Category: জাতীয়

  • পোস্তগোলায় দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেল ঘিরে অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ

    পোস্তগোলায় দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেল ঘিরে অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক :

    রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদকসেবী ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আনাগোনার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজধানীর শ্যামপুর থানার আওতাধীন পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত পাশে এবং শ্যামপুর থানার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। দিন-রাত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের আনাগোনা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাচলের কারণে স্থানীয় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

    এলাকাবাসীর দাবি, হোটেলটির আশপাশে নিয়মিত মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচল দেখা যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আনাগোনার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

    স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেলকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। হোটেলটির সামনে ও আশপাশে বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের আড্ডা ও চলাচলের কারণে চুরি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধের আশঙ্কা বেড়েছে বলে তারা মনে করছেন।

    একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “দিন-রাত হোটেলটির সামনে বিভিন্ন ধরনের মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। এতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা ব্যবসা করি, কিন্তু এমন পরিস্থিতির কারণে সব সময় উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়।”

    অভিযোগের বিষয়ে হোটেলসংশ্লিষ্ট হানিফ ও বিপ্লব-এর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা দাবি করেন, তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাদের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, হোটেলটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো আবাসিক হোটেল যদি নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের আখড়া হয়ে ওঠে, তাহলে এর প্রভাব শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; আশপাশের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের নিরাপত্তার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    এলাকাবাসী আরও জানান, পোস্তগোলা ও শ্যামপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও সিটি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজরে নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

  • মায়ের দুধই শিশুর জীবনের প্রথম সুরক্ষা: রাঙ্গুনিয়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন

    কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
    ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধকরি পান, টেকসই উন্নয়ন করি বেগবান। — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ (১-৭ আগস্ট) উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে র‍্যালি শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রধান কর্মকর্তা ডাক্তার জয়নাব জমিলা। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

    আলোচনা সভায় মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা, নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি এবং মায়ের দুধের উপকারিতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. রীতা দাশ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদুর শাহেদিন চৌধুরী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পলাশ বনিক এবং পরিবেশবাদী সংগঠন
    গ্রীন ফর সোসাইটির প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক নেজাম উদ্দীন।

    বক্তারা বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পান করানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। একজন নবজাতকের শারীরিক গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মেধা ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। অপ্রয়োজনে ফর্মুলা ফিডিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবার ও সমাজের সবাইকে মায়েদের স্তন্যপান করানোর জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, “ফর্মুলা ফিডিং নয়, মায়ের দুধই সন্তানের জন্য সবচেয়ে উপকারী। মায়ের দুধ শুধু শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে না, এটি শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।”

    তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মায়েদের জন্য বেস্ট ফিডিং রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর।

    অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাইকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এনসিপির মিছিলে বিএনপির হামলা,আহত-২৫, গুরুতর-৭

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে এনসিপি। গতকাল এই উপজেলায় স্বল্প পরিসরে এনসিপির আরো একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিল সেখানে বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে উপজেলা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব আযান আহমেদ শাওনের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রদলের বিজয়, আদম, হামিদুলসহ কতিপয় নেতাকর্মী। শাওনকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়, তিনি সেখানেই আদ্যাবধি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপির নেতাকর্মীরা আজ সন্ধ্যায় ওই ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিল নিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওৎপেতে থাকা ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বেধড়ক মারপিট ও গুরুতর জখম করেন। এসময় যুবদলের নেতা মাইদুল, মইনুল, মাসুদ ও টুকু এনসিপি ও যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের উপর লোহার পাইপ ও গাছের ডালের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট ও রক্তাক্ত জখম করে।

    জেলা যুব শক্তির সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান তমাল জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করা হয়েছে এতে এনসিপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৫ নেতাকর্মী আহত হন, এদের মধ্যে ৭জনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহতরা হলেন-জেলা যুব শক্তির সিনিয়র সদস্য সচিব তাওহীদ হাসান শান্ত, ফুলবাড়ী উপজেলা এনসিপির সিনিয়র সদস্য সচিব রাজু আহমেদ, জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, সদস্য সচিব সাদিকুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলা যুবশক্তির সভাপতি রবিউল ইসলাম, সহসভাপতি আতিকুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নাগেশ্বরী শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান। গুরুতর ৭ আহতের মধ্যে তাওহীদ হাসান শান্ত ও রাজু আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি।

    ঘটনার বিষয়ে ফুলবাড়ি উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের কেউ হতাহত হয়নি। তারা এলোপাতাড়ি মারপিট করে চম্পট দেয়।

    এ ব্যাপারে কথা হলে ফুলবাড়ি থানার এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের এখনো কেউ থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। উপজেলা জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • টেকনাফে মানব পাচারমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস পালিত


    টেকনাফ, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে টেকনাফে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক নাটিকা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে সেড (SHED) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক ইয়ুথ পিসবিল্ডার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

    অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। পরে মানব পাচারের কারণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মানব পাচারের কৌশল, ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ ও প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরে একটি সচেতনতামূলক নাটিকা মঞ্চস্থ করা হয়। নাটিকাটি উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সেডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এরশাদুল ইসলাম বলেন, “মানব পাচার শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও তরুণদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতন সমাজই মানব পাচার রোধের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

    হ্নীলা-মৌলভীবাজার জমিরিয়া আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা শামসুল আলম বলেন, “মানব পাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই। তরুণদের সচেতন করে তুলতে পারলে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

    হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আবুল হাসেম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দালালচক্রের অপতৎপরতা রোধে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    বিশিষ্ট আইনজীবী শাহিন শাহ বলেন, “মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

    দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গণমাধ্যম সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানব পাচারবিরোধী জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

    গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি মংটিং অং সীমান্ত এলাকার মানুষকে দালালচক্রের মিথ্যা প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

    ক্যাম্প-২৪-এর আরআরআরসি কার্যালয়ের আইএ মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন, মানবিক সংকটকে পুঁজি করে অপরাধীরা মানব পাচারের চেষ্টা চালায়। তাই সন্দেহজনক যেকোনো তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

    এপিবিএনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর মাইনুদ্দিন এবং টেকনাফ থানার সাব-ইন্সপেক্টর ইকবাল বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। তবে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ অপরাধ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব নয়।

    হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাহামা আক্তার বলেন, নারী ও শিশুরাই মানব পাচারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিকার। তাই পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

    ইয়ুথ পিসবিল্ডার তানজিনা মোহাম্মদ জয়া ও আমিনুল ইসলাম তরুণদের মানব পাচারবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সচেতন যুবসমাজই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানব পাচারমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

    বক্তারা বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানব পাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • কটিয়াদীতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত


    ​এ.এস.এম হামিদ হাসান
    কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
    ​কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ​বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।

    ​সভায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা,কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজী ইসরাইল মিয়া,উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মুরছালিন দারাশিকো সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ।

    ​সভায় কটিয়াদী উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    ​এ ছাড়া আগামী ১৬ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে সভায় বিশেষ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন যেন সুন্দর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    ​সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “একটি শান্তিময় ও নিরাপদ উপজেলা গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না।”

    ​একই সাথে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

  • বরগুনায় আমতলীতে এনএসএস ও পিভিএ এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ


    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সরকারি দপ্তরের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও আমতলী থানা প্রাঙ্গণে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা উপহার দিয়েছে সামাজিক সংগঠন পিপলস ভয়েস অব আমতলী (পিভিএ) ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস-এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার এ চারাগাছ বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী এবং আমতলী থানার পক্ষে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন চারাগাছগুলো গ্রহণ করেন।

    এ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিভিএ-এর এডমিন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোসেফ মাহতাব, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিভিএ এডমিন মহসিন মাতুব্বর, বরগুনা বনবিভাগের আমতলী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এএফপিসি) ও পটুয়াখালী উপকূলীয় বনবিভাগের প্রতিনিধি মো. মনিরুল হক এবং এনএসএস-এর ক্লাইমেট চেঞ্জ ও ডিআরএফ ফোকাল পারসন তাজমেরী জাহান লিখন। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পিভিএ ও এনএসএস-এর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।

  • ফরিদপুরের সদরপুরে জ্ঞানের আলো ছড়াতে বইপড়া উৎসব অনুষ্ঠিত

    ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ও জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বইপড়া উৎসব। বইপড়া উৎসব ঘিরে শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ছিল উৎসব মুখর পরিবেশ৷

    বুধবার(২৯জুলাই) বিকেল ৪ টায় উপজেলার দরবার হলে সুজন,(সুশাসনের জন্য নাগরিক)সাহিত্য সংগঠন কন্ঠচয়ন,রিডার্স সোসাইটির আয়োজনে আমেনা আক্তার মুন্নীর সঞ্চালনায় এই বইপড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
    সদরপুরের সুজন সভাপতি কবির হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, বিশেষ অতিথী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মামুনুর রহমান, কথা সাহিত্যিক করিম রেজা বাবু, কাজী জেবুন্নেচ্ছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন, বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বায়েজীদ খান,কবি সায়ীদ হাসান সহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানমুলক ও সৃজনশীল বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বই মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বাড়ায় এবং একজন শিক্ষার্থীকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।

    আয়োজকরা জানান নতুন প্রজম্মকে বইমুখী করতে এই ধরনের আয়োজন আগামীতে আরো বড়পরিসরে করা হবে। বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরো সৃজনশীল ও মননশীলতা বিকশিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
    পরিশেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন লেখকের বই উপহার দেওয়া হয়।

  • জুলাই শহীদ স্মৃতি আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখা। গত মঙ্গলবার শহরের নতুন স্টেডিয়ামে শহর শাখার স্পোর্টস বিভাগের উদ্যোগে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি ইউসুফ আল গালিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহর শাখার সেক্রেটারি আব্দুর রহমান। এ সময় শহর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউসুফ আল গালিব বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাদের আত্মদান আমাদের ন্যায়, সত্য ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্মকে সেই চেতনা ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একজন তরুণকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

    ইউসুফ আল গালিব বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও ক্রীড়াচর্চার মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, টুর্নামেন্টে বিভিন্ন থানার দল অংশ নিচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
    পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
    সোমবার (২৮ জুলাই ) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়ার নেতৃত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান অনু, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম রেজা, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মজু, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান মুক্তা।

    এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম জাকারিয়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে হোসেনডাঙ্গা এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

  • জাতীয় সংসদ হবে বিশ্বমানের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান, প্রধানমন্ত্রী


    স্টাফ রিপোর্টার:
    জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার পথে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর আদলে জাতীয় সংসদের বিদ্যমান সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা। বিএনপি চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং সংসদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম সংযোজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন ও আধুনিকায়ন বিষয়ে এ উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    সভায় জাতীয় সংসদের বিদ্যমান সাউন্ড সিস্টেমকে বিশ্বমানের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তর বিশ্বের উন্নত বিভিন্ন সাউন্ড সিস্টেমের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বিকল্প, কারিগরি সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা উপস্থাপন করে।

    উপস্থাপনায় আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের কার্যকারিতা, শব্দের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে সর্বোচ্চ সামঞ্জস্য বজায় রাখার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য আরও স্পষ্ট ও কার্যকরভাবে সম্প্রচার নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    সভায় উপস্থিত অতিথিরা প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন এবং প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সাউন্ড সিস্টেম সংযোজনের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর, গতিশীল ও স্বচ্ছ হয়ে উঠবে।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, জাতীয় সংসদের অবকাঠামোগত আধুনিকায়নের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় প্রযুক্তির আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় সংসদের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।ষ্টন