
রিয়াদুল ইসলাম আফজাল:
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একরাম ও রমজান নেতৃত্বাধীন একটি বাহিনী গত প্রায় ১৭ বছর ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে এবং বিভিন্ন কৌশলে জমি দখল করছে।
অভিযোগ রয়েছে, একরাম বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে পুঁজি করে প্রকৃত মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখলে নিচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গৌরীপুর এলাকায় প্রতি শতাংশ জমির মূল্য বর্তমানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে এই এলাকার জমির চাহিদা অত্যন্ত বেশি। এই উচ্চমূল্যের সুযোগ নিয়েই চক্রটি সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
একাধিক সূত্রের দাবি, একরাম এর দশ ভাইয়ের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে অথবা আত্মগোপনে রয়েছে। তবে একরাম ও রমজান এখনো এলাকায় অবস্থান করছেন এবং তাদের প্রভাব অটুট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, জমি সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধে তারা প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এ ঘটনায় গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিকের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি স্থানীয় অপরাধ জগতের নানা তথ্য সম্পর্কে অবগত এবং প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একরাম-রমজান বাহিনীকে ‘ম্যানেজ’ করেই জমি দখলের কাজ সহজ করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই সিদ্দিকের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে উভয় পক্ষ আদালতে মামলা করেছেন এবং বিষয়টি বিচারাধীন। তার দাবি, পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী কাজ করছে।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তুচ্ছ বিষয় বা মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের অজুহাতে অনেককে আটক করে পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্য, “টাকা দিলে সব ঠিক হয়ে যায়”—এমন ধারণা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই একটি জমি নিয়ে চলমান বিরোধের কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট জমির মালিক নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি দাবি করেন, প্রভাবশালীদের ভয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না।
এলাকাবাসীর দাবি, ভূমি দখল, ভয়ভীতি ও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে গৌরীপুরে এক ধরনের আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গৌরীপুরবাসীর প্রত্যাশা, ভূমিদস্যুদের প্রভাব ও হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে।