প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও উপেক্ষিত, নির্বাচনী অঙ্গীকারে অনুপস্থিত— বহ্নি বেপারী

বিশেষ প্রতিনিধি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভূমিকা নিয়ে রাজধানীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় নির্বাচন বা গণভোট—যাই হোক না কেন—প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনও কোনো দৃশ্যমান ও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরিতে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা–১০ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বহ্নি বেপারী বলেন,
“বেশিরভাগ বড় রাজনৈতিক দল এখনো নারী প্রার্থী দিতে কার্পণ্য করছে। সেখানে প্রান্তিক নারীদের কথা ভাবা তো আরও দূরের বিষয়। অথচ সমাজে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার এই নারীরাই।”

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি ব্যতিক্রমী ভূমিকা রেখেছে।
“আমাদের দল হিন্দু নারী ও মারমা নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে, যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সবচেয়ে প্রান্তিক। এটি কেবল প্রতীকী সিদ্ধান্ত নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রতি জাতীয় পার্টির অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

বহ্নি বেপারী আরও বলেন,
“জাতীয় পার্টি ধর্ম, জাতিসত্তা বা লিঙ্গভেদের রাজনীতি করে না। আমরা মানুষের অধিকারের রাজনীতি করি। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে জাতীয় পার্টি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ক্রিশ্চিয়ান এইড-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে বৈষম্য দূরীকরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেবল ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করলে গণতন্ত্রের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গণতন্ত্রের সুফল পৌঁছাবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আমরাই পারি’ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.