
কাউসার আহমেদ পনির:
রাজধানীর ওএমএস ডি-১ জোনে সরকারি চাল ও আটার ট্রাক সেলে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ধোলাইপাড় কবরস্থান এলাকায় ডিলার করিম উদ্দিন ভাড়া চালায় হাবিব। জানা যায়, গত রবিবার সরকারি চাল ও আটার ট্রাকের সম্পূর্ণ মাল বিক্রি হওয়ার আগেই ট্রাক নিয়ে চলে যায়, ফলে স্থানীয় দরিদ্র জনগণ সময়মতো পণ্য গ্রহণে ব্যর্থ হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিলার করিম উদ্দিন নিয়মিতভাবে সরকারি চাল ও আটার ট্রাক নিয়ন্ত্রণ করে নিজ স্বার্থে মাল বিক্রি করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং প্রশাসনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতার প্রতি প্রশ্ন তুলেছে।
ট্রাক সেল ঘিরে অনিয়ম
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ট্রাক সেল চালু থাকার কথা থাকলেও এসব ডিলারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ট্রাক দুপুর হতেই বিক্রয় স্থান ত্যাগ করে। অথচ ট্রাকেই থেকে যায় বিপুল পরিমাণ চাল ও আটা। ফলে প্রকৃত দরিদ্র জনগণ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সেই চাল পরে বাজারে উচ্চ দামে বিক্রি হতে দেখা যায়।
ডি-১ এর এআরওর মন্তব্য
ডি-১ এর এআরওকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এই ধরনের অনিয়ম পুনরায় ঘটতে পারে যদি কঠোর নজরদারি ও তদন্ত করা না হয়।
প্রশাসনের করণীয়
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওএমএস কার্যক্রমে যদি স্বচ্ছতা ও তদারকি নিশ্চিত না করা যায়, তবে তা সরাসরি গরিব মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে দুর্নীতিবাজদের পকেট ভারী করার হাতিয়ার হয়ে উঠবে। স্থানীয়রা চাইছেন, একমাত্র দাবি হলো একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সকল ডিলার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীদের হুমকি
এই দুর্নীতি অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন করলে ডিলাররা সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। একজন ডিলার বলেন, “আরেকবার ফোন দিলে চাঁদাবাজির মামলায় জেলে ঢুকিয়ে দেব।” অভিযোগে বলা হয়েছে, এনামুল হক, মামুন খান ও ফজলুল হক সবচেয়ে বেশি হুমকিদাতা হিসেবে পরিচিত।
ভুক্তভোগীদের অভিমত
প্রতিদিন সরকারি চাল-আটার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে থাকা মানুষ বলছেন, তারা চায় না ওএমএস কর্মসূচি বন্ধ হোক—তারা চান শুধু দুর্নীতি বন্ধ হোক। তাদের দাবি, সরকারি ত্রাণ যেন প্রকৃত দরিদ্রদের হাতে পৌঁছায়, সে নিশ্চয়তা দিতে হবে।