গাজীপুরের শ্রীপুরে জমে ওঠেছে কাঁঠালের হাট

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

গাজীপুরকে বলা হয় কাঁঠালের রাজধানী। এর মধ্যে অন্যতম শ্রীপুর উপজেলার কাঁঠাল। কাঁঠালের ভরা মৌসুমে পুরোদমে জমে উঠেছে জৈনা বাজার কাঁঠালের হাট। প্রতিবছর কাঁঠালের মৌসুমে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে জৈনা বাজার হলো সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট। এ জেলায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে মৌসুমি ফল হিসেবে কাঁঠাল এখানকার অন্যতম অর্থকরী ফসল। গাজীপুরের এই কাঁঠাল ৪৭তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। স্বাদ ও ঘ্রাণ অতুলনীয় হওয়ায় এ জেলার কাঁঠালের খ্যাতি রয়েছে সারাদেশে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন পাইকাররা এখানে কাঁঠাল কিনতে আসেন।

এছাড়া জেলার শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর ও কালীগঞ্জের মাটির গুণে কাঁঠালের ফলন ও স্বাদ বেশি। প্রতিবছর এই অঞ্চলে গড়ে ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়। বাগান মালিক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কাঁঠালের দাম কমে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, কাঁঠাল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া সরকার বিদেশে কাঁঠালের বাজার সৃষ্টি করতে না পারায় সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে আশানুরূপ ফল আসছে না।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, জৈনা বাজারের পশ্চিম পাশে বিশাল জায়গাজুড়ে কাঁঠালের পাইকারি বাজার বসেছে। বাজারে বড় বড় আড়তদারের কাছ থেকে পাইকারি দরে কাঁঠাল কিনে সেগুলো ট্রাকে তুলছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে সড়কের পাশে শত শত ভ্যানগাড়িতে কাঁঠাল ভর্তি করে বিক্রির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। একেকটি ভ্যানগাড়িতে রয়েছে মাঝারি আকারের ২০ থেকে ৫০টি কাঁঠাল। বড় পাইকাররা ভ্যানগাড়িতে থাকা কাঁঠালগুলোর আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করে দর কষাকষি করে কিনে নিচ্ছেন। এ মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে পানির দরে। ১৫ কেজির বেশি ওজনের বড় আকারের একটি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আর মাঝারি আকারের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫-২৫ টাকায়। আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় এলাকার অনেকে কাঁঠাল বাড়িতে গরু-ছাগলের খাবার হিসেবে খাওয়াচ্ছেন।

জৈনা বাজারের ব্যবসায়ী জালাল মিয়া বলেন, ‘১৯৮৫ সাল থেকে এখানে আড়তদারি করি। নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ফেনী, চাঁদপুর, সিলেট, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কাঁঠালের জন্য পাইকাররা আসেন। কম দামে ভালো মানের কাঁঠাল পাওয়া যায় এই ঐতিহ্যবাহী হাটে।’

আবদার গ্রামের বাগান মালিক রুবেল মিয়া বলেন, ‘কাঁঠাল গাছের খুব একটা যত্ন করি না। তবু এবার আমার বাগানের ৪৯-৫০টি গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। গত ১৫ দিনে ছোট-বড় ৫০০-৬০০ কাঁচা কাঁঠাল বিক্রি করেছি। এর মধ্যে ২০০টি মাঝারি ও ছোট আকারের কাঁঠাল প্রতি পিস ২৫ টাকায় বিক্রি করেছি। বড় আকারের কাঁঠালগুলো প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাঁঠালগুলো দ্রুত পেকে পচে যাওয়ার ভয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।’

জৈনা বাজারের আড়তদার সোহেল রানা বলেন, ‘সিলেটে এবারের বন্যার কারণে কাঁঠাল বেচাকেনাও কম। উপজেলায় সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে বাগান মালিকরা ন্যায্য দাম পেতেন এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হতেন।’

স্থানীয় আড়তদার মোফাজ্জল সরকার বলেন, ‘গত দুই বছরের তুলনায় এবার কাঁঠালের বেচাকেনা ভালো জমে উঠেছে। এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররাও খুব খুশি।’

বরিশাল থেকে আসা আমির হোসেন বলেন, ‘জৈনা বাজারের কাঁঠাল খুবই ভালো মানের। অনেক সুস্বাদু, তাই এর চাহিদা অনেক বেশি। তাই এখান থেকে কাঁঠাল নিয়ে আমরা বিক্রি করি।’

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, ‘এ বছর প্রচুর কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই বছরের ফলন ভালো হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে গাজীপুরের কাঁঠাল বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে।’

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.