
মোঃ সোহেল চট্টগ্রাম
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলইপুল ও আশপাশের এলাকায় কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনের পেছনে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। মোঃ জুয়েল মিয়াসহ অন্তত ২৪ জনের একটি শক্তিশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই সিন্ডিকেটের কারণে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের কৃষিজমি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। ফসল উৎপাদনের উপযোগী জমি ক্রমেই মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে, যার ফলে কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—চক্রটি সাধারণত বিকেলের সূর্য ঢলার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক ও ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এ সময় কেউ বাধা দিতে গেলে বা প্রতিবাদ করলে কৃষকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। ফলে এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস অনেকেরই নেই।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী মোঃ জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় মূল অপরাধীরা পালিয়ে গেলেও জুয়েল মিয়া মোটরসাইকেলে ম্যাজিস্ট্রেটের অবস্থান অনুসরণ করে অপরাধীদের তথ্য সরবরাহ করছিলেন—যা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন।
কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনে সহায়তার দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০১০ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে আরও ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু একজনকে শাস্তি দিলেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না। পুরো ২৪ জনের সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে কৃষিজমি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তারা দ্রুত প্রশাসনের আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান কামনা করেছেন।