সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী নয়, তাদের উপর বারবার হামলা কেন? — প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক সজিব

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সংবাদ সংগ্রহে বের হওয়া একজন সাংবাদিকের হাতে থাকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা নোটবুক — কোনো অস্ত্র নয়। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর পুলিশি হামলা, লাঞ্ছনা ও কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক আবুল হাসনাত সজিব।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা কোনো সন্ত্রাসী বা মাদক ব্যবসায়ী নয় যে তাদের উপর প্রশাসন বারবার হামলা চালাবে। সংবাদ সংগ্রহ কোনো অপরাধ নয়। গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। তাই একজন সাংবাদিকের উপর হামলা মানে জনগণের জানার অধিকারকে সরাসরি আঘাত করা।”

সাংবাদিক সজিব আরও বলেন, “বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে কার্যকর জবাবদিহি এখনো নিশ্চিত হয়নি। একটি কার্যকর গণতন্ত্রে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যম — উভয়েরই দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই পারস্পরিক সম্মান, সমন্বয় ও স্পষ্ট নীতিমালার আলোকে কাজ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থবিরোধী তথ্য আড়াল হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।
মাঠে কী ঘটছে?

সংঘর্ষ, রাজনৈতিক কর্মসূচি, দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন জনস্বার্থে সত্য তথ্য তুলে ধরতে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া, ক্যামেরা ভাঙচুর, এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক সাংবাদিক জানিয়েছেন, এখন সংবেদনশীল স্থানে কাজ করতে গেলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

কেন ঘটছে এমন ঘটনা?
অধিকারকর্মী ও সচেতন মহলের মতে, পূর্ববর্তী হামলার ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত না হওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। যখন অপরাধীরা জবাবদিহির বাইরে থাকে, তখন ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটার পথ তৈরি হয়।

সমাধানে যা করতে হবে:
সাংবাদিক সজিব দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের গণমাধ্যমবান্ধব আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ জোরদারের দাবিও তুলেছেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, সাংবাদিক নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রণয়ন, যৌথ কর্মশালা আয়োজন এবং জরুরি সহায়তার জন্য হটলাইন চালু করা এখন সময়ের দাবি।

বারবার গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা শুধু একটি পেশার সংকট নয় — এটি গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংকট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন জাতীয় দায়িত্ব।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.