
আত্মগোপনে থেকেও চলছিল প্রভাব ও সিন্ডিকেট
আলমাস হোসাইন : ঢাকা জেলা প্রতিনিধি
ঢাকার সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ ফারুক হোসেন (৫০)কে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নেপথ্যে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ফারুক হোসেন ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ঘুঘুদিয়া গ্রামের আকত আলীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাছ ব্যবসাকে আড়াল করে আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ও সম্পদের মালিক বনে যান তিনি—যা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সাভার নিউমার্কেটের সামনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল কাইয়ুমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩১ নম্বর আসামি ছিলেন ফারুক হোসেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরপরই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন।
সাভার মডেল থানার আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ জাকির হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় ছাত্র-জনতার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুটি মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ফারুক হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় দীর্ঘদিনের ভয় ও দাপটের অবসান ঘটবে। তবে তার সঙ্গে জড়িত সহযোগী ও অর্থের উৎস তদন্তের আওতায় না এলে প্রকৃত সত্য উন্মোচন হবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি তার অপরাধ নেটওয়ার্ক ও অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।