বাংলা একাডেমিতে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক

Written by

in

স্টাফ রিপোর্টার (যাত্রাবাড়ি,ঢাকা):

বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি, দেশবরেণ্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিন্তক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক-এর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে রাষ্ট্র ও সর্বস্তরের জনগণ। গতকাল রবিবার (৫ই জুলাই) তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে(ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন -মিরপুর) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আজ ৬ জুলাই (সোমবার) সকাল ১০:৩০টায় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহ প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে আনা হয়। সেখানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের নেতৃত্বে একাডেমির সচিব, পরিচালকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মন্ত্রী তাঁর স্মৃতি চারণ করে বলেন, “অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন আমাদের সমাজ ও মননশীলতার এক আলোকবর্তিকা।” তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ সংরক্ষণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এছাড়াও শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ স্মৃতিসংঘ, বাংলা একাডেমি কর্মচারী ইউনিয়ন, এবং বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিবৃন্দসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারপর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে) সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে মরহুমের শেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে এই মহান শিক্ষাবিদের মরদেহ মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় চিরনিদ্রায় শায়িত করার জন্য।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সাহিত্য সাংসাকৃতিক কর্মীরা বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের এই প্রয়াণে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা আগামী প্রজন্মের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবে।

উল্লেখ্য, গুণী এই অধ্যাপকের ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দু’টি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই রয়েছে। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’র মতো তার লেখা অন্তত ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো একাধিক গ্রন্থও। এছাড়াও অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *