
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩ কেজি গাঁজা ও দুটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে মাহমুদা বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত কথিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নজরুল বেপারীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরাও জব্দ করা হয়, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কায় জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ঘটনাস্থল থেকে তাঁর স্ত্রী মাহমুদা বেগমকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পলাতক নজরুলকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া গাঁজা ও দেশীয় অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদা বেগমকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
অভিযানের সময় ওটরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি, যা পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের বিস্তার পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কেশবকাটি এলাকাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে মাঝে মধ্যেই মাদক ব্যবসার অভিযোগ শোনা যায়। তাঁদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে, তাহলে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।