় স্বল্প পরিসরে এনসিপির আরো একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিল সেখানে বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে উপজেলা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব আযান আহমেদ শাওনের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রদলের বিজয়, আদম, হামিদুলসহ কতিপয় নেতাকর্মী। শাওনকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়, তিনি সেখানেই আদ্যাবধি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপির নেতাকর্মীরা আজ সন্ধ্যায় ওই ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিল নিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওৎপেতে থাকা ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বেধড়ক মারপিট ও গুরুতর জখম করেন। এসময় যুবদলের নেতা মাইদুল, মইনুল, মাসুদ ও টুকু এনসিপি ও যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের উপর লোহার পাইপ ও গাছের ডালের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট ও রক্তাক্ত জখম করে।

    জেলা যুব শক্তির সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান তমাল জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করা হয়েছে এতে এনসিপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৫ নেতাকর্মী আহত হন, এদের মধ্যে ৭জনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহতরা হলেন-জেলা যুব শক্তির সিনিয়র সদস্য সচিব তাওহীদ হাসান শান্ত, ফুলবাড়ী উপজেলা এনসিপির সিনিয়র সদস্য সচিব রাজু আহমেদ, জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, সদস্য সচিব সাদিকুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলা যুবশক্তির সভাপতি রবিউল ইসলাম, সহসভাপতি আতিকুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নাগেশ্বরী শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান। গুরুতর ৭ আহতের মধ্যে তাওহীদ হাসান শান্ত ও রাজু আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি।

    ঘটনার বিষয়ে ফুলবাড়ি উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের কেউ হতাহত হয়নি। তারা এলোপাতাড়ি মারপিট করে চম্পট দেয়।

    এ ব্যাপারে কথা হলে ফুলবাড়ি থানার এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের এখনো কেউ থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। উপজেলা জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • টেকনাফে মানব পাচারমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস পালিত


    টেকনাফ, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে টেকনাফে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক নাটিকা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে সেড (SHED) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক ইয়ুথ পিসবিল্ডার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

    অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। পরে মানব পাচারের কারণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মানব পাচারের কৌশল, ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ ও প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরে একটি সচেতনতামূলক নাটিকা মঞ্চস্থ করা হয়। নাটিকাটি উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সেডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এরশাদুল ইসলাম বলেন, “মানব পাচার শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও তরুণদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতন সমাজই মানব পাচার রোধের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

    হ্নীলা-মৌলভীবাজার জমিরিয়া আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা শামসুল আলম বলেন, “মানব পাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই। তরুণদের সচেতন করে তুলতে পারলে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

    হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আবুল হাসেম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দালালচক্রের অপতৎপরতা রোধে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    বিশিষ্ট আইনজীবী শাহিন শাহ বলেন, “মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

    দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গণমাধ্যম সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানব পাচারবিরোধী জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

    গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি মংটিং অং সীমান্ত এলাকার মানুষকে দালালচক্রের মিথ্যা প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

    ক্যাম্প-২৪-এর আরআরআরসি কার্যালয়ের আইএ মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন, মানবিক সংকটকে পুঁজি করে অপরাধীরা মানব পাচারের চেষ্টা চালায়। তাই সন্দেহজনক যেকোনো তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

    এপিবিএনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর মাইনুদ্দিন এবং টেকনাফ থানার সাব-ইন্সপেক্টর ইকবাল বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। তবে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ অপরাধ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব নয়।

    হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাহামা আক্তার বলেন, নারী ও শিশুরাই মানব পাচারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিকার। তাই পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

    ইয়ুথ পিসবিল্ডার তানজিনা মোহাম্মদ জয়া ও আমিনুল ইসলাম তরুণদের মানব পাচারবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সচেতন যুবসমাজই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানব পাচারমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

    বক্তারা বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানব পাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।