
আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কেপিআইভুক্ত স্থাপনা পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বেচাকেনা চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই নিয়মিতভাবে মাদকের আড্ডা বসছে, যা কেন্দ্রটির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায় মাদকসহ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করলেও পরবর্তীতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে করে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে একদল ব্যক্তি মাদক সেবনের পর পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এসে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের আটক করে তল্লাশি চালায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় মদ ও ট্যাবলেট সদৃশ্য মাদক উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের হিসাব সহকারী রিয়াজ মাহমুদ, বৈজ্ঞানিক সহকারী নাসরিন সুলতানার ছেলে আপন, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মিতুর ভাই নাঈম এবং নজরুল ইসলাম জহুরের ছেলে ফারদিন ইসলাম জিম। তারা সবাই কেন্দ্রের আবাসিক কোয়ার্টারে বসবাসকারী বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্র পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. কামাল হোসেন জানান, ৩১ নভেম্বর কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সেবন করে ফাঁড়ির সামনে এসে পুলিশকে গালিগালাজ করতে থাকে। পরে তাদের আটক করে তল্লাশি চালানো হলে দেশীয় মদ ও বড়ি পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, পরে কেন্দ্রের মহাপরিচালকের দুই প্রতিনিধি আজিবর রহমান ও শাজাহানসহ আটককৃতদের স্বজনরা এসে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। বিষয়টি মহাপরিচালকের এখতিয়ারভুক্ত বলে তিনি জানান।
তবে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজিবর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন,
এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এটি কর্তৃপক্ষের বিষয়। আমার ওপরও প্রশাসন রয়েছে। আমি শুধু মুখে মুখে শুনেছি, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।
এ বিষয়ে পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ড. মো. সাইফুল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাঠানো ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ড. মো. সাইফুল্লাহকে ঘিরে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে ডিজি পদ লাভের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি সংবাদমাধ্যমের ফোন রিসিভ করছেন না বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
কেপিআইভুক্ত একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতরে প্রকাশ্যে মাদক সেবন, পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পরও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ছাড়া পাওয়ার অভিযোগ কেন্দ্রটির নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারির কথা, সেখানে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে পারে—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।