আশুলিয়ায় নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের মানববন্ধন: পূর্ণ পাওনা পরিশোধের আল্টিমেটাম

আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া নাসা গ্রুপের এ জে গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন–মজুরি ও অন্যান্য পাওনাদি দ্রুত পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় কারখানার সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শতাধিক শ্রমিক অংশ নিয়ে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানান, গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সকল বকেয়া পরিশোধের কথা থাকলেও তাদের মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের প্রতি চরম অবহেলা ও প্রতারণার শামিল বলে দাবি করেছেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ—

‘২৫% পাওনা নয়, পূর্ণ পাওনা চাই’

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক শ্রমিক বলেন,
মালিকপক্ষ আমাদের সাথে পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধের কথা বলেছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে মাত্র ২৫ শতাংশ দেওয়া হয়েছে, যা আমরা মেনে নিতে পারি না। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের সম্পূর্ণ পাওনাদি পরিশোধ করতে হবে।

চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ

নাসা গ্রুপের কোয়ালিটি ইনচার্জ মো. ঈব্রাহিম জানান,
গত ২৩ সেপ্টেম্বর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (DIFE), পুলিশ প্রশাসন, বিজিএমইএ প্রতিনিধি, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের উপস্থিতিতে একটি চুক্তি হয়। সেই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল— ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সকল বেতন-বোনাস ও পাওনাদি পরিশোধ করতে হবে।

তিনি বলেন,
চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আমাদের মোট পাওনার মাত্র ২৫% দেওয়া হয়েছে। কেন এই প্রতারণা? আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি সব পাওনা চাই।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করতে সহায়তা করেন।

শ্রমিকদের দাবি—

‘পরিবার-সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দ্রুত পাওনা দিন’

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বাড়ি ভাড়া, খাবার, সন্তানের লেখাপড়া—সবকিছুই অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। তাই দ্রুত তাদের পুরো পাওনা পরিশোধ না হলে পরিবার নিয়ে তারা বিপদে পড়বেন।

শ্রমিকরা ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবেন।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.