
জাহাঙ্গীর মীর:-
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ছলে সংঘটিত নৃশংস হামলায় গৃহবধূ রেহেনা বেগম (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা সমাজে ক্রমবর্ধমান নৈতিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। স্বামী ও ছেলে প্রবাসে থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুখোশধারী হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে আঘাত করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ১২ নম্বর আশ্রাফপুর ইউনিয়নে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিল্লাল হোসেন বিদেশে কর্মরত থাকায় তার স্ত্রী রেহেনা বেগম একাই বাড়িতে বসবাস করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরিহিত ডাকাত দলের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার দিতে বলে। তিনি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হামলাকারীদের মুখোশ খুলে গেলে তিনি তাদের চিনে ফেলেন। তখন হামলাকারীরা ঘরের ভাঙা কাঁচ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজন ভাঙা কাঁচ দিয়ে তার মাথা ও পিঠে আঘাত করে এবং অন্যজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রেহেনা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে তিনি স্বামীর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, হামলায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মোঃ আজহারুল ইসলাম সোহান (১৭) ও মোঃ রবিউল হাসান (১৬)-এর নাম উঠে আসে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সোহানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিউল হাসানকেও গ্রেফতার করে। দুই নম্বর আসামি রবিউল জামিন নিয়ে এখন আত্মগোপনে ।
নিহতের বিবাহিত মেয়ে বলেন, “ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে তারা আমার মাকে হত্যা করেছে। আমরা বিচার চাই, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।”
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
২৫ ফেব্রুয়ারি নিহত রেহেনা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতা সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের গভীর সংকেত দিচ্ছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।